আমেরিকা বাংলা: ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ ওসমান শরিফ হাদির ভাই ওমর বিন হাদি এবং হাদির শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে শাহবাগ থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওমরের মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি।
শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেছেন:
খুনি চক্রের তৎপরতা: শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল হোতারা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবারটি চরম আতঙ্কে রয়েছে। ঘাতক চক্র যেকোনো সময় হাদির সন্তান বা তাঁর ওপর হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার: বেশ কিছু ফেসবুক গ্রুপ ও আইডি থেকে হাদির পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে।
হত্যার হুমকি: ওমর বিন হাদিকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জিডিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
শহীদ হাদির পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর থেকে যারা এই মঞ্চের সাথে জড়িত ছিল, তাদের একটি অংশকে টার্গেট করা হচ্ছে। ওসমান হাদি খুন হওয়ার পর এখন তাঁর উত্তরসূরি এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর এই হুমকি মূলত একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সাথে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোট নিয়ে তোড়জোড় চলছে, ঠিক সেই সময়ে একজন শহিদ পরিবারের এমন নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিনে পৃথক দুই দফা সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ভলাকুট ইউনিয়ন এবং সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তিকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই কৌশলে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করলে স্বজনরা উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। অপরদিকে, ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সকালেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজের পর দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর—পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু সেই ঈদ ছিল না উৎসবের, ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ এসেছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে। মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধরপাকড় ও দখলদারিত্বের মধ্যে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে চলছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতেই আসে ঈদ। যেখানে রমজান এলেই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে একাত্তরে ছিল নিস্তব্ধতা। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকেই ন্যূনতম আয়োজনেই ঈদ পার করেছেন। প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে—ঈদের দিনটিতে আনন্দের চেয়ে ভয়ই ছিল বেশি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ত প্রতিনিয়ত। তবুও মানুষের মনে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল–এর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে ছিল না। তাঁর ছেলে আবুল মোমেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভয়, আশঙ্কা আর আশাবাদের মধ্যেই ঈদ এসেছিল। ঘরে ভালো খাবার হলেও কোনো উৎসব ছিল না।” মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মাহফুজুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদ উদ্যাপনের কোনো পরিবেশই ছিল না। বরং নিরাপত্তার কারণে অনেককে বাড়ি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরাধীন দেশে ঈদে উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা শহরটিকে পরিণত করেছিল মৃত্যুপুরীতে। বন্দর, হালিশহর, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় বড় বড় হত্যাকাণ্ড। অনেক জায়গায় নালা ও ম্যানহোল থেকেও উদ্ধার করা হয় লাশ। ঈদের দিনও ছিল না নিরাপদ। পটিয়ার মনসা গ্রামে এক মায়ের কান্না আজও স্মৃতিতে জাগ্রত—যুদ্ধের কারণে মেয়েকে দেখতে না পারার বেদনা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। আবার কোথাও বাবাকে হারানো সন্তানের কান্না ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল। ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “ঈদের দিন নতুন কাপড় ছিল না, ছিল শুধু দুধের সেমাই আর ভয়ের মধ্যে কাটানো কিছু সময়।” সেদিনের ঈদ ছিল না কোলাকুলি বা আনন্দের—ছিল নীরবতা, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবুও মানুষের অন্তরে ছিল একটিই বিশ্বাস—স্বাধীনতা আসবে, অন্ধকার কেটে যাবে। আজকের স্বাধীন দেশে আনন্দমুখর ঈদ উদ্যাপনের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে সেই ত্যাগ, বেদনা আর সংগ্রামের ইতিহাস।
গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ‘ড্রেস ইন স্টাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানার নিচতলায় প্রথমে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তিনতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে। আগুন লাগার পর স্থানীয় লোকজন ও কারখানার প্রহরীরা প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সর্বমোট পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। কারখানার নৈশপ্রহরী দীন ইসলাম জানান, বিকেলে কারখানা ছুটি হওয়ার পর তিনি রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব নেন। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তিনি এগিয়ে যান এবং আগুন দেখতে পেয়ে অন্যদের খবর দেন। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা ৩৪ মিনিট) আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।