ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক-এর ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-কে ২ উইকেটে পরাজিত করে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিং করেন ব্রুক। ইনিংসের ১৭তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদি-এর বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ইংল্যান্ড জয়ের পথে এগিয়ে যায়।
ব্রুক আউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় এবং কিছু সময় ম্যাচে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ দিকে জয়ের জন্য মাত্র ৪ রান প্রয়োজন হলে জফরা আর্চার শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ইংল্যান্ডের ইনিংসে ব্রুকের ব্যাটিংই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। তার বাইরে মাত্র দুইজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে সক্ষম হন। স্যাম কারেন ১৫ বলে ১৬ রান এবং উইল জ্যাকস ২৮ রান করেন।
১০৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ব্রুক ও জ্যাকসের ৩১ বলে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখান সাহিবজাদা ফারহান। তিনি ৪৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ রান করেন। অধিনায়ক বাবর আজম করেন ২৫ রান, তবে তার ধীরগতির ব্যাটিং সমালোচনার মুখে পড়ে।
নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ইংল্যান্ড ১৯.১ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।
ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্পিনার লিয়াম ডসন। তিনি ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান: ১৬৪/৯ (ফারহান ৬৩, বাবর আজম ২৫; ডসন ৩/২৪, আর্চার ২/৩২)
ইংল্যান্ড: ১৬৬/৮ (ব্রুক ১০০, জ্যাকস ২৮; আফ্রিদি ৪/৩০, উসমান ২/৩১)। ফলাফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: হ্যারি ব্রুক
এই জয়ের মাধ্যমে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।