সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১:০
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। এসব শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মূল ডিগ্রির পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, সাতটি স্কুল ও কলেজের অধীনে বর্তমানে ৩৪টি কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম রয়েছে। এসব প্রোগ্রাম মূলত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাঁরা নিজেদের প্রধান বিষয়ের পাশাপাশি চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন অন্য একটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষাক্রমের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক এলিজাবেথ লুন জানিয়েছেন, এসব শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের এমন ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়, যা চাকরিদাতারা সাধারণত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করার আগেই কয়েকটি অতিরিক্ত কোর্স সম্পন্ন করে একটি কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রামের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। ফলে মূল ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পেশার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর্মমুখী শিক্ষাক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবিষয়ক পরামর্শসেবা, সরকারি চুক্তি ব্যবস্থাপনা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং শিল্পকলা ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়। প্রতিটি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাসাইনমেন্ট ও ইন্টার্নশিপভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত করা।

বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, জ্বালানি এবং সরকারি প্রশাসনের মতো খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ভার্জিনিয়ার শিক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন রিসোর্স সেন্টারের চিহ্নিত চাহিদাসম্পন্ন পেশার সঙ্গে এসব শিক্ষাক্রমের সমন্বয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোকে ১৭টি ক্যারিয়ার ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে, যার আওতায় রয়েছে ৮৩টি পৃথক ক্যারিয়ার পথ।

 

চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। এর আওতায় শিক্ষকদের বিদ্যমান কোর্সে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ যুক্ত করা, নতুন কোর্স তৈরি এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যাপক আগ্রহের কারণে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ ধরনের প্রোগ্রামের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি ফল সেমিস্টার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ক্যাটালগেও এসব কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

এই উদ্যোগের একটি উদাহরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টের অ্যাডভান্সড স্কাল্পচার কোর্স। অধ্যাপক জন ভন বার্গেন কোর্সটি নতুনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা শিল্পকলা, ডিজাইন, নির্মাণপ্রযুক্তি এবং সৃজনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এতে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, পেশাগত উপস্থাপনা প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুনভাবে সাজানো কোর্সটি ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে চালুর কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যারিয়ার সার্ভিসেস বিভাগও শিক্ষার্থীদের চাকরি ও ইন্টার্নশিপ খুঁজতে সহায়তা করে। শিক্ষার্থীরা হ্যান্ডশেক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের চাকরি, পার্টটাইম কাজ, ইন্টার্নশিপ এবং ফুলটাইম চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন। পাশাপাশি ক্যারিয়ার ফেয়ার, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি এবং চাকরিদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের সন্তানদের জন্য এ ধরনের শিক্ষাক্রম বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পেশায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন ভবিষ্যতে চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউতে কাজে আসতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার সার্ভিস এবং কর্মমুখী কোর্সের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন।

 

মূল ডিগ্রির পাশাপাশি সম্পন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থী কোন প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কোর্সের পূর্বশর্ত, একাডেমিক যোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের ওপর।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণের আগে ভিসা ও কাজের অনুমতিসংক্রান্ত নিয়মও বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ করতে হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা অন্য উপযুক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোনো ইন্টার্নশিপ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করাই এসব কর্মমুখী শিক্ষাক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। তবে কোর্স সম্পন্ন করলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাডেমিক অ্যাডভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোর্সের যোগ্যতা, অতিরিক্ত ক্রেডিট এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। এসব শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মূল ডিগ্রির পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, সাতটি স্কুল ও কলেজের অধীনে বর্তমানে ৩৪টি কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম রয়েছে। এসব প্রোগ্রাম মূলত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাঁরা নিজেদের প্রধান বিষয়ের পাশাপাশি চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন অন্য একটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষাক্রমের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক এলিজাবেথ লুন জানিয়েছেন, এসব শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের এমন ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়, যা চাকরিদাতারা সাধারণত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করার আগেই কয়েকটি অতিরিক্ত কোর্স সম্পন্ন করে একটি কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রামের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। ফলে মূল ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পেশার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর্মমুখী শিক্ষাক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবিষয়ক পরামর্শসেবা, সরকারি চুক্তি ব্যবস্থাপনা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং শিল্পকলা ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়। প্রতিটি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাসাইনমেন্ট ও ইন্টার্নশিপভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত করা। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, জ্বালানি এবং সরকারি প্রশাসনের মতো খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ভার্জিনিয়ার শিক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন রিসোর্স সেন্টারের চিহ্নিত চাহিদাসম্পন্ন পেশার সঙ্গে এসব শিক্ষাক্রমের সমন্বয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোকে ১৭টি ক্যারিয়ার ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে, যার আওতায় রয়েছে ৮৩টি পৃথক ক্যারিয়ার পথ।   চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। এর আওতায় শিক্ষকদের বিদ্যমান কোর্সে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ যুক্ত করা, নতুন কোর্স তৈরি এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যাপক আগ্রহের কারণে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ ধরনের প্রোগ্রামের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি ফল সেমিস্টার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ক্যাটালগেও এসব কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   এই উদ্যোগের একটি উদাহরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টের অ্যাডভান্সড স্কাল্পচার কোর্স। অধ্যাপক জন ভন বার্গেন কোর্সটি নতুনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা শিল্পকলা, ডিজাইন, নির্মাণপ্রযুক্তি এবং সৃজনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এতে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, পেশাগত উপস্থাপনা প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুনভাবে সাজানো কোর্সটি ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে চালুর কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যারিয়ার সার্ভিসেস বিভাগও শিক্ষার্থীদের চাকরি ও ইন্টার্নশিপ খুঁজতে সহায়তা করে। শিক্ষার্থীরা হ্যান্ডশেক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের চাকরি, পার্টটাইম কাজ, ইন্টার্নশিপ এবং ফুলটাইম চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন। পাশাপাশি ক্যারিয়ার ফেয়ার, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি এবং চাকরিদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের সন্তানদের জন্য এ ধরনের শিক্ষাক্রম বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পেশায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন ভবিষ্যতে চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউতে কাজে আসতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার সার্ভিস এবং কর্মমুখী কোর্সের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন।   মূল ডিগ্রির পাশাপাশি সম্পন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থী কোন প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কোর্সের পূর্বশর্ত, একাডেমিক যোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের ওপর। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণের আগে ভিসা ও কাজের অনুমতিসংক্রান্ত নিয়মও বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ করতে হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা অন্য উপযুক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোনো ইন্টার্নশিপ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করাই এসব কর্মমুখী শিক্ষাক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। তবে কোর্স সম্পন্ন করলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাডেমিক অ্যাডভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোর্সের যোগ্যতা, অতিরিক্ত ক্রেডিট এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১:০
কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি

কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী

যুক্তরাজ্যে বিদেশি স্নাতকদের ভিসার মেয়াদে পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ

একাধিক ডিগ্রির পরও নতুন শেখার পথে মিহিরকান্ত

পিএইচডি ও দুই মাস্টার্স ডিগ্রির পরও ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করছেন ইন্টেলের কর্মকর্তা! লক্ষ্য এআইে দক্ষতা

কানাডার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে লাগে না ফি! জেনে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেদন ফি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির সুযোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।  তালিকায় অ্যাডলার ইউনিভার্সিটি, অ্যালগনকুইন কলেজ, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিসিআইটি), ক্যামব্রিয়ান কলেজ, সেন্টেনিয়াল কলেজ, জর্জ ব্রাউন পলিটেকনিক, হাম্বার পলিটেকনিক, সেনেকা পলিটেকনিক, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়াসহ মোট ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।   কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি নীতিমালা যাচাই করলে দেখা যায়, আবেদন ফি নির্ভর করে শিক্ষার্থীর ধরন, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, আবেদনের পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট সময়ের কোনো ফি মওকুফের সুযোগ আছে কি না, তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে, অ্যাডলার ইউনিভার্সিটির কানাডার ভ্যাঙ্কুভার ক্যাম্পাসে আবেদন করতে সাধারণত ৩০ কানাডীয় ডলার ফি দিতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন প্রোগ্রামগুলোর ক্ষেত্রে আবেদন ফি না-ও লাগতে পারে। অর্থাৎ একই প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামভেদে ফি দেওয়ার নিয়ম আলাদা।   অ্যালগনকুইন কলেজের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত ভর্তি নির্দেশনায় ১৩৫ কানাডীয় ডলার আবেদন ফির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সেন্টেনিয়াল কলেজের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত ফি ১২৫ কানাডীয় ডলার। নিয়াগ্রা কলেজের নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামেও ১৫০ কানাডীয় ডলার আবেদন ফি রয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। এ কারণে তালিকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম থাকা মানেই সেখানে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে আবেদন করতে পারবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থী, বিশেষ ভর্তি কার্যক্রম, অনলাইন রিক্রুটমেন্ট ইভেন্ট কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের জন্য সাময়িকভাবে আবেদন ফি মওকুফ করতে পারে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি ক্যাম্পাসে ফি মওকুফ থাকলেও অন্য ক্যাম্পাসে তা প্রযোজ্য নাও হতে পারে।   কানাডায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি নির্দেশনা দেখা উচিত। বিশেষ করে আবেদন ফি, আবেদনের শেষ তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আবেদন ফি না লাগলেও কানাডায় পড়াশোনার অন্যান্য খরচ মওকুফ হয় না। টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্টাডি পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকেই করতে হয়। একইভাবে আবেদন ফি ছাড়ের সুযোগ পাওয়া মানেই ভর্তি নিশ্চিত হওয়া বা বৃত্তি পাওয়া নয়।   তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের তালিকাটিকে সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য ও সম্পূর্ণ যাচাইকৃত তালিকা হিসেবে বিবেচনা না করে, নিজের পছন্দের প্রোগ্রাম ও আবেদনকাল অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:১৯

ব্রেক্সিটের পর ইরাসমাসে ফিরছে যুক্তরাজ্য, নভেম্বরেই আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা

পড়াশোনা, চাকরি ও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনায় আমেরিকার সেরা পাঁচ কলেজ শহর নির্বাচিত

কম খরচে ভালো শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ, আমেরিকার সেরা কলেজ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ

ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান

৫ কোটি টাকার ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশফাকুর

এইচএসসি-তে জিপিএ ২.৯৩ পাওয়ার পর নানা বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডিতে ভর্তির অফার পেয়েছেন রায়হান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পেয়েও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির অফার পেলেন রায়হান

এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পাওয়ার পর উচ্চশিক্ষার পথ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন রায়হান চৌধুরী। পরে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণার প্রস্তুতি চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডিতে ভর্তির অফার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেওয়া পোস্টে রায়হান বলেছেন, কয়েকটি অফারে পূর্ণ অর্থায়ন এবং কয়েকটিতে আংশিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। সবগুলো অফার পূর্ণ অর্থায়নের নয়।   রায়হানের দেওয়া তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো হলো মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিং, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটা, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোর কাউন্টি। যুক্তরাজ্য থেকে অফার পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তির অফার পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে কোন অফারে অর্থায়নের কী শর্ত রয়েছে, তা তাঁর দেওয়া বিবরণে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   নিজের শিক্ষাজীবনের কথা বলতে গিয়ে রায়হান জানিয়েছেন, এইচএসসির ফলের কারণে দেশের কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা ছিল না তাঁর। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ফলাফল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে বলেও তাঁর ভাষ্য। সেই অভিজ্ঞতার মধ্যেই গবেষণার দক্ষতা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেন তিনি। নিজের কাজের মাধ্যমে যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য।   রায়হানের বর্ণনায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর গবেষণার প্রস্তুতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দিনে শিক্ষকতা, ক্লাসের প্রস্তুতি, খাতা দেখা এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতেন। রাতে সময় দিতেন গবেষণাপত্র পড়া, মেশিন লার্নিং শেখা ও কোড লেখায়। কোনো বিষয়ে নিজের ঘাটতি বুঝতে পারলে সেটি শেখার চেষ্টা করতেন। এই প্রস্তুতির জন্য ছুটির দিন এবং ব্যক্তিগত সময়ের বড় অংশ ব্যয় করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে চট্টগ্রামের সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজে কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার তথ্য রয়েছে। সেখানে মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি ও কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিংকে গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ওয়েবসাইটে আইইইই ও স্প্রিংগারের সম্মেলনে প্রকাশিত গবেষণার তালিকাও দেওয়া আছে। এসব গবেষণার কয়েকটিতে সহলেখক হিসেবে ফারহান শাহরিয়ারের নাম রয়েছে।    রায়হান জানিয়েছেন, গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল না থাকায় শিক্ষকতার আয় থেকে প্রকাশনা ও দক্ষতা অর্জনের খরচ চালিয়েছেন। এই সময়ে পরিবার তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। বিশেষভাবে গবেষণাসঙ্গী ফারহান শাহরিয়ারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। গবেষণার কাজ থেকে আবেদনপ্রক্রিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পাশে থাকার পাশাপাশি ব্যর্থতার পরও আবার চেষ্টা করতে উৎসাহ দিয়েছেন ফারহান।   বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইইএলটিএস ও জিআরই পরীক্ষায় অংশ নেন রায়হান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এক হাজারের বেশি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন। অধিকাংশের উত্তর পাননি। প্রথম দফায় আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ আসেনি। এরপর প্রস্তুতি ও যোগাযোগ চালিয়ে যান এবং দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিবাচক সাড়া পান বলে জানিয়েছেন তিনি।   এই অভিজ্ঞতার শেষ পর্যায়ে এসে রায়হান নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, গবেষণাসঙ্গী এবং নিয়মিত পরিশ্রমের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে আল্লাহর রহমত ও বাবা মায়ের দোয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া বিবরণে এখনো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার গ্রহণ করেছেন বা কবে পিএইচডি শুরু করবেন, তা উল্লেখ নেই। আপাতত সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার পাওয়ার অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন তিনি, ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের নয়। সূত্র: সিইউ আর এইচ এস

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১২:৪
অস্কার ক্লেন মেডেল পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন

হকিংয়ের পাওয়া পুরস্কার এবার বাঙালির! পদার্থবিদ্যার অস্কার ক্লেন মেডেল অশোক সেনের

সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও মাসিক জীবনযাত্রার ভাতাসহ মাস্টার্স করার সুযোগ

বিনা টিউশন ফিতে সুইডেনে মাস্টার্স, সঙ্গে মাসে ১ লক্ষ ৮০  হাজার টাকা ভাতা!

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর প্রস্তুতি

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর আগে জানতে ও যাচাই করতে হবে ১০ বিষয়

0 Comments