- প্রচ্ছদ
- ক্যারিয়ার
ক্যারিয়ার
মুম্বাইয়ের কুরলার বস্তিতে মাত্র ৮ বাই ১০ ফুটের একটি ঘরে মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা জয়কুমার বৈদ্য আজ নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কাজ করছেন। শৈশবে অর্থাভাবে স্কুলের বেতন দিতে না পারায় একসময় তার পরীক্ষার ফল আটকে রাখা হয়েছিল। সংসারের খরচ ও নিজের পড়াশোনা চালাতে টেলিভিশন মেরামতের কাজও করেছেন তিনি। পরে সেই জয়কুমারই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় ও চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার জিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের জগতে নিজের জায়গা করে নেন। জয়কুমারের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে। তার মা একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতেন। স্কুলের বেতন দিতে না পারার সময়গুলোতে পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়ত। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে জয়কুমার টেলিভিশন মেরামতের দোকানে কাজ করে মাসে প্রায় ৪ হাজার রুপি আয় করতেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াতেন এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতেন। তবে অর্থের অভাব তার পড়াশোনার আগ্রহ থামাতে পারেনি। মুম্বাইয়ের কেজে সোমাইয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনেই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় পর্যায়ের এবং চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার পান। এরপর তিনি লারসেন অ্যান্ড টুব্রোতে শিক্ষানবিশির সুযোগও পান। ২০১৬ সালে জয়কুমার ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে জুনিয়র গবেষণা ফেলো হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপাদান তৈরি ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। নাসার জীবনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেছেন এবং উচ্চ তাপমাত্রার অতিপরিবাহীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে কাজ করেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় স্নাতকোত্তর গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জয়কুমার। ২০২১ সালে সেখান থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে অর্ধপরিবাহী তৈরির প্রযুক্তি ও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। নাসার সঙ্গে তার যাত্রাও শুরু হয় গবেষণার ধারাবাহিকতায়। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে তিনি প্রথমে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রকল্পে এক্স-রে দূরবীক্ষণযন্ত্রের জন্য বিশেষ ধরনের পাতলা স্তরের উপাদান তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি গ্রহের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণে ব্যবহৃত চতুর্মেরু ভর বর্ণালিমাপক তৈরির সঙ্গে যুক্ত। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জয়কুমার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রহীয় পরিবেশ গবেষণাগারে ভূমি সহায়তা সরঞ্জাম প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন মহাকাশ মিশনের জন্য ভর বর্ণালিমাপকের মান নির্ধারণ, ভূমি ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার কাজের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদসহ সৌরজগতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মিশনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ও উর্ধ্ববায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি যন্ত্রের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের নিরপেক্ষ গ্যাস ও আয়নের গঠন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল ও আয়নমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য তৈরি একটি মিশনের যন্ত্রের ভূমি সহায়তা ও পরিচালনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। যে ছেলেটির পরিবারের জন্য একসময় স্কুলের বেতন জোগাড় করাই কঠিন ছিল, সেই জয়কুমার বৈদ্য এখন মহাকাশবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র তৈরির কাজে যুক্ত। তার জীবনের পথচলা দেখিয়েছে, আর্থিক সংকট শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে সেখান থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণায়ও জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
গুগলে বছরে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চাকরি করেও ৩৭ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন ফ্লোরেন্স পয়রেল। চাকরি ছাড়ার সময় তার সঞ্চয় ছিল প্রায় ১৫ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের এপ্রিলে চাকরি ছেড়ে তিনি নিজের ভাষায় ‘স্বল্পমেয়াদি অবসর’ শুরু করেন। চাকরি ছাড়ার প্রায় দেড় বছর পরও তিনি আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরবেন কি না, তা নিশ্চিত ছিলেন না। ফ্লোরেন্স সুইজারল্যান্ডে তার সঙ্গী জানের সঙ্গে থাকেন। জান তার চেয়ে ১৭ বছরের বড় এবং তিনিও গুগলে কাজ করতেন। দুজন একই সময়ে চাকরি থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৮ সালে জানের সঙ্গে পরিচয়ের পর ফ্লোরেন্স আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে শুরু করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, অবসর নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে জান তখন আরও অনেক বেশি বয়সী হয়ে যাবেন। তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় একসঙ্গে কাটানোর জন্য আগেই কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফ্লোরেন্স সবসময়ই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন। তিনি আয়ের বড় একটি অংশ সঞ্চয় করতেন, খুব কমই বাইরে খেতে যেতেন এবং বিনোদনে বেশি অর্থ ব্যয় করতেন না। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তিনি তুলনামূলক কম খরচের উড়োজাহাজ বেছে নিতেন এবং সাধারণ মানের হোটেলে থাকতেন। পরে পরিবেশ ও টেকসই জীবনযাপন নিয়ে জানার পর তিনি নিরামিষভোজী হন এবং কোনো পণ্য কেনার সময় সেটির পরিবেশগত ও নৈতিক প্রভাব নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। কোনো কিছু কেনার আগে ফ্লোরেন্স নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। পণ্যটি তার সত্যিই প্রয়োজন কি না, ভবিষ্যতে সেটি বর্জ্য হয়ে যাবে কি না, ব্যবহৃত পণ্য হিসেবে সেটি পাওয়া যায় কি না, সেটি প্রাণিজ উপাদানমুক্ত কি না, নৈতিকভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং পণ্যটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কি না, সেসব বিষয় বিবেচনা করেন তিনি। তার মতে, অর্থ খরচ করা হোক বা না হোক, ভালো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অর্থ মানুষের ক্ষমতা বাড়াতে পারে। চাকরি ছাড়ার সময় ফ্লোরেন্সের ব্যাংকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় ছিল। এই অর্থের কারণে দীর্ঘ সময় কাজ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে তিনি আর্থিকভাবে স্বস্তি অনুভব করেন। সুইজারল্যান্ড বিশ্বের ব্যয়বহুল দেশগুলোর একটি হলেও তিনি সেখানে সাধারণ জীবনযাপন করছেন। হাঁটা, জুরিখ হ্রদে সাঁতার কাটা এবং বাড়িতে রান্না করার মতো কাজেই তিনি সময় কাটাচ্ছেন। ফ্লোরেন্স জানান, এখন তিনি কোনো কিছু কেনার ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে প্রয়োজন ও মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভালোভাবে তৈরি এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এমন পণ্যের জন্য তিনি বেশি অর্থ খরচ করতেও রাজি। তার মতে, বিষয়টি সবকিছু বাদ দেওয়া নয়, বরং আরও সচেতনভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস বেছে নেওয়া। কেনাকাটাকে তিনি কখনো মানসিক স্বস্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে দেখেননি। বরং তার কাছে কেনাকাটা বিরক্তিকর ও চাপের বিষয়। দীর্ঘদিন অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর ৩৭ বছর বয়সেই তিনি উচ্চ বেতনের চাকরি থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র: সিএনবিসি
বাংলাদেশি তরুণী বৃষ্টি শিকদারের সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল স্কুলজীবনে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর তিনি বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নজরে আসেন। পরে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেক, কর্নেল, ডিউক ও কেমব্রিজসহ ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিকে বেছে নেন তিনি। বৃষ্টি শিকদার ২০০৮ সালে প্রোগ্রামিং শুরু করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুপ্রেরণা থেকেই ধীরে ধীরে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ গভীর হয়। ২০১২ সালের আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে তিনি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। ২০১৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জ পদক পান। একই বছর জাতীয় ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডে রানারআপ হন। আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডের সরকারি তথ্যেও ২০১২ সালের তাঁর ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বৃষ্টি ১৮টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে ১৪টি থেকে ভর্তির সুযোগ পান বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ভার্ড, প্রিন্সটন ও অক্সফোর্ডসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রথম আলোর প্রতিবেদনে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেক, ডিউক ও কেমব্রিজের নামও এসেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এমআইটিতে পড়ার সময়ও থেমে থাকেননি বৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরেই গুগলে ইন্টার্নশিপ করেন। এরপর ২০১৬ সালে কুয়েরা, ২০১৭ সালে ব্রিজওয়াটার এবং ২০১৮ সালে লন্ডনে গুগল ডিপমাইন্ডে ইন্টার্নশিপ করেন। গুগল ট্রান্সলেটের একটি দলে কাজ করার সময় ছবির ভেতরের তথ্যকে লিখিত টেক্সটে রূপান্তরের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করেন তিনি। এমআইটি থেকে স্নাতক হওয়ার পর বৃষ্টি রুব্রিকে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। সেখানে ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল সিস্টেম নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা পরে গুগলের চাকরির ইন্টারভিউতেও তাঁকে সহায়তা করে। ২০২২ সালের প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে বৃষ্টি জানান, তিনি প্রথমে গুগলের এল-ফোর পদের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন। তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরে এল-ফাইভ পদের জন্যও ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পান এবং শেষ পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। নারীদের প্রযুক্তি খাতে অংশগ্রহণ বাড়াতেও কাজ করেছেন বৃষ্টি। ২০২০ সালে তিনি ‘জার্নিজ ইন টেক’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম শুরু করেন, যেখানে প্রযুক্তি খাতে সফল বাংলাদেশি নারীদের অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হতো। তাঁর মতে, অনেক মেয়েই নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান থাকে এবং ব্যর্থতার ভয় তাদের বড় সুযোগ নেওয়া থেকে পিছিয়ে দেয়। সাম্প্রতিক একটি পেশাগত প্রোফাইলেও বৃষ্টিকে গুগলের জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি গুগলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। ফলে ২০২২ সালের তথ্যের পরও তাঁর গুগলে জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সাম্প্রতিক প্রমাণ পাওয়া যায়। বৃষ্টির এই পথচলায় একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সাফল্য রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে এমআইটির মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ এবং গুগলে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার দৃষ্টান্ত। তাঁর গল্প বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রথম আলো
একসময় পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতা, ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক প্রত্যাখ্যান আর বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনেও ধারাবাহিক রিজেকশন। সেই ইমরানই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন। ইমরানের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, স্কুলজীবন থেকেই ব্যর্থতার সঙ্গে তার পরিচয়। চতুর্থ শ্রেণিতে গণিতে ১৩ নম্বর পেয়ে ফেল করা দিয়ে শুরু। পরে হাইস্কুলে গণিত ও ইংরেজিতে একাধিকবার ফেল করেন। নবম শ্রেণিতে স্কুলও বদলাতে হয়। এসএসসিতে পান ৩.৫৬ জিপিএ। এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর একজন। পরীক্ষায় প্রায়ই সেই পাঁচজনের মধ্যে চতুর্থ হতেন। এরপর মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক ব্যর্থতা আসে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে ভর্তি হন। সেখানেও থেমে থাকেননি। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য ১০ বারের বেশি চেষ্টা করেন। আইএসএসবিতে অংশ নেন দুইবার, দুবারই রেড কার্ড পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদেও চারবার আবেদন করে সফল হননি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্ল্যানেটারি সায়েন্স পড়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই পথও সহজ ছিল না। দুইবার জিআরই, দুইবার আইইএলটিএস এবং দুইবার টোফেল দেওয়ার পর ২০১৬ সালে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাখ্যাত হন। পরের বছর আরও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসে রিজেকশন। তবু ব্যর্থতাকে শেষ বলে মেনে নেননি ইমরান। শেষ পর্যন্ত অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস থেকে স্পেস ও প্ল্যানেটারি সায়েন্সে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন। নাসার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমে জেপিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকাশ্য বৈজ্ঞানিক নথিতেও ইমরানের জেপিএলের সঙ্গে গবেষণামূলক কাজের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তার এই পথচলা দেখায়, একের পর এক ব্যর্থতা কোনো মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না। যে ফলাফলগুলো একসময় তাকে নিজেকেই ব্যর্থ মনে করাত, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে আরও বড় লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে অভিজ্ঞতা। ইমরানের গল্প তাই শুধু নাসায় কাজ করার গল্প নয়, বরং বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২ দশমিক ৫৭ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শেষ করেছিলেন আরমান সাইকট। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, এমন ফলাফল নিয়ে উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপেরিমেন্টাল কোয়ান্টাম রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পূর্ণ অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আরমানের এই অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে গবেষণায় তার দীর্ঘ প্রস্তুতি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি প্রায় ১৪ মাস গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ তৈরি করেন। তবে এই সুযোগ একবারে আসেনি। গবেষণার সুযোগ ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমেইল পাঠানো, প্রত্যাখ্যান সামলানো এবং নতুন সুযোগ খুঁজে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পান তিনি। আরমানের যাত্রা দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একজন শিক্ষার্থীর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণার অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, শেখার আগ্রহ, মেন্টরশিপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে। সিজিপিএ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গবেষণার কাজ, প্রকাশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা দিয়ে নিজের প্রোফাইল শক্তিশালী করার সুযোগ থাকে। আরমান সাইকটের কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ, যারা তুলনামূলক কম সিজিপিএর কারণে নিজেদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তার পথচলা অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে, একটি ট্রান্সক্রিপ্ট একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার পুরো গল্প বলে না। লক্ষ্য, গবেষণার দক্ষতা, কৌতূহল এবং বারবার চেষ্টা করার মানসিকতাও ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।