মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার কালো মেঘ। দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল সৌদি আরব। ইরানের সামরিক অ্যাটাশে-সহ মোট পাঁচজন দূতাবাস কর্মীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদ। শনিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রিয়াদের অভিযোগ, ইরান ধারাবাহিকভাবে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শুধু সৌদি আরব নয়, বরং গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (GCC) ভুক্ত অন্যান্য দেশসহ বিভিন্ন আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রে ইরানের ‘আগ্রাসী’ আচরণ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি প্রশাসনের দাবি, ইরানের এই ভূমিকা বেইজিং চুক্তির শর্ত এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলোর সরাসরি বরখেলাপ। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ইরানের প্রধান সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং আরও তিনজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক। সৌদি প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের উসকানিমূলক আচরণ অব্যাহত থাকলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চূড়ান্ত অবনতির দিকে যাবে। এমনকি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার প্রয়োগ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সৌদি-ইরান সম্পর্কের এই বৈরিতা পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে একযোগে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এসেছে। এর ফলে দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও কুয়েতেও একাধিক বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম দেখা গেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযান। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছেন, তারা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে। সৌদি আরবও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলাগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কঠোর প্রতিশোধের প্রতিফলন। ইরান দাবি করছে, তারা মার্কিন সম্পদ ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা পরিচালনা করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দেশগুলোতে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা
সিরিয়ার সরকারি সামরিক শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২১ মার্চ) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ এই আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ইসরায়েলি আইন লঙ্ঘনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কও সৌদি আরবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলাকে একটি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত শুক্রবার দাবি করেছিল, সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় এই আক্রমণ চালিয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, তারা সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই যুক্তিকে ‘বানোয়াট অজুহাত’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দামেস্কের মতে, এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি জঘন্য আঘাত। গত বছরও ইসরায়েল একই ধরনের অজুহাতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করেছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুয়েইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এরপর ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে সুয়েইদা শহরের আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ থেকে সিরিয়া এখন পর্যন্ত নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে এই নতুন হামলা দেশটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, তখন সিরিয়ায় এই নতুন ফ্রন্ট খোলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণ এখনই থামানো। সিরিয়া এই হামলাকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে। রিয়াদ ও আঙ্কারার এই যৌথ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। যুদ্ধের এই পর্যায়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের আল-তোয়াইক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি মোশারফ হোসেনের মরদেহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশে এসে পৌঁছেছে। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট (এসভি ৮০৬) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মরদেহ গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারকে তা হস্তান্তর করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। নিহত মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মো. সুরজত আলীর ছেলে। তিনি জীবিকার তাগিদে আট বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। গত ৮ মার্চ স্থানীয় সময় একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশারফ হোসেনসহ তিনজন নিহত হন। পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মৃত্যুর ঠিক আধা ঘণ্টা আগে মোশারফ তার বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে সময় মিলিয়ে সাতক্ষীরার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ এবারও একদিন আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় তারা ঈদের জামাতে অংশ নেন। এদিন কুশখালী বাউকোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও পাইকগাছাসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মুসল্লিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে খুতবায় ধর্মীয় বক্তব্যে জানানো হয়, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে তারা এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। স্থানীয়দের মতে, তারা রমজান শুরু করেছিলেন একদিন আগে, তাই ঈদও পালন করছেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে। এ বছর অন্যান্য সময়ের তুলনায় মুসল্লিদের উপস্থিতিও ছিল বেশি। খুতবায় আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যেন সবাই একসঙ্গে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সময়সূচি অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ বৃহস্পতিবার দেখা না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই উপলক্ষে সৌদি আরব-এর মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববী-তে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এর বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছু দেশে খোলা ঈদগাহে জামাতের আয়োজন সীমিত বা বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আজই অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। অন্যদিকে, এশিয়ার বেশ কিছু দেশ—যেমন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, লিবিয়া ও মরক্কো—শাওয়ালের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একজোট হয়েছে অঞ্চলের প্রভাবশালী ১২টি রাষ্ট্র। বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক জরুরি বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। কাতার, আজারবাইজান, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বিবৃতিতে তেহরানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ইরানকে অবশ্যই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর। মন্ত্রীরা ইরানকে সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত করা বা সমুদ্রপথে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই জলপথগুলোতে কোনো ধরনের অস্থিরতা কাম্য নয় বলে তারা একমত হন। একই বৈঠকে মন্ত্রীরা লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় দেশগুলো একযোগে ইরানকে সংযত হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে, যেখানে জ্বালানি স্থাপনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরান কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে, গত ১৮ মার্চ ইরানের বুশেহর অঞ্চলের উপকূলবর্তী আসালুয়েহ এলাকায় অবস্থিত সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং উত্তরাঞ্চলের বন্দর আনজালিতে নৌবাহিনীর একটি স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের সবচেয়ে বড়, যেখানে ইরান ও কাতার যৌথভাবে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই হামলার পর তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে কাতার সতর্ক করে জানায়, জ্বালানি খাতে আঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কিছু তেল ও গ্যাস স্থাপনার আশপাশে অবস্থানরত মানুষদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানায়। এরপর রাতেই বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কাতারের রাস লাফফান শিল্পাঞ্চল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির হাবশান গ্যাসক্ষেত্র ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগারের কথা বলা হয়েছে। কাতার জানায়, হামলার ফলে রাস লাফফান এলাকায় আগুন লাগে এবং কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়, যদিও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের একটি গ্যাসক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, ইরান মূলত মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করলেও বাস্তবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনার সময় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিভিন্ন আরব ও ইসলামিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে ছিলেন, যেখানে চলমান সংকট ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। হামলার পর কাতার এটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এবং দেশে অবস্থানরত ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে যাত্রায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে দেশফেরত প্রবাসীরা সৌদি আরব হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারবেন। দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রবেশের জন্য প্রবাসীদের কাছে বৈধ ভিজিট বা ট্রানজিট ভিসা থাকা আবশ্যক। ট্রানজিট ভিসায় সৌদি প্রবেশের পর চার দিনের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করতে হবে। সুতরাং, প্রবাসীদেরকে আগে বাংলাদেশের ফ্লাইটের টিকেট নিশ্চিত করতে হবে। সৌদি আরবের ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে হলে ksavisa.sa ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছেন, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে যারা বাংলাদেশে যেতে চান, শুধুমাত্র তাদের জন্য ট্রানজিট ভিসার অনুমোদন দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর দূতাবাস সৌদি আরব প্রবেশের অনুমোদন নিশ্চিত করে প্রার্থীদের অবহিত করবে। এরপর আবেদনকারীরা নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় স্থলপথে কুয়েত–সৌদি সীমান্ত পার হয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে সৌদি প্রবেশ করবেন এবং চার দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করবেন। দূতাবাস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে আবেদনকারীরা আগামী ২১ মার্চ থেকে যে কোনো কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দূতাবাসের ১৩ নম্বর রুমে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।
ইরান বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার হুমকি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত নাগরিক, বাসিন্দা ও কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবরটি দিয়েছে রয়টার্স। সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাস ফিল্ড এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, মেসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি ও রাস লাফান রিফাইনারিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই কেন্দ্রগুলো এখন সরাসরি ও বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সকলকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।” ইরানের এই সতর্কতা আসে দেশটির দক্ষিণ পার্স এবং আসালুয়েহ অঞ্চলের তেল স্থাপনায় হামলার পরপরই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হতে পারে, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের হুঁশিয়ারি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সংকেত বহন করছে। ফলে তেল ও গ্যাস শিল্পের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান এবং শারজাহ অ্যাকাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি-র যৌথ পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, আগামী ২০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাস এবার ৩০ দিন পূর্ণ করতে পারে। ১৮ মার্চ রমজানের ২৯তম দিনে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাওয়ায় সেদিন আকাশে নতুন চাঁদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ১৯ মার্চ ভোরে নতুন চাঁদের সংযোগ ঘটলেও সূর্যাস্তের সময় এর অবস্থান ও বয়স এমন থাকবে যে, খালি চোখে এমনকি টেলিস্কোপ দিয়েও চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি ধারণের ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ পর্যবেক্ষণে তা দৃশ্যমান হবে না। ফলে ১৯ মার্চ রমজান ৩০ পূর্ণ হবে এবং তার পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বা ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত একই দিনে ঈদ পালন করে থাকে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) মারা গেছেন। তিনি গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ ইফতারের ঠিক আগে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ক্যাম্পটি আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির অধীনে ছিল। বিস্ফোরণে মামুন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাকে স্থানীয় ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে, লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা জানান, বিস্ফোরণে তার শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মামুনের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি—কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন—নিহত হন। এছাড়া মামুনসহ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার মুখে। এমন নাজুক সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জরুরি ফোনালাপ করেছেন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সৌদ। তিনি কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় তারা ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে কাতারের নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব প্রশমিত করতে এবং নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বড় শক্তিগুলো এখন একজোট হয়ে কাজ করছে।
ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার পর তার জবাবে তেহরান সরাসরি ইসরাইলি ভূখণ্ডে আঘাত হানার পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের ১৬তম দিনে রোববার (১৫ মার্চ) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ব্যাপক হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা দিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এছাড়া রোববার তারা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্তত ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ইরান পুনরায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নৈশকালীন হামলা শুরু করার পর এই ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে পৃথক পোস্টে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস অবস্থিত আল-খারজ এলাকায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে, যেখানে বড় বড় তেল শোধনাগার রয়েছে। এছাড়া কিছু ড্রোন রিয়াদ অঞ্চলেও ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নৈশকালীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। দিনের বেলা কয়েক ঘণ্টা শান্ত থাকার পর প্রতি সন্ধ্যায় আবার হামলা চালানোর একটি নির্দিষ্ট ধরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সহিংসতার প্রভাব সৌদি আরবের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার ভোরে বাহরাইনের রাজধানী মানামার আকাশে বিস্ফোরণের আলো দেখা যায়। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের অভিযান শুরুর পর থেকে তারা ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব হামলায় বাহরাইনে ২ জন এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও ২৪ জন নিহত হয়েছেন। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ডের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাদান ফাদেল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাতে ড্রোন হামলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সেখানে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির মোকাবিলা করছে। শনিবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানায়, মেরিনা ও আল-সুফুহ এলাকায় শোনা শব্দগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল প্রতিরোধের ফল ছিল। ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি প্রধান বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটি ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত সেখানে ছয়জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: আরব নিউজ ও টাইমস অব ইসরাইল।
পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদে আগত ওমরাহ ও হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মক্কায় চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘সেফ হার্ট জোন’। আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের উদ্যোগে এবং কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান ও হজ মৌসুমে যখন কাবা শরীফে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত প্রযুক্তিতে সাজানো ‘সেফ হার্ট জোন’ এই প্রকল্পের অধীনে ১০টি অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি সেবা দিতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকছেন ৩০ জন উচ্চপ্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য হারাম হাসপাতালের মাধ্যমে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের হাসপাতালে স্থানান্তরের আগেই ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া গুরুতর রোগীদের জন্য ইসিএমও (ECMO), হার্টে স্টেন্ট বসানো এবং বিশেষায়িত জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাথেটারাইজেশন পরবর্তী রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য সেন্টারে স্থানান্তরের জন্য কঠোর ক্লিনিক্যাল প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে মক্কায় আগত মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর হলো।
সৌদি আরবের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রিয়াদের কূটনৈতিক পাড়া লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি ড্রোনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১১টি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা অন্তত ২৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশেই ধ্বংস করা হয়। একই দিনে শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মোট ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রেখেছে আরবের সামরিক বাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আল-খারজ এলাকায় জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে সিভিল ডিফেন্স। নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার স্থানে ভিড় না করতে, ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে এবং বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ইরানের একটি সরাসরি উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রিয়াদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং প্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
সৌদি আরবের আল-খারজ গভর্নরেটে এক বিমান হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইল জেলার সখীপুরের মোশাররফ হোসেন। আহত বাংলাদেশিরা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। সরকার সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের অন্যতম বড় তেলক্ষেত্র শায়েবাহ অয়েলফিল্ড লক্ষ্য করে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ভোরে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী চারটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছে এই তেলক্ষেত্রের দিকে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, তেলক্ষেত্রে আঘাত হবার আগে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, কোনো ক্ষতি হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯ দিনের মধ্যে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোর মার্কিন সেনাঘাঁটি, স্থাপনা ও তেলক্ষেত্রগুলোতে। এই সময়ে শায়েবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে তিনবার হামলার পর গত রোববার সৌদি আরব ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখলে ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে। তবে এই সতর্কবার্তার পরও চতুর্থবারের মতো শায়েবাহ তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইরান।
মধ্য সৌদি আরবে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ড সৌদি আরবের আল-খারজসহ বিভিন্ন এলাকায় রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও তাদের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর আগে সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন কনস্যুলেটেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনায় এখন সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানী রিয়াদের পূর্ব আকাশে অন্তত সাতটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই আরও আটটি ড্রোন ধ্বংস করার তথ্য দেয় দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মোট ১৫টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দফায় দফায় আসা এসব ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দিয়েছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না চালায়, তাহলে তেহরানও পাল্টা আঘাত করবে না। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ভূখণ্ডে হামলার খবর সামনে আসে। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। অভিযোগ উঠেছে, এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে তেহরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করেই এসব হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব দেশ তাদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে, তারাও এই সংঘাতের পরিণতি থেকে রেহাই পাবে না। এই পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানালেও উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
শুক্রবার ও শনিবার ইরান সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায়। সৌদি আরবের আল-খার্জে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে আসা ছয়টি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ওপর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। শুক্রবার কাতারে ইরান থেকে ১০টি ড্রোন ছোড়া হয়, যার মধ্যে নয়টি ধ্বংস করা হয়েছে, একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করেছে। আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র, রাডার ও সতর্কতা সিস্টেমে আঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনায় কিছু ফ্লাইট স্থগিত ও আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। উত্তেজনাপূর্ণ এই হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস