হরমুজ প্রণালি সংকট: ইরানে হামলার প্রভাব পড়বে খাবারের টেবিলে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের টানা হামলার মুখে ইরান পাল্টা কৌশল হিসেবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট কেবল শুরু—এর প্রভাব ধীরে ধীরে শিল্প, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে। খুব শিগগিরই খাদ্যপণ্যের দামেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে, এবং সংঘাত শেষ হলেও উচ্চমূল্যের চাপ কিছুদিন বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং এলএনজির বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য হওয়া সারের উল্লেখযোগ্য অংশও এই পথেই যায়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
আধুনিক কৃষি মূলত নির্ভর করে সময়মতো সারের প্রাপ্যতার ওপর। কিন্তু সরবরাহে বিঘ্ন ও দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত তৈরি হয়েছে—কম সার ব্যবহার, চাষের পরিমাণ কমানো, কিংবা কম সার প্রয়োজন এমন ফসল বেছে নেওয়া। এতে সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষ করে ভুট্টা, গম ও চাল—এই তিনটি প্রধান খাদ্যশস্য বিশ্বজুড়ে মানুষের ক্যালরির বড় অংশ জোগায়। এসব ফসলের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশিয়াম অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান সংকটে এই তিন ধরনের সারেরই সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে।
নাইট্রোজেন সারের উৎপাদন ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি খরচও বেড়েছে। অন্যদিকে রপ্তানি সীমিত করায় ফসফেট ও পটাশের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ফলে বিশ্বজুড়ে সারের দাম বেড়ে গেছে, যা সরাসরি কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। সময়মতো এবং পর্যাপ্ত সার ব্যবহার না করতে পারলে ফসলের ফলন কমে যেতে পারে। এতে শুধু মানুষের খাদ্য নয়, পশুখাদ্যের সরবরাহও কমে গিয়ে মাংস ও প্রাণিজ পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
অর্থাৎ প্রাথমিক ধাক্কা কৃষকদের ওপর পড়লেও শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপরই এসে পড়ে। অতীতে দেখা গেছে, ফসলের উৎপাদন কমলে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যদিও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামার পর্যায়ে খরচ বাড়ার প্রভাব পাইকারি বাজারে দ্রুত পড়লেও খুচরা বাজারে তা পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে দুই থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। কম প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের দাম আগে বাড়লেও মাংস বা প্রক্রিয়াজাত পণ্যে প্রভাব কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।
এর সঙ্গে পরিবহন, জ্বালানি ও প্যাকেজিং খরচও যোগ হয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্যে ব্যয় হয়। ফলে তুলনামূলক সস্তা খাদ্যও অনেকের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কোটি কোটি মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পায় না, এবং চলমান সংকট সেই সংখ্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট দূরের কোনো সমস্যা নয়—বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এর প্রভাব দ্রুতই বিভিন্ন দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনুভূত হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreআধুনিক বিশ্বে বিমান ভ্রমণকে অনেকের কাছে স্বাভাবিক যাতায়াতের মাধ্যম মনে হলেও বৈশ্বিক চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অর্থাৎ প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এখনো পৃথিবীর তুলনামূলক ছোট একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষ জীবনে অন্তত একবার বিমানে ভ্রমণ করেছেন। সেই হিসাবে পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের এখনো বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। অর্থনৈতিক সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান পরিবহনের সুযোগের পার্থক্য এই বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত। বিমান চলাচল নিয়ে এর আগের একটি বহুল উদ্ধৃত গবেষণাতেও বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণে বড় ধরনের বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছিল। ২০২০ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ২০১৮ সালের বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা হিসাব করেছিলেন, সে বছর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল আরও কম। গবেষণাটির হিসাবে, ২০১৮ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পর্যটন এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণকে যতটা সাধারণ ঘটনা বলে মনে হতে পারে, বৈশ্বিক জনসংখ্যার হিসাবে সেই অভিজ্ঞতা আসলে খুব অল্প মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। তবে একটি নির্দিষ্ট বছরে কত শতাংশ মানুষ বিমানে ভ্রমণ করেছেন এবং জীবনে কখনো বিমানে চড়েছেন কি না, এই দুটি হিসাব এক নয়। ২০১৮ সালে প্রায় ১১ শতাংশ মানুষের বিমান ভ্রমণের তথ্যের অর্থ এই নয় যে বাকি ৮৯ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনো বিমানে ওঠেননি। জীবদ্দশায় বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার হিসাব আলাদা। বিমান চলাচলের আরেকটি বড় বৈষম্য