অপরাধ

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের কোন শহরের মানুষ দারিদ্র্যতার জন্য সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপে থাকে? গবেষণা যা বলছে

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পারিবারিক অস্থিরতার মতো নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষায় দেশটির সবচেয়ে মানসিক চাপে থাকা শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট। সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব।   ওয়ালেটহাব যুক্তরাষ্ট্রের ১৮২টি শহরকে কাজের চাপ, আর্থিক চাপ, পারিবারিক চাপ এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত চাপ—এই চারটি প্রধান সূচকে ৩৯টি ভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে এ তালিকা তৈরি করেছে। বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়েছে বেকারত্বের হার, দারিদ্র্য, আয়, চাকরির নিরাপত্তা, শিশু পরিচর্যার ব্যয়, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য।   সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ডেট্রয়েটে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে সহিংস অপরাধের হারও বেশি হওয়ায় শহরটির বাসিন্দারা বহুমাত্রিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এসব কারণেই ডেট্রয়েটকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মানসিক চাপে থাকা শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এবং তৃতীয় স্থানে ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড। বাল্টিমোরে উচ্চ ভাড়া ও সহিংস অপরাধ বড় চাপের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ক্লিভল্যান্ডে তুলনামূলক কম আয়, উচ্চ দারিদ্র্য এবং বিচ্ছেদ ও বিবাহবিচ্ছেদের হার বেশি হওয়ায় শহরটি শীর্ষ তিনে রয়েছে।   শীর্ষ ১০-এর তালিকায় আরও রয়েছে গালফপোর্ট (মিসিসিপি), মেমফিস (টেনেসি), শ্রিভপোর্ট (লুইজিয়ানা), ফিলাডেলফিয়া (পেনসিলভানিয়া), টলেডো (ওহাইও), বার্মিংহাম (আলাবামা) এবং জ্যাকসন (মিসিসিপি)।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, মানুষ কোথায় বসবাস করছে, সেটিও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে। যেসব শহরে অপরাধের হার বেশি, অর্থনীতি দুর্বল, জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর নয় এবং যানজট তীব্র, সেখানে বসবাসকারীদের মানসিক চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তাই কোথায় বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়ের পাশাপাশি জীবনমান ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত কোর্টনি গার্টশোর। ছবি: সংগৃহীত
হেয়ার ড্রায়ারের তাপে ৩ মাসের শিশুর মৃত্যু, মাকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত

স্কটল্যান্ডে তিন মাস বয়সী নিজের শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক মাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। অভিযোগ, তার অসতর্ক আচরণে হেয়ার ড্রায়ার থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ঘটনাটিকে 'কালপেবল হোমিসাইড' বা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে রায় দিয়েছে।   স্কটল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতি এবং বিবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই নারীর নাম কোর্টনি গার্টশোর। তার তিন মাস বয়সী মেয়ে ডালিয়া-রোজ ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের পিটারহেডে মারা যায়। সম্প্রতি অ্যাবারডিনের আদালতে মামলার বিচার শেষে জুরি গার্টশোরকে দোষী সাব্যস্ত করেন।   বিচার চলাকালে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় গার্টশোর একটি হেয়ার ড্রায়ার চালু করেন। সেখান থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটির শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পরে গার্টশোর জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, তিনি তার ঘুমন্ত শিশুকে অস্বাভাবিক বেগুনি বর্ণের অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডালিয়া-রোজকে মৃত ঘোষণা করেন।   শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বিভিন্ন আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচার চলাকালে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জুরি রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে গার্টশোরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে জুরির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।   স্কটল্যান্ড পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেমস ক্যালেন্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুরা সম্পূর্ণ অসহায় এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড়দের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত মর্মান্তিক, তবে একজন অভিভাবকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু আরও বেশি উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। আদালত জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্ট কোর্টনি গার্টশোরের সাজা ঘোষণা করা হবে। তখন আদালত মামলার সব দিক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবেন।   ঘটনাটি স্কটল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং ঘরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ফেডারেল এজেন্ট টিমোথি গ্রেগ। ছবি: সংগৃহীত
মিনেসোটায় শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে সাবেক ফেডারেল এজেন্টের ৭ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক সাবেক ফেডারেল এজেন্টকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করার পর তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়।   মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা জানিয়েছে, ইগান শহরের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী টিমোথি গ্রেগকে ৮৪ মাস বা সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ ছবি ও ভিডিও তৈরিতে এবং সেগুলো পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় গ্রেগ মিনেসোটায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) বিশেষ এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এফবিআইয়ের একটি যৌথ টাস্কফোর্সেও দায়িত্ব পালন করতেন।   মামলার রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে এবং অপরাধী যে পদেই থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।   আইসিইর পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ব্যাজ, পদ বা দায়িত্ব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। তার ভাষায়, এই মামলায় অভিযুক্তের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।   এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ ক্রিস্টোফার ডটসন বলেন, আদালতের এই রায় ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের জন্য অন্তত কিছুটা ন্যায়বিচারের অনুভূতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তারা আশা করছেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্রেগ সরকারি দাপ্তরিক ই-মেইল ব্যবহার করে একটি হোটেল কক্ষ সংরক্ষণ করেছিলেন, যেখানে তার সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তকারীরা আরও জানান, টুইন সিটিজ এলাকায় একটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল গ্রেগের। তবে সেই অভিযানে যোগ দেওয়ার আগের দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা, আদালতের নথি এবং এফবিআই ও আইসিইর বিবৃতি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে মাতাল চালকের গাড়িচাপায় একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ভার্জিনিয়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্তের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল।   মিশিগানের ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেস (২৭) ভার্জিনিয়ার গ্লেন অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ওকল্যান্ড কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ৭ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে চারটি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর চারটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়। আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন।   প্রসিকিউটর কারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১ জুলাই মিশিগানের স্প্রিংফিল্ড টাউনশিপে ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়কের ইস্ট হলি রোডের কাছে দক্ষিণমুখী লেনে একটি ফোর্ড এফ-২৫০ পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন পেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ঘণ্টায় ৯০ মাইলেরও বেশি গতিতে এক লেন থেকে আরেক লেনে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মিশিগান স্টেট পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল।   এ দুর্ঘটনায় নিহত হন একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন জাকেরিয়া শ্যারন ডডসন (২৩), টিরি পাওয়েল (২৪) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান নালানি পাওয়েল (৩) ও কার্টার পাওয়েল (২)। প্রসিকিউটর ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "জাকেরিয়া, টিরি, নালানি ও কার্টারের মৃত্যু কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল না। অভিযুক্তের অভিযোগ অনুযায়ী মদ্যপ অবস্থায় দ্রুত ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তই তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।"   ঘটনার পর নিহত পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, "আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা টিরি, জাকেরিয়া, নালানি এবং কার্টারের অকল্পনীয় মৃত্যুতে শোকাহত।"   সেখানে টিরিকে একজন স্নেহশীল বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো। অন্যদিকে জাকেরিয়াকে একজন যত্নশীল ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি সন্তানদের ভালোবাসা ও মমতায় বড় করে তুলছিলেন। প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ওই তহবিলে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার।   মিশিগানের আইন অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে।   সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, ফক্স ৫, ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
টরন্টোর ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রক্তাক্ত, টরন্টোতে গুলিতে নিহত ২

কানাডার টরন্টো শহরের জনপ্রিয় ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ (Salsa on St. Clair) স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ ‘অ্যাকটিভ শুটার’ সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। তবে হামলাকারী বা হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।    টরন্টো পুলিশ জানায়, শহরের মিডটাউনের সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ও আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় বার্ষিক লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ছয়জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে জানানো হয়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য বা এটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বৃহৎ লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই দুই দিনের আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে জড়ো হন। সঙ্গীত, নৃত্য, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য পরিচিত এই উৎসবে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পুরো শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।  এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।    টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। 

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত জেনি সিয়ার্স। ছবি: সংগৃহীত
ডেটিং সাইটে আলাপ, তারপর ৪ লাখ ডলার জালিয়াতি, ২৩ বছরের কারাদণ্ডের মুখে ৭২ বছরের বৃদ্ধা

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে।   প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন।   মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।   আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন।   মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে পিএইচডি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা, অভিযুক্ত নিজ বোনের স্বামী; যাকে বলেছিলেন ‘পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ মানুষ’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পিএইচডি অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সামনে এসেছে নিহত ভিক্টোরিয়া ক্যাসলের একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্ট, যেখানে বোনের বিয়ের দিন তিনি অভিযুক্ত জোসেফ হর্নারকে "পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ মানুষ" বলে উল্লেখ করেছিলেন।   ভিক্টোরিয়ার সেই ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল, "আমার বোন, আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, আমার বিশৃঙ্খলার সঙ্গী, আজ পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ একজন মানুষকে বিয়ে করল। আমি তোমাদের দুজনকে চিরকাল ভালোবাসব।" কিন্তু সেই পোস্টের প্রায় তিন বছর পর ২৭ বছর বয়সী জোসেফ হর্নারের বিরুদ্ধে ভিক্টোরিয়াকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনেছে পুলিশ।   নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, গত ২৯ জুন নিউইয়র্কের নর্থ মাসাপেকুয়ায় একই বহুতল ভবনের পৃথক ইউনিটে বসবাস করতেন তারা। ভবনের ওপরের তলায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন হর্নার এবং নিচতলায় থাকতেন ভিক্টোরিয়া। ঘটনার সময় হর্নারের স্ত্রী একটি ব্যাচেলোরেট অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিক্টোরিয়ার প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন হর্নার। ঘটনার দিন তিনি একটি পিয়ানো সরাতে সাহায্যের কথা বলে ভিক্টোরিয়াকে নিজের কাছে ডেকে নেন। পরে পেছন থেকে তার ওপর হামলা চালিয়ে গলায় চাপ দিয়ে অচেতন করে ফেলেন। এরপর তার পোশাক খুলে ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভিক্টোরিয়া ক্যাসল নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর হর্নার নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যারোলিন পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া ডিয়াজকে প্রধান অভিযুক্ত করেছে পুলিশ | ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, মূল হামলাকারী ছিলেন ১৯ বছরের তরুণী: পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন।   তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।   ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।   আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পাঁচ সন্তানের এক মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে তার দীর্ঘদিনের এক বান্ধবীকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে ক্যারোলিন পেনা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিনা সালিনাসকে ফোন করেন। তবে ফোনটি রিসিভ করা হয়নি। এর কয়েক মিনিট পরই ডেল রিও এলাকায় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।   এ ঘটনায় কিটি মিয়া ডিয়াজ (২১), আমায়া "কুকি" ডিয়াজ (১৯) এবং কিয়ান্দ্রা রেনে ফাজ (২১) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।   আরও পড়ুন...নিউইয়র্কের কারাগারের অন্ধকার জগৎ: নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র   স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা সালিনাস বলেন, তিনি যদি ফোনটি ধরতে পারতেন, তাহলে হয়তো ঘটনাটি এভাবে ঘটত না। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আমি যদি ফোনটি ধরতাম, তাহলে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। হয়তো এমন কিছু ঘটত না।"   সালিনাস জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যারোলিন পেনাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানযোগে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়।   তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি রক্তাক্ত ছবি দেখে চুল বাঁধার ধরন ও পোশাক দেখে তিনি বুঝতে পারেন সেটি তারই বন্ধু। বন্ধুকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় সালিনাস লেখেন, "তুমি একা চলে যেতে, আমি কখনও তা হতে দিতাম না। তুমি নেই, কিন্তু কখনও ভুলে যাওয়ার নও।"   তিনি তাদের একসঙ্গে তোলা সর্বশেষ একটি ছবিও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "তোমার আমার বাড়িতে আসা, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা আর হাসির মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।"   এদিকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত কিটি ডিয়াজকে হাসিমুখে পুলিশি গাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে তার বোন আমায়া ডিয়াজকে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে "রেকর্ড করা বন্ধ করো" বলতে শোনা যায়।   আরও পড়ুন... ‘সাইকেলে ধাওয়া করে অপহৃত ৫ বছরের শিশুকে উদ্ধার করেছিল ১৫ বছরের কিশোর   স্বাধীন সাংবাদিক মাইকেল এলিজোন্ডোর দাবি, গ্রেপ্তারের পর আমায়া ডিয়াজকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। পুলিশের গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে জিভ দেখানোসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি।   তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে বন্দুক হামলায় দুই নারী ও দুই বছরের শিশুসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসন শহরে বন্দুক হামলায় দুই নারী ও দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। জ্যাকসন পুলিশ বিভাগের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি জানান, শনিবার রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে কুইন আলেকজান্দ্রিয়া লেনের ৩০০ নম্বর ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।   সেখানে পৌঁছে তারা দুই নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্যমতে, নিহত দুই নারীর বয়স ২৬ ও ২০ বছর। তিনজনের শরীরেই একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।   রোববার ভোরে পুলিশ জানায়, হামলার পর একটি লাল রঙের মিতসুবিশি মিরাজ গাড়িতে করে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে সশস্ত্র এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই তিনি জড়িত।   পরে রোববার দেওয়া হালনাগাদ তথ্যে পুলিশ জানায়, উত্তর জ্যাকসন এলাকায় সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গাড়িটি উদ্ধারের সময় সেখানে কেউ ছিল না। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনার পর জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন শহরে বন্দুক-সহিংসতা দমনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।   এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কোনো পরিবারই সহিংসতার কারণে প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট পাওয়ার যোগ্য নয়।   তিনি আরও বলেন, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনাকে শহরের স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নরওয়ের রাজকুমারী মেটে-মারিটের পুত্র মারিয়াস বোরগ হোইবি | ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের রাজকুমারীর ছেলের ৪ বছরের জেল

