বাংলাদেশ

মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ, পাইপ বেয়ে নেমে দূতাবাসে আশ্রয়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২৩:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মিশরের রাজধানী কায়রোতে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে আটকে রাখা, মারধর এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. শরিফুল ইসলামের দাবি, তাকে প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। পরে জানালা দিয়ে বের হয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে তিনি পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন।

 

ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকায় তার পরিচয় হয় মিশরপ্রবাসী এক বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে। ওই নারী তাকে মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগের কথা জানান। একই সঙ্গে মিশরে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাসও দেন।

 

সেই পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৮ জুন ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল। কায়রো বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা যাচাই-বাছাইয়ের পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

শরিফুলের অভিযোগ, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর অপেক্ষমাণ কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেন। প্রথমে তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কায়রোর বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে রাত গভীর হলে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটে প্রবেশের পরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে লাগেজে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

শরিফুল আরও জানান, পরদিন রাতে আরও দুই বাংলাদেশি সেখানে আসে। পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আবারও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

তার দাবি, বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে তিনি পালানোর সুযোগ খুঁজতে থাকেন।

অবশেষে এক রাতে জানালা দিয়ে বের হয়ে ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নামতে সক্ষম হন। পরে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন।

 

কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, বিদেশে ব্যবসা বা কর্মসংস্থানের সুযোগের প্রলোভনে অচেনা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
ছবি: সংগৃহীত
মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ, পাইপ বেয়ে নেমে দূতাবাসে আশ্রয়

মিশরের রাজধানী কায়রোতে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে আটকে রাখা, মারধর এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. শরিফুল ইসলামের দাবি, তাকে প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। পরে জানালা দিয়ে বের হয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে তিনি পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন।   ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকায় তার পরিচয় হয় মিশরপ্রবাসী এক বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে। ওই নারী তাকে মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগের কথা জানান। একই সঙ্গে মিশরে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাসও দেন।   সেই পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৮ জুন ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল। কায়রো বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা যাচাই-বাছাইয়ের পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। শরিফুলের অভিযোগ, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর অপেক্ষমাণ কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেন। প্রথমে তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কায়রোর বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে রাত গভীর হলে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।   তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটে প্রবেশের পরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে লাগেজে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। শরিফুল আরও জানান, পরদিন রাতে আরও দুই বাংলাদেশি সেখানে আসে। পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আবারও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   তার দাবি, বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে তিনি পালানোর সুযোগ খুঁজতে থাকেন। অবশেষে এক রাতে জানালা দিয়ে বের হয়ে ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নামতে সক্ষম হন। পরে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন।   কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, বিদেশে ব্যবসা বা কর্মসংস্থানের সুযোগের প্রলোভনে অচেনা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২৩:৪৪
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে নিখোঁজের ৯ দিন পর জঙ্গলে মিলল বাংলাদেশি ছাত্রের মরদেহ, গ্রেপ্তার এক

ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজের ৬ দিন পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী পুলিশ হেফাজতে

ছবি: সংগৃহীত

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত

ছবি: সংগৃহীত
২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল, ভোটার হতে বাধ্যতামূলক ৪ তথ্য

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের করা ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যথাযথ না হওয়ায় এসব আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যদিকে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।   নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তদন্ত শেষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। এছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনো সার্ভারে আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে। অনুমোদিত আবেদনগুলোর মধ্যে ২২ হাজার ১৮ জনের এনআইডি কার্ড মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।   ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন বাতিল হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে।   বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি নিবন্ধন কেন্দ্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও এনআইডি সেবা কার্যক্রম চলছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। দেশটি থেকে মোট ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন এসেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন জমা পড়েছে ১৭ হাজার ৩০টি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি। এছাড়া ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি, সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি এবং কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। দেশটি থেকে মাত্র ১২৬ জন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য চারটি তথ্য ও নথি বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। এগুলো হলো অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা এনআইডিধারী তিন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি। এসব নথি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা নিবন্ধন কেন্দ্রের নির্ধারিত ডেস্কে জমা দিতে হবে।   এছাড়া কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নথিপত্রও জমা দিতে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি, মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, বিবাহসংক্রান্ত নথি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিল এবং বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র।   তবে এসব অতিরিক্ত নথি বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারী বিদেশে থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া যাবে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানার এলাকায় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এনআইডি কার্ড সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হয়।   প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সেবা চালুর ফলে বিদেশে বসেই ভোটার নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ নথি বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বিপুলসংখ্যক আবেদন বাতিল হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২৩:৫৫
ছবি: সংগৃহীত

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১৭৪

ছবি: সংগৃহীত

নয় বছরেও অনিশ্চিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, কক্সবাজারে মানবিক সংকট গভীরতর

