যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য নতুন আলোচনাকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে তেহরানের বিদেশে আটকে থাকা ‘ফ্রোজেন অ্যাসেটস’ বা জব্দ সম্পদের বিষয়টি। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বিপুল অর্থ এখন ইরানের জন্য যেমন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কূটনৈতিক দরকষাকষির বড় উপাদান হয়ে উঠেছে।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব এবং পরবর্তী সময়ে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের পর প্রথমবার ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সেই নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হয়। এর ফলে তেল রপ্তানির বড় অংশসহ ইরানের বিপুল বৈদেশিক আয় বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়েও বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে, যখন সম্ভাব্য আলোচনার আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানান—বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত না হলে আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন। যদিও কিছু প্রতিবেদনে আংশিক অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে, যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে জানায়—ইরানের সম্পদ এখনো জব্দ অবস্থাতেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর গবেষকদের মতে, এই অঙ্কটি ইরানের বার্ষিক তেল-গ্যাস আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। ফলে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে এই অর্থ। অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী—চীনে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার, ভারতে ৭০০ কোটি, ইরাকে ৬০০ কোটি, কাতারে ৬০০ কোটি, জাপানে প্রায় ১৫০ কোটি, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আরও বড় অঙ্কের অর্থ আটকে রয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে অন্তত ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের দাবি তুলেছে, যা আস্থা তৈরির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অর্থ ছাড় পেলেও তা ব্যবহারে নানা শর্ত আরোপ করা হয়, ফলে পূর্ণ সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
‘ফ্রোজেন অ্যাসেটস’ বলতে এমন সম্পদকে বোঝায়, যা কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা আইনি জটিলতার কারণে ব্যবহার বা স্থানান্তর করা যায় না। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থাটি অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। শুধু ইরান নয়, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলাসহ আরও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা গেছে।
ইতিহাস বলছে, ১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তি-এর মাধ্যমে কিছু অর্থ মুক্ত করা হলেও তার বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তি-এর ফলে ইরান কিছু অর্থ ফেরত পায়। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে এসে আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পরিস্থিতি আগের মতোই জটিল হয়ে ওঠে।
বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এই জব্দ সম্পদ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ দেশে ফিরতে পারলে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে চাঙা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছালে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সফরকালে কাতারের আমিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন শাহবাজ শরিফ। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তিন ধাপের আঞ্চলিক সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং সফরের শেষ ধাপে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরকালে জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা করেছেন শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদ এই সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং পরবর্তী দফার আলোচনার পথ সুগম করতে পাকিস্তান একযোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। কাতার সফর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ।
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বাস্তবসম্মত একমাত্র পথ হয়ে উঠছে একটি সমঝোতা চুক্তি। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে। একই সময়ে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান-এর জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। টানা বোমাবর্ষণ, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক চাপ দেশটিকে দ্রুত একটি সমঝোতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও বাহ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করা হচ্ছে, বাস্তবে দেশটির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্যও একটি সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মূল বিরোধ বড় কোনো নীতিগত প্রশ্নে নয়, বরং সময়সীমা ও শর্ত নিয়ে। ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দীর্ঘমেয়াদি—প্রায় ২০ বছরের—নিয়ন্ত্রণ। এই বিরোধের মধ্যেও উভয় পক্ষ অন্তত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখার বিষয়ে একমত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মার্কিন অবরোধ ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইসরাইল এবং লেবানন সীমান্তে সক্রিয় হিজবুল্লাহ। ইরান চায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ কমানো হোক, অন্যদিকে ইসরাইল নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনায় এসব ইস্যু আলাদা করে বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে মূল চুক্তির পথে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত না হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মূল চ্যালেঞ্জ হলো—দুই পক্ষই যেন নিজেদের জনগণের কাছে এটিকে ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চাইবে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার সাফল্য দেখাতে ইরান চাইবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট আছে—এ বার্তা দিতে সব মিলিয়ে, বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথই এখন বেশি সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই সম্ভাব্য চুক্তি কি ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়েও কার্যকর হবে, নাকি নতুন করে আরও জটিল বাস্তবতার জন্ম দেবে।
দুবাইয়ের প্রতীকী বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরব-এ বড় ধরনের সংস্কারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এ কারণে হোটেলটি অন্তত ১৮ মাসের জন্য আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। হোটেলটির মালিক জুমেইরাহ গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংস্কারকাজ ধাপে ধাপে প্রায় দেড় বছর ধরে চলবে। পুরো প্রকল্পের নকশা তত্ত্বাবধান করবেন প্যারিসভিত্তিক ইন্টেরিয়র স্থপতি ত্রিস্তান অর। তবে এই সময়ে হোটেলটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, যেসব অতিথির আগাম বুকিং রয়েছে, তাদের জন্য কাছাকাছি অন্য হোটেলে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংস্কারের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে বন্ধ থাকার সময়সীমা কিছুটা পরিবর্তিতও হতে পারে। পালতোলা নকশার জন্য পরিচিত এই আইকনিক স্থাপনাটি দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং জুমেইরাহ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে ইরানের ড্রোন প্রতিরোধের সময় সৃষ্ট কিছু ধ্বংসাবশেষ হোটেলের বাইরের অংশে আঘাত করে সামান্য ক্ষতি করেছিল। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সংস্কার প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত একটি উন্নয়নকাজ, যা চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার বাইরে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পর্যটন খাত কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে—ফ্লাইট বিঘ্নিত হচ্ছে, পর্যটকের সংখ্যাও কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই সময়টিকে সংস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।