নরওয়ের যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হইবিকে ধর্ষণের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ সোমবার অসলোর জেলা আদালত ৪টি ধর্ষণ মামলার মধ্যে ২টিতে হইবিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন। বাকি দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হলেও মারধর ও পারিবারিক নির্যাতনের আলাদা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।   কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের পক্ষ থেকে দণ্ডিত হইবিকে ভুক্তভোগী নারীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, উনত্রিশ বছর বয়সী হইবির বিরুদ্ধে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে ঘুমন্ত বা অবশ অবস্থায় যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ মোট ৪০টি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।   এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় হইবি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধের কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছিলেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অসলো জেলা আদালতের কাছে হইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে এবং অন্যান্য স্বীকার করা অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ আঠারো মাসের সাজা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।   তবে আজ সোমবার রায় ঘোষণার সময় হইবি শারীরিক অসুস্থতার কারণে সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতের এই রায় শোনেন। গত মার্চ মাসে শেষ হওয়া এই ছয় সপ্তাহের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং হইবির মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন বার্তা, ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অবশ্য এই রায়ই চূড়ান্ত নয় এবং হইবি চাইলে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।   অভিযুক্ত মারিয়াস বোর্গ হইবি রাজপরিবারের সরাসরি সদস্য না হওয়ায় তাঁর কোনো রাজকীয় উপাধি বা অফিশিয়াল দায়িত্ব নেই। তিনি নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ হাকোনের সাথে মেটে-মারিটের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তবে ভবিষ্যৎ রাজার পরিবারে একসঙ্গে বড় হওয়ার কারণে এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।   যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মামলা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত মেটে-মারিট বর্তমানে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে রায়ের আগে হইবিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে আইনি লড়াই চললেও আদালত রায় ঘোষণা পর্যন্ত তাঁকে কারাগারেই রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় মোবাইল ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছর বয়সী পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিট। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বাবা বলেছেন, তিনি চান ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।   স্থানীয় সময় শনিবার ভোর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় পরিবারের বাড়ির অদূরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বিলি শ্মিট বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোন ছিনতাইয়ের পর দুই সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলে বিলি তাদের পিছু নেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্দেহভাজন তার মুখোমুখি হওয়ার পর দুজনই দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং বিলি তাদের ধাওয়া করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে একজন ছিনতাইকারী মোবাইল ফোনটি রাস্তায় ফেলে দেয় এবং একটি পার্ক করা গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। অন্যজন ঘুরে দাঁড়িয়ে বিলির বুকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে বিলি বলছিলেন, “আমার ফোনটা ফেরত দাও।”   বিলির বাবা বিল শ্মিট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।”   তিনি বলেন, “সে খুব ভালো একজন মানুষ ছিল। সবার প্রতি তার আন্তরিকতা ছিল। সে কখনও কারও ক্ষতি করেনি। এমন একজন মানুষের এভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।” ঘটনার পর বিলিকে দ্রুত Penn Presbyterian Medical Center-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   বিলির বোন আনা শ্মিট বলেন, “কেউ কীভাবে আমার এবং আমার পরিবারের সঙ্গে এমনটা করতে পারে, আমি বুঝতে পারছি না। আমি তাকে খুব মিস করছি।”   পরে বিলির বাবা রাস্তার পাশে একটি গাড়ির নিচে পড়ে থাকা তার মোবাইল ফোনটি খুঁজে পান এবং সেটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।   তিনি বলেন, “ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর সে তাদের পিছু নিয়েছিল, এটা জেনে আমি বিস্মিত হয়েছি। পরে জানতে পারি, মোড়ের কাছে পৌঁছালে আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।” এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ও প্রসিকিউটররা আশা করছেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে থাকা ডিএনএ নমুনা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।   ফিলাডেলফিয়ার সহকারী জেলা অ্যাটর্নি বিল ফ্রিটজে বলেন, তদন্তকারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং ঘটনাস্থলে পুনরায় গিয়ে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে
এল সালভাদরে নতুন আইন: ১২ বছর বয়সীদেরও হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অপরাধ দমনে এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। এখন থেকে দেশটিতে গুরুতর অপরাধের দায়ে ১২ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশটির সরকার এই নতুন আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, যা আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে-এর নেতৃত্বাধীন সরকার গ্যাং সহিংসতা ও অপরাধ নির্মূলে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছে। সেই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই আইনি সংশোধন আনা হলো। নতুন আইন অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর শাস্তি আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী এবং এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধ দমনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট বুকেলে এই সমালোচনার জবাবে জানিয়েছেন, খুনি এবং ধর্ষকদের কারাগারে আটকে রাখাই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ কারাবন্দী হারের রেকর্ড।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ডেলিভারি দিতে এসে শিশু অপহরণ ও হত্যা
ডেলিভারি দিতে এসে শিশু অপহরণ ও হত্যা—আদালতে ফেডেক্স ড্রাইভারের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ৭ বছর বয়সী শিশু এথেনা স্ট্র্যান্ডকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। অভিযুক্ত পার্সেল সরবরাহকারী চালক ট্যানার হার্নের আদালতে হঠাৎ করেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।   মঙ্গলবার ফোর্ট ওয়ার্থের আদালতে শুনানির সময় তিনি শিশু অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর ফলে নির্ধারিত বিচার কার্যক্রম শুরুর আগেই মামলাটি সরাসরি শাস্তি নির্ধারণের পর্যায়ে চলে যায়।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে একটি পার্সেল পৌঁছে দিতে গিয়ে শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, অপহরণের পর শিশুটি কিছু সময় সরবরাহ ভ্যানের ভেতরে ছিল—যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংবেদনশীলতার কারণে এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করা হয়নি।   অভিযুক্ত ট্যানার হার্নের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডেক্স এর হয়ে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।   এখন জুরিবোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, নাকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা এবং পার্সেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে প্রতিনিয়তই চুরি হচ্ছে দামি দামি গাড়ি

নিউ ইয়র্কে একদল অপেশাদার চোর মিডটাউনের একটি পার্কিং গ্যারেজ থেকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পার্কিং গেটের বাধায় ব্যর্থ হয়, জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ভোর ৬টার কিছু আগে ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় ওয়েস্ট ৪৩তম স্ট্রিটের একটি গ্যারেজে ৪-৫ জন চোর প্রবেশ করে। তারা একটি নীল ম্যাকলারেন, একটি মার্সিডিজ জি-ওয়াগনসহ বেশ কয়েকটি দামী গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একজন চোর ২০২০ সালের ম্যাকলারেনটি নিয়ে বের হতে সক্ষম হলেও বেশি দূর যেতে পারেনি। কয়েক লাখ ডলারের এই স্পোর্টস কারটি কাছের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। গাড়িটির মালিক পরে বলেন, এটা খুবই হতাশাজনক। নিউ ইয়র্কে এমন গাড়ি আগে দেখেছি, কিন্তু প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি এটা আমার গাড়ি। নিশ্চিত হওয়ার পর মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছিল। এদিকে, এক তৎপর পার্কিং কর্মী গ্যারেজের সামনের ধাতব গেট নামিয়ে দিয়ে বাকি চোরদের পালাতে বাধা দেন। তবে এ সময় একটি সাদা রেঞ্জ রোভার  ক্ষতিগ্রস্ত হয় গেটটি গাড়িটির হুডের ওপর পড়ে। আরেক ভুক্তভোগী, যার ভলভো গাড়িটিও টার্গেট করা হয়েছিল, বলেন, আমি হতবাক। আমার গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে গেছে। গাড়ির চাবি ভেতরেই ছিল। চোররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের একটি ধূসর বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।   ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই নিহত
বাবার ভাত খাওয়া নিয়ে বিরোধ, বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই নিহত

