আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল নয়, ইরানই এখন ‘প্রধান শত্রু’: আমিরাত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১:৫১
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ | ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ | ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ইসরায়েল নয়, বরং ইরানই ‘প্রধান শত্রু’। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দুবাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। গারগাশ বলেন, আরব বিশ্বের অনেক দেশ ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও, হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে।

 

ড. গারগাশ উল্লেখ করেন, জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের কারণে তেহরানের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে আমিরাতের গভীর ও যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, ইরান যদি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করে, তবে আমিরাতেরও অধিকার রয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার গ্যারান্টি এবং ক্ষতিপূরণ চাওয়ার।

 

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই আমিরাত এখন ইরানকে তাদের প্রধান হুমকি হিসেবে গণ্য করছে বলে তিনি জানান। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জাতিসংঘে যত সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাব এসেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: দাবি ইরানের

জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসদমন নিয়ে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে দেশ দুটির নেতিবাচক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই কড়া মন্তব্য করা হয়।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এমন বিরোধিতাপূর্ণ আচরণের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসদমন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশ দুটির ধারাবাহিক নেতিবাচক ভোটদানের ধরন প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, “এগুলো কি তাদের আসল রূপ উন্মোচন করছে না?”   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্রের মতে, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি বৈশ্বিক ও সর্বজনীন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আসে। বিশ্বমঞ্চে তাদের এই অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৫:২১
মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর

একটি নয়, দুটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর

আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক হওয়া গাজাগামী মানবিক সাহায্যবাহী নৌবহরের নারী কর্মীকে বন্দিশালায় নির্যাতনের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি কারাগারে জার্মান অধিকারকর্মীকে ধর্ষণ, তদন্তের দাবিতে আইনি লড়াই

ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন সেরহি কোরেৎসকি। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা কোরেৎসকি

জার্মানির আসন্ন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কড়া আহ্বান জানালেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। ছবি : রয়টার্স
জার্মান নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা ট্রাম্পের, মের্ৎসের কড়া হুঁশিয়ারি

জার্মানির আসন্ন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জার্মানির আইনে বিদেশ থেকে কোনো রাজনৈতিক দলকে অর্থায়ন করা সম্পূর্ণ অবৈধ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউরোপে ‘মাগা’ সমর্থিত বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থায়নের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, থিংক ট্যাংক ও ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।   তবে এই অর্থায়ন তাদের জন্যই বরাদ্দ থাকবে যারা জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অভিবাসন, সেন্সরশিপ ও আইনগত হয়রানির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন, আইনের শাসন এবং পশ্চিমা সভ্যতার যৌথ ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউরোপীয় রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এমন উদ্বেগের মধ্যেই জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, “আমরা যেমন আমেরিকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করি না, তেমনি আমি চাই না মার্কিন সরকার বা সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো প্রতিষ্ঠান জার্মান নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করুক।”   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এক প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, এই অনুদান কর্মসূচি ইউরোপের ডানপন্থী গোষ্ঠী এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা দিতে সরকারি অর্থ পুনর্বিন্যাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউরোপের রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থায়নে আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সহায়তাসংক্রান্ত আইন এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১২:১৩
লন্ডনের গণপরিবহন সংস্থায় সাইবার হামলার অপরাধে দুই তরুণ হ্যাকারকে সাড়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থায় সাইবার হামলা, বাংলাদেশী বংশদ্ভূত দুই হ্যাকারকে সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানালেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা নেই, হামলার জবাব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইরানের

কানাডার শহর।  ছবি:সংগৃহীত

স্থায়ী বসবাসের জন্য পরিবারের সদস্যদের স্পন্সর স্থগিত করল কানাডা

ইরান-ইসরায়েল পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটকে থাকা মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে মুক্তি দিল ইরান

ইরান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিক ডেনা কারারিকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হলেও তিনি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারাগারে বন্দি ছিলেন না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাকে ইরান ছাড়তে বাধা দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে।    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারারির মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি "সদিচ্ছার পদক্ষেপ" বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কারারি নিরাপদে ইরান ত্যাগ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।  কারারির আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে ইরানে যাওয়ার পর থেকেই কারারিকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে তাকে বহুবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং দীর্ঘদিন বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকতে হয়।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেনা কারারি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন এবং একই সঙ্গে ইরানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় একটি দাতব্য উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আটক ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।  কারারির মুক্তির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।  কারারির মুক্তি মানবিক বা কূটনৈতিক ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হলেও এটি দুই দেশের চলমান সংঘাতের সমাধানের ইঙ্গিত নয়। বরং সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক এখনো গভীর সংকটের মধ্যেই রয়েছে।  মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান প্রায়ই দ্বৈত নাগরিকদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে আটক করে এবং তাদের কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবে ব্যবহার করে। ইরান অবশ্য এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ৫:৩৭
স্পেনে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ইসলাম I ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ইসলাম, মুসলিম জনসংখ্যা ছাড়াল ২৫ লাখ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা, বড় সংঘাতে যেতে ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—দাবি ইরানের

আরব আমিরাতে স্পনসর ছাড়াই ৫ বছরের ভিসা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আরব আমিরাতে স্পনসর ছাড়াই ৫ বছরের ভিসা, সুযোগ পাবেন যেসব দেশের নাগরিকরা

0 Comments