আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল। এ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদন জগতের তারকাদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা। এবার নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। নতুন সরকার ও দেশ নিয়ে তার ইচ্ছা এবং ভাবনার কথাও জানালেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা ও চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা চান বলেও জানান এ অভিনেত্রী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, যে সরকারই আসুক, তাদের সাধুবাদ জানাই। আমার পক্ষ থেকে অগ্রিম শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আমি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা। সে জায়গা থেকে চাইব— সবাই যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারেন।
নতুন সরকারের কাছে তার বিশেষ দুটি দাবির কথা উল্লেখ অপু বিশ্বাস বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার যেন নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে, সেটিই আমি চাই। সেই সঙ্গে দেশের বিনোদন ও চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেখতে চাই। সিনেমার মানুষ হিসেবে এটি আমার প্রত্যাশা বলেও জানান এ অভিনেত্রী।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস বেশ কিছু দিন সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন। শুধু বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রচারে নিয়মিত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি অভিনেত্রী একসঙ্গে দুটি নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন নিজের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনাতেও।
সর্বশেষ কামরুল হাসান ফুয়াদ পরিচালিত ‘দুর্বার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস। সেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন সজল। অন্যদিকে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘সিক্রেট’ সিনেমায় আদর আজাদের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। সিনেমা দুটি চলতি বছরের ঈদ উৎসবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
বলিউডের তরুণ দর্শকপ্রিয় অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান নতুন সিনেমার প্রস্তুতিতে বাস্তবিকভাবেই পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অভিনয় থেকে বিরতি নয়, বরং আসন্ন চলচ্চিত্রের চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি এই দক্ষতা অর্জন করছেন। তার অভিনীত এরিয়াল অ্যাকশনধর্মী ছবি ক্যাপ্টেন ইন্ডিয়া-এর জন্যই এই বিশেষ প্রস্তুতি। ছবিটিতে একজন কমার্শিয়াল পাইলটের চরিত্রে দেখা যাবে তাকে, যে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বহু যাত্রীকে উদ্ধার করে। সিনেমাটির পরিচালক শিমিত আমিন, যিনি চাক দে! ইন্ডিয়া পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি, এবং এটি হবে ২০০৯ সালের পর তার প্রথম বড় ফিচার ফিল্ম। জানা গেছে, পরিচালক চান না পর্দায় কৃত্রিমভাবে বিমান চালানোর অভিনয় হোক। তাই কার্তিক বর্তমানে পেশাদার পাইলটদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যাতে শুটিংয়ের আগেই পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেন। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির শুটিং আগামী জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পাশাপাশি মরক্কোর বিভিন্ন লোকেশনেও দৃশ্যধারণ করা হবে।
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতি–কে ঘিরে পরকীয়ার বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণাণ–এর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে জোর গুঞ্জনের মধ্যেই এবার পারিবারিক অঙ্গনেও দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠেছে, বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছেন তার স্ত্রী সংগীতা সোর্নালিঙ্গম। এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে আনফলো করেছেন তাদের ছেলে জ্যাসন সঞ্জয়। শুধু তাই নয়, নিজের নামের পাশ থেকেও বাবার নামের আদ্যাক্ষর সরিয়ে ফেলেছেন সঞ্জয়। এতদিন তিনি নিজের নাম লিখতেন ‘ভি জ্যাসন সঞ্জয়’ হিসেবে। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই ‘ভি’ আর ব্যবহার করছেন না। বিষয়টি নেটিজেনদের নজরে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে তারকা সন্তানদের নামের আগে বাবার নামের আদ্যাক্ষর ব্যবহারের একটি প্রচলন রয়েছে। দীর্ঘদিন সেই নিয়ম মেনেই নিজের নাম ব্যবহার করতেন জ্যাসন সঞ্জয়। কিন্তু হঠাৎ করে সেই আদ্যাক্ষর বাদ দেওয়ায় অনেকেই পারিবারিক দূরত্বের ইঙ্গিত দেখছেন। এদিকে গুঞ্জন উঠেছে, বাবার নামের আদ্যাক্ষর বাদ দেওয়ার পর এবার নিজের নামের আগে মায়ের নামের আদ্যাক্ষর যুক্ত করতে পারেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি সঞ্জয় বা সংগীতা। গত কয়েকদিন ধরেই বিজয় ও সংগীতার বিচ্ছেদ নিয়ে তামিল বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। আদালত ইতোমধ্যে বিজয়কে আগামী ২০ এপ্রিল সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সেদিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সংগীতা সোর্নালিঙ্গমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত বিজয়। তার দাবি, ২০২১ সালেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর একাধিকবার সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেননি অভিনেতা। অন্যদিকে এই বিতর্কে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তৃষা কৃষ্ণাণ। তবে সম্প্রতি নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে বিজয় বলেন, “অযথা মাথা ঘামাবেন না, যা রটছে রটতে দিন।” তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় চলমান আলোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলভী, তার মা ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইকরার পরিবার। মামলায় তিথির নামও এসেছে। ঘটনার সময় আলভী ও তিথি নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে ছিলেন বলে জানা যায়। তিথি বলেন, ঘটনার দিনই তারা দ্রুত দেশে ফেরার চেষ্টা করেন, তবে টিকিট জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, আলভীর দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও সেদিন ফ্লাইটে সিট পাওয়া যায়নি। পরদিন টিকিট নিশ্চিত হলে পুরো টিম দেশে ফিরে আসে। আলভীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিথি জানান, নেপাল থেকে বিদায়ের পর আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। এয়ারপোর্টে শেষবার কথা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিথি বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আলভীকে বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেন। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এসব তথ্য সঠিক নয়। তিথি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চলমান পরিস্থিতি তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, কেউ কেউ দূর থেকে সহানুভূতি জানালেও অনেকেই প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন না, আবার কাজের ক্ষেত্রেও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।