মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির প্রভাব নিয়ে ইরান ও কাতারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ফোনালাপে অংশ নেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনায় দুই পক্ষই চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আলোচনায় তারা মত দেন, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ের মাধ্যমে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের পথ খোলা রাখতে হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
এ সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে আন্তর্জাতিক জলপথগুলো উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার আর প্রয়োজন রয়েছে বলে তার প্রশাসন মনে করছে না। তিনি আরও বলেন, সামরিক উপস্থিতি কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিও নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই ইরাকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরাকে টানা ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইরাক সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দায় এর আগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক স্বীকার করেছিল। এসব ঘটনার কারণে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কমানোর কৌশল অব্যাহত রাখলেও, ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কার্যকর কোনো কৌশল খুঁজে পাননি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তার অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন সেই মূল্যায়নকেই আরও জোরালো করেছে। বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের সমন্বয়ে যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করলেও বাস্তবে ওয়াশিংটনের সামনে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের পথ তৈরি হয়নি। মঙ্গলবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, ইরানি নৌপরিবহনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আবারও কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাব দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাহাজকেও ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে। তার যুক্তি ছিল, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে বিপুল ব্যয় বহন করছে, সেই খরচের একটি অংশ এভাবেই আদায় করা হবে। তবে ওই ঘোষণার মাত্র একদিন পরই ট্রাম্প ভিন্ন অবস্থান নেন। নতুন প্রস্তাবে তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিনিময়ে ফি আদায়ের পরিবর্তে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেন তিনি। এই অবস্থান পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে তা সংঘাত বন্ধ রাখতে পারেনি। বরং যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দফায় দফায় হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বড় পরিসরে যুদ্ধ সম্প্রসারণে অনাগ্রহী। এর অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সীমিত। পাশাপাশি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও মিত্রদের ওপর ইরানের হামলার ঝুঁকিও বাড়বে। আবার কোনো নতুন সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোও ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। কারণ তিনি এমন একটি চুক্তি করতে চান, যা ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের করা ইরান পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে ভালো বলে উপস্থাপন করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক মনে করেন, এই সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির সম্ভাবনা খুবই কম। তার ভাষায়, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী অমীমাংসিত সংঘাতে পরিণত হবে, যার সুস্পষ্ট শেষ দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্পের নৌ অবরোধের ঘোষণার পরই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের তৎপরতা বেড়ে যায়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল আবারও ব্যাহত হতে শুরু করে। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু সামরিক স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামো দুর্বল করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো সামনে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র যদি এ অঞ্চলে আরও বড় সামরিক অভিযান না চালায়, তাহলে তেহরানকে সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা কঠিন হতে পারে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতির ব্যয়কে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি প্রচেষ্টা। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা নয়। চলমান সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়েও তিনি অনুরূপ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মজার বিষয় হলো, মাত্র এক মাস আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না এবং আন্তর্জাতিক আইনও সে সুযোগ দেয় না। সমঝোতা স্মারকটিতে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য বেশ কিছু বিষয় খোলা রাখা হয়েছিল। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে ইরানে কয়েকশ' কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও সম্ভাব্য পরিণতির সতর্কবার্তা মিলিয়ে তেহরানকে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই হিসাবের সঙ্গে মিলছে না। বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের বারবার অবস্থান পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরান যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো ওয়াশিংটনের হাতে নেই।
ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, "আজ রাত, আগামী রাত এবং তার পরের রাতেও আমরা জোরালো হামলা চালাব। আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হবে। তখন বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পরে সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে।" ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো ও সেতুগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষায়, "তারা যদি আলোচনার টেবিলে না আসে, তাহলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সব সেতু অচল করে দেব।" তিনি আরও জানান, জ্বালানি-সংক্রান্ত অন্যান্য স্থাপনাগুলোকে আপাতত শেষ পর্যায়ের লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান চলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং সেই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করা। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি আনতে সামরিক শক্তিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তার দাবি, "এই মানুষের সঙ্গে শক্তির মাধ্যমেই আলোচনা করা যায়, আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি।" ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে একজন বক্সারের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে আরও চাপ প্রয়োজন। তার ভাষায়, ইরানের এখনও কিছুটা সক্ষমতা রয়েছে, তবে সেটি দ্রুত কমে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তেহরানের ভেতরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সাক্ষাৎকারে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আপাতত এমন পরিকল্পনার সম্ভাবনা কম হলেও প্রয়োজনে সেই বিকল্প পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে ওই ধরনের কোনো অভিযানের জন্য মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। তার মতে, প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোর বাহিনী স্থল অভিযানে ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।