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই শাহীন হোসেন (৩০) নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে আহত অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত শাহীন হোসেন উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের রাউতি গ্রামের রওশন আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানা এর পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন আলীর দুই ছেলে বাবুল ও শাহীন আলাদা সংসারে বসবাস করতেন। বড় ছেলে বাবুল বাবার ভরণপোষণ করতেন। গত ২৮ মার্চ দুপুরে বাবার ভাত খাওয়া নিয়ে বাবুলের সঙ্গে তার বাবার তর্ক হয়। এ সময় ছোট ভাই শাহীন বিষয়টি নিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।   একপর্যায়ে বড় ভাই বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।   বুধবার রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহের জন্য। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং বাড়িতেই তিনি মারা যান।   পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা খোরশেদ নিহত

Cox's Bazar শহরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কবিতাচত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।   এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারিন নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আশুলিয়ায় গণধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সংঘটিত গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোসাদ্দেক খান (২৫)। গত সোমবার রাতে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের চিনচিনা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির।   র‍্যাব জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি গভীর রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোসাদ্দেক নিজেকে বাড়ির ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে দরজায় নক করেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন।   ভুক্তভোগীর স্বামী দরজা খুললে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং কাবিননামা দেখতে চায়। একপর্যায়ে তারা স্বামীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।   র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Unknown মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁয় চাঁদা না দেওয়ায় হাতুড়িপেটা, গুরুতর আহত এক ব্যক্তি

মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের কালীগ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত সারওয়ার জাহান (৪৫) স্থানীয় বাসিন্দা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।   পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে বসতবাড়ি কেনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজু আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঈদের আগেও তাদের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগীর স্ত্রী।   রোববার দুপুরে একই দাবিতে অভিযুক্তরা সারওয়ার জাহানকে কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।   এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজু আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম মাসুদ রানা জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০