আন্তর্জাতিক

মুসলিম হওয়াই যেন অপরাধ! জার্মানিতে ইসলামবিদ্বেষী হামলা ৪ হাজার ছাড়াল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৫:১৭
জার্মানিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইসলামবিদ্বেষ l ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইসলামবিদ্বেষ l ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার সংগঠন 'অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া অ্যান্ড অ্যান্টি-মুসলিম হেট' (ক্লেম)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানিতে মুসলিম বিরোধী হামলা ও বৈষম্যের ঘটনা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। গত বুধবার প্রকাশিত সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশটিতে ৪ হাজার ৯৬টি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার প্রামাণ্য নথি পাওয়া গেছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ বছরজুড়ে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ১১টিরও বেশি মুসলিম বিরোধী ঘটনা ঘটেছে।

 

বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 'ক্লেম'-এর সহ-পরিচালক রিমা হানানো জানান, এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মৌখিক হামলার অভিযোগ, যার সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৯টি (৬১ শতাংশ)। এরপরই রয়েছে ৮৪০টি বৈষম্যমূলক ঘটনা (২১.৫ শতাংশ) এবং শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ৬৮৯টি ক্ষতিকর আচরণের (১৭.৪ শতাংশ) ঘটনা।

 

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মাত্রাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ড, গুরুতর জখম বা হত্যাচেষ্টাসহ ২১৪টি শারীরিক আঘাতের ঘটনা এবং অন্তত পাঁচটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিমা হানানো বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, এসব বর্ণবাদী হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন মূলত নারীরা, যা মোট একক ভুক্তভোগীদের প্রায় ৬৪.৫ শতাংশ।

 

এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় জার্মান সরকারকে ইসলামবিদ্বেষী বর্ণবাদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের এই সমস্যা সমাধানে দেশের রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার ওপর আর বিন্দুমাত্র 'আস্থা নেই'।

 

প্রায় সাড়ে ৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা ফ্রান্সের পর পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (এএফডি)-এর মতো কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী আন্দোলনের প্রভাবে দেশটিতে মুসলিম বিরোধী বর্ণবাদ ও সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
নেতানিয়াহু ছবি:সংগৃহীত
হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা

গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজার বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি সেনা সরানো হবে না।   সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি পরিকল্পনা সামনে আসার পর নেতানিয়াহুর এই অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনাটির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রসমর্পণ, গাজার প্রশাসনে পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।   জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত ১৫ দফা রোডম্যাপে বলা হয়েছে, গাজায় একটি একক বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রশাসন পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে হামাসকে সামরিক, পুলিশ বা প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সরে যেতে হবে এবং সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো বিলুপ্ত করতে হবে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করার ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় রয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি হলে ইসরায়েলি সেনারা ধাপে ধাপে গাজার সীমান্তের দিকে সরে যাবে। পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী নিরাপত্তা, মানবিক কার্যক্রম ও অস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে।   কিন্তু নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় এগোবে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো সাম্প্রতিক খসড়া প্রস্তাবকে ইসরায়েল সরাসরি গ্রহণ করেনি; বরং নিজেদের আপত্তি ও সংশোধনী জানিয়েছে।   এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রস্তাবিত কাঠামোয় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। নেতানিয়াহু অবশ্য নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থানে অনড়।   গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে না।   নেতানিয়াহুর এই অবস্থান দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখিয়ে আসছে।   নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গাজা নিয়ে প্রস্তাবিত ১৫ দফা রোডম্যাপ। এই পরিকল্পনায় যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন, নিরাপত্তা, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।    এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।   ফলে এখন গাজা সংকটের পরবর্তী ধাপ অনেকটাই নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।   নেতানিয়াহুর সর্বশেষ অবস্থান সেই সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৮:৩
ভয়াবহ দাবানল।ছবি:সংগৃহীত

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি, ঘর ছাড়তে বাধ্য ২০ হাজারের বেশি মানুষ

কসোভোর একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এবং ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কসোভো’ পার্টির নেত্রী। ছবি:সংগৃহীত

সংসদে কসোভো প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও তীব্র

ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক ওলেক্সি ইউকভ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিহত সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন।

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে মানবতার শেষ প্রহরী ওলেক্সি ইউকভ আর নেই

চীনা লাইভস্ট্রিমার বা ইনফ্লুয়েন্সারের নাম ঝেং জিয়াং জিয়াং। ছবি:সংগৃহীত
৩ সেকেন্ডে একটি পণ্য , ৭ দিনেই চীনা ইনফ্লুয়েন্সারের আয় ১৩৭ কোটি টাকা!

চীনের জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম দৌইনে মাত্র তিন সেকেন্ড করে প্রতিটি পণ্য দেখিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন লাইভস্ট্রিমার ঝেং শিয়াংশিয়াং। অস্বাভাবিক দ্রুতগতির এই বিক্রয় কৌশলে মাত্র সাত দিনে তিনি ১০ কোটি ইউয়ানের বেশি মূল্যের পণ্য বিক্রি করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।    তার লাইভস্ট্রিমের ধরন ছিল অত্যন্ত সরল। সহকারী একটি পণ্য তার সামনে এনে দিতেন। ঝেং সেটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরতেন, সংক্ষেপে দাম জানাতেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পণ্যটি সরিয়ে পরের পণ্য হাতে নিতেন। একটি পণ্যের জন্য সময় লাগত প্রায় তিন সেকেন্ড। কোনো দীর্ঘ বর্ণনা, অতিরিক্ত প্রচার বা ক্রেতাকে বোঝানোর চেষ্টা ছিল না।    তার এই দ্রুতগতির উপস্থাপনার পাশাপাশি স্থির অভিব্যক্তিও দর্শকদের নজর কাড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একের পর এক পণ্য দেখানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দৌইনে তার জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়তে থাকে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাত দিনে প্রায় এক কোটি পণ্য বিক্রি হয়েছে বলে হিসাব করা হয়। বেশির ভাগ পণ্যের দাম ছিল কম, অনেক পণ্যই দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী। কম দামের এসব পণ্যের কারণে দর্শকদের দ্রুত কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল।    ঝেং শিয়াংশিয়াং অবশ্য একেবারে নতুন লাইভ বিক্রেতা নন। তিনি ২০১৭ সাল থেকেই লাইভস্ট্রিম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তার তিন সেকেন্ডের পণ্য প্রদর্শনের কৌশল ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়।    তার সাফল্যের পর দৌইনের লাইভ বাণিজ্য ব্যবস্থায় পণ্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। নতুন নিয়মে শুধু পণ্য দেখিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বিক্রেতাদের পণ্য সম্পর্কে অর্থবহ তথ্য দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা থেকে শুরু করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।    ঝেংয়ের ঘটনা চীনের দ্রুত বিস্তৃত লাইভস্ট্রিম বাণিজ্যের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের উপস্থাপনাও বিপুল পরিমাণ বিক্রিতে রূপ নিতে পারে, তার এই কৌশল সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৫:২২
ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

দক্ষিণ আফ্রিকায় ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী

ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী

মক্কায় ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই শেষে হাত মেলাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে লড়বে তিন দেশ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানকে দায়ী করে সৌদির কড়া বার্তা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে অবিলম্বে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।   শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অ্যাডনকের একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়েছে। হামলায় কেউ হতাহত হননি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে জাহাজটির নাম, কী ধরনের পণ্য বহন করছিল কিংবা কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনার পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনার কঠোর নিন্দা জানায় সৌদি আরব। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরানকে অবিলম্বে এ ধরনের হামলা ও লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।   সৌদি আরব আরও বলেছে, ইরানের অব্যাহত হামলার ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার পরিণতির দায় তেহরানকেই বহন করতে হবে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতও হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। আমিরাতের অভিযোগ, ইরানের বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তেহরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আবুধাবি।    অ্যাডনকের তথ্যমতে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের জাহাজগুলো অন্তত ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন এই হামলা এমন সময় ঘটল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে সর্বশেষ ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১০:১৭
ফিলিস্তিনের অসহায় শিশু ও ফোর্স।ছবি:সংগৃহীত

গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা, চলতি বছর বাস্তুচ্যুত ২,৩০০ ফিলিস্তিনি

প্রায় ৩০ বছর ধরে মাউন্ট এভারেস্টের দুর্গম উচ্চতায় পড়ে থাকা ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত ভারতীয় পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

৩০ বছর পর এভারেস্ট থেকে বাড়ি ফিরছে ‘গ্রিন বুটস’, পরিচয় মিলেছে ভারতীয় পর্বতারোহীর

ইসরাইলের সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য প্রতীকী। ছবি:সংগৃহীত

ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে ইসরায়েলিরা

0 Comments