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি প্রবাসীর সাতদিন আগে মৃত্যু, শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে চায় তিন কন্যা

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিজের বংশ ও দুই ছেলের নামে তিন ইউনিয়নের নামকরণ, প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘কাকতালীয়’

"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সে সমভাবেই সুবাস ছড়াবে"—উইলিয়াম শেকসপিয়রের এই বিখ্যাত দর্শন যেন সম্পূর্ণ মার খেয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলা বগুড়ায়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম কেবল একটি পরিচয় নয়, বরং তা নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব প্রদর্শনের এক অন্যতম হাতিয়ার।   নিজের, স্ত্রীর এবং দুই ছেলের নাম রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট স্থাপনায় খোদাই করার এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘদিনের নেশা এখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার এই দৃশ্যমান প্রদর্শনী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বগুড়ার একজন প্রবীণ নাগরিক জানান, অনেকে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সম্পদ দেখান, কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর ধারণা নিজের নাম সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়াই আভিজাত্য প্রকাশের একমাত্র উপায়।   অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর এই নামকরণের আগ্রাসন সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক পরিকল্পিত প্রয়াস। তিনি নিজের দান করা জমিতে 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করেন। পরবর্তীতে সেই ক্যাম্পাসের একটি ভবনের নাম দেওয়া হয় তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তারের নামে।   শুধু তা-ই নয়, সংলগ্ন এলাকায় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়', 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ', 'বেতগাড়ী মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এবং 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম মাদ্রাসা ও এতিমখানা' প্রতিষ্ঠা করে সবখানেই পারিবারিক নামের সিলমোহর বসানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদ পাওয়ার পর তিনি নতুন উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করেন 'মোকামতলা মীর শাহে আলম-সাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়' এবং সেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আতিকুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিজের বাণিজ্যিক তেলের ব্যবসার নামও তিনি রেখেছেন দুই ছেলের নামে 'মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন' এবং স্ত্রী ও কন্যার নামে 'মীর লাবনী-নুসরাত ফিলিং স্টেশন'।   তবে প্রতিমন্ত্রীর এই আত্মপ্রচারণার চরম রূপ প্রকাশ পায় শিবগঞ্জ উপজেলার সীমানা পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত চারটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণে। প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি ‘মীরবাড়ী’র সাথে মিলিয়ে একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী ইউনিয়ন'। আর বাকি তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'সীমান্ত', 'দিগন্ত' এবং 'স্বর্ণগ্রাম'। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামও মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। এই "অলৌকিক মিল" নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে প্রতিমন্ত্রী এক অদ্ভুত ভৌগোলিক তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেন, উপজেলা সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় 'সীমান্ত' এবং দূরবর্তী হওয়ায় 'দিগন্ত' নাম রাখা হয়েছে, যার সাথে তাঁর সন্তানদের নামের মিল কেবলই কাকতালীয়।   তবে নেপথ্যের সত্য হলো, নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি বা স্থানীয় মতামতের তোয়াক্কা না করে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের ওপর ভিত্তি করেই এই নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বগুড়ার জেলা প্রশাসক নিজেই গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন যে, তাঁর দপ্তরে যখন প্রস্তাবটি পৌঁছায়, তখন প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বিকল্প কোনো নাম ছাড়াই কেবল একটি করেই নাম জমা দেওয়া হয়েছিল।   মীর শাহে আলমের এই একচ্ছত্র প্রভাব কেবল নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও তিনি এক অলিখিত একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনীতি শুরু করা শাহে আলম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলয়ে জায়গা করে নেন।   ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক চেক ডিজনার ও ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি দ্রুত খালাস পান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁকে "সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী" হিসেবে ঘোষণা করেন। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল নামেমাত্র প্রধান, কিন্তু বদলি, পদোন্নতি ও লাভজনক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন শাহে আলম। এই চরম আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।   প্রতিমন্ত্রীর এই অসীম ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র মীর শাকরুল আলম সীমান্তের। লন্ডন থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফেরার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এরপর নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পদও পান। সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটেছে যখন দেখা যায়, সীমান্ত তাঁর বাবার নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণের বড় কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন, যা গত ২৬ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন।   প্রতিমন্ত্রীর এই পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "এটি কেবল অশোভনই নয়, বরং স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুবিধা নেওয়ার একটি প্রকাশ্য উৎসব, যা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেওয়া শপথের সরাসরি লঙ্ঘন"।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৬:৫৪
ছবি: সংগৃহীত

ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে প্রথমবার বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জন

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ছবি: সংগৃহীত

৮০% ছেলেকে ‘আনফিট’ বলে ছাত্রীকে লিভ টুগেদারের প্রস্তাব দিলেন খুবি অধ্যাপক

0 Comments