যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন না দেওয়ার হার দ্বিগুণ, বাড়ছে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের পর নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন না দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত আট বছরে এই ইনজেকশন না পাওয়া শিশুর হার দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এতে শিশুদের মারাত্মক রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামায় প্রকাশিত গবেষণায় এসব তথ্য জানানো হয়।
ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ৫২ লাখের বেশি নবজাতকের চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে জন্মের পর ৩ দশমিক ১ শতাংশ শিশু ভিটামিন কে ইনজেকশন পায়নি। ২০২৫ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে। শুধু ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যেই এই হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, অনেক অভিভাবকের ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগ ও ভুল ধারণা এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের প্রথম ছয় মাসে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ইনজেকশন পাওয়া শিশুদের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে তাদের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া গেছে। জন্মের পর হাসপাতালে অবস্থানকালে রক্তক্ষরণের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে গবেষণাটি চিকিৎসার তথ্যভিত্তিক হওয়ায় প্রতিটি রক্তক্ষরণ বা মৃত্যুর পেছনে ভিটামিন কে না পাওয়াই সরাসরি দায়ী ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হয়নি।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিটামিন কে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। কিন্তু নবজাতকদের শরীরে জন্মের সময় এই ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম থাকে। মায়ের শরীর থেকে গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত ভিটামিন কে শিশুর শরীরে পৌঁছায় না। এমনকি মায়ের বুকের দুধেও এর পরিমাণ সীমিত। ফলে জন্মের পর ভিটামিন কে না পেলে শিশু ভিটামিন কে ডেফিসিয়েন্সি ব্লিডিং নামের জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারে। এতে শরীরের ভেতরে, বিশেষ করে মস্তিষ্ক বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের ভিটামিন কে ঘাটতিজনিত দেরিতে শুরু হওয়া রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ইনজেকশন পাওয়া শিশুদের তুলনায় প্রায় ৮১ গুণ বেশি। এই জটিলতা জন্মের পর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন কে ঘাটতিজনিত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইডাহোর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. থমাস প্যাটারসন জানান, দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনের বেশির ভাগ সময় নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন দিতে অভিভাবকদের অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা খুব কম দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলেছে। একদিন তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা ১০ নবজাতকের মধ্যে পাঁচজনই ভিটামিন কে ইনজেকশন ছাড়াই হাসপাতাল ছেড়েছে বলে তিনি জানান। চিকিৎসকদের মতে, ইনজেকশন নিয়ে নিরাপত্তার উদ্বেগ, ভুল তথ্য এবং এটিকে ভ্যাকসিন মনে করার কারণে কিছু অভিভাবক সন্তানকে এটি দিতে চান না। তবে ভিটামিন কে ইনজেকশন কোনো ভ্যাকসিন নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬১ সাল থেকে নবজাতকদের জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়ার সুপারিশ করে আসছে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস। সাধারণত জন্মের পর শিশুর উরুর পেশিতে একবার এই ইনজেকশন দেওয়া হয়। সিডিসির মতে, এটি নবজাতকদের মারাত্মক রক্তক্ষরণ প্রতিরোধের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবস্থা। গবেষকেরা বলছেন, অভিভাবকদের মধ্যে সঠিক চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সন্তান জন্মের আগে ভিটামিন কে ইনজেকশন নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে পেডিয়াট্রিশিয়ান বা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
স্বাস্থ্য
View moreবিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ব্রেইন ক্যানসার গ্লিওব্লাস্টোমার বিস্তার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন আন্তর্জাতিক গবেষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যানসারের কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খলভাবে বৃদ্ধি পায় বলে ধারণা করা হলেও নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিক নিয়ম অনুসরণ করে পরিবর্তিত ও বিস্তৃত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা এই ধরন ভবিষ্যতে ক্যানসারটির আরও কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত ৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ এবং ক্যানসার রিসার্চ ইউকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক গবেষকদল গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত ১২ জন রোগীর টিউমার থেকে সংগ্রহ করা ১০ লাখের বেশি কোষ বিশ্লেষণ করেছে। রোগীরা যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গবেষকেরা অত্যাধুনিক সেল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এবং এআই ব্যবহার করে ক্যানসার কোষের জিনগত বৈশিষ্ট্য, অবস্থান, পরিবর্তনের প্রবণতা এবং আশপাশের কোষের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন রোগীর টিউমারের মধ্যেও কোষগুলোর পরিবর্তনের একটি অভিন্ন ধরন রয়েছে। গবেষণায় ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউট, ইউরোপিয়ান মলিকিউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরি, জার্মান ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার এবং ক্যানসার রিসার্চ ইউকের গবেষকেরা অংশ নেন। গবেষণায় ক্যানসার কোষের পরিবর্তনের তিনটি প্রধান ধাপ শনাক্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে কিছু কোষ মস্তিষ্কের স্টেম সেলের মতো আচরণ করে এবং টিউমারের বাইরের প্রান্তে অবস্থান নেয়। এসব কোষ থেকে নতুন ধরনের ক্যানসার কোষ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে টিউমার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষগুলো মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতের কাজে ব্যবহৃত কোষের বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করতে শুরু করে। এতে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং টিউমারের ভেতরে নতুন স্তর তৈরি হয়। তৃতীয় ধাপে টিউমারের কেন্দ্রীয় অংশে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। তখন সেখানকার কোষগুলো নিজেদের টিকিয়ে রাখার বিশেষ অবস্থায় চলে যায়, যা চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। গ্লিওব্লাস্টোমা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ধরনের ব্রেইন ক্যানসার। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক টিস্যুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি অপসারণ করা কঠিন। অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির পরও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার আবার ফিরে আসে। গবেষকেরা বলছেন, টিউমারের বাইরের প্রান্তে থাকা প্রাথমিক ক্যানসার কোষগুলো অস্ত্রোপচারের পর থেকে গেলে নতুন করে ক্যানসার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু টিউমারের দৃশ্যমান অংশ নয়, বাইরের প্রান্তের কোষগুলোকেও লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। গবেষণায় আরও কিছু জিনগত সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ক্যানসার কোষকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে এমন ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে, যা এসব সংকেত বন্ধ করে কোষের পরিবর্তন সীমিত করবে। পাশাপাশি শরীরের নিজস্ব ইমিউন সেলের সঙ্গে টিউমারের সম্পর্ক নিয়েও নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষাগারে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের মডেল বা ব্রেইন অর্গানয়েডেও কোষের পরিবর্তনের একই ধরনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের কেমব্রিজ ইনস্টিটিউটের ব্রেইন সার্জন ও গবেষক ডা. রিচার্ড মেয়ার জানিয়েছেন, এতদিন গ্লিওব্লাস্টোমার বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার কোষকে একসঙ্গে কীভাবে লক্ষ্য করা যায়, তা পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণা ভবিষ্যতে টিউমার কোন অবস্থায় যেতে পারে, সে অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি করেছে। ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের গবেষক ডা. ওমের বায়রাকতারও মনে করেন, এই আবিষ্কার ক্যানসারটির জটিল আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন কোনো চিকিৎসা মানুষের শরীরে কার্যকর বা নিরাপদ প্রমাণিত হয়নি। আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরই এই আবিষ্কারের বাস্তব চিকিৎসাগত সুফল নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সংবাদসূত্র: ক্যানসার রিসার্চ ইউকে, FOX 13 Tampa Bay ।
যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন না দেওয়ার হার দ্বিগুণ, বাড়ছে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি
ঘুম থেকে উঠে মুখের এক পাশ অবশ, কয়েক দিনেই হাঁটার ক্ষমতা হারালেন ২২ বছরের তরুণী
বাস্তবেই আছে ভ্যাম্পায়ার ও ওয়্যারউলফের মতো বিরল রোগ, শরীরে দেখা দেয় অদ্ভুত লক্ষণ
উন্নত পর্যায়ের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা। ট্রাস্টুজুম্যাব রেজেটেকান নামের একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহারে প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে প্রায় তিনজনের টিউমার ছোট হয়েছে। একই ধরনের রোগীদের প্রচলিত কেমোথেরাপি দেওয়ার তুলনায় নতুন ওষুধটি ক্যানসারের অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখতেও বেশি কার্যকর বলে দেখা গেছে। ‘হরাইজন-ব্রেস্ট০৬’ নামের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বিশেষভাবে এমন রোগীদের ওপর নজর দেওয়া হয়েছে, যাঁদের স্তন ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং টিউমারে এইচইআর২ প্রোটিনের মাত্রা তুলনামূলক কম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ক্যানসারকে ইআরবিবি২-লো মেটাস্ট্যাটিক ব্রেস্ট ক্যানসার বলা হয়। এইচইআর২ এমন একটি প্রোটিন, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। টিউমারে এই প্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকলে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে। তবে মাত্রা কম থাকলেও ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের রোগীদের জন্য কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোই নতুন গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। চীনের ৭৩টি হাসপাতালের ৫৫১ জন নারী রোগীকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। ২০২৩ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের দৈবচয়নের ভিত্তিতে দুটি দলে ভাগ করা হয়। এক দলকে প্রতি তিন সপ্তাহে শিরায় ট্রাস্টুজুম্যাব রেজেটেকান দেওয়া হয়। অন্য দলকে চিকিৎসকের পছন্দ অনুযায়ী প্রচলিত কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। গবেষণার ফল অনুযায়ী, নতুন ওষুধ গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের অগ্রগতি ছাড়া বেঁচে থাকার মধ্যম সময় ছিল ১৬ দশমিক ৪ মাস। অন্যদিকে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল ৬ দশমিক ৮ মাস। অর্থাৎ নতুন ওষুধ গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের অগ্রগতি বা মৃ ত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে ৭৩ শতাংশ কম ছিল। টিউমারের আকারের পরিবর্তনেও দুই দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। ট্রাস্টুজুম্যাব রেজেটেকান গ্রহণকারী রোগীদের ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশের টিউমার ছোট হয়েছে। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন ওষুধে সাড়া দেওয়া রোগীর হার প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ ও নেগেটিভ—দুই ধরনের স্তন ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রেই ওষুধটির কার্যকারিতা ছিল। হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের অগ্রগতি ছাড়া বেঁচে থাকার মধ্যম সময় ছিল ১৬ দশমিক ৪ মাস। কেমোথেরাপি নেওয়া একই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৬ দশমিক ৭ মাস। আর হরমোন রিসেপ্টর নেগেটিভ রোগীদের ক্ষেত্রে নতুন ওষুধে সময়টি ছিল ১৬ দশমিক ৫ মাস, যেখানে কেমোথেরাপিতে ছিল ৬ দশমিক ৮ মাস। চিকিৎসা শুরুর ১২ মাস পর নতুন ওষুধ গ্রহণকারী রোগীদের ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ জীবিত ছিলেন। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, সামগ্রিকভাবে বেঁচে থাকার তথ্য এখনো পরিপূর্ণ নয়। তাই নতুন ওষুধটি রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে বেশি দিন বাঁচতে সাহায্য করে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। গবেষণার ফলকে আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক স্তন ক্যানসার সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট লরেন রোর্ক। তিনি গবেষণায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তাঁর মতে, উন্নত পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এতে রোগীরা আরও কিছু সময় তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারেন এবং দৈনন্দিন জীবন উপভোগের সুযোগ পান। তবে নতুন ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও উদ্বেগের বিষয়। গবেষণায় ট্রাস্টুজুম্যাব রেজেটেকান গ্রহণকারী ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ। নতুন ওষুধের ক্ষেত্রে রক্তের শ্বেতকণিকা ও নিউট্রোফিলের মাত্রা কমে যাওয়া এবং রক্তস্বল্পতা ছিল উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে। গবেষণায় নতুন ওষুধ গ্রহণকারীদের ৯২ দশমিক ৮ শতাংশের রক্তস্বল্পতা দেখা গেছে। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া প্রায় অর্ধেক রোগীর ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ওষুধের মাত্রা কমাতে হয়েছে। কিছু রোগীর চিকিৎসাও বন্ধ করতে হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে চিকিৎসা চলাকালে রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সংক্রমণের ঝুঁকির দিকে নজর রাখা জরুরি। লরেন রোর্কও সতর্ক করেছেন, ক্যানসারের অগ্রগতি দীর্ঘ সময় আটকে রাখা মানেই রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া নয়। রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি এবং সংক্রমণের ঝুঁকি রোগীর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসার কার্যকারিতার পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জেএএমএ-তে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা বলেছেন, ফলাফল নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি করলেও আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে রোগীদের বেঁচে থাকার ওপর ওষুধটির প্রভাব এবং চীনের বাইরের রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করতে হবে। গবেষণাটি কেবল চীনের রোগীদের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। তাই বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের রোগীদের ক্ষেত্রেও একই রকম কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরীক্ষা দরকার। আপাতত এই ফল উন্নত স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি সম্ভাবনাময় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে এটি এখনই সব রোগীর জন্য প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসার বিকল্প নয়।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস
নার্সদের জন্য ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা, তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ
ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই
চোখের বিরল রোগে দৃষ্টিশক্তি হারানোর গতি কমাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে চালের দানার সমান একটি ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এই যন্ত্রের পরীক্ষা ও প্রয়োগের মাধ্যমে এমন রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যাঁরা ধীরে ধীরে চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন। তবে এই চিকিৎসায় ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি ফিরে আসে না। এর মূল লক্ষ্য রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং যতটা সম্ভব অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা। ম্যাকুলার টেলাঞ্জিয়েকটেশিয়া বা ম্যাকটেল (MacTel) নামের বিরল চোখের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই চিকিৎসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রোগটি চোখের রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশ ম্যাকুলাকে প্রভাবিত করে। ম্যাকুলা মানুষের সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট দৃষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ চিনতে পারা, বই পড়া, টেলিভিশন দেখা কিংবা ছোট অক্ষরের লেখা বোঝার মতো কাজের ক্ষেত্রে এই অংশের ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যাকটেলে আক্রান্ত হিদার হ্যারিস-কেডি নিজের চোখের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন অনুভব করেছেন। তাঁর ভাষায়, একটি চোখ বন্ধ করলে অন্য চোখ দিয়ে কারও মুখ স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন না। তখন সামনে থাকা মানুষের চুল ও চারপাশের দেয়াল দেখা গেলেও মুখটি আর পরিষ্কার বোঝা যায় না। বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রোগের সঙ্গে বসবাস করছেন হিদার। প্রথমে তাঁর ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে বাম চোখেও একই ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। দৃষ্টিশক্তি কতটা কমেছে, তা বোঝার জন্য তাঁকে প্রায়ই একটি চোখ ঢেকে পরীক্ষা করতে হতো। প্রতিদিনের এই অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছিল। রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডিন এলিয়টের মতে, ম্যাকটেল সাধারণত প্রথম দিকে ঝাপসা দৃষ্টি এবং চোখের কেন্দ্রের আশপাশে ছোট ছোট দৃষ্টিহীন অংশ তৈরি করে। রোগটি বাড়তে থাকলে মানুষের সূক্ষ্মভাবে দেখার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পড়া, টেলিভিশন দেখা এবং পরিচিত মানুষের মুখ শনাক্ত করার মতো দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এলিয়ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ার প্রতিষ্ঠানের রেটিনা বিভাগের সাবেক পরিচালক। রোগটি বিরল হওয়ায় এ ধরনের রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আগে এই রোগের অগ্রগতি ধীর করার জন্য অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা ছিল না। গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে অনেক রোগীর পক্ষে বই পড়া কিংবা টেলিভিশন দেখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। হিদারকে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিবর্ধক কাচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস রাখতে হতো। বাক্সের গায়ে লেখা নির্দেশনা কিংবা ছোট অক্ষরের তথ্য পড়তে এগুলো ব্যবহার করতেন তিনি। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে। একসময় হয়তো আর দেখতে পারবেন না, গাড়ি চালাতে পারবেন না—এমন আশঙ্কা তাঁকে তাড়া করত। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু তাঁর নিজের জীবন নয়, স্বামীর জীবনও বদলে যেত। দৈনন্দিন কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ভয়ও ছিল তাঁর। এই পরিস্থিতিতে হিদারের জন্য আশার কারণ হয়ে আসে এনসেলটো (ENCELTO) নামের ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। চালের একটি দানার সমান আকারের এই যন্ত্র অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের ভেতরে বসানো হয়। এর বিশেষ কোষগুলো এমন একটি প্রোটিন তৈরি ও সরবরাহ করে, যা রেটিনার আলোকসংবেদনশীল কোষগুলোকে সুরক্ষা দিতে এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে। রেটিনার এই কোষগুলোকে ফটোরিসেপ্টর বলা হয়। এগুলো আলো গ্রহণ করে দৃষ্টিসংক্রান্ত সংকেত তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ম্যাকটেলের কারণে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমতে থাকে। এনসেলটো থেকে নির্গত সিলিয়ারি নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর বা সিএনটিএফ নামের প্রোটিন এই কোষগুলোর ক্ষয় কমানোর উদ্দেশ্যে কাজ করে। ইমপ্লান্টটির কার্যকারিতা যাচাই করতে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যন্ত্রটি ম্যাকুলার আলোকসংবেদনশীল কোষের ক্ষয় উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে। এই ফলাফল চিকিৎসাটির অনুমোদনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। রেটিনা বিশেষজ্ঞ এলিয়ট এই প্রযুক্তিকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র একটি যন্ত্র চোখের ভেতরে বসিয়ে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করার ধারণাটি একসময় কল্পনাতীত মনে হতো। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রাপ্তবয়স্কদের ইডিওপ্যাথিক ম্যাকটেল টাইপ-২ চিকিৎসায় এনসেলটোর অনুমোদন দেয়। এটি রোগটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রথম চিকিৎসা। হিদার হ্যারিস-কেডি বোস্টনের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ারে এই ইমপ্লান্ট গ্রহণকারী প্রথম রোগী হন। তবে এই চিকিৎসার খরচ বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এলিয়টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমপ্লান্টটির দাম প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তাঁর মতে, চিকিৎসাটির উদ্দেশ্য রোগীর দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা। তবে চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও এটি হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো পদ্ধতি নয়। রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার উপযোগিতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। হিদার হ্যারিস-কেডির জন্য এই চিকিৎসা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তাঁর চোখে কিছুটা দৃষ্টিশক্তি তখনো অবশিষ্ট ছিল। ইমপ্লান্ট পাওয়ার পর তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, অন্তত রোগটির অগ্রগতি থামানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। ম্যাকটেলের মতো বিরল রেটিনার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য এই চিকিৎসা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও সবার ক্ষেত্রে ফলাফল এক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই, তবু রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ হারানোর প্রক্রিয়া ধীর করতে পারা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিশেষ করে যাঁরা এখনো আংশিক দৃষ্টিশক্তি ধরে রেখেছেন, তাঁদের জন্য রোগের অগ্রগতি কমানোর এই সুযোগ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পেনসিলভানিয়ায় গর্ভবতীদের মধ্যে বাড়ছে হাম, সংক্রমণ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে নবজাতক
৭৫০০ কিলোমিটার দূরে বসে রোবটের মাধ্যমে চীনের রোগীর অস্ত্রোপচার করলেন অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক