লন্ডনে নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা, বাংলাদেশি যুবকের ৬ বছরের কারাদণ্ড
লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় সৈয়দ ইমাম নামে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৪ মার্চ ভোরে ক্যানারি ওয়ার্ফ ট্রেন স্টেশনের কাছে একটি আন্ডারপাসে ওই নারীকে যৌন হামলার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা হস্তক্ষেপ করে তাকে আটক করেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম পূর্ব লন্ডনের বেডিংটনের ক্রয়ডন রোডের বাসিন্দা। ঘটনার আগে ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীরা তার আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে করেন। পরে তারা তাকে ওই নারীর ওপর হামলা চালাতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা থামান এবং তাকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে আটক করেন।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমামকে গ্রেপ্তার করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
পুলিশের প্রকাশ করা বডি-ক্যামেরার ফুটেজেও গ্রেপ্তারের সময় ইমামের কথোপকথন উঠে আসে। পুলিশ তাকে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অপরাধ করতে দেখেছেন। তবে ইমাম দাবি করেন, তাকে কেউ দেখেনি এবং তার গ্রেপ্তারের কারণকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেন।
মামলায় ভুক্তভোগী নারীর স্মৃতির সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর ওই নারী কী ঘটেছিল তার কোনো স্মৃতি মনে করতে পারছিলেন না। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং তদন্তে সংগৃহীত অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি এগিয়ে নেওয়া হয়।
২ জুলাই স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে চার দিনব্যাপী বিচার শেষে ইমাম ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তদন্তে যুক্ত গোয়েন্দা কনস্টেবল ম্যাডেলিন পাওয়েল বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। সন্দেহজনক বা উদ্বেগজনক কোনো আচরণ চোখে পড়লে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার পুরো প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী নারীকে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা সহায়তা করেছেন। তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি ঘটনার কারণে সৃষ্ট মানসিক আঘাত মোকাবিলাতেও তাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সূত্র: tv3bangla
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অপরাধ
View moreবয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নেওয়ার পর তাঁর ১৪ শতক ফসলি জমি তিন ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতারণা হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ অক্টোবর উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী আজিজুল হকের পরিবারের অভিযোগ, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কয়েকটি কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়। পরে তাঁর হাতে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে থাকা ১৪ শতক জমি অন্যদের নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে। দলিলের নকল ও সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাঘলপুর মৌজার আরএস ২২১ নম্বর দাগে থাকা ১৪ শতক ফসলি জমি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর নিবন্ধন করা হয়। দলিলগ্রহীতা হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং তাঁর দুই ভাই শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেনের। দলিল সম্পাদনের সময় আজিজুল হক অসুস্থ থাকায় উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আজিজুল হকের ছেলে ফারুক সরকারের অভিযোগ, তাঁর বাবা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চোখেও দেখতে পান না। আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফারুকের দাবি, বাবার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দলিল বাতিল এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর বক্তব্য, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি নেওয়া হয়নি; বরং আজিজুল হকের হাতে নগদ ৭ লাখ টাকা দিয়ে তাঁরা তিন ভাই জমিটি কিনেছেন। তাঁর দাবি, জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ পদ্ধতি বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি এবং সরকারি বিধিবিধান মেনেই দলিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে জমির মূল্য পরিশোধ, বৃদ্ধের সম্মতি এবং দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দলিল লেখক আব্দুল মতিন জানান, আবুল কালাম আজাদ জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে দলিল প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলে তিনি জানান। উল্লাপাড়ার সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ জানান, আজিজুল হকের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদনের আবেদন করা হয়েছিল। আবেদন মঞ্জুরের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দেওয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, জমি হস্তান্তরের সময় আজিজুল হক প্রকৃতপক্ষে কী বুঝেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় জমি বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছিলেন কি না এবং দাবিকৃত অর্থ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল কি না। এসব বিষয়ে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট নথি, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ এবং দলিল সম্পাদনের পরিস্থিতি যাচাই করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে স্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
লং বিচে আইসিইর হাতে আটকের সময় মার্কিন নাগরিক আহতের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি
নিউইয়র্কের একাধিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এফবিআইয়ের তল্লাশি, তদন্তের কেন্দ্রে মেডিকেইড জালিয়াতি
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহরের কেন্দ্রস্থলে গুলিতে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার, ১৮ অক্টোবর ভোরে কমার্স স্ট্রিট এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের একজনকে টাকোমা শহর থেকে এবং অন্য দুজনকে ইয়েলম শহর থেকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর ২টা ২৩ মিনিটে কমার্স স্ট্রিটের ১১০০ নম্বর ব্লক এলাকায় গুলির শব্দ শোনার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক কিশোরকে দেখতে পান। তাঁর আঘাত ছিল প্রাণঘাতী। পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। তদন্তের জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও অপরাধস্থল বিশ্লেষণকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করেন। নিহত কিশোরের নাম, বয়স এবং পরিবারের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়েও পুলিশ নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের মধ্যে দুজনকে ইয়েলম শহর থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের একজন পুরুষ ও একজন নারী। অপর ব্যক্তিকে টাকোমা শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তবে আদালতে হাজিরা সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কী কারণে কিশোরটির ওপর গুলি চালানো হয়েছিল এবং নিহতের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আগে থেকে কোনো পরিচয় বা বিরোধ ছিল কি না। তবে এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলটি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকোমা শাখার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জনবহুল শহরকেন্দ্রের এ ঘটনায় আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশের তদন্তে সহায়তার জন্য ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ গুলির ঘটনা দেখে থাকলে, সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে থাকলে অথবা নিজের মুঠোফোনে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো দৃশ্য ধারণ করে থাকলে সেই তথ্য তদন্তকারীদের কাজে আসতে পারে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। এ হত্যাকাণ্ডে তিনজন গ্রেপ্তার হলেও কিশোরটির মৃত্যুর পেছনের কারণ, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশি তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব
টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ভরসায় ঘুম, পুলিশের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘুম ভাঙল চালকের!
মাদক দেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ, নিউইয়র্কে কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সাবেক সঙ্গীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন জেনিন কাজমি। তাঁর জীবনের এই মর্মান্তিক ঘটনা পারিবারিক সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ভোরে গ্লাসগোর ডালমারনক এলাকায় সাবেক সঙ্গী ব্যারি শ্যাঙ্কলির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সম্পর্কের অবনতি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে জেনিনের সঙ্গে শ্যাঙ্কলির সংঘাত তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্যাঙ্কলি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি সিঁড়ির রেলিং টপকে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসার পর জেনিন জানতে পারেন, এই আঘাতের কারণে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না। তাঁকে হুইলচেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করতে হয়। আকস্মিক এই বিপর্যয় তাঁর দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গভীর পরিবর্তন নিয়ে আসে। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের লিসবনে ভ্রমণের সময়ও তাঁদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আদালতের নথিতে জেনিনকে ধাক্কা দেওয়া, তাঁর ফোন ভেঙে ফেলা এবং তাঁকে আঘাত করার মতো অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। পরবর্তী সময়েও তাঁদের মধ্যে নির্যাতনমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল বলে বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেনিনের সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, শ্যাঙ্কলি তাঁকে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে স্মৃতি ফিরে আসার পর জেনিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ২৮ জুন গ্লাসগোর উচ্চ আদালতের বিচারকমণ্ডলী শ্যাঙ্কলিকে সাবেক সঙ্গীর প্রতি ধারাবাহিক নির্যাতনমূলক আচরণসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই বছরের ২৫ জুলাই বিচারক তাঁকে ১৪ বছরের বর্ধিত সাজা দেন। এর মধ্যে ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং পরবর্তী এক বছরের বর্ধিত মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জেনিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাঁর কাছে যাওয়ার ওপরও অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। জেনিনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভয় দেখানো, সামাজিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ, পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা এবং মানসিক চাপও নির্যাতনের অংশ হতে পারে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্যাতনের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেনিন কাজমির জীবনের এই ঘটনা তাই শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত দুর্ভোগের কাহিনি নয়; এটি সহিংস সম্পর্ক থেকে সুরক্ষা, অপরাধের বিচার এবং নির্যাতিত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।
ম্যানহাটনের পাতালরেল স্টেশনে গুলিতে নিহত একজন, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ
ওয়াশিংটন পোস্টের নারী সাংবাদিককে পিটিয়ে আ হ ত করল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা