আন্তর্জাতিক

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন, প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছাড়ছেন হাজারো মানুষ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:৫৫
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন

ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং আভিলা প্রদেশে একাধিক স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।


দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।


সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল, ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা এবং আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সামরিক জরুরি বাহিনী, পানিবাহী উড়োজাহাজ ও উড়ন্তযান মোতায়েন করা হয়েছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

এদিকে প্রতিবেশী ফ্রান্সেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
দক্ষিণ চীনে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘নোল’, নিরাপদ আশ্রয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, বাতিল ১৫০ ফ্লাইট
দক্ষিণ চীনে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘নোল’, নিরাপদ আশ্রয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, বাতিল ১৫০ ফ্লাইট

শক্তিশালী টাইফুন ‘নোল’-এর প্রভাবে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ চীন এবং হংকং। ঘূর্ণিঝড়টি ধেয়ে আসার খবরে চীনের গুয়াংডং প্রদেশ থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হংকং বিমানবন্দরে বাতিল করা হয়েছে দেড় শতাধিক ফ্লাইট। হংকং আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ৯০ মাইল বেগের শক্তিশালী বাতাস নিয়ে টাইফুন নোল দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করে গুয়াংডং উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।   আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার সকালে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হুইঝোউ এবং শানওয়ের কাছাকাছি কোনো এক স্থানে টাইফুনটি আছড়ে পড়তে পারে। এরপর এটি ক্রমশ স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হয়ে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণ হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার বিকেলের মধ্যেই গুয়াংডং প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। এছাড়া রোববার ওই প্রদেশের সব ধরনের ট্রেন চলাচল বাতিল করেছে চায়না নিউজ সার্ভিস।   ঝুঁকি এড়াতে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের মূল ভূখণ্ডে টাইফুনের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, হংকংয়ের আবহাওয়া দপ্তর তাদের সতর্কীকরণ ব্যবস্থার তৃতীয়-সর্বোচ্চ স্তর ‘সিগন্যাল নম্বর ৮’ জারি করেছে। টাইফুনের প্রভাবে শনিবার বিকেলে হংকংয়ের একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের বিশাল ভারা (স্ক্যাফোল্ডিং) ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও প্রাথমিকভাবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।   টাইফুন নোল-এর প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী তাইওয়ানেও। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দ্বীপটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই চীনে ‘বাভি’ ও ‘মায়সাক’ নামের আরও দুটি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছিল, যার জেরে সেসময় ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৭:২৭
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি I ছবি: সংগৃহীত

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

যুক্তরাজ্যে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, প্রতি ৫ দিনে হামলার শিকার একটি মসজিদ

যুক্তরাজ্যে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, প্রতি ৫ দিনে হামলার শিকার একটি মসজিদ

গ্রামাঞ্চলে বসবাসের শর্তে বিদেশিদের হাজার হাজার ডলার দিচ্ছে পর্তুগাল

গ্রামাঞ্চলে বসবাসের শর্তে বিদেশিদের হাজার হাজার ডলার দিচ্ছে পর্তুগাল

পর্যটকের ভিড়ে নাজেহাল বার্সেলোনা, নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ
পর্যটকের ভিড়ে নাজেহাল বার্সেলোনা, নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ

ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলো যখন অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন স্পেনের বার্সেলোনা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, "আর একজন পর্যটকও নয়।" সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণ-পর্যটনের (ম্যাস ট্যুরিজম) অন্যতম কড়া সমালোচক হয়ে উঠেছে শহরটি। বার্সেলোনার টেকসই পর্যটন বিষয়ক কমিশনার হোসে আন্তোনিও দোনাইরে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এড়ানোর এই উদ্যোগে আরও জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, শহরটি আর পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে চায় না। ২০২৫ সালে শহরটিতে ১৫.৭ মিলিয়ন পর্যটক এসেছিলেন, যা তাদের ধারণক্ষমতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে। দোনাইরে জানান, বার্সেলোনার জন্য সর্বোচ্চ ১৬ মিলিয়ন পর্যটকই যথেষ্ট, এর বেশি আর তারা গ্রহণ করবেন না।   পর্যটকদের ঢল সামলাতে শহরটি বেশ কিছু কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রুজ বা প্রমোদতরীর যেসব যাত্রী ১২ ঘণ্টার কম সময় বার্সেলোনায় অবস্থান করবেন, তাদের প্রায় ৩০ ইউরো (৩৫ ডলার) সমন্বিত কর দিতে হতে পারে। ১৫ জুলাইয়ের এক মিটিংয়ের পর বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ ১২ ঘণ্টার কম থাকা ক্রুজ যাত্রীদের ওপর সর্বোচ্চ ২৪ ইউরো মিউনিসিপ্যাল কর আরোপের প্রস্তাব করেছে, যা আগের পরিকল্পিত ৮ ইউরোর চেয়ে তিনগুণ বেশি। এর পাশাপাশি, বার্সেলোনার মেয়র জাউমে কলবোনি ক্রুজ যাত্রীদের ওপর বর্তমানের ৪ ইউরো কর শতভাগ বাড়িয়ে রাতপ্রতি ৮ ইউরো করার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া, গত ১ এপ্রিল থেকে বার্সেলোনা তাদের হোটেল ট্যাক্স প্রায় দ্বিগুণ করেছে, যা জনপ্রতি প্রতি রাতে ৫-৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০-১৭ ডলার করা হয়েছে।   পর্যটকদের এই বিশাল উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আবাসন খরচ বৃদ্ধি, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড় এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। গত গ্রীষ্মে বার্সেলোনার নাগরিকরা বড় ধরনের বিক্ষোভ করেন, যেখানে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে পর্যটকদের গায়ে খেলনা বন্দুক (ওয়াটার গান) দিয়ে পানি ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানান; ঠিক যেমনটা ২০২৪ সালেও ঘটেছিল। "একজন পর্যটক বাড়া মানে একজন বাসিন্দা কমা" এবং "পর্যটকরা বাড়ি ফিরে যাও"—এমন সব প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা তাদের স্থানীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের দাবি জানান। আন্দ্রেউ মার্তিনেজ নামের এক বাসিন্দা জানান, তার এলাকার অ্যাপার্টমেন্টগুলো এখন প্রতিনিয়ত স্বল্পমেয়াদী ছুটির জন্য ভাড়া দেওয়ায় তার বাড়িভাড়া ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। তার মতে, বার্সেলোনাকে পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং এখন সময় এসেছে শহরটিকে তার বাসিন্দাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার।   তবে কমিশনার দোনাইরে দাবি করেছেন, নতুন এসব নিয়মকানুন মোটেও পর্যটক-বিরোধী নয়; বরং এটি আরও মানসম্মত ও বৈচিত্র্যময় পর্যটক গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার কৌশল। তারা মূলত এমন দর্শনার্থীদের চাইছেন যারা ব্যবসা বা সাংস্কৃতিক আকর্ষণের টানে সেখানে যাবেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় বাসিন্দারা যেন তাদের নিজেদের এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন—রুটি বা বই সহজে কিনতে পারেন। শহরটির পুরো জায়গা যেন শুধু স্যুভেনির, ফোন কেস বা কাবাবের দোকানে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:১৮
হুথি হামলার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি-পাকিস্তানের আলোচনা

হুথি হামলার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি-পাকিস্তানের আলোচনা

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ জোশী

সৌদি আরবে ভয়াবহ হা মলা চালিয়েছে হুথিরা

সৌদি আরবে ভয়াবহ হা মলা চালিয়েছে হুথিরা, টার্গেট আরামকো তেল স্থাপনা

করাচি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহনের দায়ে কানাডীয় নাগরিক রাহিল ধন্নানির আট বছরের কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত
করাচি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বহন: কানাডীয় নাগরিকের ৮ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুমতি সীমার অতিরিক্ত মার্কিন ও কানাডিয়ান ডলার বহনের অপরাধে এক কানাডিয়ান নাগরিককে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কাস্টমস, ট্যাক্সেশন অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং বিষয়ক বিশেষ আদালত এই রায় দেন।   দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রাহিল ধন্নানি। বিশেষ আদালতের বিচারক ড. শাবান ওয়াহিদ কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে পাঁচ ও তিন বছর করে মোট আট বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।   মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি রাহিল ধন্নানি তার পরিবারসহ ব্যাংকক হয়ে করাচি থেকে কানাডার ভ্যানকুভারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।   তবে তার লাগেজ তল্লাশি করে ১ লাখ ১১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার এবং ৩১ হাজার ৪২৫ কানাডিয়ান ডলার উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নাইমাতুল্লাহ সুমরো জানান, আইনগত সীমার অতিরিক্ত এই বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।   অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্তকে কোনো ডিক্লেলারেশন ফর্ম দেওয়া হয়নি এবং কাস্টমস তল্লাশির চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করার আগেই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে আদালত ডিফেন্সের এই যুক্তি খারিজ করে দেন।   আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী হওয়ায় কাস্টমস নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। কাস্টমস কর্মকর্তার সরাসরি প্রশ্নের পরও মিথ্যা বলা এবং কোনো সন্তোষজনক বৈধ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় এটি স্পষ্ট যে তিনি জেনেশুনে এবং সচেতনভাবে আইন লঙ্ঘন করে মুদ্রা পাচারের চেষ্টা করেছিলেন। সব তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।   সূত্র: ডন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১১:৫৮
কানাডায় লিভ-ইন থাকা অবস্থায় সঙ্গী ঋতীশ কুমারের হাতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী দামানপ্রীত কৌর | ছবি: সংগৃহীত

লিভ-ইন থাকা অবস্থায় সঙ্গীর দ্বারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান ভারতীয় শিক্ষার্থী

শতাব্দীর সেরা বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সাবেক স্ত্রীকে ৬৪৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ পেলেন এআই ধনকুবের চেয় তাই-ওন | ছবি: সংগৃহীত

এআই বিলিয়নিয়ারের বিবাহবিচ্ছেদ: স্ত্রীকে ৬৪৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ আদালতের

বছরে ছয় অঙ্কের বেতন পেয়েও জীবনযাত্রার ব্যয় ও করের চাপে ব্রিটেনের অনেক মানুষ নিজেকে ধনী ভাবছেন না | ছবি: সংগৃহীত

আমার বয়স ৪২, বছরে আয় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি! তবুও আমি ধনী নই

0 Comments