আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে পড়াশোনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রেমিককে নিয়ে দাদীসহ ৫ স্বজনকে হত্যা করল ১৫ বছরের কিশোরী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৫:৪০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইস্ট সেন্ট লুইসে পড়াশোনা নিয়ে সামান্য পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং তার ১৬ বছর বয়সী প্রেমিক জা’ইমিয়ার ডেভিসের বিরুদ্ধে। পুলিশ এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত গণগুলিবর্ষণ’ (টার্গেটেড মাস শুটিং) হিসেবে বর্ণনা করেছে।

 

গত রবিবার তিনটি ভিন্ন স্থানে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত কিশোরীর মামলাটি বর্তমানে জুভেনাইল আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

শোকার্ত বাবা মার্কাস মে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এক নিমেষেই তিনি তার পুরো পরিবারকে হারিয়েছেন। নিহতরা সবাই ওই কিশোরীর আপন রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কাসের ৭৪ বছর বয়সী মা প্যাট্রিসিয়া মে, ৪৯ বছর বয়সী বোন চেরি মে, ২৪ বছর বয়সী ভাগ্নে ডেভিন মে এবং দুই সৎ সন্তান কোয়েন্টিন থম্পসন (২১) ও শানিয়া থম্পসন (২৫)। প্রসিকিউটরদের দায়ের করা ১২টি অভিযোগের নথিতে জানা গেছে, নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; অভিযুক্ত কিশোরীর প্রেমিক ডেভিস হত্যার পর বৃদ্ধা প্যাট্রিসিয়ার হাতের বুড়ো আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

 

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে মার্কাস মে জানান, স্কুলে নানা ঝামেলা করায় কিশোরীটিকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে বাড়িতেই পড়াশোনা (হোমস্কুলিং) করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিভাবকেরা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মা-বাবার সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়ায় সে। এর আগেও কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং মায়ের ডেবিট কার্ড চুরির রেকর্ড ছিল তার।

 

ঘটনার কয়েকদিন আগে সে তার মায়ের একটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি করে আবারও বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, যা নিয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছিল। এমনকি মেয়েটি আগে একবার এমন গণগুলিবর্ষণের পরিকল্পনা করছে বলে আভাস দিলেও পরিবারের কেউ তা তখন গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি।

 

রবিবার সকালে রক্তাক্ত এই তাণ্ডব চালানোর পর পুলিশ ইস্ট সেন্ট লুইসের বিভিন্ন স্থান থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। শানিয়ার মরদেহ একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে রাখা গাড়ি থেকে এবং কোয়েন্টিনের মরদেহ স্থানীয় জোনস পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই পার্কটি থেকেই আরও দুজনকে গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

এছাড়া কয়েক মাইল দূরের একটি আবাসন এলাকা থেকে অন্য দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ইলিনয় স্টেট পুলিশ ধাওয়া করে দুই অভিযুক্ত কিশোর-কিশোরীর গাড়িটি থামায় এবং একটি পার্কের কাছ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৮ বছরের তরুণের মৃত্যুর জেরে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবি পরিবারের

নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ির দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর, বিপজ্জনক এই শিল্পটি চিরতরে নিষিদ্ধ করতে আইনপ্রণেতাদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে নিহতের পরিবার। নিহত রোমাঞ্চ মহাজন নামের ওই তরুণের বাবা-মা শহর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তাদের সন্তানের অকাল মৃত্যু যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এই পর্যটন আকর্ষণটি বন্ধের দাবিতে নতুন করে সোচ্চার হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির আইনপ্রণেতারাও।   গত বুধবার সিটি কাউন্সিল চেম্বারে কান্নাজড়িত স্ত্রী প্রিয়ার পাশে বসে নিহত কিশোরের বাবা দীপক মহাজন তার হৃদয়বিদারক অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বের কোনো পরিবারের ভাগ্যেই যেন এমন পরিণতি না জোটে; কেউই তাদের সন্তানের এমন মৃত্যু আশা করে না, কিন্তু তাদের সাথে সেটাই ঘটেছে এবং পুরো পরিবার আজ চরমভাবে বিপর্যস্ত।   পূর্ববর্তী প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, আগে প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে গত ১ জুনের মধ্যেই ঘোড়ার গাড়ির চলাচল বন্ধ হয়ে যেত এবং ১৭ জুন তার ছেলে রোমাঞ্চকে প্রাণ হারাতে হতো না। এটি কোনোভাবেই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ছিল না বলে তিনি জোর দাবি করেন।   রোমাঞ্চের মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে লোয়ার ম্যানহাটনের কাউন্সিলম্যান ক্রিস মার্টে এ বিষয়ে একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে স্পিকার জুলি মেনিনসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই বিলে তাদের সমর্থন জানান। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে স্পিকার মেনিন বলেন, রোমাঞ্চকে ফিরিয়ে আনার কোনো উপায় তাদের হাতে নেই, তবে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এমন ভয়াবহ ট্র্যাজেডি যেন আর কখনো না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তারা একটি চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছেন এবং এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।   স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে কাউন্সিলম্যান মার্টে বলেন, প্রতিটি ঘটনার পরই এটিকে একটি 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' ও নিরাপদ শিল্প বলে অজুহাত দেওয়া হয়।   কিন্তু গত তিন থেকে চার বছরের বাস্তব পরিসংখ্যান অত্যন্ত ভয়াবহ। এই সময়ে ১২৮টি দুর্ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, অন্তত ৩০টি ঘোড়ার মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে আরও অসংখ্য ঘোড়া, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু যানবাহন এবং সর্বশেষ ঝরে গেল এক নিরপরাধ পর্যটকের প্রাণ। এদিকে, সাবেক কুইন্স কাউন্সিলম্যান বব হোল্ডেন অতীতে অবিকল একই ধরনের একটি বিল উত্থাপন করলেও তৎকালীন সিটি কাউন্সিল নেতৃত্ব তা আমলে না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৬:১৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে পড়াশোনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রেমিককে নিয়ে দাদীসহ ৫ স্বজনকে হত্যা করল ১৫ বছরের কিশোরী

ক্যালিফোর্নিয়ায় কার্যকর হচ্ছে নতুন প্যাকেজিং ফি I ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় কার্যকর হচ্ছে নতুন প্যাকেজিং ফি, বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

জাতীয় জরিপে মার্কিন তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ভোটারদের মধ্যে দ্রুত কমছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

মহামারি আমলের উন্মাদনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ শতাংশ বড় শহর এখন ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। ছবি: অ্যাডোবি স্টক
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বড় শহরে এখন বাড়ি কেনার সুবিধা পাচ্ছেন ক্রেতারা

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারিকালীন বাড়ি কেনার তুমুল প্রতিযোগিতা ও তীব্র উন্মাদনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে এবং বাজারে এখন ক্রেতারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আবাসন তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'রেডফিন'-এর সাম্প্রতিক জুন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির বড় শহরগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই এখন ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। মূলত মায়ামি, হিউস্টন এবং অস্টিনের মতো সান বেল্ট অঞ্চলের জনপ্রিয় শহরগুলোতে অতিরিক্ত আবাসন বা বাড়ির মজুত গড়ে ওঠার কারণে বাজারে এই বড় পরিবর্তন এসেছে, যেখানে মহামারি-পরবর্তী সময়ে বাড়ি কেনার সামগ্রিক চাহিদা অনেকটাই ধীরগতির হয়ে পড়েছে।   গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য প্রস্তুত থাকা মানুষের চেয়ে বাড়ি বিক্রেতার সংখ্যা ছিল আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৫ লাখ বা ৪৮.৫ শতাংশ বেশি। রেডফিনের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ আসাদ খান জানান, বর্তমানে সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া অতিরিক্ত খরচ। তবে রেকর্ড পরিমাণ বেশি দাম এবং চড়া বন্ধকী সুদের হারের মধ্যেও যাদের এখন বাড়ি কেনার মতো পর্যাপ্ত বাজেট রয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণের আসল ক্ষমতা ও সুবিধা এখন প্রধানত তাদের হাতেই রয়েছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় ক্রেতাদের জন্য বেছে নেওয়ার মতো প্রচুর বাড়ি খোলা রয়েছে। এর ফলে আগে বাড়ি কেনা নিয়ে বাজারে যে কাড়াকাড়ি বা নিলামের তীব্র প্রতিযোগিতা হতো, তা এখন আর নেই বললেই চলে। এখন ক্রেতারা বাড়ির চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ, বাড়ি কেনার অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ কমানো এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যয়ের বিষয়ে বিক্রেতাদের সাথে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে দর কষাকষি করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা আগে প্রায় অসম্ভব ছিল।   প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি নির্দিষ্ট বড় বাজারে—বিশেষ করে মায়ামি, ন্যাশভিল এবং টেক্সাসের কিছু অংশে ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিক্রেতা উদ্বৃত্তের হার মায়ামিতে ১৪০ শতাংশ, ন্যাশভিলে ১২৯ শতাংশ, হিউস্টনে ১২৪ শতাংশ, সান আন্তোনিওতে ১১৭ শতাংশ এবং অস্টিনে ১০১ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মায়ামিতে কন্ডোগুলোর অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ফি বৃদ্ধি, আকাশচুম্বী আবাসন বীমা প্রিমিয়াম এবং অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাই এখন বাড়ি কেনা থেকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছেন।   সামগ্রিকভাবে ২০২০ সালের পর চলতি বছরের জুনেই সবচেয়ে বেশি নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে মাত্র সাতটি এলাকা এখনও বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির নিকটবর্তী নাসাউ কাউন্টি, নেওয়ার্ক, নিউ ব্রান্সউইক এবং সান ফ্রান্সিসকো অন্যতম। নিউইয়র্কের আশেপাশের এলাকাগুলোতে বাড়ির তীব্র সংকটের কারণে বিক্রেতারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে, সান ফ্রান্সিসকোতে নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দারুণ জোয়ারের কারণে ধনী প্রযুক্তি ক্রেতারা বড় বেতনের টাকা দিয়ে দ্রুত বাড়ি কিনে নিচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১২:৪৪
মুসলিম ভোটারদের নিয়ে আশঙ্কার কথা সাক্ষাৎকারে স্বীকার করলেন মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী মেলিসা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম ভোটাররা অসন্তুষ্ট হতে পারেন এই ভয়ে সমকামীদের পক্ষে মুখ খুলছেন না মার্কিন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী!

ইউএস ক্যাপিটলে ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ চিপ রয়। ছবি: গেটি ইমেজস

চিকিৎসাসেবার আগে জানতে হবে নাগরিকত্ব! মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিলের প্রস্তাব

২০২২ সালের ভয়াবহ তেল বিপর্যয়ের ঘটনায় ২৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হলো সাউথ বো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খালে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিচ্ছে কি-স্টোন পাইপলাইন

দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ইন্ডিয়ানার ইএমটি রোনাল্ড ডি. এলিয়ট। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাম্বুলেন্সে কিশোরীকে যৌন নির্যাতন, ইন্ডিয়ানার জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন কাউন্টিতে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রোনাল্ড ডি. এলিয়ট জুনিয়র (৩৭) নামের এক জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমটি) নতুন করে আরও কিছু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।   ডব্লিউএক্সআইএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে এলিয়টকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, গত ফেব্রুয়ারিতে 'কোয়েস্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস'-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে তিনি যৌন নির্যাতন করেন।   শুরুতে তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধের অভিযোগ এনে মে মাসে একটি ট্রাফিক তল্লাশির সময় তাকে গ্রেফতার করে ডেলাওয়্যার কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত সোমবার তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধের জন্য নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ম্যারিয়ন কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে একটি নতুন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কোয়েস্ট অ্যাম্বুলেন্সে কর্মরত থাকাকালে এবং তার অধীনে চিকিৎসাধীন থাকা কিশোরীদের যৌন নির্যাতন ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা থেকে এই নতুন অভিযোগগুলো এসেছে।   আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নথি অনুযায়ী, গত ১৬ মার্চ এক কিশোরী পুলিশকে জানায় যে বল মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে ব্লুমিংটনের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে ওই ইএমটি তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। ইন্ডিয়ানা স্টেট পুলিশকে সে জানায়, যাত্রাপথে এলিয়ট প্রথমে তাকে নিজের ফোনের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখান, যার মধ্যে তার নিজের যৌনাঙ্গের ছবি ও যৌন আচরণের ভিডিও ছিল। এরপর সে কিশোরীটিকে কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করে এবং অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে যৌন নির্যাতন চালায়।   নির্যাতনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীটিকে একটি নিকোটিন ভেপ এবং তার ফোন ব্যবহার করতে দেন। সেখানে কিশোরীটি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করলেও পরে আর লগআউট করেনি। এলিয়ট পরবর্তীতে ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অন্য আরেকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাকে আপত্তিকর বার্তা ও ছবি পাঠান।   গত ২৫ মার্চ তদন্তকারীদের সাথে কথা বলার সময় এলিয়ট কিশোরীটিকে ভেপ ও ফোন ব্যবহার করতে দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কোনো ধরনের যৌন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন এবং আপত্তিকর ছবিগুলো দুর্ঘটনাবশত দেখা গেছে বলে দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে তদন্তকারীরা ভুক্তভোগীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও এলিয়টের ফোনে এর সপক্ষে প্রমাণ পান।   এলিয়টের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কের সাথে যৌন অসদাচরণ, শিশুকে প্রলোভন দেখানো, পরোক্ষ যৌন তৃপ্তি, শিশু প্ররোচনা এবং শিশুর সাথে আপত্তিকর যোগাযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে কোনো জামিন ছাড়াই ডেলাওয়্যার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১১:০
মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে ফ্লোরিডায় ট্রাকের ধাক্কায় যুবক নিহত। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় ট্রাকের ধাক্কায় মেক্সিকান যুবকের মৃত্যু

৫ বছরের মেয়েকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে অনাহারে হত্যার দায়ে বাবা রবার্ট বাসকিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

ঘরে ছিল খাবার, তবু অনাহারে মৃত্যুর কোলে ৫ বছরের শিশু: বাবার ২৭ বছর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক বিমান।ছবি:সংগৃহীত

উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে বাইরে ছিটকে পড়া স্বামীকে পা ধরে বাঁচালেন স্ত্রী

0 Comments