- প্রচ্ছদ
- Topic
অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সরকারি ত্রাণ কর্মসূচি থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে। এপ্রিল ওয়াটসন নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে ১০টি ফেডারেল অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ সরকারি ঋণের অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করে তার একটি অংশ দিয়ে নিজের বাড়ি নির্মাণের খরচ মেটানো হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর মহামারিকালীন সরকারি সহায়তা তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াটসন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফক্স ৪ ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াটসন করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় একাধিক ঋণের আবেদন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং ব্যবসা সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন ঋণ ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াটসন নিজের পরিচালিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণের আবেদন করেন এবং অর্থ পাওয়ার জন্য জাল নথি ব্যবহার করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঋণের আবেদন সমর্থন করতে ওয়াটসন ভুয়া পেরোল সামারি এবং আইআরএসের নামে তৈরি জাল করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথিতে কর্মীদের বেতন ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পেরোল কোম্পানি ওই নথি তৈরি করেনি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৯ ও ২০২০ সালের বেতন বা আয়ের বিষয়ে আইআরএসে ব্যবসায়িক ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পৃথক অর্থায়নের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৯২ ডলার সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কেবেজ ইনকরপোরেটেডের মাধ্যমে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রামের আওতায় ২ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ ডলার, স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচি থেকে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার এবং জেপিমরগ্যান চেজের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৪ ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক্সোটিক ব্লিস বিউটি এলএলসি, ব্রেইন ইভোলিউশন এলএলসি এবং সাউদার্ন হোম ভেঞ্চারস এলএলসিসহ তার পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব আবেদন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, কথিত জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের এক লাখ ১৪ হাজার ডলারের বেশি সিডার হিল এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ছাড়া একজন সহযোগীর কাছে ৪০ হাজার ডলার পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। সরকারি সহায়তার অর্থ প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়তে ব্যয় করা হয়েছিল কি না, তা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়াটসনের বিরুদ্ধে চারটি ওয়্যার ফ্রড, দুটি ব্যাংক ফ্রড এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থসম্পদ নিয়ে লেনদেনের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ১০টি। গত ২৩ অক্টোবর তিনি আদালতে প্রাথমিক হাজিরা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়্যার ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর, ব্যাংক ফ্রডের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ৩০ বছর এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এগুলো আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সাজা; প্রকৃত সাজা নির্ধারিত হবে মামলার বিচারিক ফলাফল ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ভিত্তিতে। এদিকে, কথিত জালিয়াতির অর্থে অর্জিত সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেল সরকার। কর্তৃপক্ষ সিডার হিলের বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কথিত জালিয়াতির অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আদায়ের আবেদন করেছে। মহামারির সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য চালু করা সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ মামলায় ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নেওয়ার পর তাঁর ১৪ শতক ফসলি জমি তিন ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতারণা হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ অক্টোবর উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী আজিজুল হকের পরিবারের অভিযোগ, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কয়েকটি কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়। পরে তাঁর হাতে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে থাকা ১৪ শতক জমি অন্যদের নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে। দলিলের নকল ও সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাঘলপুর মৌজার আরএস ২২১ নম্বর দাগে থাকা ১৪ শতক ফসলি জমি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর নিবন্ধন করা হয়। দলিলগ্রহীতা হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং তাঁর দুই ভাই শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেনের। দলিল সম্পাদনের সময় আজিজুল হক অসুস্থ থাকায় উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আজিজুল হকের ছেলে ফারুক সরকারের অভিযোগ, তাঁর বাবা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চোখেও দেখতে পান না। আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফারুকের দাবি, বাবার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দলিল বাতিল এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর বক্তব্য, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি নেওয়া হয়নি; বরং আজিজুল হকের হাতে নগদ ৭ লাখ টাকা দিয়ে তাঁরা তিন ভাই জমিটি কিনেছেন। তাঁর দাবি, জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ পদ্ধতি বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি এবং সরকারি বিধিবিধান মেনেই দলিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে জমির মূল্য পরিশোধ, বৃদ্ধের সম্মতি এবং দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দলিল লেখক আব্দুল মতিন জানান, আবুল কালাম আজাদ জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে দলিল প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলে তিনি জানান। উল্লাপাড়ার সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ জানান, আজিজুল হকের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদনের আবেদন করা হয়েছিল। আবেদন মঞ্জুরের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দেওয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, জমি হস্তান্তরের সময় আজিজুল হক প্রকৃতপক্ষে কী বুঝেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় জমি বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছিলেন কি না এবং দাবিকৃত অর্থ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল কি না। এসব বিষয়ে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট নথি, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ এবং দলিল সম্পাদনের পরিস্থিতি যাচাই করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভের পর আটক আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মীর দাবি, তাঁদের পুলিশি গাড়ির ভেতরে মারধর করা হয়েছে, শরীরের সংবেদনশীল স্থানে লাথি মারা হয়েছে এবং আটক অবস্থায় ব্যক্তিগত মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ১৪ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তবে অভিযোগগুলোর সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম *ইন্ডিয়া টুডে*র ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরালার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী সংগঠন এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত অর্জুন অভিযোগ করেন, দিল্লির কনট প্লেস এলাকা থেকে তাঁকে আটক করার পর পুলিশের গাড়িতে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মুখে ঘুষি মারেন, বুক ও পিঠে লাথি দেন এবং যৌনাঙ্গেও আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্জুন আরও দাবি করেন, একই গাড়িতে থাকা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী চার কিশোরকেও মারধর করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরেরা বিক্ষোভে অংশ নেয়নি; ওই এলাকায় উপস্থিত থাকার কারণে তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে কিশোরদের আটকের পরিস্থিতি এবং তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের অভিযোগ, তাঁদের প্রথমে মধ্য দিল্লির রাজীব চক এলাকার কাছাকাছি একটি অস্থায়ী আটকস্থলে নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ সময় পুলিশি গাড়িতে ঘোরানোর পর দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পাণ্ডওয়ালা খুর্দ এলাকার একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। কয়েকজনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং ব্যক্তিগত ছবি ও অন্যান্য ফাইল পরীক্ষা করার অভিযোগও ওঠে। স্ক্রল ডট ইন–এর ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কয়েকজন নারী বিক্ষোভকারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশি গাড়ির ভেতরে নারী আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয় এবং কয়েকজনের শরীরের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করা হয়। এক আন্দোলনকর্মী অরণ্যকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা এবং কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও করেন তাঁর সহযাত্রী নওরিন। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারীদের অভিযোগ; প্রতিটি ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আটক ব্যক্তিদের আরও অভিযোগ, আহত হওয়ার পরও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়েছিল। কারও হাত ভেঙে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার কয়েকজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, আইনজীবীরা আটকস্থলে পৌঁছানোর পরও তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে আইনজীবী ও পরিচিত ব্যক্তিদের তৎপরতায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তি পেতে সহায়তা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করেছে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেরালার শিক্ষার্থী আথিরা দাবি করেন, আটক অবস্থায় তাঁকে মুখে আঘাত করা হয় এবং এক কানে শ্রবণশক্তি হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধীও তাঁর আঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। আরেক নারী আন্দোলনকর্মী অভিযোগ করেন, এক নারী পুলিশ সদস্য তাঁর গলা ধরে টানেন, মুখে আঁচড় দেন এবং চড় মারেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের জবাবও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে কে কোথায় আটক হয়েছিলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, আহতদের কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযোগগুলোর পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রয়োজন। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধ থেকে। আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার কারণে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে বিক্ষোভের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। রয়টার্সের ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ব্যারিকেড স্থাপন এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভের আয়োজকেরা নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ১৪ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আটক ব্যক্তিদের ভিডিও, চিকিৎসার কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য,অভিযোগগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পুলিশি পদক্ষেপের তদন্ত দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি ভারতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতার ব্যবহার এবং আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পুলিশ সদস্য বা কর্তৃপক্ষকে দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা ঠিক হবে না।
ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর সূত্র ধরে মারধরের শিকার ব্যক্তি ও তাঁকে মারধরকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হাসপাতালের কাছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আরেক ব্যক্তি চড়-থাপ্পড় মারছেন এবং কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। মারধরের সময় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদমাধ্যমকে ওই তরুণী জানান, ব্যক্তি তাঁর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে তিনি আত্মীয় খালিদ হাসানকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, খালিদ হাসান (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ আল মাসুদ (৪৮) নামের মারধরের শিকার ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন বলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাই। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব। ঘটনাটি জনসমক্ষে হয়রানির অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারও বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি। একইভাবে অভিযোগের জবাবে মারধর বা অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় নাগরিক এক চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা, অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ভেঙ্কটেশ সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩৮ বছর বয়সী সাত্তারু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জন এ রস এ সাজা ঘোষণা করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে ভুক্তভোগী ছিলেন সাত্তারুর চাচাতো ভাই, যিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাঁকে সাত্তারুর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেন্ট লুইসে পৌঁছান। পরে তিনি মিসৌরির ও’ফ্যালন এলাকায় সাত্তারুর বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে সংস্কারাধীন একটি বাড়িতে এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্য একটি সংস্কারাধীন বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সময় তাঁকে বাড়ির কাজকর্ম, বাইরে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত এবং সাত্তারুর প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সাত্তারুর দোষ স্বীকারের চুক্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কাজ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হতো। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে না দেওয়া, খাবার সীমিত করা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার মতো আচরণের শিকার হতে হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের কিছু ঘটনায় বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে ভুক্তভোগী গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। সাত্তারু নিজে কিছু নির্যাতনে অংশ নেন। অন্য সময় তাঁর শ্যালক নিকিল পেনমাতসা ও শ্রবণ পেনুমেচা ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেন বলে সাত্তারুর দোষ স্বীকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় তাঁরা সাত্তারুর নির্দেশে এবং কোনো কোনো ঘটনায় নিজেদের উদ্যোগে নির্যাতন করেন। সাত্তারুর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি অপরাধ ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় পরিচর্যাকারীর জন্য দেওয়া অর্থ বাড়াতে নিজের শারীরিক অক্ষমতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করেছিলেন বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা জানান। ওই কর্মসূচিতে যোগ্য সাবেক সেনাসদস্য ও সামরিক সদস্যদের পরিচর্যাকারীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সাত্তারুর দেওয়া মিথ্যা তথ্যের কারণে তাঁর পরিচর্যাকারী অতিরিক্ত ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাত্তারুকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরকে ৭৪ হাজার ৬৩৪ ডলার বাজেয়াপ্ত অর্থ হিসেবে এবং ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরকে ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। ভুক্তভোগীকেও সমঝোতাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়। গত ৮ অক্টোবর ঘোষিত রায়ে সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিসৌরির অঙ্গরাজ্য আদালতে দ্বিতীয় মাত্রার পারিবারিক নির্যাতনের অপরাধে পাওয়া পাঁচ বছরের সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। ফলে দুই সাজা পরপর যোগ করে ভোগ করতে হবে না। ফেডারেল রায়ে আগের আটকাবস্থায় কাটানো সময়ের জন্যও সমন্বয়ের নির্দেশ রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং সেন্ট চার্লস কাউন্টি পুলিশ। মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ডায়ানা এডওয়ার্ডস। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রেখে শ্রম আদায় ও শারীরিক নির্যাতনের একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার উদাহরণ। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার অর্থের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগও এতে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কিসিমিতে এক নারী অভিযোগ করেছেন, ছাদ মেরামতের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পরও তাঁর বাড়িতে কাজ শুরু হয়নি। শুধু তিনিই নন, একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ৬-এর ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবাহ বেনকাব্বু নামের ওই নারী জানান, ২০২৪ সালে তাঁর বাড়ির ছাদে ঝড়ের কারণে ক্ষতি হওয়ার পর হ্যারিকেন রুফার নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে বিমা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মালিক সমিতির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করার পর তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাদ মেরামতের জন্য ১৫ হাজার ডলার অগ্রিম দেন। কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও ছাদ মেরামতের কাজ শুরু হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বারবার কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো কর্মী বাড়িতে আসেননি। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁর ফোন ও বার্তার জবাব দেওয়াও বন্ধ করে দেন। এদিকে ছাদ দিয়ে পানি পড়তে থাকায় বাড়ির ভেতরে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বিশেষ করে তাঁর মেয়ের শোবার ঘরের ছাদে পানির দাগ ও ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে বলে তিনি জানান। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ছত্রাক তৈরি হওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই নারী। যুক্তরাষ্ট্রের বেটার বিজনেস ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হ্যারিকেন রুফারের বিরুদ্ধে মোট ১২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কোনো জবাব নথিভুক্ত নেই। অভিযোগগুলোর মধ্যে সাতটি সেবা বা মেরামতসংক্রান্ত, তিনটি অর্ডারসংক্রান্ত এবং দুটি পণ্যসংক্রান্ত। প্রতিষ্ঠানটিকে সংস্থাটি সর্বনিম্ন ‘এফ’ মূল্যায়ন দিয়েছে। অভিযোগকারীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, ছাদ মেরামতের জন্য হাজার হাজার ডলার অগ্রিম দেওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। কেউ কেউ অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নিউজ ৬ জানিয়েছে, ফ্লোরিডার সরকারি নথিতে হ্যারিকেন রুফারের ব্যবসায়িক অবস্থা নিষ্ক্রিয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনের বার্তাবাক্স পূর্ণ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ পরিচিত ব্যবসায়িক ঠিকানায় অবস্থিত একটি যৌথ কর্মস্থলের কর্মী জানান, হ্যারিকেন রুফার ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেখান থেকে চলে গেছে। সাবাহ বেনকাব্বু এখনো জানতে চান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর বাড়ির ছাদ মেরামতের কাজ সম্পন্ন করবে, নাকি ১৫ হাজার ডলার ফেরত দেবে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই অসমাপ্ত মেরামতের কারণে বাড়ির ক্ষতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনাটি বাড়ির মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, অনুমোদন, কাজের চুক্তি, অর্থ পরিশোধের শর্ত এবং পূর্ববর্তী গ্রাহকদের অভিযোগ যাচাই করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ দেওয়ার আগে লিখিত সময়সীমা, কাজের ধাপ এবং অর্থ ফেরতের শর্ত স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি।
বেসামরিক কয়েকজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ রুপি নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সুবেদারের জেনারেল কোর্ট মার্শালে বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তাঁকে দেওয়া অভিযোগপত্রে প্রতারণার ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অভিযোগপত্রের তথ্য তুলে ধরে এ খবর জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ওই সুবেদার সেনাবাহিনীর ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স কোরের ৩০৪ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানিতে কর্মরত। অভিযোগের সময় তিনি সেখানকার কারিগরি সরঞ্জাম বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগে ২০২৩ সালের মে মাসে গুয়াহাটিতে ১৫ লাখ রুপি নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষয়টি ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে সেনা আইনের ৬৯ ধারায় ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। ৭১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল এন এস সোহাল জেনারেল কোর্ট মার্শালে বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের সেনা আইনের ওই ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে বেসামরিক অপরাধের অভিযোগেও সেনাসদস্যের সামরিক আদালতে বিচারের বিধান রয়েছে। অর্থের হিসাবে একটি অসংগতি রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে মোট ৫১ লাখ ৪৪ হাজার রুপি বলা হলেও সেখানে উল্লেখ করা ছয়টি অঙ্ক যোগ করলে হয় ৫১ লাখ ৪২ হাজার রুপি। তাই অভিযোগের মোট অর্থ এখানে প্রায় ৫১ লাখ রুপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচার শেষে কোনো রায় ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার অভিযোগ করেছেন। সাধনা নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দীপক তার মাথায় আঘাত করেন, পরে কামড়ে তার নাকের একটি অংশ ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন। ঘটনার পর পুলিশ স্বামীকে আটক করেছে এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে। পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটে। প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর সাধনা হঠাৎ সেখানে ফিরে আসেন। পুলিশ বলছে, প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ দিয়ে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের পর দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সাধনার অভিযোগ, ওই সময় তার স্বামী দীপক তাকে মাথায় আঘাত করেন এবং কামড়ে তার নাকের অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সেটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। তার আরও অভিযোগ, শ্বশুর ও শাশুড়ি ওই সময় তার হাত ধরে রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে। পরে দীপককে আটক করা হয়। আহত সাধনাকে প্রথমে সান্ডি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হারদই মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দীপকের মা দাবি করেছেন, সাধনা প্রায় আড়াই মাস আগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিষয়টি আগে পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। দীপকের মায়ের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সাধনা হঠাৎ বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে সাধনাই প্রথমে তার স্বামীর শরীরের সংবেদনশীল অংশে কামড় দেন এবং পরে নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাধনা ও দীপকের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স ৮, ৬ ও ৩ বছর। ঘটনার পর দুই পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হামলার ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধনার পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে দীপকের মা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কার অভিযোগ কতটা সত্য, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলার সান্ডি থানা এলাকায় ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরিয়াহ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের সময় ব্যতিক্রমী এক মুহূর্তের দেখা মিলেছে। পরকীয়ার অভিযোগে চারজনকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়ার সময় মুখোশধারী ‘আলগোজো’ বা শাস্তি কার্যকরকারী এক নারীর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরিয়াহ আইন কার্যকর রয়েছে। সেখানে বিয়ে-বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক, পরকীয়া, মদ্যপান, জুয়া এবং কিছু যৌন আচরণের মতো অপরাধে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তি কার্যকরের সময় অভিযুক্তদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুখোশধারী আলগোজো। তবে চারজনের মধ্যে এক নারীকে বেত্রাঘাত করার সময় পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হয়ে যায়। ওই নারীর কাছে গিয়ে আলগোজো নিচু স্বরে কিছু বলেন এবং তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আচেহতে এ ধরনের শাস্তি সাধারণত জনসমক্ষে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট সংখ্যক বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন শরিয়াহ পুলিশ ও কর্মকর্তারা। বিভিন্ন ঘটনায় শাস্তি দেখতে সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়।‘ আলগোজো’ শব্দটি মূলত শাস্তি কার্যকরকারী ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আচেহর নিয়ম অনুযায়ী, নারী অভিযুক্তদের শাস্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে নারী আলগোজো ব্যবহারের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। ২০২০ সালে সেখানে প্রথমবার নারী আলগোজোদের একটি দল গঠন করা হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন শাস্তি নিষ্ঠুর ও অমানবিক। অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় আইন ও সামাজিক ব্যবস্থার সমর্থকেরা এটিকে শরিয়াহভিত্তিক আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন। আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রাঘাত বন্ধ করে তা কারাগারের ভেতরে নেওয়ার আলোচনা ও উদ্যোগ আগেও হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়েও জনসমক্ষে এই শাস্তি কার্যকর হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। চারজনের শাস্তির সময় ওই আলগোজোর কথিত সহানুভূতির মুহূর্তটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিশেষ নজর কেড়েছে। কঠোর শাস্তি কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এমন মানবিক আচরণই ঘটনাটিকে অন্য অনেক বেত্রাঘাতের ঘটনার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগে চাওয়া হোসে কা'আল পপকে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং নিউ জার্সিতে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতন এবং শিশু শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ জার্সির আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে তাঁকে লুইজিয়ানায় শনাক্ত করে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে তাঁকে লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁকে নিউ জার্সিতে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার চলবে। তদন্তকারীরা মামলার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশে সংযম দেখাচ্ছেন, যাতে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে কেউ যদি এ ঘটনাসংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য জানেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হোসে কা'আল পপ আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা এবং গ্রাম্য চিকিৎসক ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পাকারমাথা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা রজু হওয়ার পর নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওমর ফারুক নিজ বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২২ দিন আগে তিনি ওই শিশুকন্যাকে একা পেয়ে যৌন নির্যাতন করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়ি ফিরে মাকে বিষয়টি জানায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর ফারুক দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। তার বাবা মজিবুর রহমানও একই সুরে অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন জানিয়েছেন, আসামি ওমর ফারুক তাদের ইউনিটের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ উল্লেখ্য, যৌন হয়রানির শিকার ওই শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র জোকার-এর অন্যতম অর্থায়নকারী ও হলিউডের পরিচিত চলচ্চিত্র প্রযোজক জেসন ক্লথের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগপত্র (ইনডাইটমেন্ট) দাখিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, তিনি চলচ্চিত্র ও ভিডিও গেম প্রকল্পে বিনিয়োগের নামে অর্থ সংগ্রহ করে তা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আগের বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন। শিকাগোর ফেডারেল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সী জেসন ক্লথের বিরুদ্ধে সাতটি তারবার্তা জালিয়াতি অভিযোগ আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতে হাজির করা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ক্লথ বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের অর্থ চলচ্চিত্র নির্মাণ ও একটি গেমিং প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই অর্থের একটি অংশ কানাডার একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে ব্যয় করা হয় এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে আগের বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করা হয়, যা পঞ্জি স্কিমের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্লথের প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ওয়েলথ মিডিয়া ফাইন্যান্স করপোরেশন এর মাধ্যমে অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি ওয়্যার ফ্রড অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া অন্তত ১২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আবেদনও জানিয়েছে প্রসিকিউশন। জেসন ক্লথ *জোকার* ছাড়াও *ঘোস্টবাস্টার্স: আফটারলাইফ*, *ব্যাবিলন* এবং *দ্য গ্রিন নাইট*সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রের অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে কানাডার অন্টারিও সিকিউরিটিজ কমিশনও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, এই প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের সামনে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালতে এখনো জেসন ক্লথের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।