সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইসলামাবাদ বৈঠক: দীর্ঘ আলোচনায়ও সমঝোতা নেই, অচলাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৬:৫৮
জে ডি ভ্যান্স ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
জে ডি ভ্যান্স ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে কোনো সমঝোতা ছাড়াই। টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টার এই আলোচনার পর রোববার দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে।'

 

তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি বা যৌথ ঘোষণা না এলেও, আলোচনায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে রাখার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে।

 

আলোচনার পর ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা এগোতে চেয়েছি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই আস্থা তৈরি করতে পারেনি।”

 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে ইরান, ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।” তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের কারিগরি দল এখনো প্রস্তাব ও খসড়া বিনিময় করছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে প্রথম বৈঠকেই চুক্তি হওয়ার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত ছিল না। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথে ইতিবাচক ধারা তৈরি করবে।

 

আলোচনায় প্রধান যে বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করুক। তবে ইরান এটিকে তাদের অধিকার বলে মনে করে এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে।

 

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর। ইরান এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং একে ‘চূড়ান্ত সীমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে চায়।

 

যুদ্ধ আপাতত বন্ধ থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগারগুলো দ্রুত সচল করতে কাজ করছে ইরান। দেশটির লক্ষ্য, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আগের সক্ষমতার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা। ইতিমধ্যে মেরামত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
পা দেখানো শুরু করতেই আকাশচুম্বী টিপ, উবার ইটস ড্রাইভারের দাবি তরুণীর
পা দেখানো শুরু করতেই আকাশচুম্বী টিপ, উবার ইটস ড্রাইভারের দাবি তরুণীর

লস অ্যাঞ্জেলেসে উবার ইটসের এক ডেলিভারি ড্রাইভার খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর তোলা ছবিতে নিজের পা ও নতুন করা পেডিকিউর ইচ্ছাকৃতভাবে দেখিয়ে বাড়তি টিপ পাওয়ার চেষ্টা করে অনলাইনে ভাইরাল হয়েছেন। জেড ফিনিক্সের দাবি, এই অদ্ভুত কৌশল কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টিপ পেতে তাকে সাহায্য করেছে।   ফিনিক্স জানান, ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রাহক যে কনফার্মেশন ছবি পান, সেখানে নিজের স্যান্ডেল পরা পা দৃশ্যমান রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিশেষ করে নতুন করে করা পেডিকিউরও যেন ছবিতে দেখা যায়, সেদিকে নজর রাখতেন।   এরপর তিনি লক্ষ্য করেন, কিছু গ্রাহক ছবি দেখার পর তাদের টিপের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর নিজের এই কৌশলের কথা অনলাইনে শেয়ার করেন তিনি।   ফিনিক্সের অভিজ্ঞতা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য কয়েকজন ডেলিভারি ড্রাইভারও একই কৌশল চেষ্টা করার কথা জানান। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, ডেলিভারি ছবিতে নিজেদের পা রাখার পর টিপে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন।   তবে ফিনিক্সের নিজের ক্ষেত্রেও এই কৌশল সবসময় কাজ করেনি। তিনি পরে জানান, একইভাবে ছবি তোলার পরও কিছু ডেলিভারিতে বাড়তি টিপ একেবারেই পাননি।   ঘটনাটি মূলত গিগ ইকোনমিতে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং টিপ সংস্কৃতির অনিশ্চয়তা নিয়ে অনলাইনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে গ্রাহকের নজর কাড়ার বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে টিপিং সংস্কৃতির মজার ও অপ্রত্যাশিত দিক হিসেবে দেখছেন।   শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ ডেলিভারি কনফার্মেশন ছবিকেই অনলাইনে আলোচনার বিষয় বানিয়ে ফেলেছেন ফিনিক্স। তার অভিজ্ঞতা আবারও দেখিয়েছে, ডেলিভারি কাজের মতো প্রতিযোগিতামূলক গিগ ইকোনমিতে গ্রাহকের নজর কাড়ার ছোট একটি কৌশলও কখনো কখনো বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১:৪৪
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬০

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬০, নিখোঁজ সহস্রাধিক; নিখোঁজদের মধ্যে ব্রিটিশ, মার্কিন ও কানাডীয় পর্যটক

প্রবল জল ও কাদার স্রোতে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ৩৪ অস্ট্রেলীয় নাগরিক, তাদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছরের দুই শিশুও রয়েছে

উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার ও যাত্রীদের বিরক্ত করার ঘটনায় দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। ছবি: সংগৃহীত

‘যিশুকে বিশ্বাস না করলে নরকে যাবেন’, ফ্লাইটে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে ধর্মপ্রচার, দুই যাজকের শাস্তি

সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও ট্রিস্টান টেট
সামাজিক মাধ্যমে ফেইক বিলাসী জীবনযাপনের প্রদর্শন, স্বীকার টেট ভাইদের

বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও ট্রিস্টান টেটের আইনজীবীরা স্বীকার করেছেন, অনলাইনে তাদের বিপুল সম্পদের যে প্রদর্শন দেখা যেত, তার বড় অংশই ছিল সাজানো। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর আইনি লড়াইয়ের মধ্যে আদালতে দেওয়া নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেট ভাইদের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানো বিলাসবহুল গাড়িগুলোর কয়েকটি তারা ভাড়া নিয়েছিলেন। এমনকি প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের একটি সুপারইয়টও তাদের মালিকানাধীন ছিল না। সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিনিময়ে তারা অর্থ পেয়েছিলেন।   আইনজীবীদের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল টেট ভাইদের জামিনে মুক্তি দিলে তারা পালিয়ে যেতে পারেন, এমন দাবির বিরোধিতা করা। প্রসিকিউশন তাদের বিপুল সম্পদ ও একাধিক পাসপোর্টকে সম্ভাব্য ফ্লাইট রিস্কের প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছে।   ২৮ পৃষ্ঠার এক আইনি আবেদনে টেট ভাইদের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোকে বাস্তব সম্পদের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পোস্টে ব্যঙ্গ, অতিরঞ্জন ও প্রচারণার উপাদান ছিল এবং বেশি ভিউ ও লাইক পাওয়ার মাধ্যমে আয় বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা একটি অ্যাস্টন মার্টিনের মূল্য প্রায় ২১ লাখ ডলার এবং দুটি বুগাটির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার হলেও গাড়িগুলো টেট ভাইদের নিজস্ব ছিল না। এগুলো ভিডিও তৈরির জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।   একইভাবে, প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের যে সুপারইয়ট তাদের বিলাসী জীবনযাপনের অংশ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানো হয়েছিল, আদালতের নথি অনুযায়ী সেটিও তাদের মালিকানাধীন নয়। টেট ভাইয়েরা সেটি প্রচারের জন্য অর্থ পেয়েছিলেন।   আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, অ্যান্ড্রু টেটের একাধিক পাসপোর্ট থাকার বিষয়ে আগের কিছু বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। প্রসিকিউশন তার এমন বক্তব্যকে সম্ভাব্য পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করলেও আইনজীবীরা সেটিকে রসিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   অ্যান্ড্রু টেট বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ, মানবপাচার ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি ও চরম পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আরও ১৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাই ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে।   দুই ভাই দীর্ঘদিন রোমানিয়ায় বসবাস করেছেন। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অর্থপাচারসহ আলাদা তদন্ত চলছে।   গত ১৮ জুলাই মিয়ামিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন এবং যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে সম্পদের প্রদর্শন নিয়ে আইনজীবীদের এই স্বীকারোক্তি তাদের জামিন ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১১:৩৫
এবার লেবাননের তিন খ্রিষ্টান শহর দখলে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

এবার লেবাননের তিন খ্রিষ্টান শহর দখলে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ

ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম

ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি
‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানান।   বার্তায় মোদি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র এই দিনটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করবে এবং সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনবে।   তিনি বলেন, দয়া, সহমর্মিতা এবং সমাজের জন্য কিছু করার মানসিকতা যেন মানুষের পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও আশা করেন, এই দিন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও আনন্দের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।   ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিমদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৬:৫৫
চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ

চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ, ১০১ বছর বয়সে মৃত্যু

ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

সারগোধা এলাকায় রাডার খুঁজতে পাঠানো ভারতীয় ড্রোনের একটি কিরানা হিলসে আঘাত করেছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান। ছবি: এআই

পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার

0 Comments