যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চীনে পাড়ি জমালেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, মেধা পাচারের শঙ্কায় আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এক বিশাল ধাক্কা দিয়ে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নোবেলজয়ী প্রখ্যাত রসায়নবিদ ওমার ইয়াঘি। মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOFs) নিয়ে যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জেতেন তিনি।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউসি বার্কলে) ছেড়ে এই শীর্ষ বিজ্ঞানী চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত মর্যাদাপূর্ণ সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা খাতে সরকারি তহবিল ব্যাপকভাবে হ্রাস এবং বিজ্ঞানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই শীর্ষস্থানীয় মেধাবীরা ধীরে ধীরে বিদেশমুখী হচ্ছেন।
চীনে গিয়ে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নবগঠিত 'এআই কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (AIMATRY)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ওমার ইয়াঘি। তার এই নতুন যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বস্তুবিজ্ঞানের (ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স) সমন্বয় ঘটিয়ে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের গতিকে অভাবনীয় মাত্রায় ত্বরান্বিত করা।
এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থেকে তিনি অত্যাধুনিক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন নতুন উপকরণের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে অন্তত দশগুণ দ্রুততর করার পরিকল্পনা করেছেন। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন ক্যাপচার (বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ) এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের মতো গুরুতর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই হবে তার এই গবেষণার প্রধান লক্ষ্য।
শীর্ষস্থানীয় এই বিজ্ঞানীর এমন হাই-প্রোফাইল দলবদল বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক প্রতিভা আকর্ষণের এক তীব্র প্রতিযোগিতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি সময়, কারণ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের সাথে বিভিন্ন যৌথ গবেষণা উদ্যোগে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করছে, ঠিক তখনই চীন বিদেশি অভিজাত স্কলারদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে।
বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীরা গবেষণার জন্য সবসময় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বেছে নেবেন—দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ধারণাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে ইয়াঘির এই সিদ্ধান্ত। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন খাত এবং গবেষণায় অর্থায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশটিতে নতুন করে গভীর ও জরুরি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) তাদের 'থার্ড কান্ট্রি' বা তৃতীয় দেশে বিতাড়ন কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সিবিএস নিউজের হাতে আসা মার্কিন সরকারের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আফগানিস্তান, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ অন্যান্য দেশের ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকা মহাদেশের আটটি দেশে বিতাড়িত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আইসের তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এসব নারী-পুরুষকে বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নিরক্ষীয় গিনি, এসওয়াতিনি, লাইবেরিয়া, রুয়ান্ডা এবং সিয়েরা লিওনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিতাড়িত এই অভিবাসীদের কেউই সেসব দেশের নাগরিক নন। গত দেড় সপ্তাহে আফগান, কিউবান ও নিকারাগুয়ানদের পাশাপাশি ইরান, নেপাল, তুরস্ক এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরও আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন সরকারের এই অভ্যন্তরীণ নথিগুলো প্রকাশ্যে আসার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। নিজ দেশের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের সম্পূর্ণ অপরিচিত ও দূরবর্তী দেশে নির্বাসিত করার এই অভিযান ক্রমশ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। লাতিন আমেরিকার কোস্টারিকা, পানামা ও প্যারাগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। তবে বর্তমানে আফ্রিকার অনেক দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই চুক্তিতে জড়াচ্ছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত দেশগুলোও রয়েছে। ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশগুলো কেবল আফ্রিকার অন্যান্য স্থানের অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও এসওয়াতিনি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলো লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আসা বন্দীদেরও গ্রহণ করছে। আফ্রিকায় বিতাড়িত এসব অভিবাসীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও অনেকেই কেবল অবৈধভাবে প্রবেশ বা বৈধ নথিপত্রের অভাবের কারণে আইসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ফ্লাইটে সিয়েরা লিওন এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বন্দীদের নামানো হয়। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 'লেভেল ফোর' সতর্কতা জারি রয়েছে। এদিকে, এ বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে আবেদন করে, তবে আইন অনুযায়ী তাদের জন্য একটি নিরাপদ দেশের ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তাদের বিনা মূল্যে ফ্লাইট এবং ৩ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিতাড়িত হওয়া এক ২৪ বছর বয়সী আফগান যুবকের ঘটনা এই নীতির ভয়াবহ দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। খলিল নামের ওই যুবকের পরিবার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করেছিল এবং সে নিজেও মার্কিন অভিবাসন আদালতে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে তৃতীয় এই দেশে বিতাড়িত করেছে। মার্কিন মেরিন কর্নেল জাচারি শ্মিডট, যিনি খলিলের ভাইয়ের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, তিনি খলিলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্মিডট জানান, খলিলকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবানরা তাকে হত্যা করবে। খলিলের আইনজীবী আলমা ডেভিডের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার শামিল।
এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার
মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ
মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে
নিউইয়র্কে পরপর দুটি নৃশংস খুনের পর এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এক দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে ৩১ বছর বয়সী জেসুস অ্যাকোস্টা নামের ওই ঘাতককে আটক করে। জোড়া খুনের মতো ভয়ংকর অপরাধে হাতকড়া পরা অবস্থায় ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত এক মন্তব্য করে সে। কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে সে বলে ওঠে, "ঈশ্বর মঙ্গলময়, ঈশ্বর মহান।" পুলিশ জানিয়েছে, নিছক ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছিল অ্যাকোস্টা। গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের একটি উইংস-রেস্তোরাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে এমডি ইউসুফ (৪৪) নামের এক কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে সে। নিহত ইউসুফ অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ব্রঙ্কসের ১৪৯ নম্বর স্ট্রিটের একটি দোকানে আবারও সশস্ত্র ডাকাতি করে এই ঘাতক। সেখানে টেভন শুলার (৩৩) নামের এক ক্রেতাকে গুলি করে হত্যা করে সে। জেসুস অ্যাকোস্টা মূলত একজন দাগী অপরাধী। অনলাইনে প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর গত ২৩ এপ্রিল প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল সে। প্যারোলে থাকা অবস্থাতেই সে পুনরায় এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এফবিআই ২৫ হাজার ডলার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা' আরও ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে শনিবার ব্রঙ্কসের ৪৩ নম্বর প্রিসিনক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানা থেকে বের করার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও, অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের ওই অদ্ভুত কথাগুলো বলে ওঠে এই অপরাধী।
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করতে হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক নেতারা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস? সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
প্রতি বছর মেয়ের কবরে ফেরেন বাবা, ছবিতে ধরা পড়ে অশ্রুসিক্ত মুহূর্ত
নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা একবারে পরিশোধ করতে না পারলে নির্দিষ্ট শর্তে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড়, প্রথমবার টিকিট পেলেই জরিমানা কমে যাওয়া বা মাসে মাত্র ২০ ডলার করে পরিশোধের যে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের বর্তমান নিয়মের মিল নেই। ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পার্কিং ও ক্যামেরা ভায়োলেশনের বকেয়া জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। সাধারণ কিস্তি পরিকল্পনায় ৩৫০ ডলার বা তার বেশি বকেয়া থাকলে সাধারণত মোট বকেয়ার অন্তত ২০ শতাংশ আগে পরিশোধ করতে হয় এবং বাকি অর্থ সর্বোচ্চ ২৪ মাসে পরিশোধ করা যায়। ৩৫০ ডলারের কম বকেয়ার ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত প্রযোজ্য। কম আয়ের চালকদের জন্য আরও একটি বিশেষ কিস্তি পরিকল্পনা রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, যাদের সমন্বিত বার্ষিক আয় ৮৬ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মডারেট ইনকাম পেমেন্ট প্ল্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধের পর সর্বোচ্চ ১৮ মাসে বাকি অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকতে পারে। আর্থিক সংকটে থাকা কিছু ব্যক্তির জন্য হার্ডশিপ পেমেন্ট প্ল্যানও রয়েছে। বেকারত্ব, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ি হারানোর মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যোগ্য ব্যক্তিরা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই পরিকল্পনায় ন্যূনতম ৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং সর্বোচ্চ ২৪ মাসের কিস্তির সুযোগ থাকতে পারে। তবে আবেদন অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা পাওয়া মানেই জরিমানা মাফ বা কমে যাওয়া নয়। বকেয়া অর্থের ওপর সুদ জমতে থাকে যতক্ষণ না পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে গাড়ি বুট করা বা টো করার মতো কিছু ব্যবস্থা এড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া কোনো পার্কিং টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে সেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসপিউট করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স জানিয়েছে, টিকিট পাওয়ার পর সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ বা ডিসপিউট করা উচিত। দেরি হলে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে পারে। তাই ১১৫ বা ১৫০ ডলারের পার্কিং টিকিট পেলেই ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে কিংবা প্রথমবার টিকিট পাওয়ার কারণে জরিমানা কমে যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বরং যোগ্যতা অনুযায়ী কিস্তি পরিকল্পনা, আর্থিক সংকটের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা অথবা টিকিট ডিসপিউট করার সুযোগ রয়েছে।
গভীর রাতে নিউ জার্সির ট্রেন্টনে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে নিহত ২
‘ট্রাম্প চলে গেলেও নাম থাকবে লেক অন্টারিও!’ নাম বদলের জবাবে বিশাল সাইনবোর্ড কানাডার