ঈদ এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। বছরের অন্য সময় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে হিমশিম খেলেও দুই ঈদকে ঘিরে তৈরি হয় ভিন্ন মাত্রার উন্মাদনা। এবার সেই উন্মাদনা রেকর্ড ছুঁতে যাচ্ছে—ঈদ উপলক্ষে মুক্তির ঘোষণায় রয়েছে ১২টি সিনেমা। তবে সীমিত প্রেক্ষাগৃহ, বড় বাজেটের প্রতিযোগিতা এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কয়টি ছবি প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পাবে?
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ঈদ এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। বছরের অন্য সময় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে হিমশিম খেলেও দুই ঈদকে ঘিরে তৈরি হয় ভিন্ন মাত্রার উন্মাদনা। এবার সেই উন্মাদনা রেকর্ড ছুঁতে যাচ্ছে—ঈদ উপলক্ষে মুক্তির ঘোষণায় রয়েছে ১২টি সিনেমা। তবে সীমিত প্রেক্ষাগৃহ, বড় বাজেটের প্রতিযোগিতা এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কয়টি ছবি প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পাবে? শাকিব খানের ‘প্রিন্স’: সময়ের সঙ্গে দৌড়: নব্বইয়ের দশকের অপরাধজগতকে পটভূমি করে নির্মিত ‘প্রিন্স’ শুরু থেকেই আলোচনায়। শাকিব খানের বিপরীতে আছেন কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও তাসনিয়া ফারিণ। বিদেশি লোকেশন, অ্যাকশন ও বড় বাজেটের কারণে ছবিটি ঈদের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। যদিও শুটিংয়ের শেষ লট এখনও বাকি, নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ জানিয়েছেন—শুটিং, সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং ও মিউজিক একসঙ্গে এগোচ্ছে। তবে সময়মতো কাজ শেষ না হলে মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। নিশোর ‘দম’: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সারভাইভাল গল্প: রেদওয়ান রনির পরিচালনায় আফরান নিশো অভিনীত ‘দম’-এর বড় অংশের শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সারভাইভালধর্মী এ ছবিতে আরও আছেন চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরী। বর্তমানে পোস্টপ্রোডাকশন চলছে। কনটেন্টনির্ভর গল্পের কারণে শহুরে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে ছবিটি। ‘মালিক’ ও ‘রাক্ষস’: সাইফ চন্দনের পরিচালনায় আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘মালিক’ এখন পোস্টপ্রোডাকশনে। মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’-এ সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে অ্যাকশন–ভিত্তিক গল্পে। দুটি ছবিই তরুণ দর্শকদের লক্ষ্য করে নির্মিত। ‘দুর্বার’, ‘ট্রাইব্যুনাল’, ‘প্রেশার কুকার’: থ্রিলার ‘দুর্বার’-এ প্রথমবার জুটি হচ্ছেন সজল ও অপু বিশ্বাস। চট্টগ্রামের আলোচিত একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ সামাজিক বার্তা–নির্ভর সিনেমা। রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ নারী–কেন্দ্রিক গল্প নিয়ে নির্মিত, যেখানে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি ও মারিয়া শান্ত। নির্মাতার ভাষায়, এই শহর মেয়েদের জন্য এক প্রেশার কুকার। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’: তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নির্মিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে। সাবিলা নূর অভিনীত এ ছবির শুটিং শেষ, চলছে পোস্টপ্রোডাকশন। নির্মাতার দাবি, নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হয়েছে। অনুদান ও অন্যান্য ছবি:পরীমনি অভিনীত সরকারি অনুদানের ছবি ‘ডোডোর গল্প’, রাশিদ পলাশের ‘রঙবাজার’, জাহিদ জুয়েলের ‘পিনিক’ এবং বদিউল আলম খোকনের ‘তছনছ’—সব মিলিয়ে মুক্তির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তবে সব ছবিই যে প্রেক্ষাগৃহ পাবে, তা নিশ্চিত নয়। হল–সংকট: সংখ্যার লড়াইয়ে ঝুঁকি: দেশে বর্তমানে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে সক্রিয় প্রেক্ষাগৃহ প্রায় ৬০-৭০টি। ঈদে বন্ধ থাকা কিছু হল চালু হলেও ১২টি সিনেমার জন্য এ সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রদর্শকরা। তাঁদের মতে, সর্বোচ্চ তিন থেকে চারটি বড় ছবি মুক্তি পেলেই ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল। এ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদন জগতের তারকাদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা। এবার নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। নতুন সরকার ও দেশ নিয়ে তার ইচ্ছা এবং ভাবনার কথাও জানালেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা ও চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা চান বলেও জানান এ অভিনেত্রী। নির্বাচন প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, যে সরকারই আসুক, তাদের সাধুবাদ জানাই। আমার পক্ষ থেকে অগ্রিম শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আমি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা। সে জায়গা থেকে চাইব— সবাই যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারেন। নতুন সরকারের কাছে তার বিশেষ দুটি দাবির কথা উল্লেখ অপু বিশ্বাস বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার যেন নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে, সেটিই আমি চাই। সেই সঙ্গে দেশের বিনোদন ও চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেখতে চাই। সিনেমার মানুষ হিসেবে এটি আমার প্রত্যাশা বলেও জানান এ অভিনেত্রী। উল্লেখ্য, অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস বেশ কিছু দিন সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন। শুধু বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রচারে নিয়মিত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি অভিনেত্রী একসঙ্গে দুটি নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন নিজের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনাতেও। সর্বশেষ কামরুল হাসান ফুয়াদ পরিচালিত ‘দুর্বার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস। সেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন সজল। অন্যদিকে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘সিক্রেট’ সিনেমায় আদর আজাদের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। সিনেমা দুটি চলতি বছরের ঈদ উৎসবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।
ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও বিতর্কিত সুপারন্যাচারাল ফিকশন ‘নাগিন’ এবার বড়পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায়। বলিউড পাড়ায় জোরালো গুঞ্জন, একতা কাপুর তাঁর এই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডটিকে বড় বাজেটের সিনেমার রূপ দিতে চলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশন বা প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ভারতীয় টেলিভিশনের টিআরপি তালিকায় ‘নাগিন’ বছরের পর বছর শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। মৌনী রায়, আদা খান, সুরভি জ্যোতি, নিয়া শর্মা এবং সর্বশেষ তেজস্বী প্রকাশের মতো অভিনেত্রীরা এই সিরিজে অভিনয় করে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। দর্শকদের এই বিপুল উন্মাদনাকেই এবার বাণিজ্যিক সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করতে চান একতা। সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল এখন এর কাস্টিং নিয়ে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে: পুরোনো মুখ: মৌনী রায় বা তেজস্বী প্রকাশের মতো জনপ্রিয় কোনো নাগিনকে কি বড়পর্দায় ফেরানো হবে? নতুন চমক: নাকি বলিউডের কোনো প্রথম সারির নায়িকাকে এই অতিপ্রাকৃত চরিত্রে দেখা যাবে? যদিও প্রযোজনা সংস্থা থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। বড়পর্দার জন্য ‘নাগিন’-কে আরও আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অত্যাধুনিক ভিএফএক্স (VFX) এবং গ্রাফিক্সের কাজ করা হবে বলে জানা গেছে। টেলিভিশন নাটকের তুলনায় সিনেমার গল্প এবং নির্মাণশৈলী অনেক বেশি জমকালো ও রোমহর্ষক করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল ভক্ত তাঁদের প্রিয় চরিত্রকে বড়পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন, আবার অনেকের মতে টিভির গল্পের সিনেমা সংস্করণ কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।