আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় ইউরোপকে পেছনে ফেলে শীর্ষ দুটি স্থান দখল করে নিয়েছে এশিয়ার দুই প্রধান নগরী। যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যবিশ্লেষক সংস্থা ‘কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস’ (কিউএস)-এর প্রকাশিত ‘বেস্ট স্টুডেন্ট সিটিজ ২০২৭’ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল। আর তালিকার দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে জাপানের রাজধানী টোকিও। বিশ্বের ১৫০টি শহরের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান, শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সাশ্রয়ী খরচের মতো ৬টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শহরের এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের ক্ষেত্রে ১০০-তে ১০০ স্কোর করে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে সিউল। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা এই শহরটিকে অত্যন্ত উচ্চ রেটিং দিয়েছেন। অন্যদিকে, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আবেদনের যোগ্যতার ক্ষেত্রে টোকিও ১০০ স্কোর অর্জন করেছে। পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, চমৎকার পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিশ্বের প্রধানতম আর্থিক কেন্দ্রগুলোর একটি হওয়ায় পড়ালেখা শেষে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার সুবিধার জন্য টোকিও শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষাগন্তব্য হিসেবে শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে ইউরোপের ৬টি শহর স্থান পেলেও সামগ্রিক তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন। তবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাগন্তব্য হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু শহরের অবস্থান আগের তুলনায় পিছিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেবল বোস্টন (১৮তম) শহরই শীর্ষ ২০-এর মধ্যে জায়গা পেতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শহরগুলোর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে; যেখানে চীনের বেইজিং ১৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থানে উন্নীত হয়েছে এবং সিঙ্গাপুর, তাইপে ও কুয়ালালামপুরের অবস্থানও আগের চেয়ে বেশ মজবুত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মাসে মাত্র ১৬০ ডলার বা প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা সঞ্চয় করেই অবসর বয়সে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে তরুণ জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের সামনে। তবে সঞ্চয়ের চেয়ে তারা ছুটি কাটানো ও বিশ্বভ্রমণকেই জীবনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে তাদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জে.পি. মরগানের (J.P. Morgan) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। এতে দেখা যায়, ২৯ বছর বা তার কম বয়সী জেন-জি তরুণদের প্রায় ৪৮ শতাংশই অবসরকালীন সঞ্চয়ের চেয়ে ট্রাভেল করাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় অংশ নেওয়া চারটি ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মধ্যে জেন-জিদের মধ্যেই ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এর বিপরীতে ৬২ থেকে ৮০ বছর বয়সী 'বেবি বুমার' প্রজন্মের মাত্র ১১ শতাংশ সদস্য ঘুরতে যাওয়ার জন্য সঞ্চয় করাকে অগ্রাধিকার দেন। জে.পি. মরগান জানিয়েছে, সব কর্মীর জন্যই অবসরকালীন নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য হলেও তরুণ কর্মীরা তাদের তাৎক্ষণিক আর্থিক চাহিদাকে আগে রাখছেন। তবে অবসরের সঠিক পরিকল্পনা তৈরিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা আশা করছেন তরুণরা। বেবি বুমারদের তুলনায় জেন-জিরা তাদের রিটার্নমেন্ট প্ল্যানে প্রতি মাসে কত টাকা দেওয়া উচিত—সে বিষয়ে পরামর্শ পেতে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি আগ্রহী। বাস্তবতা হলো, সাধারণ আমেরিকানরা অবসরে স্বাচ্ছন্দ্যে চলার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন মনে করেন, তাদের প্রকৃত সঞ্চয় তার চেয়ে অনেক কম। 'শ্রোডার্স' নামের এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী, একজন গড় আমেরিকান কর্মী মনে করেন অবসরে তার ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার, কিন্তু প্রায় অর্ধেক কর্মী মনে করেন অবসরে তাদের ঝুলিতে থাকবে ৫ লাখ ডলারের কম। ২০৩২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থার প্রধান একটি তহবিল খালি হয়ে গেলে অবসরপ্রাপ্তদের প্রাপ্ত ভাতা ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কম বয়স থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। হিসাব অনুযায়ী, কোনো ২০ বছর বয়সী তরুণ যদি মাসে মাত্র ১৬০ ডলার করে জমায়, তবে অবসরের বয়সে গিয়ে সে অনায়াসেই ১ মিলিয়নের বেশি বা কোটিপতি হতে পারবে; যা ৪৫ বছর বয়সে শুরু করলে প্রতি মাসে প্রয়োজন হতো ১,৩৯৫ ডলার।
চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো কানাডার টরন্টোয় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় সোমবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে কনস্যুলেট ভবনের বাইরে পাহারারত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপরই লাইসেন্স প্লেটবিহীন একটি সাদা গাড়িকে দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ভবনের বাইরের দেওয়ালে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ঘটনার সময় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই ভবনের ভেতরে অন্তত দুজন কর্মী উপস্থিত থাকলেও পুরু দেওয়ালের কারণে তারা গুলির কোনো শব্দ শুনতে পাননি। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। টরন্টো পুলিশের উপপ্রধান ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের ধরতে শহরজুড়ে পুলিশি সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়া গাড়িটির পিছু নিলেও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরে ধাওয়া বন্ধ করে দেয়। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এই হামলাকে 'দুঃসাহসী' আখ্যা দিয়ে অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে এই তদন্তকাজে টরন্টো পুলিশকে সহায়তা করছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এর আগে গত মার্চ মাসেও একই কনস্যুলেটে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেটিকে পুলিশ ‘জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সেই ঘটনার তদন্তে অভিযান চালাতে গিয়ে গত জুনে পুলিশ কর্মকর্তা মার্ক পিনিজোট্টো নিহত হন। পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, কনস্যুলেটে হামলার এই ঘটনাগুলো মূলত ভাড়াটে বন্দুকধারীদের একটি বৃহত্তর চক্রের কাজ। এদিকে, গত রবিবার টরন্টোয় ইহুদি মালিকানাধীন দুটি বেকারিতেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অন্তত একটিতে গুলি চালানো হয়। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত কনস্যুলেট ও বেকারিতে হামলার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এসব সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মে মাসে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ইহুদি প্রতিষ্ঠান এবং টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি (৩২) নামের এক ইরাকি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে সর্বশেষ এই কনস্যুলেট হামলার সঙ্গে তার বা তার চক্রের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
পাসপোর্টের বৈশ্বিক শক্তিমত্তায় আবারও বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর সর্বশেষ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের চতুর্থ দুর্বলতম পাসপোর্টের তকমা পেয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে। সূচকে ১০১তম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের এই সবুজ পাসপোর্টের অধিকারীরা বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ২৯টি দেশে বিনা ভিসায় বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ পাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলে অ্যান্ড পার্টনার্স মূলত বিশ্বজুড়ে ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের বিপরীতে ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টের মান যাচাই করে এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বা পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রবেশের সুবিধার ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই স্কোর নির্ধারিত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানের ঠিক এক ধাপ ওপরেই রয়েছে পাকিস্তানের অবস্থান। তবে স্বস্তি মিলছে না প্রতিবেশীদের সঙ্গে তুলনা করলে; যেখানে চীন ৬০তম, ভারত ৮১তম এবং ইরান ৯৬তম অবস্থানে থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে। সূচকের তথ্য বলছে, পাকিস্তানি নাগরিকরা বর্তমানে বার্বাডোস, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডোমিনিকা, হাইতি, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, রুয়ান্ডা, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন দ্বীপপুঞ্জ, দ্য গাম্বিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং ভানুয়াতুতে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করছেন। পাশাপাশি বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মোজাম্বিক, নেপাল, নিয়ু, পালাউ দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, তিমুর-লেস্টে এবং টুভালুতে পৌঁছানোর পর ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া কেনিয়া, সেশেলস এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ পেতে সক্ষম তারা। অন্যদিকে, পাসপোর্টের শক্তিমত্তার এই বৈশ্বিক লড়াইয়ে ১৯২ স্কোর নিয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। পাশাপাশি, ১৮৮ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), আর ১৮৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। সূত্র: জিও নিউজ