দেখা যায় ঘনঘন ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে। আগের গবেষণায় হিসাব করা হয়েছিল, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষ যাত্রীবাহী বিমান চলাচল থেকে তৈরি কার্বন নিঃসরণের ৫০ শতাংশের বেশি অংশের জন্য দায়ী। অর্থাৎ বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনে কখনো বিমানে না চড়লেও ছোট একটি জনগোষ্ঠী বছরে একাধিকবার কিংবা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করছে। ফলে বিমান খাতের পরিবেশগত প্রভাবও বিশ্বের মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে নেই। বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মানুষের মধ্যে বিমান ভ্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। ব্যবসা, পর্যটন, পারিবারিক ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের কারণে এসব দেশের একটি অংশের মানুষের কাছে বছরে একাধিকবার বিমানে ওঠা স্বাভাবিক ঘটনা। অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য বিমানের টিকিট এখনো বড় ব্যয়। শুধু টিকিটের মূল্য নয়, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর খরচ, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ও অন্যান্য ব্যয় এবং অনেক অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিমান যোগাযোগ না থাকাও বিমান ভ্রমণের সুযোগকে সীমিত করতে পারে। এ কারণেই বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিমানযাত্রা হলেও সেই সংখ্যা দেখে কতজন আলাদা মানুষ বিমানে চড়ছেন, তা বোঝা যায় না। একজন নিয়মিত যাত্রী বছরে বহুবার বিমান ভ্রমণ করতে পারেন এবং প্রতিটি যাত্রাই মোট যাত্রী চলাচলের হিসাবে আলাদাভাবে যুক্ত হয়। উদাহরণ হিসেবে একজন ব্যবসায়ী বা নিয়মিত পর্যটক বছরে ১০ বার বিমানে ভ্রমণ করলে মোট যাত্রার হিসাবে ১০টি ভ্রমণ যোগ হবে। অন্যদিকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা একজন মানুষ হয়তো পুরো জীবনেই একবারও বিমানে ওঠার সুযোগ পাননি। ফলে মোট ফ্লাইট বা মোট যাত্রীযাত্রার সংখ্যা দিয়ে বিমান ভ্রমণ কত মানুষের নাগালে পৌঁছেছে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। গবেষণায় বিমান ভ্রমণের সঙ্গে আয় ও সম্পদের সম্পর্কও সামনে এসেছে। উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত বিমান ভ্রমণের প্রবণতা বেশি হওয়ায় বিমান চলাচল থেকে তৈরি পরিবেশগত প্রভাবও তুলনামূলকভাবে সেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি কেন্দ্রীভূত। বিশ্বের শীর্ষ ঘনঘন বিমানযাত্রীদের ছোট একটি অংশের ভ্রমণের কারণেই যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের মোট কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষের সঙ্গে বিমান খাতের অর্ধেকের বেশি কার্বন নিঃসরণের সম্পর্ক থাকার হিসাব এই বৈষম্যের মাত্রা তুলে ধরে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কখনো বিমানে চড়েননি” দাবিটিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বর্তমান সরাসরি হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষের জীবনে বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছে, যা ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের কখনো বিমানে না চড়ার হিসাবকে সমর্থন করে। এ তথ্য এমন এক বৈশ্বিক বাস্তবতা সামনে আনে, যেখানে বিমান প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হলেও এর ব্যবহার এখনো মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। বিশ্বের একটি অংশের কাছে বিমান ভ্রমণ দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি এখনো অনভিজ্ঞ একটি বিষয়। একই সঙ্গে বিমান চলাচলের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনাতেও এই বৈষম্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা কখনো বিমানে ওঠেননি, তাঁরাও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারেন। অথচ যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে তুলনামূলকভাবে ছোট একটি নিয়মিত যাত্রীগোষ্ঠীর ভ্রমণ থেকে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের আকাশে হাজার হাজার বিমান চললেও বিমান ভ্রমণ এখনো সর্বজনীন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠেনি। গবেষণার হিসাবে, পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অন্যদিকে যারা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করেন, তাঁদের মধ্যেও খুব ছোট একটি অংশ বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী।
অটিজমে আক্রান্ত শিশুর চুল কাটতে মেঝেতে শুয়ে পড়েন নাপিত, ছবি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে
গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু, দগ্ধ দুই নারী
একদিকে ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র পর্যায়ের দায়িত্ব, অন্যদিকে ক্যামেরা হাতে আমাজনের জঙ্গল থেকে আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল। পেশাজীবন আর ভ্রমণচিত্র নির্মাণ, দুই ভিন্ন জগতকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি কনটেন্ট নির্মাতা এমডি ওয়াকিফ হোসাইন। প্রজন্ম কথাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশাদারভাবে ভ্লগিং শুরুর প্রায় ১০ মাসের মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দর্শক ও অনুসারীর সংখ্যা ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে। ফিনল্যান্ডে বসবাসরত ওয়াকিফের ভ্রমণ কনটেন্ট সাধারণ পর্যটন ভিডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন কোনো দেশে গিয়ে দর্শনীয় স্থান, খাবার কিংবা ভ্রমণের খরচ দেখানোর পাশাপাশি তিনি সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনের গল্প ক্যামেরায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর কনটেন্টে কখনো জায়গা পেয়েছে আমাজনের জঙ্গলে একা সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা, কখনো আফ্রিকার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবন। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশাদারভাবে ভ্লগিং শুরুর পর অল্প সময়েই বড় দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন ওয়াকিফ। তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ৫ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ফেসবুকে অনুসারী ১৬ লাখের বেশি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে তাঁর মোট দর্শক ও অনুসারীর সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় এগুলো প্রকাশের সময়কার হিসাব। ওয়াকিফের আলোচিত ভ্রমণগুলোর একটি আমাজন জঙ্গলে একা ২৪ ঘণ্টা কাটানো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই রেইনফরেস্টে নিজের অভিজ্ঞতা ভিডিওতে তুলে ধরেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণের সময় আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে বন্দুকের মুখে তাঁর ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ঘটনাও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। কেনিয়া সফরে একটি স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর কনটেন্টে জায়গা পেয়েছে। তাদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি ওই সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি জানিয়েছেন। ফলে ওয়াকিফের ভিডিওতে শুধু কোনো অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, সেখানকার মানুষের জীবনও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। অ্যাডভেঞ্চার অবশ্য তাঁর জীবনে ভ্লগিংয়ের আগেই ছিল। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে ওয়াকিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার কনটেন্ট নির্মাণ শুরুর আগে তিনি সাতবার একক স্কাইডাইভ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সার্ফিং, পর্বতারোহণ এবং তিমি হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তবে ক্যামেরা হাতে বিশ্বভ্রমণই তাঁর একমাত্র পেশা নয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারফেক্টে সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ওয়াকিফ। নিয়মিত করপোরেট দায়িত্বের পাশাপাশি সময় বের করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ এবং ভিডিও নির্মাণ করছেন তিনি। অর্থাৎ পূর্ণকালীন পেশাজীবন এবং কনটেন্ট নির্মাণ, দুটি ধারাকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছেন। কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ওয়াকিফ। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে আইএমও মেসেঞ্জার, এসিই মানি ট্রান্সফার, ফ্যাসেট, এসিআই লিমিটেড, রবি, বিকাশ, ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও গোযায়ানের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব কাজের ধরন ও সময়কাল সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর সামনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও একটি কাজ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভারতের বস্ত্রপ্রতিষ্ঠান আজমেরা ফ্যাশন লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ডের প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরির জন্য তাঁকে ফিনল্যান্ড থেকে ভারতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজটি সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাঁর কনটেন্ট নির্মাণের অভিজ্ঞতায় আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে। ওয়াকিফের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর লক্ষ্য শুধু কোনো জায়গার সুন্দর দৃশ্য দেখানো নয়। একটি দেশের মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে, একটি সংস্কৃতির পেছনে কী গল্প রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনো স্থানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন, সেই বিষয়গুলোও ভ্রমণচিত্রের মধ্যে তুলে ধরতে চান তিনি। বাংলাদেশের ভ্রমণভিত্তিক কনটেন্টে এমন গল্প বলার ধরনকে নিজের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখছেন ওয়াকিফ। একটি ব্যস্ত করপোরেট জীবন সামলে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়ানো এবং সেই অভিজ্ঞতাকে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই যাত্রায় তাঁর কাছে ভ্রমণ শুধু নতুন কোনো দেশে পৌঁছানো নয়। প্রতিটি সফরের সঙ্গে নতুন মানুষ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প খুঁজে বের করাই তাঁর কনটেন্টের মূল লক্ষ্য। সূত্র: প্রজন্ম কথা
কাপড় শুকাতে ভবন কর্মীর ১২০ মিটার দড়ি কেটে নিলেন বাসিন্দা, অল্পের জন্য রক্ষা
‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটে ‘দেশের সবচেয়ে সুদর্শন’ হিসেবে নির্বাচিত
ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা, সতর্ক করল সিআইএ
