সৌদি আরব

ব্রেকিং ব্যাডখ্যাত মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো | ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রেকিং ব্যাডখ্যাত মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো

জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ‘গাস ফ্রিং’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবে একটি নতুন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অবস্থানকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হওয়ার এই বড় সিদ্ধান্তটি নেন। রোববার (২১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল প্রতিবেদনে হলিউডের এই বর্ষীয়ান ও প্রখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।   সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশটির জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (জিইএ) চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় সাক্ষ্য বা কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরপরই তিনি সৌদি আরবের একটি স্থানীয় মসজিদে গিয়ে তার নতুন ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্যান্য মুসলিম কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে নামাজ আদায় করেন।   জিইএ চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এই বিখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তটি মূলত সৌদি আরবে কাটানো তার চমৎকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মুসলিমদের সাথে কাজের সুবাদে ঘনিষ্ট মেলামেশার ফসল। আরবে অবস্থানকালে তিনি সেখানকার ইসলামি সংস্কৃতি, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় জীবনযাপন এবং প্রোডাকশন টিমের মুসলিম সহকর্মীদের আন্তরিক আচরণ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। অভিনেতা এস্পোসিটো শুটিং চলাকালীন আরবের স্থানীয় সমাজব্যবস্থা, তাদের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি নিজের গভীর মুগ্ধতা ও প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন।   এদিকে হলিউডের এই প্রভাবশালী অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মসজিদে নামাজ আদায়ের একটি বিশেষ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রখ্যাত এই অভিনেতা তার ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্য সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত নম্র ও সারিবদ্ধভাবে নামাজ আদায় করছেন, যা বিশ্বজুড়ে তার কোটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হলিউডের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করছেন এবং বিশ্বজুড়ে তার এক বিশাল অনুসারী রয়েছে।   ব্রেকিং ব্যাড ছাড়াও তিনি ‘বেটার কল সল’ এবং ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাড়াজাগানো আন্তর্জাতিক সিরিজে দুর্দান্ত অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। গাস ফ্রিং চরিত্রের জন্য তিনি একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। সৌদি গেজেটের তথ্যমতে, তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মূলত সৌদি আরব তাদের বিনোদন ও চলচ্চিত্র খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিভা আকর্ষণের যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এই চলচ্চিত্রটি তারই একটি অন্যতম অংশ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের সরকারি কর্মীদের বেতন মেটাতে ৬০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন করে ৫ কোটি ৯৭ লাখ বা প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার (২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সৌদি আরব। শুক্রবার (১৯ জুন) ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   সৌদি নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে 'সৌদি প্রোগ্রাম ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন অব ইয়েমেন'-এর (এসপিডিআরওয়াই) মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ তহবিল ছাড় করা হয়েছে।   রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, মূলত ইয়েমেন সরকারের আর্থিক বাজেট ঘাটতি কমানো এবং রাষ্ট্রের সব পর্যায়ের কর্মচারীদের বেতন প্রদান নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যেই এই সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ইয়েমেন সরকারের আর্থিক প্রবাহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট দূর করতে সরাসরি সাহায্য করবে।   একই সঙ্গে ইয়েমেনি রিয়ালের মান স্থিতিশীল রাখা, সাধারণ জনগণের জন্য মৌলিক পরিষেবাগুলো নিশ্চিত করা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক এই অনুদানের ঘোষণার আগে, ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের মধ্যে ১৫ কোটি বা ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসপিডিআরওয়াই-এর অর্থায়নে এবং ইয়েমেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেওয়া।   উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অন্যতম প্রধান মিত্র ও সমর্থক হিসেবে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মানবিক সহায়তায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালের মধ্যে এক রেলপথে যুক্ত হবে কুয়েত, সৌদি আরব, কাতারসহ ৬ উপসাগরীয় দেশ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমানকে একক রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গালফ রেলওয়ে কেবল একটি পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক সংযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল নেটওয়ার্ক কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অতিক্রম করে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।   জিসিসি পরিবহনমন্ত্রীদের বৈঠকে বলা হয়, রেলপথ চালু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।   বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   কুয়েত এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা তৈরির জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে কুয়েত পৌর কাউন্সিল সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে।   অন্যদিকে সৌদি আরবও কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সীমান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।   এছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত, নিরাপদ ও কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যাবে, যা আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণ আরও শক্তিশালী হবে। বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বা সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে এই রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   বহু বছর ধরে পরিকল্পনাধীন গালফ রেলওয়ে প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃদেশীয় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতায় নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নতুন নিয়ম
সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নতুন নিয়ম: কাজের অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক, ফি নির্ধারণ ১০০ রিয়াল

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য নতুন করে কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সৌদি আরবের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কিউয়া’ (Qiwa)-এর নতুন নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে দ্য ইকোনোমিক টাইমস।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নির্ধারিত এই ওয়ার্ক পারমিটের ফি ধরা হয়েছে ১০০ সৌদি রিয়াল। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কিউয়া প্ল্যাটফর্ম দেশটির শ্রমবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটালভাবে পরিচালনা করে থাকে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।   কিউয়ার নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি নির্ধারণ করা হবে কোম্পানির আকার এবং ইউনিফায়েড নম্বরের আওতায় নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যার ভিত্তিতে। অর্থাৎ বড় কোম্পানি ও বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফি কাঠামো ভিন্ন হবে।   এছাড়া সৌদি সরকারের ‘তামহীর’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় থাকা চুক্তিগুলো এখন থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। তবে এসব প্রশিক্ষণ চুক্তি সৌদিকরণ নীতির হিসাব বা বিদ্যমান কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।   পেমেন্ট ব্যবস্থাতেও এসেছে আধুনিকায়ন। সেবা ফি পরিশোধ করা যাবে ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট সিস্টেম এবং কিউয়ার ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে।   পদত্যাগ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো নিয়োগকর্তা আবেদন গ্রহণ বা স্থগিত না করলে কর্মীরা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে নোটিশ পিরিয়ডের শর্ত চাকরির চুক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।   অন্যদিকে ভিসা সংক্রান্ত নিয়মেও কঠোরতা আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একবার ভিসা ইস্যু হওয়ার পর তার কোনো তথ্য সংশোধন করা যাবে না। কোনো ভুল তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ভিসা বাতিল করে নতুন করে আবেদন করতে হবে।   শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি থাকলেও লাগবে কাজের অনুমতি

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (অনূর্ধ্ব বা স্থায়ী বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।   স্থানীয় দৈনিক ওকাজ পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, এই বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটটি পাওয়ার জন্য প্রতি আবেদনকারীকে ১০০ সৌদি রিয়াল ফি প্রদান করতে হবে। সম্প্রতি কিওয়া প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, কর্মীদের পদত্যাগ এবং ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার প্রক্রিয়া সহজ ও সুনির্দিষ্ট করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।   নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কিওয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি বা নিবন্ধন মাশুল এক রকম হবে না। প্রতিষ্ঠানের আকার এবং কোম্পানির ইউনিফাইড নম্বরের অধীনে নিবন্ধিত মোট কর্মকর্তা-कर्मचारियों সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হবে। এই সেবামূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর এবং কিওয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন।   এছাড়া, সৌদির জনপ্রিয় কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘তামহীর’-এর আওতাধীন চুক্তিগুলো এখন থেকে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে নথিভুক্ত করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো সৌদিকরণ বা নির্দিষ্ট হারে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের বাধ্যবতকতার হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। একই সাথে এটি কর্মসংস্থান চুক্তি ডকুমেন্টেশনের বর্তমান কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।   কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধাটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি উক্ত সাত দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করে থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত স্থগিত না রাখে। পাশাপাশি, চাকরি ছাড়ার আগের নোটিশ পিরিয়ড বা সময়সীমা কেমন হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে এবং এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।   ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কিওয়া স্পষ্ট করেছে যে একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে তার তথ্য আর সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না। যদি ভিসায় কোনো ভুল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই ভিসাটি বাতিল করতে হবে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আরেকটি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউরোপে জেট জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়েছে সৌদি আরব
ইউরোপে জেট জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়েছে সৌদি আরব, বিকল্প রুটে রপ্তানি জোরদার

হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় বিকল্প রুট ব্যবহার করে ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সৌদি আরব। লোহিত সাগর ঘেঁষা ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে চলতি জুনেই দেশটি ইউরোপের বাজারে আগের চেয়েও বেশি জেট ফুয়েল পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকার কেপলার ও ভরটেক্সার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কেপলারের হিসাবে, জুনের প্রথম সপ্তাহে ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল জেট জ্বালানি পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ভরটেক্সার হিসেবে এই সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে।   এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই রুট দিয়ে সৌদির দৈনিক রপ্তানি ছিল প্রায় ৭৭ হাজার ব্যারেল। তবে সাম্প্রতিক এই সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে সৌদি আরব দ্রুত বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরকে ব্যবহার করে ইউরোপমুখী জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।   পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই ইউরোপে সবচেয়ে বেশি জেট জ্বালানি যেত এবং তখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জ্বালানি পরিবহন করা হতো। একই সময়ে ভারত, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি মিলিয়ে ইউরোপের মোট চাহিদা ছিল গড়ে দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ বেড়েছে। গত মে মাসে এই দুই দেশ থেকে সম্মিলিত সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়।   এর আগে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে জুন মাসেই ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে ইউরোপের কয়েকটি বড় এয়ারলাইনস এই আশঙ্কাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের দাবি, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব যদি দীর্ঘমেয়াদে এই বিকল্প রুটে সরবরাহ ধরে রাখতে পারে, তাহলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে হরমুজ প্রণালির চিত্র । ছবি: রয়টার্স
হরমুজ সংকটের মধ্যেও ইউরোপে সৌদির জেট ফুয়েল সরবরাহ

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বাড়িয়েছে সৌদি আরব। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার এবং ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ইউরোপে সৌদির জেট ফুয়েল সরবরাহ হরমুজ প্রণালি খোলা থাকার সময়ের তুলনায়ও বেশি হয়েছে।   কেপলারের তথ্য বলছে, জুনের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েল রপ্তানি হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবাহ।   অন্যদিকে ভরটেক্সারের হিসাব অনুযায়ী এই সময়কালে রপ্তানির পরিমাণ আরও বেশি, দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে।   কেপলারের পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ ছিল জানুয়ারিতে, তখন দৈনিক গড় রপ্তানি ছিল ৭৭ হাজার ব্যারেল।   সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ হতো, যা ইউরোপের প্রধান জোগানদাতাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যকে শীর্ষে রেখেছিল। ওই সময়ে ভারত, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে মোট আমদানি ছিল প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ লাখ ব্যারেল।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার বাড়িয়েছে সৌদি আরব। এতে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা।   এদিকে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকেও জেট ফুয়েল আমদানি বাড়িয়েছে। মে মাসে এই দুই দেশ থেকে ইউরোপে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
আরাফাতের ময়দানের পাশের জাবাল আল-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে হাজিরা। অতিরিক্ত গরমে একটু শীতল পরশ পেতে এ সময় অনেকে পানি ছিটানো পাখার নিচে অবস্থান নেন । ছবি: রয়টার্স
আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখো হাজি, ইবাদত ও দোয়ার মধ্য দিয়ে পালিত হজের সবচেয়ে পবিত্র দিন

পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি। মিনা থেকে যাত্রা করে তারা আরাফাতে পৌঁছে দিনভর ইবাদত, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মশগুল থাকেন।   সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছেন। জিলহজ মাসের নবম দিনে ফজরের পর থেকেই তাঁরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেন।   গতকাল মিনায় অবস্থান শেষে হজযাত্রীরা সকালে আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হন। পবিত্র এই প্রান্তরে পৌঁছে তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদত ও আত্মসমীক্ষায় সময় কাটান। হাজিদের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় তালবিয়া, তাকবির ও দোয়া।   আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনটিকেই হজের পরিপূর্ণতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয়।   দুপুরের দিকে আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে কসর আদায় করবেন, যা হজের বিশেষ একটি বিধান। হাদিস অনুযায়ী, আরাফাতের দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করেন। এই বিশ্বাস থেকেই হাজিরা দিনটিকে ইবাদত ও প্রার্থনার মাধ্যমে অতিবাহিত করেন।   ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সেখানে ন্যায়বিচার, মানবসমতা ও পারস্পরিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   আরাফাতের ময়দানের অন্যতম স্থান ‘জাবাল আর-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়, যেখানে বহু হাজি দোয়ার জন্য সমবেত হন। বিশ্বাস করা হয়, এটি আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান।   হজযাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা। এ বছর উচ্চ তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং রোদ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে।   সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তাঁরা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং রাতটি ইবাদত ও বিশ্রামে কাটাবেন। ফজরের পর শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের জন্য সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। পরবর্তী ধাপে ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং ইহরাম পরিবর্তনের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।  

শাহারিয়া নয়ন মে ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ফটো।
সৌদিতে সাঁড়াশি অভিযান: এক সপ্তাহেই ১৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে গত এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৪৮৭ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৯ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৯১১ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩ হাজার ৫৮৮ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৯৮৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬১ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধ উপায়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন আরও ৪৩ জন। সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেবেন, পরিবহন সুবিধা দেবেন বা কোনোভাবে সহযোগিতা করবেন, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এই অপরাধে ১৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯ হাজার ২৫৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭৯৮ জন নারী। ইতিমধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান কর্মকর্তারা | ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা; মদিনায় প্রথম কাফেলার উষ্ণ অভ্যর্থনা

