হংকংয়ে এক ব্রিটিশ ব্যাংকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে ব্ল্যাকমেইল ও বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অপরাধে ২৬ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ তরুণীকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডিত তরুণীর নাম ইসাবেল রোজ। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা রোজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভ্রমণের সময় ওই ব্রিটিশ ব্যাংকারের সঙ্গে পরিচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শুরুতে তার আমন্ত্রণে হংকংয়ে যান। হংকংয়ে পৌঁছানোর পরই ওই ব্যাংকার তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে হংকংয়ের ডিস্ট্রিক্ট জজ আদ্রিয়ানা নোয়েল সু চিং রায়ে উল্লেখ করেন যে, এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং অভিযুক্ত তরুণী বিচার চলাকালীন বিন্দুমাত্র অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর ওই ব্যক্তির কাছে প্রথমে ৫ হাজার পাউন্ড এবং পরবর্তীতে ১ লাখ পাউন্ড দাবি করেন রোজ, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়। যদিও রোজ দাবি করেছিলেন যে, ওই অর্থ তাঁর বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং চিকিৎসার ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিচারক তা খারিজ করে বলেন যে, অভিযুক্ত ব্যাংকার তার প্রতি উদারতা দেখালেও রোজ তার সেই সুযোগ নিয়েছিলেন। বিচারক তাঁর আচরণকে ‘অশুভ’ ও ‘দুষ্টু প্রকৃতির’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে এই রায়ের পর নারী অধিকার কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর নারীদের আচরণ সবসময় একরকম হয় না এবং ট্রমার কারণে তাদের আচরণে ভিন্নতা আসতে পারে। তবে আদালতের রায়ের পর তরুণীর পরিবার ও আইনি দল পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনার জেরে প্রায় দুই বছর হংকংকে আটকে থাকার পর অবশেষে তাকে এই সাজা ভোগ করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের এডমন্টনে বসবাসরত ভারতের পাঞ্জাবের ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দামানপ্রীত কৌরের মৃত্যুর ঘটনায় তার ২২ বছর বয়সী লিভ-ইন সঙ্গী ঋতীশ কুমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে ‘ইনটিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছেন। এডমন্টন পুলিশ সার্ভিস (ইপিএস) জানায়, গত ৯ জুলাই শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিলভারবেরি এলাকার একটি বাসা থেকে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় দামানপ্রীত কৌরকে উদ্ধার করা হয়। জরুরি চিকিৎসা সেবা কর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ১২ জুলাই তিনি মারা যান। ১৪ জুলাই সম্পন্ন হওয়া ময়নাতদন্তে তার মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ বলে নিশ্চিত করা হয় এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই ভারতীয় নাগরিক ঋতীশ কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খোঁজা হচ্ছে না। অভিযোগটি আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দামানপ্রীত কৌর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সামরালা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং শিক্ষার্থী ভিসায় কানাডায় পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনতে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কানাডায় ‘ইনটিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বলতে বর্তমান বা সাবেক স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা একসঙ্গে বসবাসকারী সঙ্গীর হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে বোঝানো হয়। এ ধরনের মামলায় তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারিক প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে সাতজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবি জানায়, শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) শ্রীপুর বিওপির দায়িত্বাধীন সীমান্ত পিলার ২১৪৫-এর কাছে দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভারতের ৪৩ রাজনগর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল সাতজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই সাতজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও একজন শিশু ছিল। বিজিবির টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং কাউকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে বিএসএফ তাদের আবার ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেয়। ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তা সফলভাবে প্রতিহত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তে কয়েকজনকে জড়ো করার খবর পেয়ে তারা বিজিবিকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পর বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন, চোরাচালান বা অন্য যেকোনো সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলনের মুখে শনিবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে ২০২৬ সালের NEET-UG মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দেশের কোটি তরুণের আস্থায় আঘাত করেছে। এজন্য তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্র সরকার তদন্তভার সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (CBI)-কে দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করে এবং আগামী বছর থেকে কম্পিউটার-ভিত্তিক (CBT) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। Cockroach Janata Party (CJP) নামে পরিচিত ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেন। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিরোধী দলগুলিও সংসদে বিক্ষোভ করে, যার ফলে একাধিক দিন অধিবেশন স্থগিত হয়। আন্দোলনের সূত্রপাত হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে। এতে প্রায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে আন্দোলন শিক্ষা সংস্কার, সরকারি জবাবদিহি এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সংকটের দাবিতেও বিস্তৃত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে ভিডিও বার্তায় পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার আদালত গঠন, কঠোর আইন প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সংস্কারের আশ্বাস দেন। তবে আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো সমাধান মানতে রাজি ছিলেন না। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে আন্দোলনকারীরা তাদের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তবে তারা জানিয়েছেন, শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য পুরোপুরি শেষ হবে না।