কিশোরকে কাউন্সেলিংয়ের নামে ফুসলিয়ে ধর্ষণ, ক্যালিফোর্নিয়ায় নারী থেরাপিস্ট গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক সাবেক আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে তার সাবেক কিশোর রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অভিযুক্ত থেরাপিস্ট তার পেশাগত অবস্থানের অপব্যবহার করে প্রথমে কিশোরটির আস্থা অর্জন করেন এবং পরে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কের সীমা লঙ্ঘন করে তার সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন।
কনট্রা কস্টা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয় জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী সোফিয়া ড্রটসের বিরুদ্ধে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ককে ক্ষতিকর উপাদান পাঠানো, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ড এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের অভিযোগসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য শিগগিরই আদালতে তাকে হাজির করা হবে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রটস ক্যালিফোর্নিয়ার মার্টিনেজে অবস্থিত জন এ. ডেভিস জুভেনাইল হলে আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরটি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও চিকিৎসা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।,
গত ১৪ জুলাই প্রবেশন বিভাগের এক তত্ত্বাবধায়কের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কনকর্ড পুলিশ ড্রটসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবার কনট্রা কস্টা কাউন্টির বিরুদ্ধে পৃথক একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তার মা এক বিবৃতিতে বলেন, ছেলের মানসিক সুস্থতার জন্য তারা একজন পেশাদারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেন, তাদের পরিবারের প্রধান লক্ষ্য এখন ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ভবিষ্যতে যেন অন্য কোনো পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা।
পরিবারের আইনজীবী জন বারিস আদালতে দাখিল করা নথিতে দাবি করেছেন, ড্রটস ২০২৪ সাল থেকেই কিশোরটির সঙ্গে অনুপযুক্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করেন। তখন কিশোরটির বয়স ছিল ১৪ বা ১৫ বছর এবং তিনি দুই বছরের জন্য কিশোর সংশোধনাগারে ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ধীরে ধীরে কিশোরটির সঙ্গে এমন একটি মানসিক নির্ভরতার সম্পর্ক তৈরি করেন, যা পরে যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কিশোরটি প্রবেশনে মুক্তি পাওয়ার পরও কনট্রা কস্টা হেলথের অধীনে ড্রটস তার থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়েই অভিযোগ অনুযায়ী অবৈধ যৌন সম্পর্কের ঘটনাগুলো ঘটে। একই সঙ্গে মামলায় দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়করা সম্ভাব্য সতর্ক সংকেত শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন, যার ফলে অভিযোগ অনুযায়ী নির্যাতনের ঘটনা দীর্ঘ সময় চলতে থাকে।
আইনজীবী জন বারিস বলেন, শুধু একজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগই নয়, পুরো তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার মতে, বিদ্যমান পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারত।
তদন্তে জানা গেছে, সোফিয়া ড্রটস ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ ছিল।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে। এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশের খুলনায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা শেখ আল আমিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর ৪০৮তম হিউম্যান রিসোর্সেস কোম্পানির কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগেও (এনওয়াইপিডি) কর্মরত রয়েছেন তিনি। তাঁর এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্য ও জনসেবায় অবদানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। শেখ আল আমিনের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতাও তাঁর এই অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি নিউইয়র্কের লেহম্যান কলেজ থেকে সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নেতৃত্বের বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তাঁর পেশাগত দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জন্য নতুন পরিবেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা, পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দায়িত্বশীল অবস্থানে পৌঁছানো সহজ নয়। শেখ আল আমিনের অগ্রযাত্রা সেই বাস্তবতার মধ্যেও অধ্যবসায়, দক্ষতা