আর্থিক চাপে নর্থওয়েল হেলথ, নিউইয়র্কে সীমিতসংখ্যক চাকরি বিলুপ্তের ঘোষণা
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েল হেলথ আর্থিক চাপ সামলাতে সীমিতসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমান কঠিন স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নর্থওয়েল হেলথের পক্ষ থেকে কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন বা কোন কোন বিভাগে পদ কমানো হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে কিছু কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা অন্য খালি পদে স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ সব কর্মীর ক্ষেত্রে সরাসরি চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
নর্থওয়েল হেলথ নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় বেসরকারি নিয়োগদাতাদের একটি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। লং আইল্যান্ডে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক হাসপাতাল রয়েছে এবং নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কোনো ঘোষণা নয়। বরং কর্মী ও সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করার অংশ হিসেবে সীমিতসংখ্যক পদ কমানো হচ্ছে। নর্থওয়েল বলেছে, কর্মীদের ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যয় বাড়ছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম, কর্মীদের বেতন, ওষুধ, পরিচালন ব্যয় এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের খরচ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে সরকারি স্বাস্থ্যবীমা ও বেসরকারি বিমা থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের যে অর্থ হাসপাতালগুলো পায়, সেটিও অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়ের সঙ্গে সমান গতিতে বাড়ছে না।
এই পরিস্থিতিতে বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী কাঠামো, হাসপাতাল পরিচালনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম নতুন করে পর্যালোচনা করছে।নর্থওয়েলের বর্তমান সিদ্ধান্তও সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা ও কমিউনিটি সেবা চালু রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
নর্থওয়েলের জন্য এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মীদের অন্য বিভাগে স্থানান্তরের সম্ভাবনা। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি কোনো কর্মীর বর্তমান পদ বিলুপ্ত হয় কিন্তু একই ধরনের বা অন্য ধরনের খালি পদ থাকে, তাহলে তাকে সেই পদে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে।
এটি বিশেষ করে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১ লাখের বেশি কর্মী থাকা একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিভাগে নতুন পদ তৈরি হয় এবং কর্মীও অবসর নেন বা অন্য চাকরিতে চলে যান। ফলে একটি বিভাগে পদ কমলেও অন্য বিভাগে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হতে পারে।
নর্থওয়েল হেলথের বর্তমান পরিস্থিতি নিউইয়র্কের চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির সুযোগ এখনো বড় হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষ করে নার্সিং, চিকিৎসা সহায়তা, প্রযুক্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন এবং রোগীসেবা সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু প্রশাসনিক বা কম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাস হতে পারে।
নর্থওয়েলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না হওয়ায় এটিকে বড় ধরনের গণছাঁটাই হিসেবে চিহ্নিত করা এখনই ঠিক হবে না। প্রতিষ্ঠান নিজেই এটিকে সীমিতসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreনিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েল হেলথ আর্থিক চাপ সামলাতে সীমিতসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমান কঠিন স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নর্থওয়েল হেলথের পক্ষ থেকে কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন বা কোন কোন বিভাগে পদ কমানো হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে কিছু কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা অন্য খালি পদে স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ সব কর্মীর ক্ষেত্রে সরাসরি চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হবে না। নর্থওয়েল হেলথ নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় বেসরকারি নিয়োগদাতাদের একটি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। লং আইল্যান্ডে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক হাসপাতাল রয়েছে এবং নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কোনো ঘোষণা নয়। বরং কর্মী ও সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করার অংশ হিসেবে সীমিতসংখ্যক পদ কমানো হচ্ছে। নর্থওয়েল বলেছে, কর্মীদের ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যয় বাড়ছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম, কর্মীদের বেতন, ওষুধ, পরিচালন ব্যয় এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের খরচ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে সরকারি স্বাস্থ্যবীমা ও বেসরকারি বিমা থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের যে অর্থ হাসপাতালগুলো পায়, সেটিও অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়ের সঙ্গে সমান গতিতে বাড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী কাঠামো, হাসপাতাল পরিচালনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম নতুন করে পর্যালোচনা করছে।নর্থওয়েলের বর্তমান সিদ্ধান্তও সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা ও কমিউনিটি সেবা চালু রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। নর্থওয়েলের জন্য এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মীদের অন্য বিভাগে স্থানান্তরের সম্ভাবনা। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি কোনো কর্মীর বর্তমান পদ বিলুপ্ত হয় কিন্তু একই ধরনের বা অন্য ধরনের খালি পদ থাকে, তাহলে তাকে সেই পদে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। এটি বিশেষ করে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১ লাখের বেশি কর্মী থাকা একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিভাগে নতুন পদ তৈরি হয় এবং কর্মীও অবসর নেন বা অন্য চাকরিতে চলে যান। ফলে একটি বিভাগে পদ কমলেও অন্য বিভাগে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। নর্থওয়েল হেলথের বর্তমান পরিস্থিতি নিউইয়র্কের চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির সুযোগ এখনো বড় হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে নার্সিং, চিকিৎসা সহায়তা, প্রযুক্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন এবং রোগীসেবা সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু প্রশাসনিক বা কম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাস হতে পারে। নর্থওয়েলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না হওয়ায় এটিকে বড় ধরনের গণছাঁটাই হিসেবে চিহ্নিত করা এখনই ঠিক হবে না। প্রতিষ্ঠান নিজেই এটিকে সীমিতসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মেডিকেইড কভারেজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা, নতুন নিয়ম কার্যকর, চিকিৎসা কীভাবে চলবে?
জ্বর থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া, নিউমোনিক প্লেগের যেসব উপসর্গ জানা জরুরি
ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়ায় প্লে গের শঙ্কা, পরিস্থিতি নজরদারিতে যুক্তরাষ্ট্র
বয়স বেশি এমন দাতার হৃদপিণ্ড তরুণ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পর জৈবিকভাবে তুলনামূলক তরুণ হওয়ার লক্ষণ দেখাতে পারে। আবার তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপন করলে সেটিতে দ্রুত বয়স বাড়ার আণবিক চিহ্ন দেখা যেতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় এমনই চমকপ্রদ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাটি সেপ্টেম্বর মাসে জীববিজ্ঞানের প্রিপ্রিন্ট প্ল্যাটফর্ম বায়োআরকাইভে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি এখনো পিয়ার রিভিউ সম্পন্ন করেনি। ফলে ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও এখনই চিকিৎসা নীতি পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন না গবেষকেরা। জেসি আর. পোগানিক, তোমোহিসা মাতসুনাগা, আলেকজান্ডার টাইশকোভস্কি, স্টিভ হরভাথ, ভাদিম এন. গ্লাডিশেভসহ গবেষক দলটি মূলত জানতে চেয়েছিল, একটি অঙ্গের ‘জৈবিক বয়স’ শুধু তার দাতার বয়সের সঙ্গে স্থায়ীভাবে নির্ধারিত থাকে কি না, নাকি নতুন শরীরের পরিবেশ সেটিকে পরিবর্তন করতে পারে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রথমে ইঁদুরের ওপর বয়সে অমিল হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা করা হয়। তরুণ ইঁদুরের হৃদপিণ্ড বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে এবং বয়স্ক ইঁদুরের হৃদপিণ্ড তরুণ ইঁদুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করে গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশন, জিন এক্সপ্রেশনসহ বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আণবিক সূচক বিশ্লেষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স অনেকাংশে নতুন শরীরের বয়সের দিকে সরে যাচ্ছে। বয়স্ক হৃদপিণ্ড তরুণ শরীরে যাওয়ার পর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু আণবিক চিহ্ন উল্টো দিকে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটিতে তুলনামূলক দ্রুত বয়স বাড়ার সংকেত দেখা গেছে। গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক একাধিক ‘এজিং ক্লক’ ব্যবহার করে এই পরিবর্তন পরিমাপ করেন। ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে রাসায়নিক পরিবর্তনের ধরন দেখে জীববিজ্ঞানে কোনো টিস্যুর আনুমানিক জৈবিক বয়স নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের এসব বয়সসংক্রান্ত মলিকিউলার প্যাটার্ন দাতার বয়সের চেয়ে গ্রহীতার বয়সের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে পড়ছে। তবে পরিবর্তনটি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েনি। ইঁদুরের পরীক্ষায় প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের বয়স পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেলেও গ্রহীতার নিজস্ব হৃদপিণ্ড, রক্ত বা লিভারের জৈবিক বয়সে একই ধরনের বড় পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। এতে গবেষকদের ধারণা, নতুন শরীরের পরিবেশ বিশেষভাবে প্রতিস্থাপিত অঙ্গটির ওপর প্রভাব ফেলছে। ইঁদুরের ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা যায় কি না, সেটি যাচাই করতে গবেষকেরা ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের পুরোনো হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রেকর্ড ও সংরক্ষিত হৃদপিণ্ডের বায়োপসি নমুনা বিশ্লেষণ করেন। মানবদেহের আণবিক বিশ্লেষণের জন্য বয়সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকা ১১ জন হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর নমুনা নির্বাচন করা হয়। এই ছোট মানব নমুনাতেও একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেশি বয়সী দাতার হৃদপিণ্ড তুলনামূলক কম বয়সী গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটির ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক জৈবিক বয়স কমে যাওয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়। বিপরীত পরিস্থিতিতেও হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স গ্রহীতার বয়সের দিকে সরে যাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে। গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতার বয়স অঙ্গ নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে হৃদপিণ্ডে কাঠামোগত ও কার্যগত পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ায় তুলনামূলক কম বয়সী দাতার হৃদপিণ্ডকে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধুমাত্র দাতার ক্যালেন্ডার বয়স দিয়ে একটি হৃদপিণ্ডের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বিচার করা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে। গবেষকদের মতে, যদি বড় পরিসরের গবেষণায় একই ফলাফল নিশ্চিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তুলনামূলক বেশি বয়সী দাতার কিছু হৃদপিণ্ডও ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিবেচনার সুযোগ বাড়তে পারে। এতে সীমিত সংখ্যক দাতা হৃদপিণ্ডের ব্যবহার আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরোনো হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে নতুন হয়ে যায়। বয়সের কারণে টিস্যুতে তৈরি হওয়া সব ধরনের ক্ষতি উল্টে যায় এমন প্রমাণ গবেষণাটি দেয়নি। বরং গবেষকেরা দেখিয়েছেন, বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট মলিকিউলার ও এপিজেনেটিক বৈশিষ্ট্যের একটি অংশ নতুন শরীরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিবর্তিত হতে পারে। আরেকটি বিষয়ও গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া নিজেই হৃদপিণ্ডের ওপর শারীরিক চাপ তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে জৈবিক বয়স বৃদ্ধির সংকেতও দেখা গেছে। ফলে ‘তরুণ শরীরে গেলেই পুরোনো হৃদপিণ্ড পুরোপুরি তরুণ হয়ে যাবে’ এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো মানুষের ওপর আণবিক বিশ্লেষণের নমুনা সংখ্যা খুবই কম এবং গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউ হয়নি। হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের ধরন, ওষুধ, ইমিউনোসাপ্রেসিভ চিকিৎসা, দাতার স্বাস্থ্য এবং প্রতিস্থাপনের সময়কালসহ বহু বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও গবেষণাটি অঙ্গের বয়স সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এখন পর্যন্ত বয়সকে অঙ্গের প্রায় স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হলেও এই গবেষণা বলছে, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে একটি অঙ্গের জৈবিক বয়স তার চারপাশের শরীরের পরিবেশের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বড় ও দীর্ঘমেয়াদি মানব গবেষণায় ফলাফল নিশ্চিত হলে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতা অঙ্গ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কৌশলে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
বয়স্কদের রোগ এখন তরুণদেরও, ৩০ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে স্ট্রোকের হার
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত যোগসূত্র খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
নিজেকে নিয়েই মগ্ন, অন্যের অনুভূতির মূল্য নেই: আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে চেনার উপায় ও করণীয়
সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো দীর্ঘমেয়াদে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সন্তান জন্মের পর কয়েক বছর এই রোগের ঝুঁকি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। সন্তান জন্ম ও স্তন্যদানের প্রভাব সময়ের সঙ্গে বদলায়। সন্তান জন্মের পর ঝুঁকি কতটা বাড়বে এবং কত দিন থাকবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ক্যানসারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত ১৫টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের আপেক্ষিক ঝুঁকি সন্তান জন্ম না দেওয়া নারীদের তুলনায় প্রসবের প্রায় পাঁচ বছর পর সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই গবেষণায় ৫৫ বছরের কম বয়সী নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় বয়স বেশি হলে এবং স্তন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকির বৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। এই ফল কোনো ব্যক্তির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। অন্যদিকে, বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্তন্যদানের সময় মাসিক চক্রের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শরীরের নিজস্ব কিছু হরমোনের সংস্পর্শও কমে। এটি সুরক্ষামূলক প্রভাবের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে বুকের দুধ খাওয়ালেই স্তন ক্যানসার হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার বিরল। কিন্তু গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় স্তন বড় হওয়া, ভারী লাগা বা টিস্যুর পরিবর্তনের কারণে সন্দেহজনক গুটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, এসব স্বাভাবিক পরিবর্তনের আড়ালে রোগ শনাক্তে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই স্তনে বা বগলে নতুন গুটি, স্থায়ী শক্ত অংশ, ত্বকে টোল পড়া, স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বুকের দুধ ছাড়া অন্য ধরনের নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ স্তনের পরিবর্তন ক্যানসার নয়। তবু কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধু গর্ভাবস্থা বা দুধ জমার ফল ধরে নিয়ে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
ডান পা কাটার কথা ছিল, কেটে ফেলা হলো বাঁ পা; হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা
ইন্স্যুরেন্স নেই? জেনে নিন নিউ ইয়র্কে ফ্রিতে চিকিৎসার পাঁচটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা