ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের রাজকুমারীর ছেলের ৪ বছরের জেল
নরওয়ের যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হইবিকে ধর্ষণের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ সোমবার অসলোর জেলা আদালত ৪টি ধর্ষণ মামলার মধ্যে ২টিতে হইবিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন। বাকি দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হলেও মারধর ও পারিবারিক নির্যাতনের আলাদা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের পক্ষ থেকে দণ্ডিত হইবিকে ভুক্তভোগী নারীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, উনত্রিশ বছর বয়সী হইবির বিরুদ্ধে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে ঘুমন্ত বা অবশ অবস্থায় যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ মোট ৪০টি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় হইবি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধের কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছিলেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অসলো জেলা আদালতের কাছে হইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে এবং অন্যান্য স্বীকার করা অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ আঠারো মাসের সাজা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
তবে আজ সোমবার রায় ঘোষণার সময় হইবি শারীরিক অসুস্থতার কারণে সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতের এই রায় শোনেন। গত মার্চ মাসে শেষ হওয়া এই ছয় সপ্তাহের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং হইবির মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন বার্তা, ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অবশ্য এই রায়ই চূড়ান্ত নয় এবং হইবি চাইলে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
অভিযুক্ত মারিয়াস বোর্গ হইবি রাজপরিবারের সরাসরি সদস্য না হওয়ায় তাঁর কোনো রাজকীয় উপাধি বা অফিশিয়াল দায়িত্ব নেই। তিনি নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ হাকোনের সাথে মেটে-মারিটের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তবে ভবিষ্যৎ রাজার পরিবারে একসঙ্গে বড় হওয়ার কারণে এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মামলা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত মেটে-মারিট বর্তমানে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে রায়ের আগে হইবিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে আইনি লড়াই চললেও আদালত রায় ঘোষণা পর্যন্ত তাঁকে কারাগারেই রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদীর্ঘায়ুর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা টানা ৫৬ বছর ধরে বাড়ছে। এবার এই সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শতবর্ষীদের বড় অংশই নারী। মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনের মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো এই পরিসংখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাপন করছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘায়ুর দিক থেকে জাপান বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালে দেশটির মানুষের গড় আয়ু ছিল ৮৪ বছর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ছিল ৭৯ বছর। গবেষকদের মতে, জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের পেছনে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে। জাপানি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের সংস্কৃতি থাকলেও অনেক মানুষ ‘ইকিগাই’ দর্শন অনুসরণ করেন। এই দর্শনে জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য ও আনন্দ খুঁজে নিয়ে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষদের কয়েকজনও বর্তমানে জাপানে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে কিয়োটোর ১১৪ বছর বয়সী নারী ফুয়ো কিশিমোতো এবং কুমামোতোর ১১২ বছর বয়সী পুরুষ হিকারু কাতো উল্লেখযোগ্য। তবে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও জাপানের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটির জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় মোট জনসংখ্যা ক্রমেই কমছে। প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বয়স্কদের পরিচর্যা ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকটও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষ ও সাধারণ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে বিদেশিবিরোধী মনোভাবের মধ্যে সরকার ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু নিয়মকানুন আরও কঠোর করার উদ্যোগও নিয়েছে।
এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীদের ধরপাকড়, তুরস্কে কয়েক ডজন গ্রে প্তার
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা
৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য
বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি ইয়েমেন ও সৌদি আরবে তাদের একের পর এক হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে। গত সপ্তাহে হুতিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের বিশাল 'ইস্ট-ওয়েস্ট' তেল পাইপলাইনে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে পাইপলাইনটির কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে; গত মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম লাফিয়ে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সমর্থিত হুতি-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোও এই শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বরে এই মিত্রদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএই-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর জন্য আসা অস্ত্রের ওপর সৌদি বাহিনী বোমা হামলা চালালে আবুধাবি এই সংঘাত থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়, যার ফলে হুতি-বিরোধী জোট ভেঙে পড়ে। এই অন্তর্দ্বন্দ্ব জোটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়, কারণ ইউএই-সমর্থিত বাহিনীর হাতেই ছিল বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত 'পেরিম দ্বীপ'-এর নিয়ন্ত্রণ। ফলে গত সপ্তাহান্তে হুতিদের আকস্মিক হামলায় দ্বীপটি এবং ইয়েমেন উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর পতন ঘটে। এখন ২০ মাইল চওড়া এই প্রণালী দিয়ে পার হতে যাওয়া যেকোনো সৌদি জাহাজের জন্যই হুতিরা বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে এই জলপথটিই সৌদির প্রধান রপ্তানি রুটে পরিণত হয়েছিল। এখন সৌদির সামনে কেবল সুয়েজ খালের পথ খোলা আছে, যা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর যাত্রায় আরও কয়েক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দেবে। মিত্রদের এই বিভাজনের কারণে হুতিদের মোকাবিলার পুরো চাপ এখন সৌদি আরবের ওপর এসে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াদের ধীরগতির প্রতিক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরানের দিক থেকে চাপের মুখে থাকা সৌদি আরব হুতিদের হামলার বিরুদ্ধে ইয়েমেন থেকে আসা বিমান হামলার অনুরোধে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন সামরিক সহায়তার জন্য গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে কোনো হামলায় জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লোহিত সাগরের প্রধান বন্দর থেকে গত মাসে সৌদির তেল রপ্তানি প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার পর, এবার তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আরও বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৪৫ মাইল দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর, ইয়ানবু বন্দরে এখন সৌদির কাছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানিযোগ্য তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
মাত্র ৮ মিনিটে পাসপোর্ট নবায়ন, দুবাই বিমানবন্দরের দ্রুত সেবায় মুগ্ধ যাত্রী
ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয়
বই পড়লেই মিলবে টাকা, নাগরিকদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে সিঙ্গাপুরের অভিনব উদ্যোগ
সৌদি আরবের জেদ্দায় আগামী ৮ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী। বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে হজযাত্রীদের সেবা আরও উন্নত করতে চিকিৎসা, পরিবহন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। সম্মেলনে সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক খাতের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ৫২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা অংশ নেবেন। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স কর্মসূচির সহযোগিতায় সম্মেলনটির আয়োজন করছে। হজসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষকে একই প্ল্যাটফর্মে আনা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা এবং হজযাত্রীদের জন্য দেওয়া সেবার মান উন্নত করাই আয়োজনটির অন্যতম লক্ষ্য। সম্মেলনে গবেষক, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকেরা হজসেবা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে দেশটির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক দপ্তর ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও মক্কা ও মদিনার সেবাব্যবস্থার অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজনে তিনটি প্রধান ধারায় হজসেবা নিয়ে আলোচনা হবে। অবকাঠামো ও পরিচালনাসেবা বিষয়ক ধারায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও স্থাপনা পরিচালনা, আবাসন ও আতিথেয়তা এবং খাবার সরবরাহের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে। হজের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে এসব খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। ক্ষমতায়ন ও সমন্বয় বিষয়ক ধারায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবা, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সেবা ও উদ্ভাবনী সমাধান কীভাবে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করবেন। তৃতীয় ধারায় থাকবে টেকসই উন্নয়ন। এতে অলাভজনক খাত, উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। গবেষক, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরবেন। সম্মেলনের পাশাপাশি একটি বিশেষায়িত প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। এতে ১৫০টির বেশি দেশের হজসেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতারা অংশ নেবেন। তারা হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সেবা ও সমাধান তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। প্রদর্শনীতে বিমান চলাচল, পরিবহন, আতিথেয়তা, চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জনবল, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা উন্নয়ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। হজবিষয়ক দপ্তর, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সম্মেলন ও প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে বিশেষায়িত ফোরাম, প্যানেল আলোচনা, গোলটেবিল বৈঠক, কর্মশালা এবং ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন থাকবে। এসব আয়োজনে নতুন উদ্যোগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি হজসেবা খাতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের লক্ষ্য, হজসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে এক জায়গায় এনে হজযাত্রীদের জন্য আরও উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করার পথ তৈরি করা। গতবারের হজ সম্মেলনে ১৫০টির বেশি দেশের ২৭০টি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। ওই আয়োজনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি ছিল। এছাড়া ১৩৪টি বিশেষায়িত অধিবেশন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করেন। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সম্মেলনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সময়সূচিও অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: আরব নিউজ
বাড়ি গুছাতে গিয়ে স্বামীর লুকানো ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেলেন বিধবা
‘ইনশাআল্লাহ’, 'জাজাকাল্লাহ' বলায় বিতর্ক, ভারতে নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি