কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর নীতির মধ্যেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডা। বিশ্বের মেধাবী গবেষক ও উচ্চশিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত স্টাডি পারমিট প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।
কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কানাডায় আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার পাবলিক ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনে মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার, অর্থাৎ PAL বা TAL জমা দিতে হচ্ছে না। তবে কুইবেকে পড়তে চাইলে প্রদেশটির নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।
ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও দ্রুত প্রসেসিংয়ের সুবিধা। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যোগ্য PhD শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার যাচাই করার পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রসেস করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সঙ্গে যাওয়া স্বামী বা কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আবেদনও এই দ্রুত প্রসেসিংয়ের আওতায় আসতে পারে।
তবে এই দুই সপ্তাহের প্রসেসিং সুবিধা সব গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য নয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাস্টার্স, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট দ্রুত প্রসেসিং সুবিধা পাবেন না। অসম্পূর্ণ আবেদন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা মেডিকেল যাচাই প্রয়োজন হলে প্রসেসিং সময়ও বেড়ে যেতে পারে।
কানাডা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থার সামগ্রিক আকার কমাচ্ছে। ২০২৬ সালে দেশটি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে নতুন শিক্ষার্থী ও কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের পারমিট এক্সটেনশন উভয়ই রয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় আসার সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৪০৫, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এই নীতির মধ্যেই কানাডা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য PAL বা TAL ছাড়া স্টাডি পারমিট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪৯ হাজার স্টাডি পারমিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কানাডায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় বা সবার জন্য নিশ্চিত নয়; প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম অন্যান্য নন-ডিগ্রি প্রোগ্রামের তুলনায় ভিন্ন।
কানাডা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কানাডায় মাস্টার্স বা PhD করার পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreআন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর নীতির মধ্যেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডা। বিশ্বের মেধাবী গবেষক ও উচ্চশিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত স্টাডি পারমিট প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কানাডায় আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার পাবলিক ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনে মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার, অর্থাৎ PAL বা TAL জমা দিতে হচ্ছে না। তবে কুইবেকে পড়তে চাইলে প্রদেশটির নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও দ্রুত প্রসেসিংয়ের সুবিধা। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যোগ্য PhD শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার যাচাই করার পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রসেস করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সঙ্গে যাওয়া স্বামী বা কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আবেদনও এই দ্রুত প্রসেসিংয়ের আওতায় আসতে পারে। তবে এই দুই সপ্তাহের প্রসেসিং সুবিধা সব গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য নয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাস্টার্স, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট দ্রুত প্রসেসিং সুবিধা পাবেন না। অসম্পূর্ণ আবেদন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা মেডিকেল যাচাই প্রয়োজন হলে প্রসেসিং সময়ও বেড়ে যেতে পারে। কানাডা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থার সামগ্রিক আকার কমাচ্ছে। ২০২৬ সালে দেশটি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে নতুন শিক্ষার্থী ও কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের পারমিট এক্সটেনশন উভয়ই রয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় আসার সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৪০৫, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই নীতির মধ্যেই কানাডা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য PAL বা TAL ছাড়া স্টাডি পারমিট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪৯ হাজার স্টাডি পারমিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কানাডায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় বা সবার জন্য নিশ্চিত নয়; প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম অন্যান্য নন-ডিগ্রি প্রোগ্রামের তুলনায় ভিন্ন। কানাডা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কানাডায় মাস্টার্স বা PhD করার পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য, পরে কক্ষে ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ
বন্যা থেকে বাঁচতে ড্রেন কাটতে গিয়ে মাটির নিচে মিলল প্রাচীন বাণিজ্যিক নৌকা!
জালিয়াতির বিরুদ্ধে ট্রাকিং খাতে বড় অভিযান, সতর্ক করল এইচএসআই
কানাডাকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি প্রগতিশীল মডেল হিসেবে তুলে ধরা হলেও, নতুন একটি ডকুমেন্টারি সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ নামের এই ডকুমেন্টারির নির্মাতারা পুরো কানাডা ঘুরে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি কানাডীয় এবং ৭০ জনের বেশি নীতি বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, মাদকনীতি, ইমিগ্রেশন, অপরাধ ও সরকারি ব্যয় - এসব বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ডকুমেন্টারিটি। ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তির ঘটনাও। নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরফের ওপর পড়ে তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর সার্জনের দেখা পেতে ১৫ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেন। ডকুমেন্টারির পরিচালক মিরা মেটার জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে অপেক্ষা করার সময় ব্যথা কমাতে একাধিকবার মরফিন দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জনের কাছে পৌঁছানোর সময় কোমরের নিচের অংশে তিনি আর অনুভূতি পাচ্ছিলেন না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থায়ী স্পাইনাল কর্ড ক্ষতি হয়। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক পরে তাঁকে জানিয়েছিলেন, আঘাতের এক ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি করা সম্ভব হলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। তবে এই চিকিৎসা-সংক্রান্ত দাবি ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে থাকেন। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য পেইন ক্লিনিকে চিকিৎসা পেতে তাঁর ১০ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে ব্যথার মাত্রা ১০-এর মধ্যে ১০ বলার পর তাঁকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং বা এমএআইডি-এর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে পরিচালক জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তি তখন প্রশ্ন তোলেন, তিনি মৃত্যুর সমাধান চাননি - তিনি শুধু ব্যথার চিকিৎসা চেয়েছিলেন। ডকুমেন্টারির নির্মাতারা বলছেন, এই ঘটনা কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সংকটের একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তারা আবাসন ব্যয়, ইমিগ্রেশন, মাদকনীতি ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব বক্তব্য মূলত ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের বিশ্লেষণ ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে - এগুলোকে কানাডার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। পরিচালক মিরা মেটার বলেন, দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে কথা বলেও তারা একই ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন - বাড়ি কেনার সামর্থ্য, মাসের খরচ চালানো, প্রয়োজনের সময় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং ফ্যামিলি ডক্টর পাওয়া যাচ্ছে কি না। ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ ডকুমেন্টারিটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ সেপ্টেম্বর সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়ার কথা। পরে ২৬ অক্টোবর অ্যামাজন প্রাইমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার
উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট, বলা হয়েছিল ডাক্তার হওয়া সম্ভব নয় - আজ তিনিই রোগী দেখছেন
২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় জীবন বাঁচাতে মাত্র ১৬ মিনিটে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে একটি ডোনার হার্ট। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানবন্দর থেকে ফোর্টিস হাসপাতাল নয়ডায় হৃদ্যন্ত্রটি পৌঁছে দিতে গ্রিন করিডোর তৈরি করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে ৫০ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে সফলভাবে হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়। হৃদ্যন্ত্রটি চণ্ডীগড় থেকে বিমানযোগে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নয়ডার সেক্টর ৬২-এর ফোর্টিস হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। হৃদ্যন্ত্র বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করা হয়। জীবন রক্ষার এই অভিযানে গাজিয়াবাদ ও গৌতমবুদ্ধনগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সমন্বয় করে পুরো রুটে গ্রিন করিডোর তৈরি করে। ফলে যানজট এড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ মাত্র ১৬ মিনিটে অতিক্রম করে হাসপাতালে পৌঁছায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অভিযানে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছিল। গাজিয়াবাদ কন্ট্রোল রুম থেকেও অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয় করা হয়। পুলিশের একটি এসকর্ট গাড়িও অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ছিল। হাসপাতালে ডোনার হার্ট পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করেন। ৯ সেপ্টেম্বর সফলভাবে রোগীর শরীরে হৃদ্যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন করা হয়। হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাতার শরীর থেকে বের করার পর হৃদ্যন্ত্র দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা যায় না। অঙ্গটি যত বেশি সময় শরীরের বাইরে থাকে, রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত ক্ষতির ঝুঁকি তত বাড়ে। এ কারণে অঙ্গ সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রতিস্থাপনের প্রতিটি ধাপে দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন। চণ্ডীগড় থেকে হিন্ডন বিমানবন্দর পর্যন্ত আকাশপথে এবং এরপর গ্রিন করিডোরে সড়কপথে দ্রুত হৃদ্যন্ত্রটি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, হাসপাতাল প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বয় ছিল। এই সমন্বিত উদ্যোগেই সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে একজন রোগীর জন্য নতুন জীবনের সুযোগ তৈরি হয়।
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক