জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কথিত পুশইনকে কেন্দ্র করে নো-ম্যানস ল্যান্ডে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকা এক বৃদ্ধের পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে শূন্যরেখা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৮)। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই গ্রামের বাবু চন্দ্র বর্মনের পুত্র বলে জানিয়েছে বিজিবি। বিজিবি সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এরপর পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করে থানায় পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর ও কামালপুর সীমান্তে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দিনভর সীমান্ত এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। একাধিক দফায় পতাকা বৈঠক হলেও কোনো পক্ষই ওই বৃদ্ধকে গ্রহণ করতে সম্মত হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়েও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেয়।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, বৃদ্ধের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। বিজিবি তাকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তার স্বজনরা রাজশাহী থেকে রওনা হয়েছেন। তারা পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ওই বৃদ্ধ বকশীগঞ্জ থানার হেফাজতে রয়েছেন। ধানুয়া কামালপুর বিজিবি জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হলে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
প্রেমিকাকে চারদিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফটোগ্রাফার নামিম আশরাফ মনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫–এ ভুক্তভোগীর বড় বোন রাজিয়া সুলতানা মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে নামিম আশরাফ মনির বাবা আশরাফউদ্দিন এবং মা শাহনাজ বেগমের। বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত সাদিয়া ইয়াসফিয়া একজন মেকআপ শিল্পী ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে চারদিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন মামলাটির তদন্ত করবে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর আদালত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আকিব তাহমিদ যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত হোয়াইট রোজ ডক্টরাল প্রশিক্ষণ অংশীদারত্বের অধীনে যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়িত সামাজিক গবেষণায় স্নাতকোত্তর এবং অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া আকিব তাহমিদ এই বৃত্তির আওতায় এক বছর মেয়াদি সামাজিক গবেষণায় স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তী সাড়ে তিন বছর মেয়াদি অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করবেন। এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তাঁর সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহন করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার নির্ধারিত হারে তিনি নিয়মিত মাসিক ভাতাও পাবেন, যা যুক্তরাজ্যে তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করবে। হোয়াইট রোজ ডক্টরাল প্রশিক্ষণ অংশীদারত্ব যুক্তরাজ্যের একটি স্বীকৃত গবেষণা প্রশিক্ষণ কাঠামো, যেখানে সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়ে উচ্চমানের গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত এই ধরনের বৃত্তি দেশটির গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে বিবেচিত। এর আগে আকিব তাহমিদ ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্রেট বৃত্তি ২০২৪–২৫ অর্জন করেন। এই বৃত্তির মাধ্যমে তিনি হাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে ডিগ্রি অর্জন করেন। আইন বিষয়ে একাডেমিক যাত্রার পাশাপাশি অপরাধবিজ্ঞান ও সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর নতুন গবেষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে এমন সাফল্য অর্জন দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছে।
উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষাবিদ, ঐতিহ্যবাহী সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এবং কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা মতিউর রহমান গুরুতর অসুস্থ। তাঁর সুস্থতা কামনায় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে মাওলানা মতিউর রহমানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ইতিহাস। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাতদরগাহ গ্রামের আব্দুন্নাছির পীর সাহেব কেবলা ও স্থানীয় কয়েকজন ইসলামি শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে ১৯৪২ সালে কয়েক একর জমির ওপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে হাজারো আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও শিক্ষক তৈরি হয়েছেন, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বীনি শিক্ষা ও অন্যান্য পেশায় অবদান রেখে চলেছেন। মাওলানা মতিউর রহমান অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদ্রাসাটির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২২ সালে যমুনা টেলিভিশনে প্রকাশিত সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা নিয়ে একটি প্রতিবেদনে তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, মাওলানা মতিউর রহমান অধ্যক্ষ থাকা পর্যন্ত মাদ্রাসাটির কার্যক্রম ভালোভাবে চলছিল। তাঁর অবসরের পর অধ্যক্ষ নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা দেখা দেয়। শিক্ষকতা ও ইসলামি শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান। নির্বাচনী রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৬৮ হাজার ৫৭৯ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এ কে এম মাঈদুল ইসলাম পান ৬৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে একজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবেই তাঁর পরিচিতি শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর কাছে পড়াশোনা করা অসংখ্য শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের অনেকে ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষকতা, সমাজসেবা, রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। প্রিয় শিক্ষাগুরুর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সবার কাছে দোয়ার আবেদন জানাচ্ছেন তারা। মাওলানা মতিউর রহমানের বর্তমান চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তাঁর শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করেছেন।