ঘুম থেকে উঠে মুখের এক পাশ অবশ, কয়েক দিনেই হাঁটার ক্ষমতা হারালেন ২২ বছরের তরুণী
আগের রাতেও সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন মুখের বাঁ পাশ অবশ হয়ে গেছে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কথা বলা ও হাঁটার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে লিলি থর্ন নামের ওই তরুণীর এমন শারীরিক অবস্থার পেছনে বিরল ধরনের স্নায়বিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
নিউইয়র্ক পোস্ট ও ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের কামব্রিয়ার ব্যারো ইন ফার্নেস এলাকার বাসিন্দা লিলি পেশায় একজন হেলথ কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট। গত ১ অক্টোবর স্বাভাবিকভাবেই ঘুমাতে যান তিনি। কিন্তু পরদিন ২ অক্টোবর সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারেন, মুখের বাঁ পাশ ঠিকমতো নাড়াতে পারছেন না। দ্রুত তাঁকে ফার্নেস জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়া হয়।
প্রথমে চিকিৎসকেরা তাঁর বেলস পালসি শনাক্ত করেন। এটি এমন একটি সমস্যা, যাতে মুখের এক পাশের পেশি সাময়িকভাবে দুর্বল বা অবশ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা তাঁকে স্টেরয়েড ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠান। তবে পরদিন থেকেই তাঁর কথা জড়িয়ে যেতে শুরু করে। আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে স্ট্রোক হয়েছে কি না, তা জানতে সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় স্ট্রোকের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এরপর চিকিৎসকেরা রামসে হান্ট সিনড্রোমের সম্ভাবনা বিবেচনা করে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিলি হাঁটা ও কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে দিনে প্রায় ৩০ বার পর্যন্ত তাঁর খিঁচুনি হচ্ছিল। কয়েকটি ঘটনায় তিনি সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতেন।
বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের মূল্যায়নের পর তাঁর ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার বা এফএনডি শনাক্ত হয়। এটি স্নায়ুতন্ত্রের এমন একটি সমস্যা, যেখানে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংকেত আদানপ্রদানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর ফলে হাঁটাচলায় সমস্যা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের দুর্বলতা এবং খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে লিলির ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসকেরা।
লিলির খালা অ্যাশলি থর্ন জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার আগে তাঁর ভাগনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মচঞ্চল ছিলেন। ভ্রমণ করতে ভালোবাসতেন এবং অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই পরিবারের সঙ্গে তুরস্ক থেকে ঘুরে এসেছিলেন। হঠাৎ এমন পরিবর্তনে পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা মানসিক চাপের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা বিবেচনা করলেও নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
গত ২২ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান লিলি। বর্তমানে কিছুটা কথা বলতে পারলেও তাঁর কথা জড়িয়ে যায় এবং তোতলামির সমস্যা রয়েছে। এখনো নিজে হাঁটতে পারছেন না। খিঁচুনিও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আপাতত তিনি পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দৈনন্দিন জীবনযাপন করছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করায় বেসরকারিভাবে চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর পরিবার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশনের খরচ জোগাতে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন স্বজনেরা। তাঁদের আশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে লিলি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরা এবং স্বাধীন জীবনযাপনের সক্ষমতা ফিরে পাবেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, এসডব্লিউএনএস, ৪ নভেম্বর ২০২৬।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
স্বাস্থ্য
View moreআগের রাতেও সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন মুখের বাঁ পাশ অবশ হয়ে গেছে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কথা বলা ও হাঁটার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে লিলি থর্ন নামের ওই তরুণীর এমন শারীরিক অবস্থার পেছনে বিরল ধরনের স্নায়বিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। নিউইয়র্ক পোস্ট ও ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের কামব্রিয়ার ব্যারো ইন ফার্নেস এলাকার বাসিন্দা লিলি পেশায় একজন হেলথ কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট। গত ১ অক্টোবর স্বাভাবিকভাবেই ঘুমাতে যান তিনি। কিন্তু পরদিন ২ অক্টোবর সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারেন, মুখের বাঁ পাশ ঠিকমতো নাড়াতে পারছেন না। দ্রুত তাঁকে ফার্নেস জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়া হয়। প্রথমে চিকিৎসকেরা তাঁর বেলস পালসি শনাক্ত করেন। এটি এমন একটি সমস্যা, যাতে মুখের এক পাশের পেশি সাময়িকভাবে দুর্বল বা অবশ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা তাঁকে স্টেরয়েড ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠান। তবে পরদিন থেকেই তাঁর কথা জড়িয়ে যেতে শুরু করে। আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে স্ট্রোক হয়েছে কি না, তা জানতে সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় স্ট্রোকের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর চিকিৎসকেরা রামসে হান্ট সিনড্রোমের সম্ভাবনা বিবেচনা করে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিলি হাঁটা ও কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে দিনে প্রায় ৩০ বার পর্যন্ত তাঁর খিঁচুনি হচ্ছিল। কয়েকটি ঘটনায় তিনি সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতেন। বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের মূল্যায়নের পর তাঁর ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার বা এফএনডি শনাক্ত হয়। এটি স্নায়ুতন্ত্রের এমন একটি সমস্যা, যেখানে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংকেত আদানপ্রদানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর ফলে হাঁটাচলায় সমস্যা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের দুর্বলতা এবং খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে লিলির ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। লিলির খালা অ্যাশলি থর্ন জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার আগে তাঁর ভাগনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মচঞ্চল ছিলেন। ভ্রমণ করতে ভালোবাসতেন এবং অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই পরিবারের সঙ্গে তুরস্ক থেকে ঘুরে এসেছিলেন। হঠাৎ এমন পরিবর্তনে পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা মানসিক চাপের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা বিবেচনা করলেও নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। গত ২২ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান লিলি। বর্তমানে কিছুটা কথা বলতে পারলেও তাঁর কথা জড়িয়ে যায় এবং তোতলামির সমস্যা রয়েছে। এখনো নিজে হাঁটতে পারছেন না। খিঁচুনিও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আপাতত তিনি পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দৈনন্দিন জীবনযাপন করছেন। এদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করায় বেসরকারিভাবে চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর পরিবার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশনের খরচ জোগাতে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন স্বজনেরা। তাঁদের আশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে লিলি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরা এবং স্বাধীন জীবনযাপনের সক্ষমতা ফিরে পাবেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, এসডব্লিউএনএস, ৪ নভেম্বর ২০২৬।
বাস্তবেই আছে ভ্যাম্পায়ার ও ওয়্যারউলফের মতো বিরল রোগ, শরীরে দেখা দেয় অদ্ভুত লক্ষণ
প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর নতুন ওষুধ, কমেছে স্তন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস
আমেরিকায় নার্সিং পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং বয়স্কদের পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে কর্মীসংকট কমানোর লক্ষ্যে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের ঘোষণায় জানানো হয়, ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মসূচিটির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলো মিলে মোট ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ১০ কোটি ডলার এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর অংশ অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, দেশজুড়ে চার হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় সহায়তা করা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগ্য অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষাঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলারের প্রণোদনা পেতে পারেন। তবে এটি সবার জন্য নিশ্চিত ৫০ হাজার ডলারের নগদ অনুদান নয়। কারও ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা প্রযোজ্য হবে, আবার কারও ক্ষেত্রে স্নাতক হওয়ার সময় ও ঋণের অবস্থা অনুযায়ী প্রণোদনা নির্ধারিত হবে। অর্থ একবারে হাতে দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে তিন বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থ প্রদান করা হবে। অংশগ্রহণকারীকে নির্ধারিত কর্মস্থলে কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং অন্যান্য যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে। এই কর্মসূচিতে মূলত নিবন্ধিত নার্স এবং লাইসেন্সধারী ব্যবহারিক বা বৃত্তিমূলক নার্সদের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসব পদের প্রচলিত নাম যথাক্রমে নিবন্ধিত নার্স এবং এলপিএন বা এলভিএন। আবেদনকারীদের সাধারণত— ১.যোগ্য নার্সিং হোমে চাকরি পেতে হবে। ২.সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। ৩.শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তার জন্য যোগ্য শিক্ষাঋণ থাকতে হবে, অথবা ঋণ না থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী গত দুই বছরের মধ্যে স্নাতক হতে হবে। ৪.যোগ্য প্রতিষ্ঠানে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। অর্থ পাওয়ার সময় সক্রিয় নার্সিং লাইসেন্স এবং কর্মসূচির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নার্সিং শিক্ষার্থীরা লাইসেন্স ও চাকরি পাওয়ার আগেই আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে অর্থ পাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, যোগ্য চাকরি এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। এই কর্মসূচিতে সব নার্সিং হোমের চাকরি যোগ্য হিসেবে গণ্য হবে না। গ্রামীণ এলাকার নার্সিং হোম এবং যেখানে নার্স নিয়োগে বেশি সমস্যা রয়েছে, সেসব এলাকার যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিছু অঙ্গরাজ্যের নার্সিং হোম পরিদর্শক পদও কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে। সরকার জানিয়েছে, ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলেই আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হবে না; প্রতিষ্ঠানটি কর্মসূচির তালিকায় আছে কি না এবং আবেদনকারী নিজে সব শর্ত পূরণ করছেন কি না, তা যাচাই করা জরুরি। আবেদনের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট https://nursesfornursinghomes.cms.gov/ ব্যবহার করতে হবে। সেখানে নিজের যোগ্যতা যাচাই, আবেদনকারীর হিসাব খোলা, যোগ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ খোঁজা এবং আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।আবেদন করার আগে নার্সিং লাইসেন্স, চাকরির তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলে অর্থ চাইলে সতর্ক থাকুন। সরকারি কর্মসূচির শর্ত ও আবেদনপদ্ধতি সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করুন।
ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই
চোখের বিরল রোগে নতুন আশার আলো, চালের দানার সমান যন্ত্রে সুরক্ষিত থাকতে পারে দৃষ্টি
পেনসিলভানিয়ায় গর্ভবতীদের মধ্যে বাড়ছে হাম, সংক্রমণ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে নবজাতক
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে চীনের সাংহাইয়ে থাকা একটি কৃত্রিম কিডনিতে সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা চালিয়েছেন একজন চিকিৎসক। অত্যাধুনিক রোবটিক প্রযুক্তির সাহায্যে তিনি দূর থেকে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম কিডনিতে কাটাছেঁড়া ও সেলাই সম্পন্ন করেন। এই পরীক্ষায় কোনো মানুষের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। তবে সফল পরীক্ষাটি ভবিষ্যতে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিক্যাল সার্জন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রুবান থানিগাসালাম। তিনি সিডনির ক্রিস ও’ব্রায়েন লাইফহাউস হাসপাতালের একটি বিশেষ কনসোলে বসে সাংহাইয়ে স্থাপিত টোমাই নামের সার্জিক্যাল রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন। চিকিৎসক সিডনিতে থাকলেও রোবটের যান্ত্রিক হাতগুলো চীনে রাখা কৃত্রিম কিডনির ওপর কাজ করছিল। অত্যাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসকের হাতের নির্দেশ রোবটের কাছে পৌঁছে যায় এবং সেই অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের কাজ সম্পন্ন হয়। চিকিৎসক রুবান থানিগাসালাম জানান, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশাল দেশে অনেক শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চ প্রশিক্ষিত রোবটিক সার্জনের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের অস্ত্রোপচারের জন্য অনেক রোগীকে দূরের বড় শহরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোকেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। নতুন এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বড় শহরে বসেই দূরবর্তী হাসপাতালের রোগীদের অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। ফলে রোগীদের নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে। পরীক্ষাটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও রোবটের কার্যক্রম সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশ পাঠানো এবং রোবটের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সময়ের ব্যবধান যত কম হয়, তত ভালো। এই সময়ের ব্যবধানকে প্রযুক্তিগত ভাষায় লেটেন্সি বলা হয়। চিকিৎসকের মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে এই ব্যবধান ৫০ মিলিসেকেন্ডের নিচে থাকা ভালো। তবে সিডনি ও সাংহাইয়ের মধ্যে পরিচালিত পরীক্ষায় লেটেন্সি ছিল প্রায় ১৫০ মিলিসেকেন্ড। প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে রোবট পরিচালনার সময় কাজের গতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা অনুভূত হয়নি। অস্ত্রোপচারের আগে যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প সংযোগও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পরীক্ষামূলক পরিবেশে সফল হওয়া এবং বাস্তব রোগীর ওপর নিরাপদে অস্ত্রোপচার করার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। রোবটিক সার্জারি সাধারণ অস্ত্রোপচার থেকে কিছুটা আলাদা। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসক সরাসরি হাতে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র ব্যবহার না করে একটি বিশেষ কনসোল থেকে রোবটের যান্ত্রিক হাত নিয়ন্ত্রণ করেন। রোবটের সঙ্গে যুক্ত ক্যামেরা অস্ত্রোপচারের স্থানটির বিস্তারিত ছবি চিকিৎসকের সামনে তুলে ধরে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী যন্ত্রগুলো নির্দিষ্ট স্থানে কাজ করে। দূরবর্তী রোবটিক সার্জারিতে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নির্ভরযোগ্য তথ্য আদানপ্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে দূর থেকে রোবটিক অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা ও বাস্তব চিকিৎসা পরিচালিত হয়েছে। রুবান থানিগাসালাম জানান, টোমাই রোবটিক সিস্টেম ব্যবহার করে আগে জিব্রাল্টারে থাকা একজন রোগীর প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার লন্ডন থেকে পরিচালনার নজির রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও দূরবর্তী অস্ত্রোপচারে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে সাংহাইয়ের রোবট নিয়ন্ত্রণের সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি দেশটির চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন একটি অগ্রগতি। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালগুলোতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সেবা চালুর সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অবশ্য নতুন প্রযুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা হিসেবে চালু করতে এখনো বেশ কিছু অনুমোদন প্রয়োজন। চিকিৎসক জানান, রোবট ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা, চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনি অনুমোদন এবং ইন্স্যুরেন্সের বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি রোগীর পাশে আরেকটি চিকিৎসক দল উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বাস্তব রোগীর ওপর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরবর্তী রোবটিক সার্জারি সফলভাবে চালু করা গেলে চিকিৎসাসেবায় ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দক্ষ সার্জনের অভাব রয়েছে, সেখানকার রোগীরা বড় শহরের বিশেষজ্ঞদের সেবা পেতে পারেন। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা অন্য হাসপাতালের সার্জনদের দূর থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে প্রযুক্তির নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না করে এটি ব্যাপকভাবে চালু করা সম্ভব নয়। সিডনি থেকে সাংহাইয়ে পরিচালিত পরীক্ষাটি সেই সম্ভাবনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ফ্লোরিডায় রোবটের সাহায্যে ৩৫ মাইল দূরের হাসপাতালে রোগীর সার্জারি করলেন চিকিৎসক
নার্সিংহোমে চাকরিতে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ, নতুন উদ্যোগ