সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

নাকের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে আর ফিরল না ১১ বছরের শিশু, সাভারের হাসপাতালে ভাঙচুর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১০:১৭
উলাইলে অবস্থিত আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল
উলাইলে অবস্থিত আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল

সাভারে নাকের পলিপ ও টনসিলের সমস্যার অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলাইলে অবস্থিত আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম আব্রাহাম। সে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলীমের ছেলে।

 

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন না করেই চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শিশুটির মা কোনা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কয়েক দিন আগে নাকের পলিপ ও টনসিলের সমস্যার জন্য তাঁরা চিকিৎসক ডা. মো. সুমন হোসেনের কাছে যান। চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার কথা বলেছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসিজি করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় ইকোকার্ডিওগ্রাম করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁরা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে তৎপরতা দেখা যায়। তাঁদের জানানো হয়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া প্রয়োজন। পরে দুপুরের দিকে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনেরা বেসরকারি হাসপাতালটিতে ভাঙচুর করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে।

 

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে সেখানে নেওয়ার সময় তার হৃদ্‌স্পন্দনসহ জীবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে বাহ্যিক কাটাছেঁড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি; তবে নাক ও মুখে রক্তের চিহ্ন ছিল। অ্যানেস্থেশিয়ার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হয়েছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে শুনেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই ছাড়া নিশ্চিত বলা যায় না।

 

ঘটনাটি শিশুদের অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জরুরি চিকিৎসা প্রস্তুতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো
ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো, রোগ ফেরার ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় বড় অগ্রগতির খবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। রোগীর শরীরের ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি নতুন এমআরএনএ টিকা ব্যবহারে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্কের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ফল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত গবেষণার বিস্তারিত ফলাফলে ক্যানসারের ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে পরীক্ষামূলক এই টিকা এখনো সাধারণ রোগীদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পায়নি।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন টিকাটির নাম ইন্টিসমেরান অটোজিন। এটি এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি, যে প্রযুক্তি করোনাভাইরাসের টিকা তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে প্রচলিত টিকার সঙ্গে এর গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে এই টিকা তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে ক্যানসার কোষ আবার তৈরি হলে তা শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে।   গবেষণার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ১৩৭ জন মেলানোমা রোগী। তাঁদের প্রত্যেকের শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর সবাইকে প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটি দল অতিরিক্তভাবে নতুন এমআরএনএ টিকা পান, অন্য দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো। প্রায় দুই বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, টিকা পাওয়া রোগীদের ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যানসার ফিরে আসেনি। অন্যদিকে শুধু প্রচলিত চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭০ শতাংশ।   গবেষণার বিস্তারিত ফল অনুযায়ী, নতুন টিকা ও কিট্রুডা একসঙ্গে ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর আপেক্ষিক ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ। তবে এর অর্থ এই নয় যে টিকা গ্রহণকারী প্রত্যেক রোগীর ক্যানসার সেরে গেছে কিংবা তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। গবেষণায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগ ফিরে আসা এবং মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়েছে। রোগীদের সামগ্রিক আয়ু কতটা বাড়বে, তা জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।   নতুন এই চিকিৎসাপদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা টিকা তৈরি করা। প্রথমে অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা টিউমারের নমুনা থেকে জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেন গবেষকেরা। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে এমন এমআরএনএ টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষের বিশেষ প্রোটিন চিনতে সহায়তা করে। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের সর্বোচ্চ নয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ডোজের মধ্যে তিন সপ্তাহের ব্যবধান রাখা হয়। মডার্নার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, টিউমারের জিনগত বিশ্লেষণ থেকে টিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের চিকিৎসক ও গবেষক ড. হুসেইন তাওবি এই ফলাফলকে ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। গবেষণায় সরাসরি যুক্ত নন এমন বিশেষজ্ঞরাও ব্যক্তিভিত্তিক টিকার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির লম্বার্ডি কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের উপপরিচালক ড. মাইকেল অ্যাটকিনস মনে করেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে আসতে পারে। তবে অন্য ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা পৃথক গবেষণায় নিশ্চিত করতে হবে।   গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬২ বছর বয়সী টনি হাউটের অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কানে দীর্ঘদিন ধরে একটি ক্ষত থেকে মাঝেমধ্যে রক্তপাত হচ্ছিল তাঁর। পরে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মেলানোমা শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তিনি এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের পরীক্ষামূলক চিকিৎসায় অংশ নেন। সর্বশেষ পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে একজন রোগীর এই ফলাফল দিয়ে সবার ক্ষেত্রে চিকিৎসাটির কার্যকারিতা নির্ধারণ করা যায় না।   নতুন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা, ক্লান্তি এবং শরীরের অন্যান্য সাময়িক অস্বস্তি। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় গুরুতর চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার নতুন টিকা ও কিট্রুডা পাওয়া দলে ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু কিট্রুডা পাওয়া দলে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   এর আগে দ্বিতীয় ধাপের গবেষণায় পাঁচ বছরের পর্যবেক্ষণে নতুন টিকার সঙ্গে কিট্রুডা ব্যবহারে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯ শতাংশ কমার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেটি ছিল তুলনামূলক ছোট গবেষণা। নতুন তৃতীয় ধাপের বড় পরীক্ষায় ঝুঁকি কমার হার পাওয়া গেছে ৪২ শতাংশ। দুটি ফল আলাদা গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সময়ের ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় এগুলোকে একই ফল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। সর্বশেষ গবেষণার বিস্তারিত ফল ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজির সম্মেলনে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মডার্না ও মার্ক জানিয়েছে, তারা নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এখনো এই টিকা অনুমোদন করেনি। ফলে এটি বর্তমানে সাধারণ রোগীদের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না। টিকাটির সম্ভাব্য দামও প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে উৎপাদনের প্রয়োজন হওয়ায় ভবিষ্যতে এর খরচ ও সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।   মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের একটি গুরুতর ধরন, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে ফুসফুস, কিডনি, অগ্ন্যাশয়সহ আরও কয়েক ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে নতুন ফলাফলকে সব ধরনের ক্যানসারের প্রতিষেধক আবিষ্কার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও পরীক্ষা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া সফল হলে ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ টিকা ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৩:১৬
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ঝুঁকিতে শিশুরা! মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২১৪ জন

মেলানোমার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার টিকা

ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে নতুন টিকার সাফল্য, রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা কমেছে ৪২ শতাংশ

উলাইলে অবস্থিত আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল

নাকের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে আর ফিরল না ১১ বছরের শিশু, সাভারের হাসপাতালে ভাঙচুর

গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ
গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস প্রথমবার মানুষের শরীরে, ফ্রান্সে রোগীর মৃ ত্যু

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে অক্টোবরে মা রা যান। বৃহস্পতিবার ফরাসি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের কারণে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা হয়নি। তবে রোগীর অসুস্থতা ও সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে।   শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে গরুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত পোকামাকড়ের কা মড়ের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। এত দিন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্রান্সে এই রোগীর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়াকে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরাসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে লিয়ঁ শহরের হসপিস সিভিলস দ্য লিয়ঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অক্টোবরে তাঁর মৃ ত্যু হয়। রোগীর মস্তিষ্কে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনাকে চিকিৎসকেরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে এই সম্পর্ক নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল, পরীক্ষাগারভিত্তিক ও মহামারিবিষয়ক তদন্ত চলছে। অর্থাৎ, ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হলেও রোগীর অসুস্থতার সব পর্যায়ে এর ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রোগীটি দেশটির পূর্বাঞ্চলে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। ২০২৬ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। তবে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কয়েক দশক ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণীর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে এর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে ইউরোপের একাধিক দেশেও ভাইরাসটির বিস্তার শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় এর উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের অধীন জার্সি দ্বীপেও গরুর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য, বিস্তার এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ জ্বর, পাতলা পায়খানা, পেটের অস্বস্তি, অবসাদ এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত গরুর প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে গর্ভপাত বা ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রাণিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। গরু ছাড়াও ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও আলপাকার মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির বিস্তার এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি এক বিষয় নয়। এ দুটি ক্ষেত্রে আলাদা করে গবেষণা ও নজরদারি প্রয়োজন। শামোন্ডা ভাইরাস আরএনএ ভাইরাসের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সিমবু শ্রেণিগোষ্ঠীর অর্থোবুনিয়াভাইরাস। জিনগতভাবে এটি শ্মালেনবার্গ ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে একই গোষ্ঠীর ভাইরাস হওয়া মানেই তাদের সংক্রমণপদ্ধতি বা মানুষের ওপর প্রভাব অভিন্ন—এমন নয়। এখন পর্যন্ত শামোন্ডা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা সহজলভ্য নেই। প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ওপর এর প্রভাব কতটা, তা বোঝার জন্য গবেষণা চলছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়া প্রথম ঘটনাটির কারণ ও তাৎপর্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা থেকে ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বর্তমান মূল্যায়নেও সাধারণ জনগণের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আগে থেকেই কম ছিল এবং তাঁর মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে ঘটনাটি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাণীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ভাইরাস মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়ায় এর সংক্রমণক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চলমান তদন্তের ফলই নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে, ঘটনাটি কতটা ব্যতিক্রমী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য কী ধরনের নজরদারি প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৫:৩৫
নিয়মিত হাঁটাচলার সঙ্গে মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতার ইতিবাচক সম্পর্ক পেয়েছেন গবেষকেরা

প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ হাজার পা হাঁটলেই মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতায় মিলতে পারে উন্নতি

ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন

আমেরিকার টপ ডাক্তার জিয়াউদ্দিনের সিলেটের ২০০ শয্যার কিডনি হাসপাতাল, অসচ্ছলদের ফ্রি চিকিৎসা

প্রোস্টেটের এমআরআই ছবিতে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি

প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল
অস্ত্রোপচারের সময় ক্যানসার কোষ দেখতে সহায়ক, আশ্চর্যজনক চশমা উদ্ভাবন করেন নাইজেরীয় চিকিৎসক

অস্ত্রোপচারের সময় টিউমারের টিস্যু আলাদা করে দেখতে সার্জনদের সহায়তার জন্য বিশেষ চশমা তৈরি করেছেন নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল। ‘মেডিক্যাল ভিশন গগলস’ নামের প্রযুক্তিটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থের ফ্লুরোসেন্ট সংকেত শনাক্ত করে অস্ত্রোপচারের স্থানের ওপর দৃশ্যমান ছবি দেখায়। এর লক্ষ্য, খালি চোখে বোঝা কঠিন এমন টিউমারের অংশ শনাক্তে চিকিৎসককে বাড়তি সহায়তা দেওয়া।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রযুক্তির প্রাথমিক উন্নয়ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাইটম্যান ক্যানসার সেন্টারে প্রথমবার অস্ত্রোপচারে এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে এটি একেবারে নতুন উদ্ভাবন নয়; এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলছে।  আচিলেফু বর্তমানে ডালাসের ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। সেখানে তাঁর দল বহনযোগ্য ইমেজিং যন্ত্র ও অস্ত্রোপচারে টিউমার শনাক্তের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।    এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে একটি ফ্লুরোসেন্ট কনট্রাস্ট এজেন্ট দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট আলো পড়লে সংশ্লিষ্ট টিস্যু থেকে যে সংকেত আসে, চশমার ক্যামেরা তা শনাক্ত করে। প্রসেসর সেই সংকেতকে দৃশ্যমান ছবিতে রূপান্তর করে সার্জনের দেখার জায়গায় তুলে ধরে। এতে অস্ত্রোপচারের স্থান ও চিহ্নিত টিস্যুর ছবি একই সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়। ক্যানসার অস্ত্রোপচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো টিউমারের সীমানা এবং অপসারণের পর অবশিষ্ট অংশ শনাক্ত করা। চশমাটি সেই সিদ্ধান্তে সহায়তার জন্য তৈরি। তবে এটি সব ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করার যন্ত্র নয়, আর কোনো সংকেত না দেখালেই শরীরে ক্যানসার নেই, এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না।    যন্ত্রটি সাশ্রয়ী করতেও কাজ করছেন গবেষকেরা। ইউটি সাউথওয়েস্টার্নে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি সংস্করণে দুই হাজার ডলারের বৈজ্ঞানিক ক্যামেরার পরিবর্তে ৫০ ডলারের কম দামের রাস্পবেরি পাই ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি শুধু ক্যামেরার দাম, পুরো চশমা বা চিকিৎসাপদ্ধতির মোট খরচ নয়।   গবেষণায় প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা দেখা গেলেও ব্যাপক চিকিৎসা ব্যবহারের জন্য উন্নয়ন চলমান। ওই বিবরণে গবেষণাগারের যন্ত্রকে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর এবং এফডিএর অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৩:৩৫
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর কলেরা প্রতিরোধে অবদান

বাংলাদেশের ফিরদৌসী কাদরীকে নিয়ে বিল গেটসের ভিডিও, তুলে ধরলেন জীবন বাঁচানোর গবেষণা

স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ২৩ লাখ ডলারের বেশি ফেডারেল তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে।

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় লাখ লাখ ডলার, মায়েদের চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে থাকুন, শুনুন তাঁর কথা

বন্ধুর কষ্ট কমাতে চান, তাহলে এড়িয়ে চলুন প্রচলিত পাঁচটি কথা ও আচরণ

0 Comments