বিশ্ব

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২৩:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু নদীর পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের কোনো পদক্ষেপ যদি পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না।

 

রোববার পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ইতোমধ্যে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

খাজা আসিফ বলেন, পানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পাকিস্তান যদি মনে করে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানিতে তাদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বা পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাহলে দেশটি নীরব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা বুঝব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়েও আমরা দ্বিধা করব না।” তার এই বক্তব্যকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

সম্প্রতি ভারতের জল শক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ভারতের এমন সম্ভাব্য পরিকল্পনার ইঙ্গিত সামনে আসার পর ইসলামাবাদে উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, সিন্ধু অববাহিকার পানিপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে দেশটির কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

 

মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এরপর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

 

ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে না।

সিন্ধু পানি চুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, তার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

 

চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। ফলে দেশটির কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ এই পানির ওপর নির্ভরশীল।

পাকিস্তান বহুবার সতর্ক করে বলেছে, সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে তা কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সিন্ধু পানি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

 

এর পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত চেনাব নদীর পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ইসলামাবাদের দাবি, এমন পদক্ষেপ সিন্ধু পানি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের কারণে পাকিস্তান আগে থেকেই চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশটির জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

 

দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধারী হওয়ায় পানি নিয়ে এই বিরোধ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সূত্র: এআরওয়াই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
দক্ষিণ লেবাননে অনির্দিষ্টকাল সেনা রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে।   রোববার (২২ জুন) দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাসহ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে এবং এ সিদ্ধান্ত থেকে ইসরাইলকে সরানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এদিকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, লেবানন সীমান্তে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তার ভাষ্য, নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সেনারা এখনো সক্রিয়ভাবে অবস্থান করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে।   উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পরদিনই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল যদি যুদ্ধবিরতি মেনে চলে, তাহলে তারাও তা মেনে চলবে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অবাধ চলাচলের কোনো অধিকার নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে তাদের পক্ষ থেকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি।   অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসরাইলি বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বর্তমানে সংগঠনটি চাপে রয়েছে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থির। এতে করে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ০:৫৬
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখার বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

জেনেভায় শান্তি আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখার বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

নেতা রামিরো ভালদেস আর নেই

কিউবান বিপ্লবের কিংবদন্তি নেতা রামিরো ভালদেস আর নেই

ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে আরও কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং আলোচনার টেবিল বসার মধ্যেই নতুন করে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তেহরান ব্যর্থ হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, লেবাননে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইরান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।   তবে আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে লেবাননের চলমান পরিস্থিতি। গত কয়েক দিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। পরে সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে।   এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং বৈরিতা হ্রাসে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সুইজারল্যান্ডে চলমান বৈঠককে সম্ভাবনাময় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।   আলোচনা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। ভ্যান্স আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের সংঘাত ও রাজনৈতিক চাপ আলোচনার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   এখন নজর রয়েছে সুইজারল্যান্ডের আলোচনার ফলাফলের দিকে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর এই সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করবে নাকি নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে, তা সময়ই বলে দেবে।   সূত্র: এএফপি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২৩:০
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কাতার, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

ছবি: সংগৃহীত

‘ধর্মীয় পরিচয়ই আগে, পরীক্ষা নয়’: বাধা ডিঙিয়ে বোরকা পরেই কেন্দ্রে ঢুকলেন কুলসুম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। তার দাবি, আলোচনা ভেস্তে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।   রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গ্রাহাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে শুরু হওয়া আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।   গ্রাহামের ভাষায়, যুদ্ধ বা চাপ প্রয়োগের মতো বিকল্প ব্যবস্থার আগে কূটনৈতিক পথকে সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে একটি বিস্তৃত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ে উভয় পক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   তবে গ্রাহাম বলেন, যদি এই উদ্যোগ সফল না হয়, তাহলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর তার ধারণা হয়েছে যে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে।   বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।   গ্রাহাম আরও বলেন, যদি ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ভবিষ্যতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের ভূমিকাকে বিবেচনায় নিতে পারে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানকে সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মিত্রদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা দেখা গেছে। ফলে সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   লিন্ডসি গ্রাহাম তার সাক্ষাৎকারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার করতে পারে। তার আশা, ২০২৬ সালের মধ্যেই সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।   গ্রাহামের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার পর পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়।   মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলেও আপাতত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনাই আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান নজরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের অগ্রগতি অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২০:৪৮
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা ইরানের বড় কূটনৈতিক সাফল্য: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

লিতানি নদী পর্যন্ত অগ্রগতির দাবি ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে ‘হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ধ্বংস’, লিতানি নদী পর্যন্ত অগ্রগতির দাবি ইসরায়েলের

যুদ্ধে ইরানকে বিজয়ী মনে করেন ৯২% ইসরায়েলি

জরিপে চমক: যুদ্ধে ইরানকে বিজয়ী মনে করেন ৯২% ইসরায়েলি

0 Comments