মিশিগানে বাসস্টপ থেকে ছাত্রী অপহরণ, প্রবাসী কমিউনিটিতে আতঙ্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামক শহরে বাসস্টপ থেকে এক কিশোরী ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
সোমবার সকালে এডউইন স্ট্রিট ও ব্রমবাচ স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল ওই ছাত্রী। এ সময় এক মুখোশধারী ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ এলোমেলো (র্যান্ডম) এবং পূর্বপরিকল্পিত কোনো টার্গেট ছিল না।
ঘটনাটি কয়েকজন শিক্ষার্থীর সামনে ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা দ্রুত ৯১১-এ কল করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেয়। তাদের তৎপরতায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও সন্দেহভাজন গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়িটিকে থামিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং অপহৃত ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করে। তিনি ফ্রন্টিয়ার ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী -এর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
একজন অভিভাবক জানান, তার সন্তান ঘটনাস্থলে একটি মেয়েকে আতঙ্কিত অবস্থায় দৌড়াতে দেখে, যে জানায় তার ১৬ বছর বয়সী বন্ধুকে বাসস্টপে যাওয়ার পথে অপহরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং বাসস্টপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং অভিযুক্তের বিস্তারিত পরিচয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্যালাপের নতুন জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গত বছরের তুলনায় এ হার বেড়েছে ১০ শতাংশ পয়েন্ট। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একই প্রশ্নে এই হার সাধারণত ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। দলীয় বিভাজনেও এবার বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্টের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এমনটা মনে করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই হার ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেন। গ্যালাপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের দুর্নীতি নিয়ে ধারণা হোয়াইট হাউস কোন দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির থাকায় তাদের উদ্বেগ ক্ষমতাসীন দলের ওপর কম নির্ভরশীল হতে পারে। শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও দুর্নীতির উদ্বেগ বেড়েছে। ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ব্যবসায়িক খাতেও দুর্নীতি ব্যাপক। গত বছরের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৮ শতাংশ পয়েন্ট। তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে দুর্নীতির ধারণাগত ব্যবধান এখন ১৮ শতাংশ পয়েন্ট, যা যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার ব্যবসায়িক দুর্নীতির তুলনায় গড়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল। চলতি বছরে এই ব্যবধান আরও বড় হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি দুর্নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ এখন দলীয় সীমারেখাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের সুদ বাড়ছে, আরও ব্যয়বহুল হতে পারে বাড়ি-গাড়ির ঋণ
শিক্ষার্থীর ওপর আইসিইর অ্যাঙ্কল মনিটর, ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়ায় লজ্জায় আত্যহত্যা
বিনা অপরাধে ৩৭ বছর কারাগারে, নির্দোষ প্রমাণের পর পেলেন ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার
নিউইয়র্কে নিম্নআয়ের পরিবারের যোগ্য স্কুলপড়ুয়া শিশুদের জন্য ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতি শিশুর জন্য এককালীন ১২০ ডলারের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যেসব পরিবারকে আবেদন করতে হবে, তাদের ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। এই সহায়তা নগদ টাকা নয়। ইলেকট্রনিক সুবিধা স্থানান্তর বা ইবিটি কার্ডের মাধ্যমে খাবার কেনার জন্য অর্থ দেওয়া হবে। অনুমোদিত খাবারের দোকান ও অন্যান্য নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে যোগ্য খাদ্যসামগ্রী কেনায় এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। নিউইয়র্ক স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্কুলের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেতে পারে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে শিশুরা সুবিধাটি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সবার জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। যারা ইতোমধ্যে সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি, নগদ সহায়তা বা মেডিকেইডের মতো নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাচ্ছে, কিংবা স্কুলের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা কম দামের খাবারের জন্য যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত, তাদের অনেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পেয়ে যায়। যেসব পরিবারকে আবেদন করতে হবে, তারা একটি আবেদনেই পরিবারের যোগ্য সব শিশুর তথ্য দিতে পারবে। আবেদন করার আগে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য আবেদনের শেষ সময় ৮ সেপ্টেম্বর। এই সময়ের পর করা আবেদন ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৭ সালের কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবে। তাই যোগ্য পরিবারগুলোকে শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে দ্রুত আবেদন বা যোগ্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য মনে রাখা জরুরি, ১২০ ডলারের এই সুবিধা সব শিশুর জন্য নয় এবং এটি নগদ অর্থও নয়। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী শিশুদের খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মহাবিশ্বের অপরূপ সৌন্দর্য 'কসমিক জেমস' এর দুর্লভ ছবি প্রকাশ করেছে নাসা
মিশরে নির্মাণশ্রমিক বাবার ৩৫ বছরের ত্যাগ, আট মেয়েকেই বানালেন চিকিৎসক
নিউ ইয়র্কে এভিয়েশন ক্যারিয়ার গড়তে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, নতুন ব্যাচ শুরু ২৪ অক্টোবর
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার এক কিশোরের জীবন শুরু হয়েছিল তীব্র মাথাব্যথা দিয়ে। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ি ফিরে যায় পরিবার। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে বিরল ও প্রায়ই প্রাণঘাতী এক ধরনের অ্যামিবা। কিশোরটির নাম মোইসেস পন্সে মেন্দোজা। উত্তর ক্যারোলাইনা স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, নেগলেরিয়া ফাওলেরি নামের অ্যামিবার সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর ৩১ আগস্ট তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অনলাইনে প্রকাশিত তহবিল সংগ্রহের পাতায় তার মা মোনিকা মেন্দোজাও ছেলের নাম ও অসুস্থতার বিস্তারিত জানিয়েছেন। ঘটনাটি শুরু হয় ২১ আগস্ট রাতে। মোনিকা মেন্দোজার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন তার ছেলে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়। তাকে আলামান্স কাউন্টির বার্লিংটনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করার পর পরিবারকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরদিন সকালেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। মোনিকা জানান, সকাল ৭টার দিকে তিনি ছেলেকে নিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছুটে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নেগলেরিয়া ফাওলেরি সংক্রমণ শনাক্ত করেন। তখন পর্যন্ত সংক্রমণটি তার মস্তিষ্কে গুরুতর প্রদাহ ও ক্ষতি তৈরি করেছিল। নেগলেরিয়া ফাওলেরি একটি অতি ক্ষুদ্র এককোষী জীব, যা সাধারণত উষ্ণ মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে বিরল এই জীব মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। এরপর এটি প্রাথমিক অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস বা পিএএম নামে গুরুতর মস্তিষ্কের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এই সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে সাধারণত ১০টিরও কম সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়। তবে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর রোগটি দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি বাঁচেন না। ১৯৩৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোইসেসের ক্ষেত্রেও রোগটি দ্রুত এগিয়ে যায়। পরিবারের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জীবন বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি কোমায় চলে যান। কয়েক দিন চিকিৎসার পর ৩১ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। কিশোরটির সংক্রমণ কোথা থেকে হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নর্থ ক্যারোলাইনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস খতিয়ে দেখছেন। পরিবারের বর্ণনায় ধারণা করা হয়েছে, উষ্ণ মিঠা পানিতে সাঁতার কাটার সময় তার শরীরে অ্যামিবা প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জলাশয়কে এখনো সংক্রমণের উৎস হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেগলেরিয়া ফাওলেরি সাধারণত উষ্ণ পুকুর, হ্রদ, নদী ও অন্যান্য মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এটি লবণাক্ত পানিতে থাকে না এবং যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত ও ক্লোরিনযুক্ত সুইমিং পুলে এর ঝুঁকি অত্যন্ত কম। অ্যামিবা-যুক্ত পানি নাক দিয়ে প্রবেশ করাই সংক্রমণের প্রধান পথ। পানি গিলে ফেললে সাধারণত এই সংক্রমণ হয় না। তবে এই সংক্রমণ একজন মানুষ থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায় না। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা থেকে অন্য কারও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। মূল ঝুঁকি তৈরি হয় উষ্ণ মিঠা পানির সঙ্গে নাকের সরাসরি সংস্পর্শে। রোগটির শুরুতে উপসর্গ অনেকটা সাধারণ অসুস্থতার মতো হতে পারে। তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি দিয়ে শুরু হওয়ার পর দ্রুত ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও অচেতনতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। মোইসেসের মৃত্যু এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। লুইজিয়ানায় সম্প্রতি আট বছর বয়সী এক শিশুও নেগলেরিয়া ফাওলেরি সংক্রমণে মারা যায়। একই সময়ে একাধিক ঘটনা সামনে আসায় উষ্ণ মিঠা পানিতে বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সময় সতর্কতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, উষ্ণ মিঠা পানিতে সাঁতার বা ডুব দেওয়ার সময় নাক চেপে রাখা বা নাকের ক্লিপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পানির তলদেশের মাটি নাড়াচাড়া না করা এবং নাক পরিষ্কারের জন্য অপরিশোধিত কলের পানি ব্যবহার না করাও গুরুত্বপূর্ণ। নাক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে পাতিত বা সঠিকভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। মোইসেসের মা মোনিকা অনলাইনে ছেলের চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য জরুরি খরচ মেটাতে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ছেলেকে প্রাণবন্ত তরুণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। পরে সেই প্রচেষ্টার মধ্যেই ছেলের মৃত্যুসংবাদ আসে। নেগলেরিয়া ফাওলেরি সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল হলেও এর দ্রুত অগ্রগতি চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মোইসেসের ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, উষ্ণ মিঠা পানিতে এমন ঝুঁকি খুবই কম হলেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে উষ্ণ জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় নাক দিয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানোই এই বিরল সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সংবাদসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আগামী ১০ বছরেই বিশ্বে থাকবে ১০০ কোটি মানবসদৃশ রোবট, মানুষের চেয়ে ৫ গুণ বেশি কাজ করবে: ইলন মাস্ক
তিন বছরের কম সময়ে গেল ৮ প্রাণ! কতটা নিরাপদ নিউইয়র্কের এই আলো ঝলমলে টাইমস স্কয়ার?