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম সাসেক্সের ৭৯ বছর বয়সী ডেনিস লি জীবনের শেষ সময় কাটাচ্ছিলেন একটি বিশেষ সেবাকেন্দ্রে। ছোটবেলা থেকেই ঘোড়ার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল। জীবনের দীর্ঘ সময় ঘোড়ায় চড়েছেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ করে দেওয়া বিভিন্ন কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে গুরুতর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রিয় ঘোড়াগুলোর কাছ থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে। জীবনের শেষ দিকে এসে ডেনিসের মনে আবারও ঘোড়ার কাছে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে। আগস্টে তিনি তাঁর মেয়ে জোয়ান মুলারকি এবং সেবাকেন্দ্রের কর্মীদের জানান, তিনি আরেকবার ঘোড়াকে ছুঁতে চান। শুধু ঘোড়াকে দেখাই নয়, ঘোড়ার শরীরের পরিচিত গন্ধও শেষবারের মতো অনুভব করতে চেয়েছিলেন তিনি। মায়ের এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে জোয়ান স্থানীয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। জোয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ এবং জীবনের শেষ সময়ে একবার ঘোড়ার কাছে যেতে চান। পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় ঘোড়ার মালিক কেরি সন্ডার্স তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তিনি তাঁর দুটি ছোট ঘোড়াকে ডেনিসের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর সেবাকেন্দ্রের কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এই বিশেষ সাক্ষাতের আয়োজন করেন। পরদিন সকালেই দুটি ছোট ঘোড়াকে ডেনিসের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ডেনিস তখন বিছানায় ছিলেন। তাঁর কাছে ঘোড়াগুলোকে আনা হলে তিনি হাত বাড়িয়ে তাদের মাথা ও নাক স্পর্শ করেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় প্রাণীগুলোর এত কাছে এসে তাঁর মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে ওঠে। সেখানে থাকা পরিবারের সদস্য ও কর্মীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মুহূর্তটি ডেনিসের পরিবারের জন্য স্মরণীয় হয়ে ওঠে। সেন্ট বার্নাবাস হাউসের স্বাস্থ্যকর্মী ক্লেয়ার উইগিন্স জানান, তাঁদের সেবাকেন্দ্রে রোগীদের নিয়মিত জিজ্ঞেস করা হয়, দিনের কোন বিষয়টি তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও কাছে সেটি হতে পারে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বাইরে যাওয়া কিংবা প্রিয় গান শোনা। ডেনিসের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল ঘোড়াকে আরেকবার দেখা এবং তার নিঃশ্বাস নিজের হাতে অনুভব করা। তাই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তাঁর শেষ ইচ্ছাটি পূরণের ব্যবস্থা করা হয়। ক্লেয়ার বলেন, ডেনিস ঘোড়াগুলো দেখে খুব আনন্দিত হয়েছিলেন। পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। সেখানে থাকা অনেকেই কেঁদে ফেলেছিলেন। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল, ডেনিসের শেষ ইচ্ছাটি পূরণ করতে পারা। একই সঙ্গে এই বিশেষ মুহূর্তটি তাঁর পরিবারের জন্য একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি। ডেনিসের মেয়ে জোয়ান পরে ফেসবুকে সেই দিনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, বিছানায় থাকা ডেনিস হাসিমুখে ছোট ঘোড়াগুলোর মাথা ও নাক স্পর্শ করছেন। এক ছবিতে তাঁকে ঘোড়ার মুখের কাছে হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে কাটানো সেই সময় তাঁদের কাছে সারাজীবনের একটি বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। জোয়ান জানান, ঘোড়াগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর তাঁর মা শান্তিপূর্ণভাবে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বলেন, জীবনের শেষ সময়ে ডেনিস এমন একটি অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন, যা তাঁর কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণে যারা সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ঘোড়ার মালিক কেরি সন্ডার্সও এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগ প্রকাশ করেন। বিবিসিকে তিনি জানান, ঘোড়াগুলো দেখার পর ডেনিসের মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। ডেনিসের জীবনের শেষ ইচ্ছার অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেছেন। তাঁর দুই ছোট ঘোড়াও পুরো সময় শান্ত ছিল এবং ডেনিসের সঙ্গে বিশেষ সেই মুহূর্তটি তৈরি করতে সাহায্য করেছে। ডেনিসের ঘটনা দেখিয়েছে, জীবনের শেষ সময়েও একজন গুরুতর অসুস্থ মানুষের ছোট কোনো ইচ্ছা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রিয় মানুষ, প্রাণী বা কোনো বিশেষ স্মৃতির সঙ্গে শেষবারের মতো সময় কাটানোর সুযোগও রোগীর জন্য অনেক অর্থ বহন করতে পারে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা আর পরিবারের উদ্যোগে ডেনিস তাঁর জীবনের শেষ সচেতন সময়গুলোর একটিতে আবারও প্রিয় ঘোড়ার কাছে ফিরতে পেরেছিলেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি
এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল ঠেকাতে নিজের কণ্ঠের আইনি সুরক্ষা চান ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি
রাশিয়ায় ল্যাবে কাজ করার সময় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে গবেষকের মৃত্যু, তিন হাসপাতাল লকডাউন