করোনাকালীন ত্রাণের অর্থে নিজের বাড়ি! টেক্সাসের নারীর বিরুদ্ধে ১০টি ফেডারেল অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সরকারি ত্রাণ কর্মসূচি থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে। এপ্রিল ওয়াটসন নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে ১০টি ফেডারেল অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ সরকারি ঋণের অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করে তার একটি অংশ দিয়ে নিজের বাড়ি নির্মাণের খরচ মেটানো হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর মহামারিকালীন সরকারি সহায়তা তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াটসন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
ফক্স ৪ ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াটসন করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় একাধিক ঋণের আবেদন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং ব্যবসা সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন ঋণ ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াটসন নিজের পরিচালিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণের আবেদন করেন এবং অর্থ পাওয়ার জন্য জাল নথি ব্যবহার করেন।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঋণের আবেদন সমর্থন করতে ওয়াটসন ভুয়া পেরোল সামারি এবং আইআরএসের নামে তৈরি জাল করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথিতে কর্মীদের বেতন ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পেরোল কোম্পানি ওই নথি তৈরি করেনি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৯ ও ২০২০ সালের বেতন বা আয়ের বিষয়ে আইআরএসে ব্যবসায়িক ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পৃথক অর্থায়নের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৯২ ডলার সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কেবেজ ইনকরপোরেটেডের মাধ্যমে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রামের আওতায় ২ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ ডলার, স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচি থেকে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার এবং জেপিমরগ্যান চেজের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৪ ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক্সোটিক ব্লিস বিউটি এলএলসি, ব্রেইন ইভোলিউশন এলএলসি এবং সাউদার্ন হোম ভেঞ্চারস এলএলসিসহ তার পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব আবেদন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, কথিত জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের এক লাখ ১৪ হাজার ডলারের বেশি সিডার হিল এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ছাড়া একজন সহযোগীর কাছে ৪০ হাজার ডলার পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। সরকারি সহায়তার অর্থ প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়তে ব্যয় করা হয়েছিল কি না, তা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ওয়াটসনের বিরুদ্ধে চারটি ওয়্যার ফ্রড, দুটি ব্যাংক ফ্রড এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থসম্পদ নিয়ে লেনদেনের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ১০টি। গত ২৩ অক্টোবর তিনি আদালতে প্রাথমিক হাজিরা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়্যার ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর, ব্যাংক ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ৩০ বছর এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এগুলো আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সাজা; প্রকৃত সাজা নির্ধারিত হবে মামলার বিচারিক ফলাফল ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ভিত্তিতে।
এদিকে, কথিত জালিয়াতির অর্থে অর্জিত সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেল সরকার। কর্তৃপক্ষ সিডার হিলের বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কথিত জালিয়াতির অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আদায়ের আবেদন করেছে। মহামারির সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য চালু করা সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ মামলায় ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অপরাধ
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের তালাহাসিতে ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমকামিং ফুটবল ম্যাচ শেষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া গুলির আতঙ্কে পালানোর সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী অ্যান্থনি রিভার্স তৃতীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তালাহাসি পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার কিছু আগে ব্র্যাগ মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামের বাইরে পেরি ও মানাটি স্ট্রিটের কাছাকাছি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দল আরকানসাস-পাইন ব্লাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের আগে পরস্পর পরিচিত কয়েকজনের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই পরিস্থিতি গুলিবর্ষণ পর্যন্ত গড়ায়। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিরা হামলাকারীর প্রত্যক্ষ লক্ষ্য ছিলেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের সঙ্গে গুলিবর্ষণের সরাসরি কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত হয়নি। গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির দাদি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় আহত হন। ফলে সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল বলে রোববার জানানো হয়। রোববার অ্যান্থনি রিভার্স তৃতীয়কে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাচেষ্টার ১১টি অভিযোগ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। স্টেট অ্যাটর্নি জ্যাক ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, মামলাটি প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে নেওয়ার উদ্যোগ নেবে প্রসিকিউশন। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তালাহাসি পুলিশের প্রধান লরেন্স রেভেল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ পর্যালোচনা করছেন। গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনার সময় স্টেডিয়ামের আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে আহতদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে সমস্যা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কর্মকর্তারা আহতদের বহন করে জরুরি চিকিৎসাসেবার যানবাহনের কাছে নিয়ে যান। হোমকামিং উৎসবের পর এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে
করোনাকালীন ত্রাণের অর্থে নিজের বাড়ি! টেক্সাসের নারীর বিরুদ্ধে ১০টি ফেডারেল অভিযোগ
বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পর মুক্তি, এবার অন্য বন্দি নারীদের পাশে ইউক্রেনীয় অভিবাসী
স্কুলে যাওয়ার পথে আটক, ভাঙল কবজি ২০ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টালাহাসিতে একটি ফুটবল ম্যাচের পর গুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমকামিং সপ্তাহান্তে ঘটে। এ সময় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। টালাহাসি পুলিশের প্রধান লরেন্স রেভেল জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে একটি বিবাদের সূত্র পাওয়া গেছে। গুলিতে আহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের শরীরে গুলির আঘাত লেগেছে। অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ ঘটনার পেছনের কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গুলির পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছিল। ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, গুলির ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জানায়, ক্যাম্পাস নিজে নিরাপদ রয়েছে। তবে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের ঘটনা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে আনে। খেলাধুলা, উৎসব কিংবা কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় স্থানীয় পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা ঠিক হবে না। আহতদের সর্বশেষ অবস্থা এবং সন্দেহভাজনদের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা যাচাই করে জানানো প্রয়োজন।
বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, বৃদ্ধের ১৪ শতক জমি তিন ভাইয়ের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে স্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
লং বিচে আইসিইর হাতে আটকের সময় মার্কিন নাগরিক আহতের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি
নিউইয়র্কে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডকে ঘিরে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অভিযানকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত বলে উল্লেখ করেছে। নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম এবিসি সেভেন ও সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের বরো পার্ক এলাকায় একটি প্রাপ্তবয়স্কদের দিবাযত্নকেন্দ্রেও তদন্তকারীদের দেখা যায়। এফবিআই জানিয়েছে, নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সংস্থাটি প্রাথমিক বিবৃতিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কর্মসূচিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা এমন কিছু সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছেন, যাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়া, অনিয়মিত বিল জমা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্তাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বরোপার্ক টোয়েন্টি ফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তটি একাধিক মাস ধরে চলেছে এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে ১০০টিরও বেশি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে। অভিযানে এফবিআইয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিকেইড জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষসহ যোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহনে সহায়তাকারী সরকারি কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অর্থ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান সেবা না দিয়েও বিল জমা দিলে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করলে কিংবা রোগী বা গ্রাহকদের অবৈধ অর্থ দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করলে তা সম্ভাব্য জালিয়াতি হিসেবে তদন্তের আওতায় আসতে পারে। নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা খাতে মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। গত ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ব্রুকলিনের একটি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্র ও বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসার মালিক আহসান ইজাজ প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোতে প্রায় সাত বছর ধরে সেবা দেওয়া হয়নি—এমন দাবিতেও বিল জমা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। এটি বর্তমান অভিযানের সঙ্গে একই মামলা—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চলমান অভিযানে কতজনকে আটক করা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, কিংবা তল্লাশিতে কী কী নথি ও আলামত জব্দ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রকাশ্য প্রতিবেদনে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরকে গুলি করে হত্যা, দুই শহরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ৩
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব