জাপানের একটি জনবহুল শহরে প্রথমবারের মতো বন্য ভাল্লুকের দেখা মেলায় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ৯৪টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রাজধানী টোকিও থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ লাখ বাসিন্দার শহর উৎসুনোমিয়াতে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে। গত শনিবার শহরের একটি পার্কের কাছে প্রথম মাঝারি আকারের একটি এশিয়ান কালো ভাল্লুক দেখা যায়।
পরদিন রবিবার ভোরে শহরের কেন্দ্রস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরায় দুই যুবকের সামনে দিয়ে ভাল্লুকটিকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর সোমবার ভোরেও শহরটির একটি শিল্প এলাকায় ভাল্লুকটির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার এবং ভাল্লুক দেখলে কোনোভাবেই কাছে না গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শহরজুড়ে মাইকিং করার পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় শিকারি দল ভাল্লুকটি খুঁজে বের করতে তল্লাশি শুরু করেছে।
জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লোকালয়ে বন্য ভাল্লুকের আগমন এবং মানুষের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছর দেশটিতে রেকর্ড ৫০ হাজার ভাল্লুক দেখার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে। তবে রাজধানীর এত কাছাকাছি এলাকায় সাধারণত এদের দেখা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বনাঞ্চলে ভাল্লুকের প্রধান খাবার ওক ফলের সংকট দেখা দেওয়ায় তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।
তাছাড়া জাপানের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে তরুণ জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় লোকালয়গুলো এখন অনেক বেশি নিঝুম থাকে, যা বন্য প্রাণীদের শহরে ঢোকার ক্ষেত্রে আরও সাহস জোগাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকারগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে ভাল্লুকের গতিবিধি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
চলতি বছরে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা বাতিল করেছে বিশ্বের চারটি দেশ। দেশগুলো হলো—ইরান, বলিভিয়া, কেপ ভার্দে এবং নিকারাগুয়া। সম্প্রতি তারা নিজেদের অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন এই কঠোর ভিসা বিধি কার্যকর করেছে। এর ফলে এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন থেকে ভারতীয়দের আগে থেকেই ভিসার আবেদন ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই আকস্মিক পরিবর্তনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতের পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর। সর্বশেষ প্রকাশিত ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পাসপোর্টের অবস্থান ৭৫তম থেকে কয়েক ধাপ পিছিয়ে ৮১তম স্থানে গিয়ে ঠেকেছে। বর্তমানে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের মাত্র ৫৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন, যা গত বছরেও ছিল ৫৭টি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান আগেই সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য তাদের ভিসা অব্যাহতি কর্মসূচি স্থগিত করেছে। এর ফলে ভিসা ছাড়াই ইরানে প্রবেশের যে সহজ সুযোগ ছিল, তা হারিয়েছেন ভারতীয় পর্যটকরা। একইভাবে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়াও অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা বাতিল করে দেশটিতে ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই অনলাইনে ই-ভিসার আবেদন ও অনুমোদনের অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবং মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া ২০২৬ সালের শুরু থেকে তাদের নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর করেছে। নিকারাগুয়া ভারতীয় নাগরিকদের ‘সি’ বা কনসালটেড ভিসা ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করায় সেখানে ভ্রমণের আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নেওয়া এখন সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিভিন্ন দেশের এমন অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর ফলে সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে যেমন দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে, তেমনি তাদের ভ্রমণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং আভিলা প্রদেশে একাধিক স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল, ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা এবং আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সামরিক জরুরি বাহিনী, পানিবাহী উড়োজাহাজ ও উড়ন্তযান মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী ফ্রান্সেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের ফলে সৌদি আরবের রাজপুত্র আবদুল্লাহ বিন ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনায় রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। ময়নাতদন্ত ও সার্বিক তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত নিশ্চিত করেছেন যে, ২৯ বছর বয়সী যুবরাজের এই মৃত্যু কোনো আত্মহত্যা নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের বাথরুমের মেঝে থেকে যুবরাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি নিজের কক্ষেই একা ছিলেন। পরবর্তীতে টক্সিকোলজি প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে উচ্চ মাত্রায় অ্যালকোহলের পাশাপাশি পার্টি ড্রাগ জিএইচবি, গাঁজা, জ্যানাক্স ও অন্যান্য অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া যায়। মাদক ও অ্যালকোহলের বিষাক্ত যৌথ প্রভাবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। সৌদি রাজপরিবারের এই সদস্য দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ও অ্যালকোহলের আসক্তিতে ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর কিছুদিন আগেও লন্ডনের দুটি পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