শ্যালিকাকে বিয়ে করে বিতর্কে মাসুদ রানা, এবার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দিল গ্রামবাসী
নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই নিজের শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানাকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নানা বাধার মুখে পড়ছিলেন মাসুদ রানা। প্রথমে বদলগাছী উপজেলায় ভাড়া বাসায় থাকতে সমস্যায় পড়েন তিনি। পরে সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমাকে (২১) সঙ্গে নিয়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর দুই স্ত্রীর বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে তিনি বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মো. মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের শ্যালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ। তাঁর দাবি, পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমতি নিয়েই এ বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের বিয়ের খবর প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের বিয়ে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বদলগাছীতে ভাড়া বাসায় থাকার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন মাসুদ। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ও পূর্ণিমা বাসার মালামাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে তাঁরা মহাদেবপুরের মাতাজি বিরামগ্রামে পূর্ণিমার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদের মুখে চুন-কালি মাখিয়ে তাঁকে এলাকা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তাঁদের পরিচয় কী এবং এরপর মাসুদ রানা কোথায় গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে তাঁরা মাসুদকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
শ্যালিকাকে বিয়ে করার কারণ ব্যাখ্যা করে মাসুদ রানা জানান, পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাঁদের আগে ধারণ করা টিকটক ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে তিনি হয়রানির আশঙ্কা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সেই আশঙ্কা থেকেই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন।
এদিকে দুই বোনকে একই সময়ে বিয়ে করার বিষয়ে ইসলামী বিধানের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। স্থানীয় মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিয়ে করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর বোনকে বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী তাঁর বোনকে বিয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা এ ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছেন। তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View more২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিবেশী ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলারে। একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। সে হিসাবে দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াতে পারে ১৩৭ ডলার। আইএমএফের ২০২৬ সালের অক্টোবরের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই পূর্বাভাস। এতে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অগ্রগতির চিত্র পাওয়া গেলেও দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে এই পূর্বাভাসকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি সূচক হিসেবে দেখা গেলেও, একে দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি বা মানুষের জীবনযাত্রার মানের সরাসরি তুলনা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মাথাপিছু জিডিপি হিসাব করা হয় একটি দেশের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার আর্থিক মূল্যকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। এই হিসাব থেকে একজন মানুষের জন্য গড়ে কতটুকু অর্থনৈতিক উৎপাদন হয়, তার একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে এটি কোনো নাগরিকের প্রকৃত আয় বা হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ নির্দেশ করে না। একইভাবে, দেশের সম্পদ ও আয় মানুষের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে, সেটিও এই সূচক থেকে সরাসরি বোঝা যায় না। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কয়েকটি খাত দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং শ্রমবাজারে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই শিল্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও বহু পরিবারের আর্থিক সক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে মাথাপিছু জিডিপির এই পূর্বাভাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চাপগুলোর দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হলে কর্মসংস্থান, আয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে মাথাপিছু জিডিপির পরিসংখ্যান বাড়লেও তার সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেটি আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি। অন্যদিকে, সামগ্রিক অর্থনীতির আকারের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের মোট জিডিপি হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, ভারতের অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের প্রায় আট গুণ। দুই দেশের জীবনযাত্রার মান তুলনা করার ক্ষেত্রেও শুধু মাথাপিছু জিডিপির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। পণ্য ও সেবার স্থানীয় দাম, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, আয়বৈষম্য, কর্মসংস্থান এবং সরকারি সেবার সুযোগের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ডলারে হিসাব করা মাথাপিছু জিডিপি বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণেও ওঠানামা করতে পারে। তাই এই সূচকে কোনো দেশ এগিয়ে থাকলেই সেখানকার সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা অন্য দেশের তুলনায় ভালো—এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না। বাংলাদেশ এর আগেও মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতকে ছাড়িয়েছিল। বিভিন্ন বছরের হিসাব ও পূর্বাভাসে দুই দেশের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। আইএমএফের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আবারও এই সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পূর্বাভাস, চূড়ান্ত ফল নয়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিময় হার এবং পরবর্তী পরিসংখ্যান সংশোধনের সঙ্গে হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে, মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য একটি পূর্বাভাস। তবে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি মূল্যায়নে শুধু এই একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং মানুষের প্রকৃত আয়, ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সুফলের সুষম বণ্টনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
শ্যালিকাকে বিয়ে করে বিতর্কে মাসুদ রানা, এবার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দিল গ্রামবাসী
তাশরীফের বাবার ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ের দাবি, ভিডিওতে যা বললেন মা পরিচয় দেওয়া নারী
৩৯৬টি কবর খুঁড়ে বিদায় নিলেন হাফেজ শিকদার, অপূর্ণ রয়ে গেল ৪০০ পূরণের স্বপ্ন
বাংলাদেশে অনেকেই চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং কিংবা বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রয়োজন হওয়ায় ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আয় বন্ধ হয়ে গেলে, ব্যবসা গুটিয়ে ফেললে অথবা টিনের প্রয়োজন না থাকলে সেটি বাতিল করতে চান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে টিন নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। তবে শুধু আয় না থাকলেই টিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারায় করদাতার নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পরপর তিন বছর করযোগ্য আয় শূন্য থাকলে এবং ভবিষ্যতেও করযোগ্য আয় হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তিনি নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকা, ভুলবশত একাধিক টিন নেওয়া কিংবা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার মতো কারণেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কারা টিন বাতিল করতে পারবেন এনবিআরের বিধান অনুযায়ী, যাঁরা আইনগতভাবে আর করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত থাকার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেন না, তাঁরা নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করতে পারেন। একইভাবে ভুল তথ্য দিয়ে টিন নিবন্ধন, একাধিক টিন থাকা, ব্যবসা বন্ধ হওয়া, করদাতার মৃত্যু অথবা প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তির ক্ষেত্রেও বাতিলের আবেদন করা যায়। তবে প্রতিটি আবেদনের কারণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে কর কর্তৃপক্ষ। ঘরে বসে কীভাবে আবেদন করবেন প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরকারি অনলাইন সেবায় নিজের টিন নিবন্ধনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এরপর বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে একটি আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি ও পূর্ববর্তী আয়কর রিটার্নের তথ্যও সংগ্রহ করে রাখা উচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনলাইনে টিন বাতিলের আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও এনবিআরের প্রকাশিত সরকারি নির্দেশনায় সবার জন্য সরাসরি অনলাইন বাতিলের নির্দিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই কেবল ই-টিন অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই টিন বাতিল হয়ে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনলাইন সুবিধা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের উপকর কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করতে হবে। টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে চান? জেনে নিন আবেদন ও প্রয়োজনীয় নিয়ম বাংলাদেশে অনেকেই চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং কিংবা বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রয়োজন হওয়ায় ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আয় বন্ধ হয়ে গেলে, ব্যবসা গুটিয়ে ফেললে অথবা টিনের প্রয়োজন না থাকলে সেটি বাতিল করতে চান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে টিন নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। তবে শুধু আয় না থাকলেই টিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারায় করদাতার নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পরপর তিন বছর করযোগ্য আয় শূন্য থাকলে এবং ভবিষ্যতেও করযোগ্য আয় হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তিনি নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত সাপেক্ষে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকা, ভুলবশত একাধিক টিন নেওয়া কিংবা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার মতো কারণেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কারা টিন বাতিল করতে পারবেন এনবিআরের বিধান অনুযায়ী, যাঁদের আইনগতভাবে আর করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত থাকার প্রয়োজন নেই, তাঁরা নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করতে পারেন। একইভাবে ভুল তথ্য দিয়ে টিন নিবন্ধন, একাধিক টিন থাকা, ব্যবসা বন্ধ হওয়া, করদাতার মৃত্যু অথবা প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তির ক্ষেত্রেও বাতিলের আবেদন করা যায়। তবে ব্যবসা বন্ধ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিন বাতিলের যোগ্যতা তৈরি হয় না। প্রতিটি আবেদনের কারণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে কর কর্তৃপক্ষ। ঘরে বসে কীভাবে আবেদন প্রস্তুত করবেন প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরকারি অনলাইন সেবায় নিজের টিন নিবন্ধনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এরপর বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে একটি আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি ও পূর্ববর্তী আয়কর রিটার্নের তথ্যও সংগ্রহ করে রাখা উচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনলাইনে টিন বাতিলের আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও এনবিআরের প্রকাশিত সরকারি নির্দেশনায় সবার জন্য সরাসরি অনলাইন বাতিলের নির্দিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই কেবল ই-টিন অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই টিন বাতিল হয়ে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনলাইন সুবিধা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের উপকর কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করতে হবে। সরাসরি আবেদন করবেন যেভাবে টিন সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা কর সার্কেলের উপকর কমিশনার বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে নিজের নাম, টিন নম্বর, ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য এবং বাতিলের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সেই সঙ্গে কারণের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আবেদন জমা দিয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী টিন সার্টিফিকেটের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, পূর্ববর্তী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ এবং আয় বন্ধ হওয়ার কারণসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র দিতে হতে পারে। করদাতা মারা গেলে তাঁর মৃত্যুসনদ ও উত্তরাধিকারীর পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তিন বছর জিরো রিটার্ন দিলেই কি টিন বাতিল হবে শুধু পরপর তিন বছর জিরো রিটার্ন জমা দিলেই টিন বাতিল হয়ে যাবে না। আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, করযোগ্য আয় শূন্য থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও করযোগ্য আয় না হওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতাসহ অন্যান্য আইনি শর্তও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কারও আয় করমুক্ত সীমার নিচে নেমে গেলে এবং নিকট ভবিষ্যতে করযোগ্য আয় হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে কারণ ব্যাখ্যা করে আবেদন করতে পারেন। উপকর কমিশনার প্রয়োজন অনুযায়ী নথিপত্র যাচাই বা শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোন পরিস্থিতিতে আবেদন আটকে যেতে পারে আয়কর আইনের ২৬২ ধারা অনুযায়ী, নিবন্ধন বাতিলের আগে কর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হবে যে আবেদনকারীর কোনো বকেয়া কর নেই। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কর নির্ধারণের কার্যক্রম বা আয়করসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও বাতিলের অনুমোদন পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি আবেদনে উল্লেখ করা কারণের সত্যতাও যাচাই করা হবে। টিন বাতিল হলে আগের তথ্য কি মুছে যাবে আইন অনুযায়ী, টিন বাতিল বলতে নম্বরটি নিষ্ক্রিয় করা এবং সাধারণ ব্যবহারের অনুপযোগী করে দেওয়াকে বোঝায়। এর অর্থ এই নয় যে করদাতার আগের সব তথ্য সরকারি ডাটাবেস থেকে মুছে যাবে। এনবিআর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, টিন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভবিষ্যতে চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং বা অন্য কোনো আর্থিক কাজে নম্বরটি প্রয়োজন হবে কি না, তা বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী রিটার্ন ও করসংক্রান্ত দায় নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ আবেদন করলেই নিবন্ধন বাতিল হয় না। সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই টিন বাতিল কার্যকর হবে।
এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর হলেন নবম শ্রেণির লাবনী
আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে ফেরার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা
যাতায়াতের রাস্তা নেই, চার প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের জীবন কাটছে চরম দুর্ভোগে
জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে মন্তব্য করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর ছোট বোন হেনা পশারী। তিনি বলেছেন, তাঁর বড় ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই বোনের এই বক্তব্য সামনে এসেছে। সাঈদী সম্পর্কে নিজের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে হেনা পশারী বলেন, ‘সাঈদী সাহেব একজন আল্লাহর ওলি ছিলেন। আমার বড় ভাই কেন এই কাজগুলো করেছেন, তা তিনি নিজেই জানেন।’ ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার কারণ সম্পর্কে পরিবারের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানান তিনি।হেনার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে তাঁদের কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি কেন তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী হয়েছিলেন, সেটিও কখনো জানতে চাননি তাঁরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ৮৭ বছর বয়সে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মারা যান মানিক পশারী। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নিজ এলাকায় বসবাস করছিলেন না। মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসেন। তবে সেখানে তাঁর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য ও দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে পুলিশ মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়। ভাইয়ের দাফনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হেনা পশারী জানান, পরিবারের সদস্যরা কবর খোঁড়ার পর সন্ধ্যায় সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, পরে দুই বোন মিলে গভীর রাতে আবার কবর খুঁড়তে হয়। রাত দুইটার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে আনা হলে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের সময় এলাকার সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান ও দাফন নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দলের কোনো নেতাকর্মী দাফনে বাধা দেননি, বরং পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং দাফনের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মানিক পশারী ছিলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ২০০৯ সালে সাঈদীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পিরোজপুরে মামলা করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিচার হয়। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে আপিলের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সেই সাজা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাঈদী। সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে মানিক পশারীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত সামনে এসেছে। কেউ সাঈদীর পক্ষে মতামত দিয়েছেন, আবার কেউ মানিক পশারীর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব ব্যক্তিগত বক্তব্য বা অভিযোগ আদালতের রায় পরিবর্তন করে না। মানিকের বোন হেনা পশারীও স্পষ্ট করেছেন, তাঁর ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর নিজের কোনো প্রত্যক্ষ তথ্য নেই। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর এই বক্তব্য এবং দাফন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: যুগান্তর
ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে অক্সফোর্ড! লন্ডনে চিকিৎসা ও গবেষণায় ডা. ফারাহ দিভা খান
জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর রুবেল