- প্রচ্ছদ
- Topic
সৌদি আরব
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর অন্তত দুটি ইউরোপীয় শোধনাগারকে আগামী মাসে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ না করার কথা জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরামকো। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো সাধারণত মাসিক সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকা চুক্তির আওতায় সৌদি তেল কিনে থাকে। তবে আরামকো তাদের জানিয়েছে যে, আগামী মাসের পরিকল্পিত সরবরাহগুলো আর হচ্ছে না। তিনটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার কারণে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং বিঘ্নিত হওয়ায় এর আগেই ইউরোপীয় গ্রাহকদের সরবরাহ বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করেছিল সৌদি আরব। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো এখন তেলের বিকল্প উৎস খুঁজছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, পোল্যান্ডের অরলেন বাতিল হওয়া সৌদি আমদানির ঘাটতি মেটাতে নর্থ সি বা উত্তর সাগর থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি আংশিকভাবে এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে আরামকো। লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওমানের সোহার বন্দরে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানিও বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর সাথে চলমান লড়াইয়ের কারণে চলতি মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারের বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জি-৭ জোটের একটি বৈঠক ডাকার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। তিনি জানান, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিণতি। সাধারণ পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিদ্যমান পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগে এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের দিকেই সবার বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে। হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়। ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না। এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে। এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেটের নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। কার্পেট পরিষ্কার, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করার জন্য সার্বক্ষণিক একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববী, এর ছাদ ও প্রাঙ্গণে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেট ব্যবহৃত হয়। এসব কার্পেটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং সুগন্ধি ছড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কার্পেটগুলোর পরিচর্যার কাজ নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। প্রতিটি কার্পেটে থাকা বৈদ্যুতিন চিপের মাধ্যমে সেটির অবস্থান, কখন পরিষ্কার করা হয়েছে, কখন ধোয়া হয়েছে এবং কখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়েছে, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ বা আরএফআইডি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্পেটের ব্যবহার ও পরিচর্যার ইতিহাসও জানা সম্ভব। মসজিদে নববীর কার্পেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ঘন বুননের, পুরু ও টেকসই এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ঘন ঘন ধোয়া হলেও কার্পেটের রং ও গুণমান যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কার্পেট পরিষ্কারের পাশাপাশি মসজিদের অন্যান্য অংশেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চলে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে এসপিএ জানিয়েছিল, মসজিদে নববী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ৮১ হাজার লিটারের বেশি পরিবেশবান্ধব পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক উপকরণ ব্যবহার করা হতো। মসজিদের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন নামাজের স্থানও এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। এর আগে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিচর্যা নিয়ে প্রকাশিত আরেক সরকারি তথ্যে বলা হয়েছিল, দিনে তিনবার কার্পেট ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি কার্পেট ধোয়ার ব্যবস্থাও ছিল। এ ছাড়া ২০২৩ সালের এক পরিসংখ্যানে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিষ্কারে ৩০০টি ঝাড়ু দেওয়ার যন্ত্র এবং ৯২টি মেঝে ধোয়ার যন্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব জীবাণুনাশক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। মসজিদে নববীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে নামাজের স্থানগুলোর কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে মুসল্লিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু কার্পেট পরিষ্কার রাখা নয়, বরং মসজিদে নববীতে ইবাদত করতে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা। সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এ মনোনয়ন এখন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায়। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, তখন হান্টের অতীতের ইসলাম ও শরিয়াহবিষয়ক মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হান্ট সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া তার জীবনী অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আট বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাকে একবার যুদ্ধ মোতায়েনের সময় তিনি ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে দুই দফা ডিপ্লোম্যাটিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হান্ট গত বছরের নভেম্বরে বলেছিলেন, তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে জীবন কেমন হতে পারে, তা কাছ থেকে দেখেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা তার ইসলামবিষয়ক সতর্কতাকে ভয় ছড়ানো হিসেবে দেখছেন, তারা এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। সৌদি আরবে থাকার সময় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। জানুয়ারি ২০২৬-এ স্টেকলবেক টুনাইট অনুষ্ঠানে হান্ট ইসলাম সম্পর্কে আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তার দাবি ছিল, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত ওই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার হান্টের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ধারাবাহিক নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। কেয়ার ১৬ সেপ্টেম্বর সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্যদের কাছে হান্টের মনোনয়ন অনুমোদন না করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি তার অতীতের বক্তব্যের মধ্যে ইসলামকে সমাজে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা, শরিয়াহ নিষিদ্ধ করার আহ্বান এবং মুসলিম ধর্মীয় চর্চা নিয়ে মন্তব্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে। এগুলো কেয়ারের নিজস্ব অভিযোগ ও মূল্যায়ন, হান্টের বিরুদ্ধে সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। হান্টের এসব বক্তব্য নিয়ে ২০২৬ সালের টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হিউস্টন ক্রনিকলের কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসন অভিযোগ করেন, হান্টসহ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী তাদের প্রচারে ইসলাম নিয়ে ভয় তৈরি করছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কারও টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে মুসলিমদের নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেছিল। সৌদি রাষ্ট্রদূত পদে হান্টের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় তার ইসরাইলপন্থী অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে কথা বলেন তিনি। একই সময়ে তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কংগ্রেসে থাকাকালে হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের পক্ষে একটি প্রস্তাবেও সমর্থন জানিয়েছিলেন। হান্ট ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ইসরাইলকে ‘জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান’ পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশের সঙ্গে যুক্ত করেন। তার এই অবস্থানও সৌদি আরবে সম্ভাব্য দায়িত্বের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। তবে হান্টের মনোনয়নের পেছনে তার মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে দুই দফা দায়িত্ব পালন এবং ইরাকে সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে অঞ্চলটি সম্পর্কে তার পূর্বপরিচিতি রয়েছে। হান্ট নিজেও মনোনয়ন পাওয়ার পর বলেছেন, সেনা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনের পর এবার কূটনীতিক হিসেবে সেখানে ফেরার আহ্বান পেয়েছেন। সৌদি রাষ্ট্রদূতের পদটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে খালি ছিল। হান্টের মনোনয়ন সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি রিয়াদে দায়িত্ব নেবেন এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরান যুদ্ধ, ইয়েমেনের হুথি হামলা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। হান্টের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ নয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতসহ প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে হান্টকে সিনেটের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, মারিব প্রদেশের আকাশে সামরিক অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিওতে আকাশে আলো ও মাটিতে জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের একটি অংশে সৌদি পতাকার চিহ্ন রয়েছে বলে রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ব্যাপক ক্ষতির কারণে ধ্বংসাবশেষ দেখে বিমানটির মডেলও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, বিমানটি মারিবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করছিল। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংখ্যাটি হুতিদের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এর মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিই তাদের হামলার লক্ষ্য, পবিত্র স্থান নয়। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। দেশটি এ বিষয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সহায়তা চেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি সত্য হলে তা সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ঘটনাটি হুতিদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং সৌদি পক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে সৌরভ ইসলাম নামে ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দিন জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়। নিহত সৌরভ ইসলাম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি জেদ্দায় ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি। পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ যে আবাসিক ভবনে থাকতেন, তার ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জেদ্দায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা আসে। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে গেলে তিনি পড়ে যান বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সকালে একই বাসায় থাকা অন্যরা সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে সৌদি আরবে থাকা সৌরভের এক সহকর্মী ফোন করে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানান। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। বুধবার সকালে স্বজন ও স্থানীয়রা সৌরভের বাড়িতে জড়ো হন। সৌরভের মা রেনু বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার এবং নিজের হাতে দাফন করার সুযোগ চেয়েছেন। বাবা আমির ইসলামও ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। সৌরভের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যে সতর্কবার্তাটি ছিল, সেটিও ওই দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জেদ্দা, মক্কা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এসব সতর্কতা অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন থেকে আগের দিন চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে জেদ্দার সতর্কবার্তার সময় সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি হলেও ওই এলাকাগুলোতে কোনো প্রজেক্টাইল আঘাত করেছিল কি না সে বিষয়ে তখন কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে সৌরভ ঠিক কোন সতর্কবার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সেটি তার মৃত্যুর সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে পরিবারের বর্ণনাই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্য। সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই জেদ্দার মতো বড় শহরেও এমন সতর্কতা জারি হওয়ায় সেখানে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌরভ ইসলামের মৃত্যু সেই আতঙ্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। পরিবারের এখন প্রধান দাবি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া।
সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। সেটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তা ভূপাতিত করে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে পড়ে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আল-মালিকি এই ঘটনাকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও ওমরাহ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে হুতি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা, তাইফসহ কয়েকটি এলাকাও সতর্কতার আওতায় ছিল। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। তাই নগরীর আকাশসীমার কাছাকাছি এমন কোনো সামরিক ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে। মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দুই পক্ষের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র নগরী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলছে।
সৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স বাহিনী ধ্বংস করে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোট জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি বাধা দেওয়া হয়। এটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এমন প্রচেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগও করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই ঘটনার পর এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আল-মালিকি। মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সেখানে যান। সৌদি জোটের মুখপাত্র বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সৌদি দাবিকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মক্কা বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি সত্য নয়। ফলে ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ঘটনার আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইরানঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের একাধিক হামলার পর সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে, যার মধ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও রয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব সৌদি আরবের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়ছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নৌপথ বিশ্ব বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাতে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে এই সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সৌদি মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আকরিকটিতে বিশেষ করে ভারী ধরনের বিরল মৃত্তিকা খনিজের ঘনত্ব বেশি এবং ইউরেনিয়ামেরও আশাব্যঞ্জক ঘনত্ব রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে, এমন নয়। ১১ কোটি টন হলো ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজসমৃদ্ধ আকরিকের আনুমানিক পরিমাণ। এই আকরিক থেকে ঠিক কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা যাবে বা তা বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই আবিষ্কার সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও খনিজ কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সৌদি সরকার অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সম্পদ অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করছে। এর আগে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর জানিয়েছে, এই চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি ভিত্তি তৈরি করবে এবং সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানির অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে। চুক্তিটি ঘিরে অবশ্য পারমাণবিক বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ভবিষ্যতে সামরিক পারমাণবিক সক্ষমতার পথও সহজ করতে পারে। সৌদি আরব অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য বলে আসছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, সৌদি আরব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি ও একটি গবেষণা চুল্লি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সংস্থাটি এ কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীও বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাইরে বা গোপন কোনো স্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে জাবাল সায়িদের নতুন খনিজ সম্পদ সৌদি আরবের জন্য শুধু ইউরেনিয়াম নয়, বিরল মৃত্তিকা খনিজের ক্ষেত্রেও কৌশলগত গুরুত্ব তৈরি করতে পারে। তবে প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, উৎপাদনের সময়সূচি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা স্পষ্ট হতে আরও গবেষণা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন। সোর্স: রয়টার্স, সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়/সৌদি প্রেস এজেন্সি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা চায় না, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাক। ট্রাম্প বলেন, “হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, হুতিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাক। একই সঙ্গে অঞ্চলটির পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প এ সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলার কথা জানান। তিনি সৌদি যুবরাজকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ দুবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, এই সপ্তাহেই হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। মিসর জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ সংহতিও প্রকাশ করেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সরাসরি নির্দেশদাতা বা হামলাকারী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবকে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে ইরাকি সরকারকে হামলার উৎস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই অনুরোধের পর সৌদি আরব আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও বহাল রেখেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য ইরান সম্ভবত দায়ী। তবে এটি এখনো সৌদি সরকারের চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা কোনো অভিযোগ নয়। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ইরাক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হামলায় নিহতদের স্বজনেরা। হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রশাসনগুলোর ভূমিকা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হামলার কথিত যোগসূত্র নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন টেরি স্ট্রাডা। তাঁর স্বামী টম স্ট্রাডা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় নিহত হন। টেরি স্ট্রাডা ৯/১১ ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের জাতীয় চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং এ বিষয়ে মার্কিন তদন্তের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। শুক্রবারের স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক মার্কিন প্রশাসন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সৌদি আরবকে রক্ষা করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন নিহতের স্বজনও সমর্থন জানান। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক ছিলেন। এ কারণেই হামলার পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশনের তদন্তে সৌদি সরকার হামলার অর্থায়ন করেছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবও হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে মার্কিন তদন্তে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে। বিশেষ করে নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধার নামের দুই হামলাকারী ২০০০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় অবস্থান করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে সৌদি নাগরিক ওমর আল-বায়োমির যোগাযোগ হয়। বায়োমি তাঁদের বাসা খুঁজে পেতে, ব্যাংক হিসাব খুলতে এবং স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এতদিন এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বায়োমির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎকে অনেকটা আকস্মিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নথি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। প্রোপাবলিকার সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ২০০১ সালে বায়োমির বাসা থেকে বেশ কিছু নথি ও সামগ্রী জব্দ করেছিল। এর মধ্যে একটি হাতে আঁকা চিত্র ছিল, যা একটি বিমানের গতিপথের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন ঘুরে দেখার একটি ভিডিওও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীরা মনে করেন, এসব তথ্য হামলার আগে বায়োমির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখায়। প্রকাশিত এফবিআই নথিতে বায়োমির সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেখান থেকে মাসিক অর্থ পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি সরকার ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়নে সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সৌদি নাগরিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে এফবিআই পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন এনকোর’ নামে একটি তদন্ত চালায়। তদন্তকারীরা নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধারের সঙ্গে বায়োমি এবং সৌদি কূটনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। তদন্তে এমন সাক্ষ্যও পাওয়া যায়, যাতে সৌদি কূটনীতিক ও ধর্মীয় নেতা ফাহাদ আল-থুমাইরির সঙ্গে ওই দুই হামলাকারীর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তকারীদের কিছু তথ্য অনুযায়ী, থুমাইরি হামলাকারীদের সঙ্গে বায়োমির পরিচয় ঘটাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপারেশন এনকোর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং এফবিআইয়ের হাতে থাকা বিভিন্ন নথি নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে। ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলা করেছে। ২০১৬ সালে জাস্টিস এগেইনস্ট স্পনসরস অব টেররিজম অ্যাক্ট, সংক্ষেপে জাস্টা, আইনে পরিণত হওয়ার পর এই ধরনের মামলা করার আইনি পথ আরও সহজ হয়। ২০২৫ সালে মার্কিন জেলা বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলাটি এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। আদালত সৌদি সরকারের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে পরিবারের উপস্থাপিত প্রমাণকে মামলা চালানোর পর্যায়ে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করেন। সৌদি আরব ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ম্যানহাটনে হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবারগুলোর আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলা এগিয়ে গেলে আরও নথি, যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য আদালতের সামনে আসতে পারে। তবে মামলাটি কোনো পর্যায়ে ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে না আসার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা। ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও এর প্রভাব শুধু হামলার দিন নিহত ব্যক্তিদের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা উদ্ধারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি মানুষের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি কর্মসূচির আওতায় প্রত্যয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১-পরবর্তী বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে ভুক্তভোগীদের মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, ২৫ বছর পরও তাঁদের লড়াই শুধু অতীতের ঘটনা জানার জন্য নয়, বরং মার্কিন সরকারের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য। তাঁদের দাবি, ৯/১১ হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, সেগুলোর উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন। সূত্র: নিউজউইক
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত কিং ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স পবিত্র কোরআন মুদ্রণের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একটি অনন্য নাম। বর্তমানে এই কমপ্লেক্সটিতে আধুনিক ওয়েব এবং ডিজিটাল প্রিন্টিং সিস্টেমসহ ২৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক প্রিন্টিং ও প্রোডাকশন মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্টারে প্রতি ঘণ্টায় ৫,৫০০-এরও বেশি কোরআনের কপি ছাপানো সম্ভব হচ্ছে। বিশাল এই মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় কমপ্লেক্সটি মূলত তিনটি বৃহৎ 'কম্প্যাক্টা' (Kompacta) এবং 'রোটোম্যান' (Rotoman) প্রিন্টিং মেশিন পরিচালনা করে। প্রতিটি মেশিনের ইতোমধ্যে ৩১,৮৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলার রেকর্ড রয়েছে এবং এগুলো থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ কোটির বেশি মুদ্রিত শিট উৎপাদিত হয়েছে। কোরআন ছাপানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত ও সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। শুধুমাত্র ছাপানোই নয়, বরং বাঁধাই (binding), ফিনিশিং, সূক্ষ্ম পর্যালোচনা এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় পবিত্র কোরআন উৎপাদনের সর্বোচ্চ মানদণ্ড।
সৌদি আরবে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাদের মৃত্যু হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। নিহত অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যুতে সৌদি আরবে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকা কানাইঘাটেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহত অপর দুজনের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে বাড়ছে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ। সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানে বাড়ানো হয়েছে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জ্বালানির দাম। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট। ইয়েমেনের হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদির কিছু জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবিগুলোই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্যসূত্র। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যের জন্য বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও পরিবহনপথ জোরদার করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পাইপলাইন তৈরি করলেও হরমুজ প্রণালির পুরো বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়। কারণ বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেপলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানির দাম দ্বিগুণ করেছে ইরান। নতুন নিয়মে মাসে ১১০ লিটারের বেশি পেট্রল ব্যবহার করলে প্রতি লিটারে ১ লাখ রিয়াল দিতে হবে। আগের দাম ছিল ৫০ হাজার রিয়াল। ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানিয়েছেন, নতুন দাম প্রায় ১৫ শতাংশ গ্রাহকের ওপর প্রভাব ফেলবে। আগস্টে দেশটিতে দৈনিক পেট্রোল ব্যবহার রেকর্ড ১৪ কোটি ৫০ লাখ লিটারে পৌঁছেছিল, যেখানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১২ কোটি ২০ লাখ লিটার। ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। ইরানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতিও প্রায় ৬৭ শতাংশে রয়েছে। ফলে নতুন করে পেট্রোলের দাম বাড়ায় খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির বাসিন্দারা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তিন দিনের ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। কাফর রুম্মানে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও চার নারী ছিলেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক টিকে থাকাকে দেশের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট। সোমবার রোশ হাইনের এক সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর প্রায় তিন বছর ধরে নেতানিয়াহু জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। আইজেনকোটের নতুন দল ইয়াশার সাম্প্রতিক জনমত জরিপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর জরিপে দলটি ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পেতে পারে ২০টি। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি নেই। সৌদি আরবে হুথি হামলা, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়ছে। একই সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনায় আসেন সাইমন কলিস। ২০১১ সালে স্ত্রী হুদা মুজারকেশকে বিয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের মক্কায় হজ পালন করে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। কলিস নিজেই জানিয়েছিলেন, মুসলিম সমাজে প্রায় ৩০ বছর বসবাস ও কাজের অভিজ্ঞতার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। কলিস ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে হজ পালনের সময় তাকে সাদা ইহরাম পরা অবস্থায় মক্কায় দেখা যায়। স্ত্রী হুদা মুজারকেশের সঙ্গে তাঁর হজ পালনের ছবিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর আগে থেকেই কিছু কূটনীতিক ও সাংবাদিকের মধ্যে জানা থাকলেও ২০১৬ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সৌদি লেখক ও শিক্ষাবিদ ফাওজিয়া আল-বাকর হজের সময় কলিস ও তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তিনিই ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে হজ পালন করছেন। এরপর কলিস নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে কলিস মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ সরকারের জীবনী অনুযায়ী, তিনি বাহরাইন, তিউনিস, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, সিরিয়া, কাতার ও সৌদি আরবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি আরবি ভাষাও শিখেছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে যোগ দেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কাতারে, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হয়। ২০১৬ সালের হজের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, কারণ তখন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের হজ পালনের ঘটনা হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। তবে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে প্রথম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রতিবেদনে ‘সম্ভবত প্রথম’ বলেও সতর্কতা রাখা হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সোমবার রাতে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজ দুটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ট্যাংকারে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, একই এলাকায় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী। তিনি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সৌদি প্রবাসী হওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান। তিনি লেখেন, “আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।” একই সঙ্গে পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সাদ্দাম আরও বলেন, বিএনপির প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং দলের নেত্রী ও নেতাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। রাজনীতি ছাড়লেও মানুষের সেবা থেকে সরে যাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও মানবসেবা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাকার চেষ্টা করবেন। সাদ্দামের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হঠাৎ করে তার রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
১৯৯৭ সালে ওমরা করতে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড সিস্টেমে একটি সমস্যা চোখে পড়ে তুরস্কের অডিও ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ টেকিন টুপুজদাগের। ইমামের কণ্ঠ স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না, ছিল অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়া। সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগই পরে তাকে পবিত্র দুই মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের দীর্ঘ ১০ বছরের কাজে যুক্ত করে। মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলে নিজের পদ্ধতি পরীক্ষা করার সুযোগ পান টুপুজদাগ। একটি নির্দিষ্ট অংশে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার পর শব্দের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এরপর পুরো সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের কাজে তাকে যুক্ত করা হয়। পরবর্তী এক দশকে মসজিদে নববীর অডিও ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। মাইক্রোফোন, কেবল, স্পিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাউন্ড সেটিংও আলাদাভাবে সমন্বয় করা হয়। শব্দের প্রতিধ্বনি ও ফিডব্যাক কমানোর পাশাপাশি পুরো মসজিদকে সাতটি অডিও জোনে ভাগ করা হয়। নামাজের বিভিন্ন অবস্থায়ও যেন ইমামের কণ্ঠ মুসল্লিদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়, সে জন্য অতিরিক্ত মাইক্রোফোন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়। মসজিদে নববীর পাশাপাশি মক্কার মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও কাজ করেন টুপুজদাগ। তার কাজের ফলে সাউন্ডের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং বিস্তৃত ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে শব্দ পৌঁছানোর সক্ষমতা উন্নত হয় বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব ছাড়ার আগে টুপুজদাগ স্থানীয় সৌদি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদেরও প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে তারা দেশটির বিভিন্ন মসজিদের অডিও সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত হন। একটি ওমরা সফরে গিয়ে সাউন্ডের একটি সমস্যা চোখে পড়া থেকে শুরু হয়েছিল যে উদ্যোগ, সেটিই শেষ পর্যন্ত মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের অডিও ব্যবস্থা উন্নয়নের এক দশকের দীর্ঘ প্রকল্পে পরিণত হয়।
সৌদি আরবের তায়েফ শহরে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় মো. কামরুল হোসেন নামে ৩৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কামরুল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে ঋণ করে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল। ঘটনার দিন সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করার পর কর্মস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ অস্ত্র নিয়ে কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। আতঙ্কে সেখানকার অন্য কর্মীরাও পালিয়ে যান। পরে হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই তরুণ নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে। কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী হালিমা বেগম, দুই ছেলে এবং বাবা-মা গভীর শোকে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা কামরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনও মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।
সৌদি আরবের তায়েফ শহরে কামরুল জামান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এক সৌদি তরুণের বন্দুক হামলায় প্রাণ হারান তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর ওই হামলাকারী নিজেও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত কামরুল জামানের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে স্থানীয় একটি সুপার মার্কেটে নিজের রাতের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন কামরুল। পথিমধ্যে হঠাৎ অস্ত্র হাতে ওই সৌদি তরুণ তার দিকে তেড়ে আসে। আকস্মিক এই হামলায় প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে পুনরায় তার কর্মস্থল সেই সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে কর্মরত অন্য দুই কর্মী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি কামরুলের। হামলাকারী পিছু নিয়ে তাকে তাড়া করে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর খুব কাছ থেকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালিয়ে কামরুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। নিরীহ এই প্রবাসীকে হত্যার পরপরই ঘাতক ওই তরুণ নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে সেখানেই আত্মহনন করে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পূর্বশত্রুতার জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং হামলাকারীর আত্মহত্যার পেছনের রহস্য কী, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।