কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা
সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী। তিনি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সৌদি প্রবাসী হওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান।
তিনি লেখেন, “আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।” একই সঙ্গে পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সাদ্দাম আরও বলেন, বিএনপির প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং দলের নেত্রী ও নেতাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
রাজনীতি ছাড়লেও মানুষের সেবা থেকে সরে যাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও মানবসেবা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাকার চেষ্টা করবেন।
সাদ্দামের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হঠাৎ করে তার রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreশান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘হিলারী ক্লিনটন তো অনেক বোকা! আবার ড. ইউনূসকে পুরস্কৃত করেছে!!’ দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এ সম্মাননা পাওয়ার প্রসঙ্গেই ফেসবুকে মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। শুক্রবার প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার পর অতিথিরা দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ করতালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান। এ বছর ড. ইউনূসসহ মোট চারজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন ভারতের সেলফ এমপ্লয়েড উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। সূত্র: ইত্তেফাক
জবিতে পশু জ বা ইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরি, বাংলাদেশি শিক্ষক আবুসালি রহমানের ৬ বছরের কারাদণ্ড
প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে ভর্তুকি কমানো, রপ্তানি খাতের নগদ প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রস্তাবও দিয়েছে কমিশন। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সে সময় প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রকাশ করা হলেও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকার চলতি ও আগামী অর্থবছরে কয়েক ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন-ভাতা দিতে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। কমিশনের প্রাক্কলনে এই ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে বেতন বাবদ ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, বিভিন্ন ভাতার জন্য ২৯ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য ১৯ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া বাজেট বরাদ্দ থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীদের জন্য আরও ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতসহ সরকারি চাকরিতে কর্মরত প্রায় ২৩ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধার আওতায় আসবেন। পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাঁদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কোষাগারের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে কমিশন। প্রতিবেদনে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কৃষি খাতের ভর্তুকি নিয়মিত পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এমন ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাজারের সঙ্গে সমন্বয় এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিবেদনে। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও জোরদার করার সুপারিশ করেছে কমিশন, যাতে ভর্তুকি সংস্কারের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়েন। রপ্তানি খাতের নগদ প্রণোদনা নিয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমেছে। এ কারণে আগামী ১২ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই প্রণোদনা বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায়। পরবর্তী অর্থবছরে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। সরকারি ব্যয় কমানোর আরেকটি উপায় হিসেবে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কথা বলেছে কমিশন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অতিরিক্ত বিভাগ একীভূত করা বা বিভাগের সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রেও ব্যয় পর্যালোচনার প্রস্তাব রয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যেসব প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ধীর কিংবা প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোতে বরাদ্দ কমানোর সুপারিশ করেছে কমিশন। এসব প্রকল্প থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থ অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, সরকারি ভ্রমণ, জ্বালানি তেল, লুব্রিকেন্ট, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় একাধিক পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমানো থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ পর্যালোচনা এবং রাজস্ব আয় বাড়ানো—সবকিছুর লক্ষ্য বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া। তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি
এনআইডিতে নাম, বয়স, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সংশোধনে কোন কাগজ লাগবে, জানুন আবেদনের নিয়ম
মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর সকালে আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো উত্তরা এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন দেখা যায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা নিয়েও তাঁদের অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে একই দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কর্মস্থলগামী মানুষ, গণপরিবহনের যাত্রী ও পথচারীরা এ সময় দুর্ভোগে পড়েন। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মনোনয়ন চেয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর বোর্ড গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি হিসেবে নির্ধারণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। মজুরি বোর্ডের আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কারখানার স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
মাদক-জুয়া বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতার মৃত্যু
আজ রাত থেকেই সোনালী ব্যাংকের এটিএমসহ সব ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ, ভোগান্তির আশঙ্কা