জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর রুবেল
দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃ ত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। রুবেলের মৃ ত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর নোয়াখালীতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে প্রবাসে কাজ করছিলেন রুবেল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে তিনি তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন। প্রবাসে কাজ করে দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন রুবেল। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রুবেলের দেশে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা রয়েছেন। তাঁর আকস্মিক মৃ ত্যুতে পরিবারের সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কীভাবে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনেরা।
প্রবাসে পরিবারের জন্য উপার্জন করতে গিয়ে রুবেলের এমন পরিণতিতে তাঁর নিজ গ্রামেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজন ও পরিচিতজনেরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কীভাবে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে পারবেন তাঁরা।
রুবেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার। স্বজনদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। বিদেশের মাটিতে মৃ ত্যুর কারণে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে বলে পরিবারটি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। রুবেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রুবেলের পরিবার এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রবাসে কর্মরত এই বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে স্বজনেরা তাঁর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারটির মধ্যে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. ফারাহ দিভা খান। বর্তমানে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের সঙ্গে অনারারি ক্লিনিক্যাল ফেলো হিসেবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সার্জারি ও হৃদ্রোগবিষয়ক গবেষণায় কাজ করছেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চিকিৎসা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, সেই জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসাশিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারাহ দিভা খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্জিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল এই শাখায় পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষার সময় একাধিক বৃত্তি ও সম্মাননা অর্জন করেন ফারাহ। এর মধ্যে রয়েছে টিউরিং স্কলারশিপ, ইউরোফিনস সায়েন্টিফিক অ্যাওয়ার্ড এবং মিরান্ডা ব্রাউন ডাইভারসিটি লিডারশিপ স্কলারশিপ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব সার্জিক্যাল সায়েন্সেসও তাঁর মিরান্ডা ব্রাউন স্কলারশিপ অর্জনের বিষয়টি প্রকাশ করে। এসব অর্জন তাঁকে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর বিশেষ আগ্রহ হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার ও কার্ডিওথোরাসিক সার্জারিতে। উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে মিসরের আসওয়ান হার্ট সেন্টারেও প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের হৃদ্রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য পরিচিত। সেখানে কাজের অভিজ্ঞতা উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতির পাশাপাশি সীমিত সম্পদের মধ্যে রোগীদের সেবা দেওয়ার গুরুত্ব বুঝতে তাঁকে সহায়তা করেছে বলে আগের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ফারাহ। শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, গবেষণাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করছেন এই বাংলাদেশি চিকিৎসক। ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর চিলড্রেনস সার্জারির আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কর্মসূচিতে তাঁর একটি গবেষণা উপস্থাপনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। গবেষণাটিতে শিশুদের হৃদ্যন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজন এবং মৃত্যুঝুঁকি পূর্বাভাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়। চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়ন ও ঝুঁকি নির্ধারণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের এই ক্ষেত্রটি তাঁর গবেষণার আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ ছিল না তাঁর জন্য। বাংলাদেশের মতো একটি দেশ থেকে এসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে তাঁকে। বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের মতো কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পেশায় একজন নারী এবং বিদেশে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জনকারী চিকিৎসক হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব বাধা মোকাবিলায় নিয়মিত পরিশ্রম, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা তরুণ চিকিৎসকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চান ফারাহ। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন তিনি। ২০২৬ সালের মে মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি একাডেমিক আয়োজনেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেখানে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সামনে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণার সুযোগ এবং চিকিৎসার পাশাপাশি একাডেমিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। ফারাহ দিভা খানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন। তিনি চান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত উন্নত প্রশিক্ষণ, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় কাজে লাগাতে। একই সঙ্গে তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলা এবং তাঁদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে চান তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে অক্সফোর্ড হয়ে লন্ডনের চিকিৎসা ও গবেষণার অঙ্গনে তাঁর এই যাত্রা এখন সেই বৃহত্তর লক্ষ্যেরই অংশ। সূত্র: Spike Story
জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর রুবেল
মাইকিং করে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিককে ফিরিয়ে দিলেন দুই বন্ধু
৩ বছরের ব্যবধানে পুকুরের ডুবে একে একে ৩ সন্তানের মৃ'ত্যু দিশেহারা বাবা-মা
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিজের কার্যালয় থেকে সরিয়ে আলোচনায় আসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলাম। এতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাপক শামীমা সুলতানাকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটবে, তিনি এ পদে বহাল থাকবেন। অধ্যাপক শামীমা সুলতানা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আলোচনায় আসেন। ওই বছরের ১ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের চার দিন আগে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতির কার্যালয় থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরিয়ে ফেলেন তিনি। সে সময় তিনি বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তাঁর কার্যালয়ে বসা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পেছনের দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকলেও শেখ হাসিনার ছবি দেখা যায়নি। জুলাই আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও আটকের ঘটনায় তৎকালীন সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থনও সে সময় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অধ্যাপক শামীমা সুলতানা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহসভাপতি ছিলেন, তবে সংগঠনটির বর্তমান কমিটিতে তাঁর কোনো পদ নেই বলে জানা গেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক শামীমা সুলতানা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পিএসসির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন দেশের সরকারি চাকরিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পরিচালনা এবং সরকারি পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী সুপারিশ করা কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয়ে কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। নতুন সদস্য হিসেবে অধ্যাপক শামীমা সুলতানা এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। সূত্র: ইত্তেফাক
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন! গোপনে গার্ড অফ অনার
পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর, ছয় প্রশ্নের জবাব চেয়ে চিঠি ঢাকার
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ছবি ও পোস্ট প্রকাশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে ফজলে আলী হাজারী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ মাহফুজ (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়। নিহত ফজলে আলী হাজারী বটতলী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত মাহফুজ একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ দেলোয়ার মাহমুদ ও জেরিন আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয়েছিল। পরে তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হওয়ার পর দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ছবি বা পোস্ট প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে কথা বলতে জেরিনের খালাতো ভাই মাহফুজ বটতলী বাজার এলাকায় যান। সেখানে ফজলে আলী হাজারীর সঙ্গে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কথা হয়। ফজলে আলী জানান, দেলোয়ার তখন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এ সময় ফজলে আলী হাজারীর ওপর হামলা চালানো হয় এবং মাহফুজ তাঁকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের শ্যালক মো. আইয়ুব আলী সংবাদমাধ্যমকে অভিযোগ করেন, ফেসবুকে ছবি প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের ইন্ধনে তাঁর দুলাভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট এক জনপ্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মাহফুজ বৃদ্ধকে ঘুষি মারেন। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত মাহফুজের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের স্বজনেরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহাসড়কে বাস-ট্রাকের ভ য়াবহ সংঘর্ষ, মুহূর্তেই নিভে গেল দুটি প্রাণ, পরিবারে কান্নার রোল
মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় রুমির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান