আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে খাদ্য ও গ্যাস সংকটের আশঙ্কা; গোপন পরিকল্পনায় সতর্কতা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৭:১৬
ছবি: রয়টার্টস
ছবি: রয়টার্টস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপের দেশগুলোতে পড়তে শুরু করেছে, যার ফলে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের খাদ্য ও শিল্প সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে পানীয় শিল্প এবং চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়তে পারে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আসন্ন গ্রীষ্মজুড়ে দেশটিতে খাদ্য সরবরাহে চরম চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

 

ব্রিটিশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ‘এক্সারসাইজ টার্নস্টোন’ নামক একটি মহড়ার মাধ্যমে যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। ফাঁস হওয়া গোপন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরবরাহ বর্তমানের মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মুরগি ও শূকর জবাই প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। এছাড়া রক্ত, অঙ্গ এবং ভ্যাকসিন সংরক্ষণে ব্যবহৃত ড্রাই আইস সংকটে প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

 

যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে জি৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের হিসাব মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে চলতি বছর প্রতিটি পরিবারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০ পাউন্ড খরচ করতে হতে পারে। কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনে জরুরি আইন জারি করে অন্যান্য শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার বিষয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার নিজে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফাঁস হওয়া তথ্যে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে। বর্তমানে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা না থাকলেও সুপারমার্কেটে পণ্যের বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে জনগণকে সরাসরি অবহিত করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে ৬ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদী একটি সাময়িক চুক্তির সুবাদে মাত্র এক মাসে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করেছে ইরান। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তেহরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ তেলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরমাণু অস্ত্রবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর (উয়ানি) দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে ডব্লিউএসজে।   প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইরানের অন্তত ২০টি তেলের ট্যাঙ্কার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কারণেই ইরান এত বিশাল পরিমাণ তেল নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার বিরল সুযোগ পায়। এই তেল রপ্তানির ফলে ইরানের অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এর আগে গত ২২ জুন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) একটি সাধারণ লাইসেন্স জারির মাধ্যমে এই শিথিলতা এনেছিল। ওই নথিতে ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির ওপর চলমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত এই সুযোগ বজায় থাকার কথা ছিল। তবে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত বেশিদিন টেকেনি।   গত ৭ জুলাই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জুন মাসে জারি করা সেই সাধারণ লাইসেন্সটি আকস্মিকভাবে বাতিল ঘোষণা করে। নতুন নির্দেশনায় ইরানের তেল খাতের ওপর পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এই খাতে সব ধরনের নতুন লেনদেন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে অর্থনৈতিক চাপে পড়তে যাচ্ছে তেহরান।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৩:১৮
ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান সংঘাতের জেরে গত সপ্তাহের শেষভাগে ইসরায়েলে পৌঁছেছে ১৪টি মার্কিন রিফুয়েলিং যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ইসরায়েলে পৌঁছাল ১৪টি মার্কিন তেলবাহী যুদ্ধবিমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিতর্কিত পারমাণবিক সমঝোতা পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

ইরান উত্তেজনার মাঝেই সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে ইসরাইলি অবৈধ বসতির পণ্য আমদানিতে বেলজিয়ামের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীরের ইসরাইলি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বেলজিয়াম

কেবল মুখে গালিগালাজ বা অভদ্র আচরণকে আইনিভাবে 'অশ্লীলতা' বলা যাবে না বলে ঐতিহাসিক রায় দিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
গালিগালাজ বা অভদ্র আচরণকে ‘অশ্লীলতা’ বলা যাবে না, ঐতিহাসিক রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে যে কেবল গালিগালাজ, অভদ্র আচরণ বা কোনো ধরনের কটু কথা যতই আপত্তিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গণ্য হবে না। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেবল মুখে গালিগালাজ বা অশোভন ভাষা ব্যবহার করলেই তা দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারার আওতায় কোনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।   বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি দিয়েছে। নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ বহাল রেখে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির দায়ের করা আপিল শুনানির সময় শীর্ষ আদালত এই রায় দেয়। রায়ে আদালত উল্লেখ করে, কোনো বক্তব্য বা উচ্চারণকে তখনই কেবল ‘অশ্লীল’ হিসেবে গণ্য করা যাবে, যখন প্রমাণ হবে যে সেটি ছিল অতিরিক্ত কামোদ্দীপক, যা মানুষের মনে বিকৃত ও কলুষিত চিন্তার উদ্রেক করে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে।   সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ তাদের রায়ে স্পষ্ট করে জানায়, আইনের এই মানদণ্ডে বিচার করলে, অভিযোগকারী যে সমস্ত অভিযোগ এনেছেন তা যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও অভিযুক্তের মুখের কথাগুলোকে কোনোভাবেই অশ্লীল বলা যায় না। এই ধরনের শব্দগুলো যতই গালিগালাজপূর্ণ, অপ্রীতিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারার শর্ত পূরণ করে না। তাছাড়া, আইপিসির এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হতে হলে জনসমক্ষে সেই শব্দের কারণে অন্য কেউ বিরক্ত বা উত্যক্ত হয়েছেন—এমন প্রমাণ থাকতে হয়, যা এই মামলায় অনুপস্থিত ছিল। ফলে আদালত জানায় যে, আইপিসির ২৯৪(বি) ধারার অধীনে এই অপরাধটি এখানে গঠিতই হয়নি।   আলোচ্য মামলাটি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি কৃষি জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। জমি নিয়ে মামলাকারীর সঙ্গে তার দুলাভাইয়ের ঝগড়া হয় এবং এর দুদিন পর একই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাগ্নের সাথেও তার নতুন করে বিরোধ বাধে। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, ওই সময় অভিযোগকারী মধ্যস্থতা করতে এলে মামলাকারী তাকে নানা কটু কথা, গালিগালাজ এবং জাতিগত বৈষম্যমূলক স্লোগান দিয়ে আক্রমণ করেন।   এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারিক আদালত মামলাকারীকে দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারায় অশ্লীলতা, ৩২৬ ধারায় গুরুতর আঘাত এবং ৫০৬(২) ধারায় অপরাধমূলক হুমকির পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরবর্তীতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট মামলাকারীকে তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীন অন্যান্য ধারাগুলোর সাজা বহাল রেখেছিল, যা অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংশোধন করে দিল।   সূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১০:৫১
মোজতবা খামেনি। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলবে না: মোজতবা খামেনি

ছবি: সংগৃহীত

নাগরিকত্ব বিক্রি বন্ধ না করলে শেনজেনে ভিসা-মুক্ত সুবিধা বাতিল: ৫ দেশকে ইইউ-র আলটিমেটাম

ছবি: সংগৃহীত

ভিসা আবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য যে নির্দেশ দিলো মার্কিন দূতাবাস

জর্ডানে সেনা নিহতের জেরে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে মার্কিন হামলা I ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে সেনা নিহতের জেরে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে মার্কিন হামলা

জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের জেরে এবার সরাসরি ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।   ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হত্যার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের এই কর্মকাণ্ডের 'দ্রুত শাস্তি' নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   পাশাপাশি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টির যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা আরও দুর্বল করে দেওয়াই এই বিমান হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৮:৫৭
যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়ন মামলায় তিন বাংলাদেশিসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়ন মামলায় তিন বাংলাদেশিসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত I ছবি: সংগৃহীত

জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহতের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী

নেতানিয়াহু পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হলে দেশ ছাড়তে চান ২৩ শতাংশ ইসরায়েলি

0 Comments