সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে রেগে ইন্টারভিউ ছেড়ে চলে গেলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কারচুপির ভুয়া দাবি এবং ক্যাপিটল হিল দাঙ্গাকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে এনবিসি নিউজের 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানের একটি সাক্ষাৎকার মাঝপথে বর্জন করেছেন। গত শুক্রবার উইসকনসিনে ধারণ করা এই সাক্ষাৎকারটি গত রবিবার সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে তীব্র বাদানুবাদের একপর্যায়ে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে সেখান থেকে চলে যান।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচন নিয়েও ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। উপস্থাপিকা ওয়েলকার ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়ম ব্যাখ্যা করে ট্রাম্পের দাবির সপক্ষে প্রমাণ চাইলে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রবীণ এই নারী সাংবাদিককে 'দুর্নীতিবাজ' বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, "তারা দুর্নীতিবাজ, ঠিক যেমন আপনি এবং আপনার সংবাদমাধ্যম দুর্নীতিবাজ।"
উপস্থাপিকা নিজেকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করলে ট্রাম্প আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, "আপনি হয় দুর্নীতিবাজ, না হয় বোকা।" একপর্যায়ে তিনি 'আমি অনেক সহ্য করেছি' বলে নিজের গায়ের মাইক্রোফোন খুলে ফেলেন এবং সাক্ষাৎকার সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান। অথচ এই সাক্ষাৎকারের জন্য সাংবাদিক ওয়েলকারকে বিশেষ সফরে উইসকনসিনে যেতে হয়েছিল।
এর আগে সাক্ষাৎকারের শুরুর দিকে ট্রাম্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় পুলিশ-কে আক্রমণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে, দাঙ্গাকারীদের মূলত এফবিআই এজেন্টরাই ক্যাপিটল ভবনে ডেকে নিয়েছিল। তারা দীর্ঘ মেয়াদে জেলে যাওয়ার ভয়েই আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে প্রবীণদের সেবা দেওয়ার নামে মেডিকেইড ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে এক মা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রায় চার মাসে তাঁরা ৫ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ নিয়েছেন। যাঁদের নামে বিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মৃত ও দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তিও রয়েছেন। গ্রেপ্তার দুজন হলেন ইয়াংসিম ওম ও তাঁর মেয়ে জুইয়ং চো। তাঁরা ফরেস্ট অ্যাভিনিউয়ের এসআই ডে কেয়ার সেন্টারের যথাক্রমে মালিক ও প্রোগ্রাম ডিরেক্টর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিস্তারিত জানান স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল ম্যাকমাহন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে সেবা না দিয়েও অর্থ দাবি করা হয়। অন্তত ৩২ জন প্রবীণের নামে এমন সময়ে বিল জমা দেওয়া হয়েছে, যখন তাঁরা হয় মারা গেছেন, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রে উপস্থিত না হওয়া ব্যক্তিদেরও সেবা গ্রহণকারী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। মা-মেয়ের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও ব্যবসায়িক নথি জাল করাসহ মোট ৪৫৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর দুজনকেই ব্যক্তিগত অঙ্গীকারে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আর্থিক নথি পরীক্ষা করতে হিসাব বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে। জুইয়ং চোর আইনজীবী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ডলারের হিসাব যাচাই করবেন তাঁরা। অন্য ডে কেয়ার প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে তাঁর মক্কেলকে এক করে দেখারও বিরোধিতা করেছেন তিনি। নিউইয়র্কজুড়ে অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলোর সম্ভাব্য মেডিকেইড জালিয়াতি নিয়ে চলমান বৃহত্তর তদন্তের মধ্যে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। ব্রুকলিন ও কুইন্সের একাধিক কেন্দ্রেও অভিযান চালানো হয়েছে। এসব কেন্দ্র সাধারণত প্রবীণ ও সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের খাবার, সামাজিক কার্যক্রম এবং দিনের বেলায় পরিচর্যা দেয়। উপস্থিতি ও দেওয়া সেবার ভিত্তিতে মেডিকেইডে বিল জমা হয়। সূত্র: গোথামিস্ট, এবিসি৭ নিউইয়র্ক
নিউ জার্সিতে গাড়িবিমার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম আদায়, ১ কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছে গাইকো
টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী আজিজ
ফ্লোরিডায় সহপাঠীকে বুলিং থেকে বাঁচাতে গিয়ে ৯ জনের হা মলার শিকার কিশোর, গ্রেপ্তার সবাই
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রায় ২৫০ জন শীর্ষ ধনকুবেরের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়ে আগামী মাসে ভোট দেবেন সেখানকার ভোটাররা। আর এই বিলিয়নেয়ার ট্যাক্সের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শীর্ষ ধনীদের ওপর। নিজের সম্পদ ও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ বাঁচাতে আগেভাগেই নড়েচড়ে বসেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। বিপুল অঙ্কের এই কর মেটাতে গিয়ে তাকে মেটার শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে। তবে এতে যেন কোম্পানির ওপর তার একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করতেই মূলত শেয়ার পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক মার্ক জাকারবার্গ বর্তমানে বিশেষ শ্রেণির শেয়ারের বদৌলতে মেটার যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে একক আধিপত্য বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সম্প্রতি মেটার এক আর্থিক নথিতে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবিত এই নতুন কর পরিশোধের জন্য জাকারবার্গকে মেটার কিছু শেয়ার বিক্রি করতে হবে। তিনি মেটার পরিচালনা পর্ষদকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শেয়ার বিক্রির কারণে তার একক ভোটাধিকার ঝুঁকিতে পড়লে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কোম্পানির সদর দপ্তর অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। জাকারবার্গের এমন হুমকির পর মেটার পরিচালনা পর্ষদ সদর দপ্তর স্থানান্তরের ঝুঁকি এড়াতে কোম্পানির শেয়ার কাঠামো এমনভাবে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তিনি কিছু শেয়ার বিক্রি করলেও মেটার ওপর তার সম্পূর্ণ ভোটাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। মেটার শেয়ার কাঠামো পরিবর্তনের এই চেষ্টা অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রায় এক দশক আগেও কোম্পানিটি ঠিক একই ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সে সময় জাকারবার্গ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিনিময়ে নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করছেন— এমন অভিযোগ তুলে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডাররা মামলা করলে মেটা সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এবার ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন করনীতির চাপে সেই পুরোনো বিতর্কিত পথে মেটা আবারও হাঁটতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
টেক্সাসে আইএসের হয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে হ ত্যার ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের কিশোর
ফুটবল খেলা দেখার মাঝে ‘বাধা’, স্ত্রীকে ৪৫ মিনিট চেয়ারে বেঁধে রাখার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
গরিবের খাবারের টাকায় বিলাসী জীবন! যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬ লাখ ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার র্যাপার
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে ১৯ শিশুকে বহনকারী একটি স্কুলবাস নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে সাহসিকতার পরিচয় দেন ২৭ বছর বয়সী এব্রো আহমেদ। ২১ অক্টোবর ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তাঁর দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহমেদ তখন পরিবারের তামাকজাত পণ্যের দোকানে কাজের বিরতিতে ছিলেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, ব্যাটল ক্রিক মিডল স্কুলের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে। বাসচালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে আহমেদ চলন্ত বাসটির পেছনে ছুটতে শুরু করেন। এরপর বাসে উঠে সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। বাস চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং শেষ পর্যন্ত বাসটি নিরাপদে থামাতে সক্ষম হন। বাসের ভেতরে থাকা শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তবে সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহমেদ শিশুদের জরুরি সেবায় ফোন করার নির্দেশ দেন এবং অসুস্থ চালককে সহায়তার চেষ্টা করেন। চালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আহমেদের এই সাহসিকতার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বিপদের মুহূর্তে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আহমেদের এই পদক্ষেপ আবারও মনে করিয়ে দেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহস অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। ১৯ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা স্থানীয় মানুষের কাছে মানবিকতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
৩ কোটি ডলারের সম্পদের তথ্য থেকে সংশোধিত হিসাবে ৯৫ হাজার ডলার, তদন্তের মুখে ইলহান ওমর
নিজের জীবন বাজি রেখে আগুনের ধ্বংসস্তূপে ঢুকলেন প্রতিবেশী, বাঁচালেন চার বছরের শিশুকে