ও জনসেবার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার একটি দৃষ্টান্ত। মার্কিন সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি এবং একটি কোম্পানির কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায়। একই সঙ্গে এনওয়াইপিডিতে দায়িত্ব পালন তাঁর কর্মজীবনে জনসেবার আরেকটি ক্ষেত্র যুক্ত করেছে। খুলনায় বেড়ে ওঠা একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে এমন দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানোর ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে। তাঁর এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব ও জনসেবায় এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।
নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার
সাইবার হামলায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় পেনসিলভানিয়া, বলছে গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীদের সরকারি ফি বাড়ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কয়েক ধরনের আবেদন ও পিটিশনের জন্য বেশি অর্থ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের এই পরিবর্তনে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী, আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং আগে থেকে কর্মসূচিতে যুক্ত কিছু বিনিয়োগকারী প্রভাবিত হবেন। নতুন ফি কার্যকর হওয়ার তারিখে বা তার পরে ডাকমাশুলের সিলযুক্ত আবেদন পাঠালে সংশোধিত ফি দিতে হবে। এর আগে পাঠানো আবেদনের ক্ষেত্রে আগের ফি প্রযোজ্য থাকবে। নতুন নিয়মে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহৃত ফরম আই-৫২৬-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হচ্ছে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারীদের প্রাথমিক পিটিশন ফরম আই-৫২৬ই-এর ফি হবে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার। এ ক্ষেত্রে আলাদা ইবি-৫ ইন্টেগ্রিটি ফান্ড ফিও দিতে হবে, যা ১ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ ডলার হচ্ছে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে করা আই-৫২৬ই আবেদনের সংশোধনী জমা দিতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ ডলার। নতুন ফি কাঠামোতে আবেদনপ্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ৭৫ ডলারের ফিও প্রাথমিক আবেদনের ফি-র মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার শর্ত তুলে দেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীরা যে আই-৮২৯ ফরম জমা দেন, তার ফি ৩ হাজার ৭৫০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ডলার হবে। এ ছাড়া ইবি-৫ কর্মসূচির পুরোনো কিছু বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন আই-৫২৭ ফরম চালু করা হচ্ছে। ২০২২ সালের ইবি-৫ সংস্কার আইন কার্যকর হওয়ার আগে আই-৫২৬ জমা দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগকারীকে আঞ্চলিক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নিজেদের যোগ্যতা বজায় রাখতে এই ফরম ব্যবহার করতে হতে পারে। এর আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৩০ ডলার। এটি সব বিনিয়োগকারীর জন্য সাধারণ বিকল্প আবেদন নয়। নতুন নিয়মে আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর ফিও বাড়ছে। ২০ জনের বেশি যোগ্য বিনিয়োগকারী থাকা কেন্দ্রকে বছরে ২২ হাজার ডলার ইন্টেগ্রিটি ফি দিতে হবে, যা আগে ছিল ২০ হাজার ডলার। ২০ জন বা তার কম বিনিয়োগকারী থাকা কেন্দ্রের বার্ষিক ফি ১০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১১ হাজার ডলার হচ্ছে। নতুন আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন পেতে আই-৯৫৬ ফরমের প্রাথমিক আবেদন ফি হবে ৪৪ হাজার ১১৫ ডলার। আর বিনিয়োগ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আই-৯৫৬এফ ফরমের ফি বেড়ে ৪২ হাজার ৬৭৫ ডলার হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক ফি না দিলে জরিমানা এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের অনুমোদন বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০টি ইবি-৫-সংশ্লিষ্ট আবেদন নতুন ফি কাঠামোর আওতায় পড়তে পারে। বিদ্যমান নয় ধরনের ফরমের ফি বিবেচনায় গড়ে প্রায় ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ বা প্রতি আবেদনে প্রায় ২ হাজার ৯৪৬ ডলার বৃদ্ধি হবে বলে বিভাগটি অনুমান করেছে। তবে সব আবেদনকারীর খরচ সমান হারে বাড়বে না। কোন ফরম জমা দিতে হচ্ছে এবং আবেদনকারী আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করছেন কি না, তার ওপর মোট সরকারি ফি নির্ভর করবে। ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। সাধারণত নির্ধারিত ব্যবসায় কমপক্ষে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান এলাকা বা অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম অঙ্ক ৮ লাখ ডলার। বিনিয়োগের পাশাপাশি অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন চাকরি সৃষ্টির শর্তও রয়েছে। নতুন নিয়মে এখানে আলোচিত পরিবর্তনগুলো মূলত সরকারি আবেদন ফি নিয়ে, বিনিয়োগের ন্যূনতম অঙ্ক নিয়ে নয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ইবি-৫ কর্মসূচি পরিচালনা, আবেদন যাচাই এবং তদারকির ব্যয় মেটাতে ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই আবেদনকারীদের ৩০ নভেম্বরের আগে বা পরে আবেদন পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরমের সর্বশেষ ফি ও অন্যান্য শর্ত ইউএসসিআইএসের সরকারি নির্দেশনা থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, ফেডারেল রেজিস্টার এবং নিউজউইক।
স্ত্রীকে হত্যার পর বিদেশে জীবিত থাকার নাটক সাজানোর অভিযোগ, ফ্লোরিডায় স্বামী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ছেড়ে ডিজিটাল ব্যবসায় মাসে ১০ হাজার ডলার আয়, সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে যে তিন বই
নিউ ইয়র্কে ইউটিউবার আইশোস্পিডের লুকোচুরি প্রতিযোগিতা, বিজয়ীর পুরস্কার ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে, কারা যোগ্য হবেন এবং কী শর্তে বাড়ি কেনা সম্ভব—তা নিয়ে আগ্রহী ক্রেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমবার বাড়ি কিনতে সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ ও এর বাস্তব দিকগুলো নিয়ে কথা বলেছেন নিউইয়র্কের রিয়েলটর মোহাম্মদ হাসেম। হাসেমের মতে, প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য কিছু সরকারি কর্মসূচি থাকলেও এসব সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। ক্রেতার আয়, ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা, বাড়ির অবস্থান এবং বাড়ির দামের ওপর নির্ভর করে তিনি কোন কর্মসূচির আওতায় আসবেন, তা নির্ধারিত হতে পারে। কিছু কর্মসূচিতে বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ বা ডাউন পেমেন্টের জন্যও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেই যে ক্রেতা নিজের পছন্দের যেকোনো বাড়ি সহজে কিনতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয় বলে মনে করেন এই রিয়েলটর। তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন সম্ভাব্য ক্রেতা তাঁকে জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সহায়তা পাবেন। পরে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই সহায়তার আওতায় বাড়ি কেনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে শুধু সহায়তার অর্থের পরিমাণ জানলেই হবে না, কোথায় এবং কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করা যাবে, সেটিও আগে বুঝে নেওয়া জরুরি। হাসেম আরও বলেন, যেসব এলাকায় বাড়ির দাম তুলনামূলক কম এবং ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কম, সেখানে কিছু সরকারি সহায়তা কর্মসূচি কাজে লাগানোর সুযোগ বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, জনপ্রিয় এলাকায় কোনো বাড়ির জন্য একাধিক ক্রেতা প্রস্তাব দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিক্রেতা দ্রুত বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাঁরা কখনো কখনো দীর্ঘ ঋণপ্রক্রিয়ার পরিবর্তে দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে পারেন। তবে এটি সব সরকারি কর্মসূচি বা সব বিক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ হাসেমের পরামর্শ, সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। কোনো কোনো কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বা শিক্ষামূলক কোর্স সম্পন্ন করার শর্তও থাকতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা অনুমোদিত ঋণদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের যোগ্যতা, সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউ ইয়র্কে যারা বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েলটর মোহাম্মদ এ. হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। বাড়ি কেনার বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের ফোন নম্বর: ৩৪৭-৯০২-৮০৬৩। সব মিলিয়ে, প্রথমবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা অনেকের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আগে থেকেই পরিকল্পনা, সঠিক তথ্য যাচাই এবং নিজের আর্থিক যোগ্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
অর্থনৈতিক মন্দাকেও ছাড়াল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন সংকট, তলানিতে বাড়ি কেনাবেচা