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এ বছরের হজের প্রথম কাফেলা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পথচলা।   মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল ও খেজুর দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে হজযাত্রীদের মদিনার মসজিদে নববীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কয়েক দিন অবস্থানের পর হজের মূল কার্যাদি পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।   সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে আরও অসংখ্য ফ্লাইট মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আল্লাহর মেহমানদের জন্য পরিবহন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে আলাদা সহায়তা দল।   চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হজ যাত্রীদের জন্য সৌদি আরবের বিশাল পরিবহন পরিকল্পনা

আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে আগত লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ পরিবহন ও লজিস্টিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এবারের হজে আকাশ, স্থল, রেলপথ ও সমুদ্রপথে সমন্বিত পরিষেবার মাধ্যমে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি পরিবহন ও লজিস্টিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি হজ মৌসুমে বিমান চলাচলের জন্য ৩১ লাখেরও বেশি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক হজযাত্রীকে আনা-নেওয়ার জন্য ১২ হাজারেরও বেশি নির্ধারিত এবং চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেদ্দা, মদিনা ও রিয়াদসহ দেশটির ছয়টি প্রধান বিমানবন্দরকে হজের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে ২২ হাজারেরও বেশি অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। হজযাত্রীদের কষ্ট কমাতে এবার 'ব্যাগেজ-ফ্রি ট্রাভেলার' বা লাগেজমুক্ত ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে হজযাত্রীদের মালামাল সরাসরি তাদের আবাসন থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া জমজমের পানি পরিবহনেও বিশেষ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ যাতায়াতেও নেওয়া হয়েছে অভাবনীয় পদক্ষেপ। পবিত্র মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের মধ্যে যাতায়াতের জন্য 'মাশায়ের ট্রেন' ২ হাজারের বেশি ট্রিপ দেবে, যার মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। এছাড়া মক্কা ও মদিনার মধ্যে সংযোগকারী হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে ৫,৩০৮টি ট্রিপের মাধ্যমে ২২ লাখের বেশি যাত্রী সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সড়কপথের প্রস্তুতি হিসেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেছে এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার লাইটিং ইউনিট সচল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৩৩ হাজার বাস ও ৫ হাজার ট্যাক্সি সার্বক্ষণিক হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।
পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান-এর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করতে রিয়াদ নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।   ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বৈঠকে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   জানা গেছে, সৌদি আরবের এই অর্থ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সামাল দিতে সহায়ক হবে। এর আগে দেশটি পাকিস্তানের কাছে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদও বাড়িয়েছে। ফলে নতুন সহায়তা যুক্ত হয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলারে।   বর্তমানে পাকিস্তান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত-কে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সহায়তাকে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ করা হয়েছে এবং আইএমএফ-এর ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ১.২ বিলিয়ন ডলার শিগগিরই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও করাচি বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়াকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও সামরিক ক্ষেত্রেও গভীর। অতীতেও সংকটের সময়ে দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করেছে। সাম্প্রতিক সহায়তাও সেই দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সূত্র: সামা টিভি।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
অবরোধে উত্তেজনা বাড়ছে: ইরানের পাল্টা হুমকি, আলোচনায় ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি

মার্কিন অবরোধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের বিপরীতে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আর এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে আলোচনায় ফেরাতে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের লক্ষ্য ছিল দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলা। তবে আরব কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।   এই প্রণালি লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিচালিত হয়।   এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি-তে হামলার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে, যার ফলে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায় এবং তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি হরমুজের পাশাপাশি বাব এল-মান্দেব প্রণালীতেও বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।   এদিকে ইয়েমেনভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীদের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান তাদের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গাজা যুদ্ধের সময় হুতিরা এই পথে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছিল।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ওয়াশিংটন।   তবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সামরিক উত্তেজনার বদলে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। তাদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
হজ সামনে রেখে ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন সৌদির
হজ সামনে রেখে ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন সৌদির

সৌদি আরব জানিয়েছে, পবিত্র হজ পালনের জন্য শুধুমাত্র নির্ধারিত ‘হজ ভিসা’ই গ্রহণযোগ্য হবে। এর বাইরে অন্য কোনো ভিসা ব্যবহার করে হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া যাবে না। দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা স্পষ্ট করেছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য হজ পালনের একমাত্র বৈধ উপায় হলো সরকার অনুমোদিত হজ ভিসা গ্রহণ করা। অন্য কোনো ধরনের ভিসা ব্যবহার করে হজে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।   প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ভ্রমণ, ট্রানজিট, ওমরাহ বা পর্যটন ভিসা ব্যবহার করে কেউ হজের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এসব ভিসাধারীদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তবে সৌদি আরবের ভেতরে অবস্থানরত নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। তাদের নির্ধারিত সরকারি পদ্ধতির মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে হজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।   মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করে বলেছে, হজ সংক্রান্ত সব বুকিং ও নিবন্ধন শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই করতে হবে। কোনো ভুয়া বা অননুমোদিত মাধ্যমে বুকিং করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি–তে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।   শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ০.৮৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   আল জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।   এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তারা ‘খুব খারাপ কাজ’ করছে। পাশাপাশি জাহাজ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের চেষ্টা করলে তা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।   এদিকে সাম্প্রতিক হামলার কারণে সৌদি আরব–এর তেল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সূত্র জানায়, হামলার ফলে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইরান যুদ্ধ থামাতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: আসছে বড় ঘোষণা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার এই দুই শীর্ষ নেতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেহরানের সঙ্গে চলমান গোপন আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন।   হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোনালাপের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য না করলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই নতুন মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে রাখা হয়েছে।   ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো ধরনের বৈঠকের খবর পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত অবাস্তব ও একপাক্ষিক।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক চরম অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন আমেরিকান সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন, যা হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণভাবে প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়াচ্ছে।   যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   ইরানও এই আগ্রাসনের জবাবে চুপ করে বসে নেই, তারা ইসরায়েলসহ জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা, যা সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে।   রিয়াদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন ছাড়া এই অঞ্চলে যেকোনো স্থায়ী সমাধান প্রায় অসম্ভব হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সংঘাত কমানোর কৌশলগত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   যদিও তেহরান এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং আরব দেশগুলোর সম্মিলিত চাপ ইরানকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের এই যৌথ প্রচেষ্টার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যাতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এবং সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আবার স্বস্তি ফিরে আসে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে যুদ্ধের ঘন কালো মেঘ জমেছে, তা সরাতে এখন সর্বোচ্চ স্তরে কূটনৈতিক লড়াই চলছে যা শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের আগামীর ভাগ্য ও স্থিতিশীল শান্তি নির্ধারণ করবে।  

Unknown এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আজ রাতে দলের মিডিয়া টিম থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ব্যক্তিগত এই ধর্মীয় সফরের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখার পর তিনি এই সংক্ষিপ্ত সফরে যাচ্ছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের তীব্র উত্তেজনার মাঝে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে চার দেশীয় উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সম্মেলন।  সোমবার এই সম্মেলনের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই চতুর্মুখী সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত প্রশমন করা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্তমান আঞ্চলিক সংকটে রিয়াদের প্রদর্শিত "অভাবনীয় ধৈর্যের" ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশটির শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লে. জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক। কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও এই সংকট সমাধানে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। গত এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চালানো 'ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোমেসি' বা নেপথ্য কূটনীতির বিস্তারিত সৌদি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির লক্ষে ইসলামাবাদ সক্রিয়ভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে শরিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান সৌদি আরবের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। চলতি মাসে রিয়াদের পর এটিই চার দেশের দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে এখন ১৫ দফার একটি ডি-এস্কেলেশন বা উত্তেজনা প্রশমন ফ্রেমওয়ার্ক বিবেচনার জন্য রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান। ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই নিবিড় আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ: পাকিস্তানে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে।   উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইয়েমেন থেকে ইসরাইলে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ
সৌদিতে হামলায় মার্কিন বিশেষ নজরদারি বিমান ধ্বংস করলো ইরান

সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে The Wall Street Journal জানিয়েছে, গত শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডারসমৃদ্ধ বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের একটি বিমান, যা আগাম সতর্কতা ও আকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হামলার পর প্রকাশিত ফুটেজে বিমানটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে।   আরব কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, একই হামলায় একাধিক রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ই-৩ সেন্ট্রি বিমান উন্নত রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া এই মডেলের বিমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছিল মাত্র ১৬টি। অতীতে এ ধরনের বিমানের সংখ্যা প্রায় ৩০টি ছিল।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিমান সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে এর বিকল্প হিসেবে ই-৭ ওয়েজটেইল মডেলের বিমান ব্যবহার করতে হয়, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার।   এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট ইমেজ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে একজন নিহত

সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলা শুক্রবার ঘটে এবং এতে বিমানঘাঁটির কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসের কাছে মোতায়েন সেনারা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করেন। হোয়াইট হাউস জানায়, সৌদি আরবে বর্তমানে ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছেন, যারা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা এবং সামরিক বিমানের কার্যক্রমে সহায়তা দেন।   ইরান এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে গত দুই দশক ধরে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বিদ্যমান। ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনের আলোচনার পর কোনো সমঝোতা চুক্তি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালু করে। এই অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত হন।   যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এর আগে ১ মার্চ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলার ফলে কয়েকজন মার্কিন সৈন্য আহত হন, যার মধ্যে সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।   সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন।   সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এপি

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0