বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ও বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান ওয়ারেন বাফেট দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান দেওয়ার ধারাবাহিকতা বন্ধ করেছেন। বিল গেটসের প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রকাশিত তথ্যের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মঙ্গলবার বাফেট ঘোষণা দেন, তিনি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের ১ কোটি ২০ লাখ ক্লাস-বি শেয়ার তার পরিবারের নিয়ন্ত্রিত চারটি দাতব্য ফাউন্ডেশনের কাছে দান করছেন। তবে এবারের অনুদানের তালিকায় গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নেই। এর মাধ্যমে ২০০৬ সাল থেকে চলা দুই প্রতিষ্ঠাতার দীর্ঘ দাতব্য অংশীদারিত্বের সমাপ্তি ঘটল।
বাফেট ২০০৬ সালে আজীবন গেটস ফাউন্ডেশনকে শেয়ার দানের অঙ্গীকার করেছিলেন। এরপর গত ২০ বছরে তিনি ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের শেয়ার ফাউন্ডেশনটিকে দান করেন। গত বছরও তার অনুদানের পরিমাণ ছিল ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু এ বছর সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আসে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে বিল গেটসের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে তথ্য সামনে আসার পর বাফেট এই সিদ্ধান্ত নেন। বাফেট জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তিনি গেটসের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি।
তবে বিল গেটসের বিরুদ্ধে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। সম্প্রতি কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে তিনি বলেন, তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তিনি তার অপরাধের ব্যাপকতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তিনি প্রত্যক্ষ করেননি এবং সেই সম্পর্ককে এখন তিনি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন।
এদিকে গেটস ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে ওয়ারেন বাফেটের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও অনুদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের যোগাযোগ নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে।
বাফেট আরও ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে তার অবশিষ্ট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে শেয়ারের সবই পরিবারের চারটি ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দাতব্য অংশীদারিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পার্থে একটি পার্কের সামনে চার চাকার গাড়ির ধাক্কায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী এক নারী। পুলিশ ধারণা করছে, তারা পথচারী হিসেবে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল প্রায় ৪টা ২৫ মিনিটে পার্থের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ক্লোভারডেলের বেলগ্রাভিয়া স্ট্রিটে অবস্থিত মাইলস পার্কের কাছে একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি দুই পথচারীকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত পার্থ চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত ৪৮ বছর বয়সী নারীকে রয়্যাল পার্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও বর্তমানে স্থিতিশীল। দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক ঘটনাস্থলেই থেমে যান। তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া পুলিশের মেজর ক্র্যাশ ইউনিট। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেলগ্রাভিয়া স্ট্রিটের বাসিন্দা কে ক্লাস জানান, তিনি দেখেছেন চিকিৎসাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তার ভাষ্য, একজন পরিচিত তাকে জানান, শিশুটি হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে তার মা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। এরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সেখানে ছিলাম। প্যারামেডিকরা বারবার তাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছিলেন।” পুলিশ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করছে এবং ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে কী কারণে গাড়িটি পথচারীদের ধাক্কা দেয়, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন ও টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-সংশ্লিষ্ট পৃথক দুটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “উই ওন’ট পুট আপ উইথ আইসিই” (আইসিইর কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না) স্লোগান দিয়ে সংস্থাটির অভিযানের ধরন ও বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মেইন ও টেক্সাসে আইসিই-সংশ্লিষ্ট দুটি পৃথক ঘটনায় প্রাণহানির পর দেশজুড়ে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই বোস্টনের রাজপথে বিক্ষোভে নামেন শতাধিক মানুষ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ বাড়ছে এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ও আইসিইর অবস্থান হলো, সংস্থাটি ফেডারেল আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অপরাধে অভিযুক্ত বা অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। তাদের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। মেইন ও টেক্সাস—উভয় ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেনি। ফলে গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রেক্ষাপটে আইসিইর অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিবাসন অভিযানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বোস্টনের এই বিক্ষোভ সেই জাতীয় বিতর্কেরই সর্বশেষ প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলে ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে এক মুসলিম কর্মীর ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি ভুক্তভোগীকে মুসলিম হওয়ার কারণেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উটাহর ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মলের একটি কিয়স্কে কর্মরত মুসলিম যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশ পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে আটকে রাখেন। এ সময় তাকে নিরস্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীকে আঘাতও করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম পিটার মাইকেল লারসেন। তাকে সল্ট লেক কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং নিষিদ্ধ অবস্থায় বিপজ্জনক অস্ত্র বহনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। পুলিশের আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় লারসেন বলেন যে তিনি ভুক্তভোগীকে "মুসলিম হওয়ার কারণে হত্যা করার উদ্দেশ্যে" লক্ষ্য করেছিলেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, তিনি আরও দাবি করেন যে তিনি মুসলিমদের হত্যা করতে চান। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাকে মুক্তি দিলে জনসাধারণের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আদালতে উল্লেখ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন জানায়, হামলার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিয়স্কে এসে কর্মীর নাম ও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চান। এরপর তিনি পানির একটি বোতল চান। ভুক্তভোগী পানি আনতে ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উটাহ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শুয়াইব দিন জানান, আহত ব্যক্তি একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে পারেন। এদিকে তার এক বন্ধু চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ভুক্তভোগীর শরীরে অন্তত ১৫টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলাকারীকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে আটকে রাখার সময় তিনি কিছু আঘাত পান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনা বাড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরেও মুসলিমবিদ্বেষ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। হামলাটিকে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।