ইসরায়েলের হত্যা হুমকিতে বাবার শেষ বিদায়েও থাকছেন না মোজতবা খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত থাকছেন না তার ছেলে মোজতবা খামেনি। বাবার শেষ বিদায়ে ছেলের অনুপস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে চরম নিরাপত্তা শঙ্কাকে সামনে আনা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ভয়াবহ হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর থেকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলের লাগাতার হুমকির কারণেই এই কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু বা ‘ডেথ টার্গেট’ হলেন মোজতবা খামেনি। সরাসরি এমন হত্যা হুমকির পর সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী। তাই শোকের এই স্পর্শকাতর মুহূর্তেও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দেশটির প্রশাসন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক ও আগ্রাসী বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছিল। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার রেশ ধরেই এবার মোজতবা খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ বাতিল করা হলো।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, মে মাস থেকে রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় এক বিধায়ক গত কয়েক মাসে ৪৩ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওই ৪৩টির মধ্যে রোগজনিত মৃত্যুর পাশাপাশি অন্য কারণের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঘটনাটি মূলত বালাঘাটের বাইহার ও বিরসা এলাকার কয়েকটি দুর্গম বাইগা আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে বেশি দেখা গেছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকেরই জ্বর, শরীরে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, বমি, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ ছিল। পরীক্ষায় হাম বা মিজলস, ম্যালেরিয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে দুই রোগের একসঙ্গে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে সব মৃত্যুর জন্য একটি মাত্র রোগকে দায়ী করা যায়নি বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংকট আরও জটিল হয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছাতে দেরি এবং কিছু পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসা বা স্থানীয় বিশ্বাস নির্ভর চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরতার কারণে। আগস্টে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, কিছু পরিবার অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ধর্মীয় চিকিৎসক বা ‘ফেইথ হিলার’-এর কাছে নিয়ে যাচ্ছিল। কোথাও কোথাও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও করা হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়েছে বলে চিকিৎসকদের অভিযোগ। বিবিসির সাম্প্রতিক মাঠ-রিপোর্টেও এমন কয়েকটি পরিবারের কথা উঠে এসেছে। একটি ঘটনায় তিন বছরের এক শিশু জ্বর ও শরীরে ক্ষত নিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসার আশ্রয় নেয় পরিবারটি। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাস থেকে বালাঘাটের প্রত্যন্ত কয়েকটি গ্রামে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুদের মৃত্যু সরাসরি ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রমাণ নেই। চিকিৎসা দেরি, দুর্গম এলাকা, অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, হাম, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য সংক্রমণ মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি স্বাস্থ্য অভিযানে বিপুলসংখ্যক শিশুর অপুষ্টির চিত্রও পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭,৭১১ শিশুর গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৫১৮ জনকে পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে। একই সময়ে ১৩ হাজারের বেশি শিশুর ডায়রিয়া এবং ২৭৪ শিশুর গুরুতর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারায়। এর সঙ্গে রক্তস্বল্পতা, পানিশূন্যতা এবং চিকিৎসা পেতে দেরি যুক্ত হলে সাধারণ সংক্রমণও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কেন্দ্র ও মধ্যপ্রদেশ সরকার মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়িয়েছে। ১২ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ের একটি যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম বালাঘাটে পাঠানো হয়। আইসিএমআরসহ বিভিন্ন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৫০টি গ্রামে নজরদারি, বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ৩২ হাজারের বেশি মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ৪৩১ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে এবং ৫২ জন চিকিৎসাধীন বা পর্যবেক্ষণে ছিল। এছাড়া ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অতিরিক্ত মিজলস-রুবেলা টিকা দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। বালাঘাটে ৩০-এর বেশি শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় আদালত রাজ্য সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে। মামলায় প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত হাসপাতাল শয্যার অভাবের বিষয়ও উত্থাপিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩২ শিশুর মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা থাকলেও প্রতিটি মৃত্যুর কারণ এখনো একইভাবে নির্ধারিত নয়। সরকারি পর্যালোচনায় হাম, ম্যালেরিয়া, দুই রোগের যৌথ সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও শকের মতো একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনাটিকে শুধু ‘ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে মৃত্যু’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে রোগ, অপুষ্টি, চিকিৎসা পেতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা সংকট—সবগুলো কারণ একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হাসির রোল
বাংলাদেশিদের জন্য সুইডেনের শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে বড় পরিবর্তন
দিল্লিতে নারীর নিরাপত্তায় আসছে ‘পিংক ফোর্স’, স্কুল-মেট্রোতে থাকবে নারী পুলিশ
নিউইয়র্কে আফগান নারীদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এক নারী সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে গলায় হাত চালানোর ভঙ্গি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হওয়া ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান নারী সাংবাদিক আসিফকে প্রশ্ন করেন, আফগান নারীদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন বিধিনিষেধ পরিবর্তনে পাকিস্তানের বার্তা কী। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকার সময় ইসলামাবাদ কেন এসব নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, সেটিও জানতে চান তিনি। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আসিফ সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করেন। এরপর তাঁকে ওই পোশাকে আফগানিস্তানে ফিরে না যাওয়ার কথা বলতে বলতে গলার ওপর হাত চালানোর ভঙ্গি করেন। ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য অসম্পূর্ণ শোনা গেলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এই অঙ্গভঙ্গিকে সহিং সতার ইঙ্গিত বা হু মকির মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকেরা বলেন, আফগান নারীদের অধিকার ও তালেবানের নীতি নিয়ে করা গুরুতর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করা এবং এ ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা অনুপযুক্ত। ভিডিওতে কথোপকথনের পর আসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে হাসতেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনার সময় আসিফ আফগানদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও পাকিস্তানের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আফগানিস্তানকে ভালো প্রতিবেশী নয় বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ঘটনাটি ২৭ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়লে খাজা আসিফের বক্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে ভিডিওতে করা অঙ্গভঙ্গির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও, একাধিক সংবাদমাধ্যম এটিকে সাংবাদিকের প্রতি হু মকি-সদৃশ অঙ্গভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও
ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেলেন দমকলকর্মী
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে সেটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন সহপাইলট, এমন অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে আটকে রাখা সম্ভব হয়। তিনি এক যাত্রীর বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করলে কয়েকজন যাত্রী ও একজন ক্রু ককপিটে ঢোকেন। তাঁরা সহপাইলটকে উড়োজাহাজের ব্যবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করতে দেখেন। রয়টার্সকে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সহপাইলট ওমানের নাগরিক। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা। তবে এটি তাঁদের মূল্যায়ন, তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সৌদি বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাস্টার২ এয়ারপোর্টসের বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইট থেকে জরুরি অবতরণের অনুরোধ আসে। বিমানবন্দরে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার পর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে। আহত ক্যাপ্টেন ও সহপাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটটি মাঝপথে একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়ে তাবুকে অবতরণ করেছে। সব যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং তাঁদের সবার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে এয়ারলাইনটি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড়োজাহাজ থেকে জরুরি সংকেত আসার পর সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় যুদ্ধবিমান পাঠায় ইসরায়েল। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে অবতরণ করে। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
জাতিসংঘের ভাষণের পর নেতানিয়াহুকে ভলডেমর্টের সাথে তুলনা করল ইরানি দূতাবাস
ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, সন্দেহের তীর ওমানি নাগরিকের উপর