ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কৌশলগত চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন। তিনি এ মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপোর–এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে।
সাক্ষাৎকারে মুলেন বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভাণ্ডারের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে। ফলে সংঘাত আরও তীব্র হলে এসব ঘাঁটি হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসকারী বোমা ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র থাকলেও ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সহজ হবে না। এমনকি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালেও তা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
তার মতে, কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়, এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকেই অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলায় “মিসাইল ফ্রম স্পেস” ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, “মিসাইল ফ্রম স্পেস” আসলে কোনো মহাকাশ থেকে নিক্ষেপ করা অস্ত্র নয়। এটি মূলত এমন একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক ওপরে উঠে যায় এবং পরে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই ধরনের মিসাইলের গতিপথ সাধারণত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যাকে অনেক সময় “নিয়ার-স্পেস” বলা হয়। মিসাইলটি প্রথমে শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে দ্রুত আকাশে উঠে যায়। এরপর এটি একটি বাঁকা বা ব্যালিস্টিক গতিপথে অনেক দূর পর্যন্ত ভ্রমণ করে এবং শেষ ধাপে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এই কারণেই অনেক সংবাদমাধ্যম সহজভাবে বোঝাতে এটিকে “স্পেস থেকে আসা মিসাইল” বলে উল্লেখ করে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি ইসরায়েলের পরীক্ষামূলক Blue Sparrow missile–এর মতো হতে পারে। এই ধরনের মিসাইল সাধারণত যুদ্ধবিমান বা বিশেষ লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আগে বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে উঠে যায়। পরে রি-এন্ট্রি বা পুনঃপ্রবেশের সময় এটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে নিচে নেমে আসে, যার ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটিকে আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মিসাইল ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো এর গতি এবং আক্রমণের কোণ। মিসাইলটি এত দ্রুত এবং এত উঁচু থেকে নিচে নেমে আসে যে অনেক সময় শত্রু দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তা শনাক্ত বা প্রতিহত করার আগেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এ কারণে আধুনিক যুদ্ধে এই ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইলকে অত্যন্ত কার্যকর ও মারাত্মক অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “মিসাইল ফ্রম স্পেস” শব্দটি মূলত একটি মিডিয়া বর্ণনা। বাস্তবে এটি মহাকাশ থেকে ছোঁড়া কোনো অস্ত্র নয়; বরং এমন একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল যা আক্রমণের আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক ওপরে উঠে আবার দ্রুত গতিতে নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।
চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় অধ্যাপক শুইচিন জিয়াংয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছেন। ভিডিওটি ২০২৪ সালের মে মাসে ধারণ করা হয়েছিল। জিয়াং বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস পড়ান এবং ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রেডিকটিভ হিস্ট্রি’-তে তিনি বিভিন্ন বৈশ্বিক ঘটনার বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। চ্যানেলটির অনুসারী সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি। ওই ভিডিওতে তিনি তিনটি পূর্বাভাস দেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরবেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করবেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হবে। ভিডিওতে জিয়াং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান আক্রমণকে ঐতিহাসিক সিসিলি অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, দীর্ঘ সরবরাহ পথ এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ যেকোনো সামরিক অভিযানের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদে কঠিন করে তুলতে পারে। এরই মধ্যে তার প্রথম দুটি পূর্বাভাস বাস্তবে ঘটেছে বলে দাবি করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী। ফলে অনেকে তাকে ‘চীনের নস্ট্রাডামাস’ বলেও অভিহিত করছেন। জিয়াং সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের সম্ভাব্য দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের সঙ্গে সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তার মতে, ভূরাজনৈতিক চাপ ও জটিল ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে সামরিকভাবে প্রাথমিক সাফল্য এলেও তা শেষ পর্যন্ত কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক কৌশলগত সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করতে পারে—এমন আলোচনা আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ABC News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইরানি কুর্দি বিরোধী নেতা বলেছেন, তাদের বাহিনী “যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত”। তিনি জানান, পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা ইরানের ভেতরে সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে প্রস্তুত। খবরে বলা হয়েছে, ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নেওয়া কয়েকটি কুর্দি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তেহরান সরকারের বিরোধিতা করে আসছে। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিলে ইরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কুর্দি শক্তিকে সমর্থন দেয়, তাহলে তা ইরানের অভ্যন্তরে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং যুদ্ধের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে বিদেশি শক্তিগুলো কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। তবে কুর্দি বিরোধী দলগুলো বলছে, তারা ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই কুর্দি শক্তিকে ঘিরে নতুন এই সম্ভাব্য সমীকরণ অঞ্চলটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।