সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি ঠান্ডা, লক্ষণ দেখে যেভাবে সহজেই বুঝবেন পার্থক্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৪:০
মৌসুমি অ্যালার্জি ও ঠান্ডার লক্ষণে বিভ্রান্তি বাড়ে
মৌসুমি অ্যালার্জি ও ঠান্ডার লক্ষণে বিভ্রান্তি বাড়ে

যুক্তরাষ্ট্রে শরৎ নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কাশির মতো সমস্যা। কিন্তু এসব উপসর্গ দেখেই বোঝা যায় না, এটি মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি সাধারণ ঠান্ডা। কারণ দুই ধরনের সমস্যার অনেক লক্ষণ একই রকম। আবার ফ্লুর সঙ্গেও কিছু উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই শুরুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

 

শরতের আবহাওয়ায় তাপমাত্রার পরিবর্তনও এ ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসে থাকা পরাগরেণু ও ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে।

 

মৌসুমি অ্যালার্জি মূলত কোনো ভাইরাসজনিত অসুস্থতা নয়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পরাগরেণু, ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর লোমের মতো তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর নয় এমন কোনো উপাদানকে হুমকি হিসেবে শনাক্ত করলে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তখন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা শুরু হয়।

 

মৌসুমি অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, নাক বা গলায় চুলকানি, গলার পেছনে শ্লেষ্মা নামা এবং হালকা কাশি। বিশেষ করে চোখ ও নাকে চুলকানি থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।

 

অন্যদিকে সাধারণ ঠান্ডা ভাইরাসের কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময়, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় এবং শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ব্যক্তির নাক, মুখ বা চোখে ভাইরাস পৌঁছালে সংক্রমণ হতে পারে।

 

সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁচি, গলা ব্যথা ও কাশি। এর সঙ্গে হালকা ক্লান্তি এবং শরীরব্যথাও থাকতে পারে। ঠান্ডার উপসর্গ সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে আসে।

 

অ্যালার্জি ও ঠান্ডার মধ্যে আরেকটি পার্থক্য হলো উপসর্গের ধরন। অ্যালার্জিতে চোখ চুলকানো বা পানি পড়ার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে গলা ব্যথা, ক্লান্তি ও শরীরব্যথা থাকলে ভাইরাসজনিত ঠান্ডার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।

 

ফ্লুর ক্ষেত্রে উপসর্গ সাধারণ ঠান্ডার তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। হঠাৎ করে প্রচণ্ড দুর্বল লাগা, শরীরব্যথা, জ্বর এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে শুধু অ্যালার্জি বা সাধারণ ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

 

মৌসুমি অ্যালার্জির ক্ষেত্রে উপসর্গ কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানো। বাইরে থাকলে পরাগরেণু ও অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কাশির ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ বা মধু ব্যবহার করা হয়। জ্বর বা শরীরব্যথায় অ্যাসিটামিনোফেন কিংবা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

তবে কিছু নাক খোলার স্প্রে টানা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। অক্সিমেটাজোলিনজাতীয় স্প্রে সাধারণত তিন দিনের বেশি ব্যবহার করলে উল্টো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে।

 

জ্বরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে জ্বর খুব সাধারণ লক্ষণ নয়। তাই জ্বরের সঙ্গে তীব্র শরীরব্যথা বা দুর্বলতা থাকলে ফ্লুর মতো অন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে।

 

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়। তবে উপসর্গ ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, ক্রমেই খারাপ হলে কিংবা সাধারণ চিকিৎসায় উপকার না মিললে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

তাই শরতে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা কাশি হলেই সেটিকে ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চোখ-নাক চুলকানো ও বারবার হাঁচির মতো উপসর্গ অ্যালার্জির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, আর গলা ব্যথা, ক্লান্তি, শরীরব্যথা বা জ্বর থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
মৌসুমি অ্যালার্জি ও ঠান্ডার লক্ষণে বিভ্রান্তি বাড়ে
মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি ঠান্ডা, লক্ষণ দেখে যেভাবে সহজেই বুঝবেন পার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্রে শরৎ নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কাশির মতো সমস্যা। কিন্তু এসব উপসর্গ দেখেই বোঝা যায় না, এটি মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি সাধারণ ঠান্ডা। কারণ দুই ধরনের সমস্যার অনেক লক্ষণ একই রকম। আবার ফ্লুর সঙ্গেও কিছু উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই শুরুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।   শরতের আবহাওয়ায় তাপমাত্রার পরিবর্তনও এ ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসে থাকা পরাগরেণু ও ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে।   মৌসুমি অ্যালার্জি মূলত কোনো ভাইরাসজনিত অসুস্থতা নয়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পরাগরেণু, ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর লোমের মতো তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর নয় এমন কোনো উপাদানকে হুমকি হিসেবে শনাক্ত করলে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তখন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা শুরু হয়।   মৌসুমি অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, নাক বা গলায় চুলকানি, গলার পেছনে শ্লেষ্মা নামা এবং হালকা কাশি। বিশেষ করে চোখ ও নাকে চুলকানি থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।   অন্যদিকে সাধারণ ঠান্ডা ভাইরাসের কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময়, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় এবং শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ব্যক্তির নাক, মুখ বা চোখে ভাইরাস পৌঁছালে সংক্রমণ হতে পারে।   সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁচি, গলা ব্যথা ও কাশি। এর সঙ্গে হালকা ক্লান্তি এবং শরীরব্যথাও থাকতে পারে। ঠান্ডার উপসর্গ সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে আসে।   অ্যালার্জি ও ঠান্ডার মধ্যে আরেকটি পার্থক্য হলো উপসর্গের ধরন। অ্যালার্জিতে চোখ চুলকানো বা পানি পড়ার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে গলা ব্যথা, ক্লান্তি ও শরীরব্যথা থাকলে ভাইরাসজনিত ঠান্ডার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।   ফ্লুর ক্ষেত্রে উপসর্গ সাধারণ ঠান্ডার তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। হঠাৎ করে প্রচণ্ড দুর্বল লাগা, শরীরব্যথা, জ্বর এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে শুধু অ্যালার্জি বা সাধারণ ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   মৌসুমি অ্যালার্জির ক্ষেত্রে উপসর্গ কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানো। বাইরে থাকলে পরাগরেণু ও অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।   সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কাশির ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ বা মধু ব্যবহার করা হয়। জ্বর বা শরীরব্যথায় অ্যাসিটামিনোফেন কিংবা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে কিছু নাক খোলার স্প্রে টানা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। অক্সিমেটাজোলিনজাতীয় স্প্রে সাধারণত তিন দিনের বেশি ব্যবহার করলে উল্টো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে।   জ্বরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে জ্বর খুব সাধারণ লক্ষণ নয়। তাই জ্বরের সঙ্গে তীব্র শরীরব্যথা বা দুর্বলতা থাকলে ফ্লুর মতো অন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে।   বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়। তবে উপসর্গ ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, ক্রমেই খারাপ হলে কিংবা সাধারণ চিকিৎসায় উপকার না মিললে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।   তাই শরতে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা কাশি হলেই সেটিকে ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চোখ-নাক চুলকানো ও বারবার হাঁচির মতো উপসর্গ অ্যালার্জির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, আর গলা ব্যথা, ক্লান্তি, শরীরব্যথা বা জ্বর থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৪:০
আলঝেইমারের মতো জৈবিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আফ্রিকান গ্রিন বানর। ছবি: সংগৃহীত

আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাচ্ছে আফ্রিকান বানর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানচিত্রে প্লেগ আক্রান্ত দেশগুলো

রাশিয়ায় প্লেগ সংক্রমণের আশঙ্কা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানচিত্রে উঠে এলো আক্রান্ত দেশগুলো

নিউইয়র্কের রকল্যান্ড কাউন্টিতে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম

নিউইয়র্কে হাম ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা, বাড়ছে টিকাদান ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

ফ্লোরিডায় নতুন রোবটিক স্তন ক্যানসার সা
প্রথমবারের মতো রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং সার্জারি, নতুন আশায় স্তন ক্যানসার রোগীরা

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ধরনের রোবটিক সার্জারি নিয়ে আশার আলো দেখছেন ফ্লোরিডার চিকিৎসকেরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন অপসারণের প্রয়োজন হলেও রোগীর নিপল ও আশপাশের ত্বক সংরক্ষণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসার পর স্বাভাবিক শারীরিক গঠন ও অনুভূতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় নতুন রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন অ্যাডভেন্টহেলথের স্তন সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. দেবিনা ম্যাকক্রে। তিনি এই অঞ্চলে প্রথম সার্জন হিসেবে নতুন পদ্ধতিটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ জন্য তিনি কয়েক মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং শত শত ঘণ্টা এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছেন। নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমিতে স্তনের ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ করা হলেও নিপল ও স্তনের ওপরের ত্বক যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়। পরে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে স্তন পুনর্গঠন করা যেতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাধারণত স্তনের নিচের দিকে তুলনামূলক বড় কাটার প্রয়োজন হয়। এতে অস্ত্রোপচারের পর অনুভূতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। রোবটিক পদ্ধতিতে ছোট একটি কাটার মাধ্যমে বিশেষ ক্যামেরা ও রোবটিক যন্ত্র স্তনের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। সার্জন সরাসরি রোগীর শরীরের ভেতরে হাত না দিয়ে একটি কনসোল থেকে যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। উচ্চ-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় অস্ত্রোপচারের জায়গাটি বড় করে দেখা যায়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু ও রক্তনালিগুলো আরও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে কাজ করা সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো নিপল ও ত্বকে রক্তপ্রবাহ যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখা। এর ফলে পুনর্গঠনের পর চেহারা আরও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্নায়ু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে নিপলে অনুভূতি ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। ডা. ম্যাকক্রের মতে, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় শুধু রোগ থেকে মুক্ত হওয়াই শেষ কথা নয়। চিকিৎসার পর একজন রোগী কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কেমন অনুভব করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের সাহস দেওয়া এবং তাদের জানানো যে চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এই বিষয়টিকেই তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অল্পসংখ্যক সার্জন এই রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফলে এটি এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। মেয়ো ক্লিনিকও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কেন্দ্রে রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রোবটিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ছোট কাটার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার, উন্নত দৃশ্যমানতা এবং সূক্ষ্মভাবে টিস্যু অপসারণের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নিপল ও ত্বকের রক্তপ্রবাহ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী পুনর্গঠনের ফল আরও ভালো করার সম্ভাবনাও রয়েছে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার অনেক রোগীর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা। তাই চিকিৎসার কার্যকারিতা বজায় রেখে শরীরের স্বাভাবিক গঠন ও অনুভূতি যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করতে পারলে তা রোগীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে নির্বাচিত রোগীদের জন্য চিকিৎসার আরেকটি বিকল্প তৈরি হবে। তবে পদ্ধতিটি কত দ্রুত আরও রোগীর জন্য সহজলভ্য হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ও রোগীদের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আরও পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৬:৩৩
জন্মের পূর্বেই শিশুর ফুসফুসের টিউমারের চিকিৎসা! চীনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক

জন্মের পূর্বেই শিশুর ফুসফুসের টিউমারের চিকিৎসা! চীনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক

দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত

দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত

সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণা

ক্যান্সারের ১২ শতাংশের পেছনে এই সংক্রমণ, নতুন গবেষণায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

চোখের যত্নে প্রতিদিনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো।   লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন।   এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।   চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।   পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত।   ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে।   লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়।   তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।   চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:১২
সাইবেরিয়ায় প্লেগের আশঙ্কা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমেরিকা

সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়াকে সহায়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প

নর্থওয়েল হেলথ

আর্থিক চাপে নর্থওয়েল হেলথ, নিউইয়র্কে সীমিতসংখ্যক চাকরি বিলুপ্তের ঘোষণা

মেডিকেইড

মেডিকেইড কভারেজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা, নতুন নিয়ম কার্যকর, চিকিৎসা কীভাবে চলবে?

0 Comments