তাইওয়ানের বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট গত মাসে সরকারের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক প্রতিরক্ষা বাজেটের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন করেছে। তবে এরপরও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ থেকে ‘হাল ছাড়বেন না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। মঙ্গলবার নিউ তাইপেইতে একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনকালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাইওয়ান সরকার তাদের সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে ড্রোনের পাশাপাশি অন্যান্য 'অ্যাসিমেট্রিক' (asymmetric) বা অসম সমরকৌশল ও যুদ্ধাস্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু পার্লামেন্ট কেবল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে বাজেট অনুমোদন দিয়েছে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও মিসাইল খাতের তহবিল বাতিল করে দিয়েছে। মূলত, স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করা চীনকে প্রতিহত করতেই এসব নিজস্ব প্রযুক্তির অস্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট লাই। বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় ধরনের এই কাটছাঁট প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানান, এই পরিস্থিতিতে তারা কোনোভাবেই হার মানবেন না। সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো যেন নির্বিঘ্নে এগিয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আলাদা বিশেষ আইন প্রস্তাব করা হবে। এছাড়াও, সম্পূরক বাজেট ও বার্ষিক সরকারি বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। সেই আহ্বানের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রেসিডেন্ট লাই ২০৩০ সালের মধ্যে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বর্তমান জিডিপির ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাইছেন। আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই পথে যুক্তরাষ্ট্রই তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্র এবং প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। "দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির" কথা মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট লাই জানান, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই তাদের যুদ্ধপ্রশিক্ষণ আরও উন্নত করতে হবে এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। চলতি মাসেই তাইপেইতে নিযুক্ত শীর্ষ এক মার্কিন কূটনীতিক পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, চীনের সাথে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা খাতে "আরও বুদ্ধিমানের মতো ব্যয়" করতে হবে। এক্ষেত্রে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার তাইপেইর আশেপাশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্টেশনগুলোও পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট লাই, যেগুলো মূলত চীনা সেনাবাহিনীর গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক ও তীক্ষ্ণ নজর রাখে। তিনি বলেন, "আমি দেখেছি আমাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যেরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছেন, উত্তর তাইওয়ানের জলসীমায় সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছেন এবং জরুরি গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছেন। তাদের এই কাজ আমাদের সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভুল সহায়তা প্রদান করে থাকে।"
চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্ষুব্ধ নাগরিকদের নিরাপদে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের সুযোগ করে দিতে একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে তাইওয়ান। রবিবার এই ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার কথা জানায় তাইওয়ান সরকার। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরেই উভয় দেশের মধ্যে ব্যাপক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই অভিনব পদক্ষেপ নিল তাইপেই। তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো (এনএসবি) তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতি বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সেখানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠোর রয়েছে। জীবনযাপন ও সমাজকেন্দ্রিক নানা সংকটের কারণে চীনা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক মাত্রায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই অনেক চীনা নাগরিক তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই উদ্যোগের প্রচারণায় এআই-চালিত একটি এক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেছে এনএসবি। ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে, চীনে সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে একে একে গুম বা অপসারিত হয়ে যাচ্ছেন এবং একজন ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়ে নতুন ওয়েবসাইটে তথ্য দিচ্ছেন।চীনে এই ওয়েবসাইটটি ব্লক করা থাকলেও ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে অনেক নাগরিক এটিতে প্রবেশ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইওয়ানের নিরাপত্তা ব্যুরো দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সব চীনা নাগরিককে সাহসের সঙ্গে পরিবর্তনের লক্ষ্যে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধুনিক কৌশলের অনুকরণেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীনও ঠিক একই ধরনের কৌশল নিয়েছিল, যেখানে তাইওয়ানের তথাকথিত 'বিচ্ছিন্নতাবাদীদের' সম্পর্কে তথ্য দিতে একটি ইমেইল ঠিকানা চালু করেছিল বেইজিং। তবে বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি বরাবরই জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ান বলে আসছে, কেবল দ্বীপটির স্বাধীন জনগণই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রাখে।
তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকৃত উচ্চগতির মোবাইল রকেট সিস্টেম এইমার্স ব্যবহার করে সামরিক মহড়ায় চীনের দিকে অভিমুখে রকেট নিক্ষেপ করেছে। বুধবার তাইচুং এলাকায় অনুষ্ঠিত এই লাইভ-ফায়ার অনুশীলনকে সম্ভাব্য চীনা হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহড়ায় ব্যবহৃত এইমার্স (উচ্চগতির মোবাইল আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) মূলত স্বল্প পাল্লার রকেট নিক্ষেপে সক্ষম, যা নিক্ষেপের পর উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় গিয়ে পড়ে। তাইওয়ানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এবারই প্রথমবারের মতো তাইওয়ান প্রণালীর দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট ওয়াং মিং-হুই বলেন, “বর্তমান শত্রু হুমকির কারণে আমরা এইমার্স প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখব। দেশ রক্ষায় আমাদের সংকল্প অটল।” সামরিক সূত্র অনুযায়ী, মহড়ায় দ্রুত মোতায়েন ও লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। “শুট অ্যান্ড স্কুট” কৌশলের মাধ্যমে লঞ্চারগুলো দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে আঘাত হেনে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যায়, যা আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের এই মহড়ায় ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজারসহ অন্যান্য অস্ত্র ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য চীনা আক্রমণের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নির্ভুল আঘাত নিশ্চিত করাই এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য। এই বিষয়ে তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ইউই বলেন, “আমরা একটি দ্বীপ দেশ, তাই পূর্ব বা পশ্চিম দিকে গুলি চালানো সম্ভব। তাই তারা পশ্চিম দিক বেছে নিয়েছে।” চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বল প্রয়োগের মাধ্যমে একীভূত করার অবস্থান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এইমার্স ব্যবহারের মাধ্যমে তাইওয়ান তার “অসম যুদ্ধ কৌশল” আরও শক্তিশালী করছে, যার লক্ষ্য বড় সামরিক শক্তির বিপরীতে দ্রুত, মোবাইল এবং নির্ভুল আঘাতের সক্ষমতা তৈরি করা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য আরও ৮২টি এইমার্স সিস্টেম বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শীর্ষ বৈঠকের পর সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজেদের পশ্চিম উপকূলে মার্কিন প্রযুক্তির ‘হিমার্স’ বা হাই মবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের সফল মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান। গত বুধবার তাইচুং অঞ্চলে আয়োজিত এই সামরিক মহড়ায় চীনা বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার বাস্তবমুখী সিমুলেশন বা কাল্পনিক যুদ্ধাভ্যাস করা হয়। এই মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট’ কৌশলের সফল প্রয়োগ, যার মাধ্যমে রকেট নিক্ষেপের পরপরই দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে শত্রুর রাডার ও পাল্টা হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং পরীক্ষিত এই রকেট সিস্টেম তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার সম্ভাবনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ান প্রণালির ঠিক উল্টোদিকে সরাসরি চীনের দিকে মুখ করে থাকা পশ্চিম উপকূলের সৈকতগুলোই যেকোনো আগ্রাসনের সময় চীনা বাহিনীর সম্ভাব্য অবতরণস্থল হতে পারে। এই বড় ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে তাইওয়ান তাদের সামরিক বাহিনীকে একটি 'অসম যুদ্ধের' জন্য প্রস্তুত করছে। তাদের লক্ষ্য হলো দেশটিকে একটি ‘সজারু’ বা ‘পরকুপাইন’-এ পরিণত করা, যাতে চীনের মতো বৃহৎ শক্তির পক্ষেও সেখানে আক্রমণ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ‘হিমার্স’ রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে তাইওয়ান প্রণালির অপর প্রান্তে চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব। মহড়ার প্রথম দিন গত মঙ্গলবার তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘থান্ডারবোল্ট-২০০০ লঞ্চার থেকেও রকেট নিক্ষেপ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনা বাহিনী বন্দর ত্যাগ করার পরপরই বা তাইওয়ানের উপকূলে অবতরণের চেষ্টা করলেই এই অস্ত্রগুলো দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হবে। উল্লেখ্য, স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। তবে তাইওয়ান সরকার শুরু থেকেই চীনের এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে; তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—দ্বীপটির ভবিষ্যৎ একমাত্র এর জনগণই নির্ধারণ করবে।
তাইওয়ান প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চীনের আরও ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং-এর (KMT) শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউ-এর সঙ্গে এক বিরল ও ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো বর্তমান বা সাবেক তাইওয়ানি নেতার সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করলেন সি জিনপিং। এই বৈঠককে তাইওয়ানের সাধারণ মানুষের কাছে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিং মূলত এটি বোঝাতে চাইছে যে, তাইওয়ানের বর্তমান ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (DPP) বিপরীতে যারা বেইজিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়, তাদের জন্য আলোচনার পথ সবসময় খোলা। বৈঠকে সি জিনপিং বলেন, "বহিরাগত কোনো শক্তি আমাদের পুনর্মিলনের এই ঐতিহাসিক ধারাকে রুখতে পারবে না। আমরা সবাই একই জাতি এবং একই পরিবারের সদস্য।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার মতপার্থক্য মেটানোর জন্য আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউ শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "যদি দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা হবে পুরো চীনা জাতির জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।" তিনি ১৯৯২ সালের 'এক চীন' নীতির (1992 Consensus) প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে লাই চিং-তে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সি এবং মা-এর এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীন লাই চিং-তে-কে একজন 'বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে গণ্য করে। এমতাবস্থায় বিরোধী নেতার সঙ্গে সি জিনপিংয়ের এই হৃদ্যতা তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধের পর থেকেই চীন ও তাইওয়ান আলাদাভাবে শাসিত হয়ে আসছে। তবে চীন সবসময়ই তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এটি দখল করার হুমকি দিয়ে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।