সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
ক্যারিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতা আবেদন কমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমছে দ্রুত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:২৮
চাকরি প্রার্থী'রা।
চাকরি প্রার্থী'রা।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন বেকার ভাতা চাওয়ার আবেদন কমেছে। তবে একই সময়ে নতুন চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতা আবেদনের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এর আগে প্রায় ২ লাখ আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে।

 

নতুন আবেদন কমে যাওয়াকে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ছাঁটাই না থাকার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চাকরির বাজারের পুরো চিত্র ইতিবাচক নয়। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।

 

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

 

এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারে একটি ভিন্ন ধরনের প্রবণতা তৈরি করেছে। একদিকে বড় ধরনের ছাঁটাই তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন নিয়োগও আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। এর ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।

 

ধারাবাহিকভাবে বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যাতেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে।

 

চাকরি খোঁজার সময়ও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বেকার থাকা ব্যক্তিদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে গড়ে ১১ সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছে। অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত, কারণ শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ থাকলেও নিয়োগের গতি কমে গেলে বেকার মানুষের কর্মসংস্থানে ফিরতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

 

অবসর গ্রহণের প্রবণতা, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন খাতে নিয়োগের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করছে।তবে নতুন বেকার ভাতা আবেদন কমে যাওয়ায় এখনো ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কম ছাঁটাই এবং কম নিয়োগের শ্রমবাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চাইছেন অথবা প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগের গতি কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন নিয়োগের তথ্য শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থার আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ক্যারিয়ার

View more
জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা

বাংলাদেশে রসায়ন নিয়ে উচ্চশিক্ষার শুরু। এরপর থাইল্যান্ড হয়ে জাপানে গবেষণার দীর্ঘ পথচলা। ন্যানোপ্রযুক্তি, শক্তি রূপান্তর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সিং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গবেষণা করে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এর আগে দেশটির নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলেও কাজ করেছেন তিনি।   জাপানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা পরিচালিত গবেষক তথ্যভান্ডার জে গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর ল্যাবরেটরি ফর বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যুক্ত রয়েছেন ড. জাহিদুল। সেখানে উন্নত উপাদান, ন্যানোপ্রযুক্তি ও জৈব উপাদানভিত্তিক গবেষণার সঙ্গে তাঁর কাজের সংযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁর একাডেমিক জীবনের সূচনা হয়। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান থাইল্যান্ডে। দেশটির রাজামঙ্গলা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থান্যাবুরি থেকে ২০১৪ সালে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী গন্তব্য ছিল জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে ২০১৮ সালে রাসায়নিক ব্যবস্থা প্রকৌশলে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।   ডক্টরাল গবেষণায় তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দ্রবণ প্লাজমা প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানোকার্বন ও কার্বনভিত্তিক উন্নত উপাদান তৈরি। এসব উপাদান কীভাবে শক্তি রূপান্তর ও তড়িৎ অনুঘটন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও গবেষণা করেন তিনি। বিশেষ করে জ্বালানি কোষ ও লিথিয়াম এয়ার ব্যাটারির মতো উন্নত শক্তি প্রযুক্তিতে এসব উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহার ছিল তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।   ডক্টরেট সম্পন্ন করার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিস্টেমস ফর সাসটেইনেবিলিটিতে গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জাহিদুল ইসলাম। প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্তের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলে পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ পান তিনি।   অধ্যাপক হিরোশি আমানো ২০১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। নীল আলো নির্গমনকারী কার্যকর এলইডি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য ইসামু আকাসাকি ও শুজি নাকামুরার সঙ্গে যৌথভাবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের উদ্ভাবন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী আধুনিক এলইডি বাতি তৈরির পথ সুগম করে। জাপানের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জাহিদুল ইসলামের গবেষণাজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে।   নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণাপর্বে তিনি উন্নত উপাদানবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক উপাদান নিয়ে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইলেকট্রনিক্স বিভাগে গবেষক হিসেবে যুক্ত হন। সেখানে ন্যানো উপাদান ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।   এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যক্ষমতার সম্পর্ক বোঝা। ফলে রসায়নভিত্তিক উপাদান গবেষণার পাশাপাশি বাস্তব প্রযুক্তিতে সেসব উপাদানের ব্যবহার নিয়েও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।   ২০২১ সালের জুনে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্কুল অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত গবেষণা করেন। এই সময় তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল গ্রাফিনভিত্তিক ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর, গ্যাস শনাক্তকরণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক সেন্সর।   গ্রাফিন অত্যন্ত পাতলা কার্বনভিত্তিক একটি উপাদান, যার বিশেষ বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে কাজ চলছে। জাহিদুল ইসলামের গবেষণাতেও গ্রাফিনভিত্তিক ডিভাইস ব্যবহার করে গ্যাস শনাক্তকরণ প্রযুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   দীর্ঘ পোস্টডক্টরাল গবেষণার পর ২০২৩ সালের জুনে আবার নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন তিনি। এবার যোগ দেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। সেখানে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।   এই পর্যায়ে উন্নত কার্যকরী ন্যানো উপাদান তৈরি, সেগুলোর গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং তড়িৎ রাসায়নিক কার্যকারিতা পরীক্ষার মতো বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। শক্তি উৎপাদন, রূপান্তর ও সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিতে নতুন উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহারও তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।   এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হন। একই বছরের অক্টোবরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি ও টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একীভূত হওয়ার মাধ্যমে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিও প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পদে তাঁর একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে তাঁর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জৈব উপাদান, পলিমার এবং নরম পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়। এর ফলে রসায়ন, উপাদানবিজ্ঞান, শক্তি প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিক্সে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত গবেষণাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   জাহিদুল ইসলামের গবেষণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একটি উপাদান তৈরি থেকে শুরু করে তার গঠন, রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য নির্ণয় এবং বাস্তব প্রযুক্তিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কাজ করা।   গবেষণার প্রয়োজনে তিনি ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপ, রামান স্পেকট্রোস্কপি এবং এক্স রে ডিফ্র্যাকশনের মতো উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানো উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।   তড়িৎ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষামূলক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রোকেমিক্যাল ইম্পিড্যান্স স্পেকট্রোস্কপি ও সাইক্লিক ভোল্টামেট্রি। ব্যাটারি, জ্বালানি কোষ এবং তড়িৎ অনুঘটনভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উপাদানের কার্যকারিতা মূল্যায়নে এসব পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। জাপানের জে গ্লোবাল গবেষক তথ্যভান্ডারে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪১টি গবেষণা প্রকাশনার তথ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলোর মধ্যে ন্যানো উপাদানভিত্তিক তড়িৎ রাসায়নিক সেন্সর, সামুদ্রিক জৈব উপাদান থেকে তৈরি কার্বনের মাধ্যমে শক্তি সংরক্ষণ এবং বিশেষ ধরনের পলিমার ন্যানোফাইবারের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে।   বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তাঁর সহগবেষকেরা বিশেষ ধরনের জৈব পলিমার ন্যানোফাইবার দিয়ে তৈরি জেল ও পাতলা স্তরের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে কাজ করেছেন। এই গবেষণার সঙ্গে টিস্যু পুনর্গঠনের মতো জৈব চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্ভাব্য সম্পর্কও রয়েছে।   বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষা থেকে থাইল্যান্ডে স্নাতকোত্তর, এরপর জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট, একাধিক পোস্টডক্টরাল গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। ড. মোঃ জাহিদুল ইসলামের একাডেমিক পথচলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা।   নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণাগোষ্ঠীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে শক্তি প্রযুক্তি, ন্যানো উপাদান, গ্রাফিনভিত্তিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও জৈব উপাদান নিয়ে গবেষণা, সব মিলিয়ে তাঁর কর্মজীবন বিস্তৃত হয়েছে বিজ্ঞানের একাধিক শাখায়। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন থেকে যাত্রা শুরু করে জাপানের আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হওয়ার এই পথচলা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষকদের অবদানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।   সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১০:৫৪
কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে

চাকরি প্রার্থী'রা।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতা আবেদন কমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমছে দ্রুত

চাকরি প্রার্থীরা

চাকরি বাড়ার গতি থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে, বেকারত্বের হার বেড়ে নতুন শঙ্কা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর টেক জায়ান্টে ক্যারিয়ার: আশরাফুলের সাফল্যে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর টেক জায়ান্টে ক্যারিয়ার: আশরাফুলের সাফল্যে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলেই যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিংসহ মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের নির্ধারিত যোগ্যতা, আবেদনকারীর একাডেমিক প্রস্তুতি ও ফান্ডিংয়ের সুযোগের ওপর। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত ভর্তি নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামভিত্তিক শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের কমিটি ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করার প্রস্তুতিতে নিজের ডিগ্রি, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার সঙ্গে নির্বাচিত প্রোগ্রামের শর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি নির্দেশনায় বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা একাডেমিক ফলাফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত বিবৃতি ও অন্যান্য নথির শর্ত রয়েছে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করলেই তার সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা পূরণ হয়েছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না।    ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষাও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় আইইএলটিএসের ন্যূনতম স্কোর ৬.৫ উল্লেখ রয়েছে। তবে এই স্কোরকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন শর্ত মনে করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একইভাবে জিআরই সব প্রোগ্রামে বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, তাদের কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট প্রয়োজন হয়।    ভর্তির পাশাপাশি ফান্ডিংয়ের জন্যও আলাদা খোঁজ নেওয়া জরুরি। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও স্কলারশিপ সরাসরি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভর্তির আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগ কীভাবে ফান্ডিং দেয়, তার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন কি না এবং কোন সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়, সেসব বিষয়ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।    অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ পেলেই সব ধরনের ব্যয় একইভাবে কভার হবে, এমন নয়। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনায় সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কথা রয়েছে। কম সময়ের নিয়োগে সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো অফারকে ফুল ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করার আগে টিউশন, অন্যান্য ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং সহায়তার মেয়াদ লিখিত অফারে কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বুঝে নিতে হবে।    প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের যোগ্যতার স্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য বিবরণ তৈরি করা। নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রজেক্ট, গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আবেদনপত্রে তুলে ধরা যায়। তবে কোনো একজনের সিজিপিএ বা পরীক্ষার স্কোর দেখে একই ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কার্যকর সূচনা হলো উপযুক্ত প্রোগ্রাম খুঁজে তার ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের শর্ত বোঝা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা।   সূত্র: scholarship funding with low CGPA

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৩:৪৪
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য।

মেধাতালিকায় ১৭তম হয়েও চাকরি নেই, বসতভিটা না থাকায় থমকে গেল মিশনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন

ফ্লোরিডার ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপে বাড়ছে পরীক্ষার নম্বরের শর্ত

ফ্লোরিডার ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপে বাড়ছে পরীক্ষার নম্বরের শর্ত

ভিসা প্রসেসিং এর প্রক্রিয়া ছবি : সংগৃহীত।

কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন

নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য চালু হয়েছে নতুন ‘জবস এনওয়াইসি’ সেন্টার।
নিউইয়র্কবাসীকে সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত করতে নতুন সেন্টার চালু করলেন মামদানি

নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরি খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য ম্যানহাটনে ‘জবস এনওয়াইসি সেন্টার’ চালু করেছে সিটি প্রশাসন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি ২ লাফায়েত স্ট্রিটে সেন্টারটির উদ্বোধন করেন। নিয়মিত ওয়াক-ইন সেবা শুরু হবে ৫ অক্টোবর।   সিটি মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, চাকরিপ্রার্থীরা সেখানে খালি পদ খুঁজতে, আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা পাবেন। নিয়োগ দিচ্ছে এমন সিটি এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও থাকবে।   সেন্টারটিতে চাকরিমেলা, এজেন্সিগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম, ক্যারিয়ারবিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সরকারি চাকরির সুযোগ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টও হবে।   নিউইয়র্ক সিটির স্মল বিজনেস সার্ভিসেস এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস যৌথভাবে সেন্টারটি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা সিটির একটি জায়গাকে চাকরিপ্রার্থীদের সেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে।   সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ‘জবস এনওয়াইসি’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা বিভাগ, এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কসহ ৪৭টি সিটি এজেন্সি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে সহায়তা পেয়েছে। নতুন সেন্টারটি সেই উদ্যোগের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কাজ করবে।   সেন্টার উদ্বোধনের সময় মেয়র মামদানি বলেন, সরকারি চাকরিতে যাওয়ার পথ বুঝতে মানুষের অসুবিধা হওয়া উচিত নয়। নতুন সেন্টার চাকরিপ্রার্থীদের উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে এবং নিয়োগের শর্ত বুঝতে সহায়তা করবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৭:৫৭
চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ

চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ

চাকরি প্রার্থীদের ছবি:সংগৃহীত।

উচ্চশিক্ষা নিয়েও মিলছে না চাকরি, দেশের ৩৬ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকার: আইএমএফ

মুম্বাইয়ের কুরলার বস্তিতে মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা জয়কুমার বৈদ্য আজ নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কর্মরত। ছবি: সংগৃহীত

থাকতেন বস্তিতে, স্কুলের বেতন দিতে পারেনি মা, সেই ছেলে এখন নাসার বিজ্ঞানী

0 Comments