সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

চীনের হুমকির মুখে তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে ‘হিমার্স’ রকেট মহড়া

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ১৯:৩৪
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজেদের পশ্চিম উপকূলে মার্কিন প্রযুক্তির ‘হিমার্স’ বা হাই মবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের সফল মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান। গত বুধবার তাইচুং অঞ্চলে আয়োজিত এই সামরিক মহড়ায় চীনা বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার বাস্তবমুখী সিমুলেশন বা কাল্পনিক যুদ্ধাভ্যাস করা হয়।

 

এই মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট’ কৌশলের সফল প্রয়োগ, যার মাধ্যমে রকেট নিক্ষেপের পরপরই দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে শত্রুর রাডার ও পাল্টা হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং পরীক্ষিত এই রকেট সিস্টেম তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার সম্ভাবনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ান প্রণালির ঠিক উল্টোদিকে সরাসরি চীনের দিকে মুখ করে থাকা পশ্চিম উপকূলের সৈকতগুলোই যেকোনো আগ্রাসনের সময় চীনা বাহিনীর সম্ভাব্য অবতরণস্থল হতে পারে।

 

এই বড় ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে তাইওয়ান তাদের সামরিক বাহিনীকে একটি 'অসম যুদ্ধের' জন্য প্রস্তুত করছে। তাদের লক্ষ্য হলো দেশটিকে একটি ‘সজারু’ বা ‘পরকুপাইন’-এ পরিণত করা, যাতে চীনের মতো বৃহৎ শক্তির পক্ষেও সেখানে আক্রমণ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ‘হিমার্স’ রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে তাইওয়ান প্রণালির অপর প্রান্তে চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব।

 

মহড়ার প্রথম দিন গত মঙ্গলবার তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘থান্ডারবোল্ট-২০০০ লঞ্চার থেকেও রকেট নিক্ষেপ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনা বাহিনী বন্দর ত্যাগ করার পরপরই বা তাইওয়ানের উপকূলে অবতরণের চেষ্টা করলেই এই অস্ত্রগুলো দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হবে।

 

উল্লেখ্য, স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। তবে তাইওয়ান সরকার শুরু থেকেই চীনের এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে; তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—দ্বীপটির ভবিষ্যৎ একমাত্র এর জনগণই নির্ধারণ করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। ইরানের মধ্যস্থতায় এই অর্থ হুথিদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম। তবে সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব বা কোনো অর্থ হস্তান্তরের কথা নিশ্চিত করেনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই দাবি সামনে আসে।   ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ শর্ত, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি কিংবা হুথিদের সম্মতির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।   প্রতিবেদনে একজন কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে প্রস্তাবিত ১০০ কোটি ডলার তেহরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন সৌদি কর্মকর্তাও অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।   এর মধ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ইরানের রাজধানী তেহরানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও উপস্থিত ছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সংঘাত কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্যদেশগুলোর এই সফরের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে সরকারি বিবৃতিতে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার কোনো প্রস্তাবের উল্লেখ নেই।    সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন। ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া বক্তব্যে একজন সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়াই বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কারণ। ওই সমঝোতায় হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার বিষয় ছিল।   হুথি গোষ্ঠীর অভিযোগ, সৌদি আরব আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, সামরিক হামলার চাপের মুখে নতুন যুদ্ধবিরতিতে যেতে চায় না রিয়াদ। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা পুরোনো সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ, নাকি নতুন যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে আলাদা প্রস্তাব—সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।   এদিকে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগের দিন হুথিরা সৌদি আরবের তেল পরিবহন অবকাঠামো ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালানোর দাবি করেছিল। তবে সব হামলার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন নয়। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযানে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘাত কমে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।   বিশেষ করে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে সংঘাত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।   এই পরিস্থিতিতে তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে হুথিদের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কিংবা অর্থের বিনিময়ে হামলা বন্ধের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   সব মিলিয়ে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার খবর এখনো কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর একটি দাবি। সৌদি আরব তেহরানে শান্তি আলোচনা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও প্রস্তাবিত অর্থের অঙ্ক কিংবা অর্থ হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে হুথিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না এবং নতুন যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৪:৪৩
২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বিশেষভাবে নির্মিত একটি হাঁটার পথ

দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনার রাস্তা! হাঁটার সুযোগ পাবেন সাধারণ পর্যটকেরাও

সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী ভারতীয় তরুণ অনিলকুমার বোল্লা

মায়ের জন্মদিনের সংখ্যা বদলে দিল ভাগ্য! লটারিতে ৩১৪ কোটি টাকা জিতলেন ভারতীয় তরুণ

বাংলাদেশি নাগরিক কমর উদ্দিন

যুক্তরাজ্যে ঝাড়ফুঁকের নামে তরুণীকে ধর্ষণ, বাংলাদেশি ইমাম কমর উদ্দিনের কারাদণ্ড

এআই দিয়ে বানালেন শেষকৃত্যের ছবি
খুনের মামলা এড়াতে নিজের মৃত্যুর নাটক, এআই দিয়ে বানালেন শেষকৃত্যের ছবি

ভারতের উত্তর প্রদেশের মৌ জেলায় রাজকুমার রাজভর নামে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নিজের মৃত্যুর ঘটনা সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলায় বিচার চলাকালে আদালতকে নিজের মৃত্যুর ব্যাপারে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রোববার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ ঘটনাটি প্রকাশ করেছে।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজভর ২০১৬ সালে যোগেশ সিং নামে এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি হন। ওই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে সুদর্শন রাজভর নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। যোগেশ সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিচার চলার সময় রাজভর নিজের মৃত্যু হয়েছে—এমন একটি মিথ্যা পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তকারীরা দাবি করছেন।   তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মে প্রতিবেশী গাজীপুর জেলায় নিজের মৃত্যুর নাটক সাজানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। একটি চিতায় মৃতদেহ পড়ে থাকার মতো ছবি তৈরি করা হয়। পুলিশ বলছে, একটি ছাগলের মৃতদেহ দাহ করার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবিতে এমনভাবে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে সেটিকে রাজভরের নিজের শেষকৃত্য বলে মনে হয়। শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার ছবিও সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   এরপর নিজের মৃত্যুর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব নথির মধ্যে মৃত্যুসনদও ছিল, যা মৌ পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই মৃত্যুসনদ ও সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। এতে আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে হত্যা মামলার আসামি আর জীবিত নেই।   ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজভরের মৃত্যুর দাবিসংক্রান্ত নথি জমা পড়ার পর হত্যা মামলায় তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া অন্য আসামির মামলা থেকে আলাদা হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখনই এই নথি জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে কীভাবে মৃত্যুসনদটি ইস্যু করা হলো এবং এই পরিকল্পনায় অন্য কেউ সহায়তা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   প্রায় ১৮ মাস ধরে আত্মগোপনে থাকার পর রাজভর নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন—এমন তথ্য পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। ২৫ অক্টোবর মৌ জেলার খোয়াজাজাহানপুর এলাকার কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।   ঘটনাটির আরেকটি দিকও তদন্ত করছে পুলিশ। রাজভর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যা মামলার বিচার এড়ানোর পাশাপাশি পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দায় এড়ানোও তাঁর পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে অর্থসংক্রান্ত অভিযোগ এবং মৃত্যুর নাটক সাজানোর পেছনে অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়।   পুলিশের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরও জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে রাজভর দাবি করেছেন, তাঁর দুই পরিচিত চিকিৎসক তাঁকে এমন পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এই বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে; চিকিৎসক দুজনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।   নিজের মৃত্যু সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ও নথি ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক জালিয়াতির মামলাও করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁকে আবার জীবিত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   এ ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং সরকারি নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এআই দিয়ে ছবি তৈরি বা পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও সেই ছবি বাস্তব ঘটনার প্রমাণ নয়। বিশেষ করে মৃত্যু, পরিচয় কিংবা আইনি দায়বদ্ধতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু ছবি বা জমা দেওয়া নথির ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কতটা জরুরি, ঘটনাটি তা সামনে এনেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৫:১৩
প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকার কাছে প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মাত্র ৫০.২ সেন্টিমিটার চওড়া গাড়ি তৈরি করে বিশ্বের সবচেয়ে সরু চালানো যায় এমন গাড়ির রেকর্ড গড়েছেন ইতালির মেকানিক আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়ি বানালেন ইতালির মেকানিক! প্রস্থ মাত্র ৫০ সেন্টিমিটার

আর্জেন্টিনার সান্তিয়াগো দেল এস্তেরোতে ১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ১০ বছরের শিশু, পরীক্ষায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা! চলছে তদন্ত

নির্বাচনের আগে প্রচার চালাচ্ছেন নেতানিয়াহু
যু দ্ধের সাফল্য নাকি ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা, ইসরায়েলের নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হা মলা, চলমান আঞ্চলিক সং ঘাত এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন ইসরায়েলিরা। এই নির্বাচনে একদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা পরিচালনার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে হা মলার আগে সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহি—দুই বিষয়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।   দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের ওই আকস্মিক হা মলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নি হত হন এবং ২৫১ জনকে জি ম্মি করা হয়। ওই ঘটনার পর গাজায় যু দ্ধ শুরু হয়। পরে লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সং ঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী বি ক্ষোভ এবং ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।   হা মলার সময় ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতানিয়াহুই এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে হা মলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার দায় তাঁর ওপর কতটা বর্তায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, কীভাবে এত বড় হা মলা আগাম শনাক্ত করা যায়নি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের মতে, হা মলার আগের ব্যর্থতার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক সং ঘাতে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ ও অর্জনও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাঁদের একাংশ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে   নেতানিয়াহুর লিকুদ জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বর্তমানে তিনি মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইজেনকটের সঙ্গে রয়েছে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন টুগেদার জোট, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ জোটের সঙ্গে রয়েছে আরও পাঁচটি ধর্মীয় রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী দল। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টিকে লিকুদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন। ফলে ছোট দলগুলোর অবস্থানও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আইজেনকটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে। আইজেনকটের বক্তব্য, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব ইসরায়েলিদেরই নিতে হবে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নিজের নেতৃত্বের অন্যতম শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সদেরোতের মেয়র আলোন দাভিদির মতো নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি। তাঁদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিজ্ঞতার কারণে নেতানিয়াহু এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। ভোটারদের সামনে যেসব ইস্যু ৭ অক্টোবরের হা মলার তদন্ত ছাড়াও সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবারের নির্বাচনে বড় বিষয়। ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনাদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সং ঘাতে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সময়ে অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের অনেক পুরুষ পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার কারণে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন। নেতানিয়াহু তাঁর জোটের ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে এই সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। বিরোধীরা আবার সামরিক নিয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আনার পক্ষে। নতুন সরকার গঠিত হলে এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিচার বিভাগ সংস্কারও ভোটারদের বিবেচনায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করার জন্য নেতানিয়াহুর উদ্যোগের সমালোচকেরা মনে করেন, এতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সব ভোটারের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। ৭ অক্টোবরের হা মলা থেকে বেঁচে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী শাচার জাফরান জানিয়েছেন, আগের নির্বাচনে তিনি নেতানিয়াহুকে ভোট দিলেও এবার নাফতালি বেনেটকে সমর্থন করার কথা ভাবছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে ইসরায়েলিদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দেশকে বিভক্ত করছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সমালোচক ও সমর্থক—দুই পক্ষের ভোটারদের কাছেই ৭ অক্টোবরের ঘটনার জবাবদিহি এবং দেশের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নির্বাচনের ফল শুধু সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাই নয়, বরং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তানীতি, সামরিক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের সংস্কারের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। ফলাফল কখন জানা যাবে   মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রাথমিক এক্সিট পোল প্রকাশ করবে। তবে এগুলো চূড়ান্ত ফল নয়। প্রাথমিক ফল পরদিন প্রকাশিত হওয়ার কথা এবং আনুষ্ঠানিক ফল নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৪ নভেম্বর। কোনো দল বা জোট ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এমন একজন দলীয় নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন, যাঁর নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলের ভোটারদের সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নয়; বরং ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার জবাবদিহি, যু দ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং বিভক্ত সমাজকে একত্র করার দায়িত্ব কে নিতে পারবেন—সেই সিদ্ধান্তও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৭:৪২
তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে যাচ্ছে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

বিদ্যুৎহীন গাজায় সৌরবাতির আলোয় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন কারিম

বিদ্যুৎহীন গাজায় সৌরবাতির আলোয় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন কারিম

কানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার

কানাডায় নারীকে পাচার ও ধর্ষণ, দুই বাংলাদেশির ১৪ ও ৪ বছরের কারাদণ্ড

0 Comments