আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি I ছবি: সংগৃহীত
লাখো অনুসারীর অশ্রুভেজা বিদায়, মাশহাদে চিরনিদ্রায় ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার নিজ শহর মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার ইমাম রেজার দরগায় তাকে দাফন করা হয়। শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন মাশহাদের রাস্তায় কালো পোশাক ও লাল পতাকা হাতে লাখো মানুষের ঢল নামে। লাখো জনতার ভিড় চিরে ধীরগতিতে এগিয়ে যায় কফিনবাহী গাড়ি, আর পুরো মাশহাদ পরিণত হয় এক শোকের নগরীতে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এক যৌথ হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি এই সর্বোচ্চ নেতা। তার সঙ্গে নিহত ১৪ মাস বয়সি নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানি, জামাতা, এক মেয়ে এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলকেও পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে নিজ শহরে পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই একই স্থানে এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকেও দাফন করা হয়েছিল।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে নামে ক্ষুব্ধ জনতা। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সাদা পাগড়ি পরিহিত ধর্মীয় নেতাদের পাহারায় একটি ট্রাকে করে খামেনির লাশবাহী গাড়ি ধীরগতিতে ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজের দিকে এগিয়ে যায়। এর আগে প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে কফিনটি ইরানে আনা হয়।   ইরাক থেকে বিমানযোগে মাশহাদে পৌঁছানোর সময় সেটিকে যুদ্ধবিমান দিয়ে এসকর্ট করে আনা হয়। দাফনের আগে তেহরান ও কওম শহরেও কফিনটি রেখে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যেখানে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বার্তা সংস্থা ইরনার মতে, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি। ধারণা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘ শোকযাত্রায় কয়েক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন।   খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর এই পুরো প্রক্রিয়ায় তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অনুপস্থিত ছিলেন। ওই হামলায় আহত হওয়া মোজতবাকে নিরাপত্তার কারণে আড়ালে রাখা হয়েছে বলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তার অন্য তিন ছেলে জানাজায় অংশ নেন। ১৯৭৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইরানে যে ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান হয় এবং পেহলভি রাজবংশের পতন ঘটে, তার অন্যতম অংশীদার ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরবর্তী সময়ে তিনিই ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো গড়ে তোলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
তেহরানে আজ খামেনির জানাজা
তেহরানে আজ খামেনির জানাজা, দেশজুড়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজ আজ রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজার নামাজও আদায় করা হবে।   দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানানো হয়েছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শনিবার থেকে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং রাষ্ট্রীয় বিদায়ের জন্য রাখা হয়েছে।   তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জানাজার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান প্রাঙ্গণ হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষ শেষবারের মতো এই প্রভাবশালী নেতাকে বিদায় জানাতে সেখানে সমবেত হন।   খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং শোকানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন নানা প্রস্তুতি নিয়েছে।   জানাজার পর শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে আরও কয়েকটি বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।   সবশেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে এনে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে তাসনিম।   দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা খামেনির মৃত্যু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার জানাজা ও দাফন ঘিরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যাচ্ছে, তা তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশ, রাশিয়া থেকে চীন, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় শতাধিক দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সমাগম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরান এখন বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র। ইরান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং ৯০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাবে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর আগে রাজধানী তেহরান ও পবিত্র শহর কুমে একাধিক ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।     বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উপস্থিতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। তার সঙ্গে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও তেহরানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবেই এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে।     মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমানও জানাজায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলিও অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।     রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। অন্যদিকে চীনের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই। দুই দেশই ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পরিচিত।     ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে না পাঠিয়ে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইনকে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের প্রতিফলন।   বাংলাদেশ থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।     এ ছাড়া ওমান, কাতার, বেলারুশ, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, মিসর, ঘানা, কিউবা, সার্বিয়া, নিকারাগুয়া, কঙ্গোসহ আরও অনেক দেশ প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিচ্ছেন না।     বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় বা জাতীয় শোকানুষ্ঠান নয়; বরং এটি ইরানের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এত বিপুল সংখ্যক বিদেশি প্রতিনিধির উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরানের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
মোজতবা খামেনি ও তার পিতা I ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের হত্যা হুমকিতে বাবার শেষ বিদায়েও থাকছেন না মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত থাকছেন না তার ছেলে মোজতবা খামেনি। বাবার শেষ বিদায়ে ছেলের অনুপস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে চরম নিরাপত্তা শঙ্কাকে সামনে আনা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ভয়াবহ হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর থেকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলের লাগাতার হুমকির কারণেই এই কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু বা ‘ডেথ টার্গেট’ হলেন মোজতবা খামেনি। সরাসরি এমন হত্যা হুমকির পর সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী। তাই শোকের এই স্পর্শকাতর মুহূর্তেও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দেশটির প্রশাসন।   ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক ও আগ্রাসী বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছিল। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার রেশ ধরেই এবার মোজতবা খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ বাতিল করা হলো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন বাংলাদেশের স্পিকার

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে যাচ্ছেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশের স্পিকারকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান সফর করবেন।   ইরান কয়েক দিনব্যাপী আয়োজনে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাবে। আগামী ৪ জুলাই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি শুরু হবে। ওই দিন অনুষ্ঠিত হবে প্রথম জানাজা। এরপর ৭ জুলাই রাজধানীর উপকণ্ঠের কোম শহরে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ ৯ জুলাই আরেক দফা জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে দাফন করা হবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলার শুরুতেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি প্রাণ হারান। নিহতের আগে টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির জানাজায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে: ইরানি গণমাধ্যম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন দেশটির প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।   ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মাশহাদই তার জন্মস্থান।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইরানের পুলিশ ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যৌথভাবে কাজ করছে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।   এদিকে, ইরাকের কারবালায় অবস্থিত একটি শিয়া ধর্মীয় মাজারে খামেনিকে স্মরণ করে পৃথক একটি অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   মেহের নিউজের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার হামলায় তেহরানে সরকারি বাসভবনে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান। কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র, আবার খামেনির শেষ বিদায়েও আমন্ত্রিত, কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে মোদি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে পাঠানো এ আমন্ত্রণ ভারতের সামনে নতুন একটি কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   কূটনৈতিক সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে খামেনির প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে জানাজার আয়োজন করা হবে। পরে মরদেহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে নেওয়া হবে এবং ৯ জুলাই ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন হবে।   তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই সময় তার পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফর রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বা উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল তেহরানে যেতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভারত এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। তখন তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে শেষকৃত্যে অংশ নিতে তেহরানে পাঠানো হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য ইরান শুধু একটি প্রতিবেশী অঞ্চল নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে ভারতের জন্য চাবাহার বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নয়াদিল্লির বড় বিনিয়োগ রয়েছে।   অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্কও উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। ফলে খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কীভাবে নেবে, সেটিও দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।   নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের কৌশলগত অধ্যয়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি মনে করেন, এই আমন্ত্রণ ভারতের জন্য একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক পরীক্ষা। তার ভাষায়, একদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব অক্ষুণ্ন রাখা, দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন নয়াদিল্লির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।   এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নাকি ভারতের পক্ষ থেকে অন্য কোনো প্রতিনিধি তেহরানে যাবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরাকে শোকযাত্রা শেষে নিজ জন্মভূমি মাশহাদে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে খামেনিকে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ৮ জুলাই একটি বিশাল শোকযাত্রা নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে।   সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৯ জুলাই খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত করা হবে।   গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের এই শীর্ষ নেতা। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্চ মাসেই তার দাফন কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই দাফন প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   বর্তমানে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দীর্ঘ শোকযাত্রা ও দাফনের নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।   তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় এই শোকযাত্রা ও দাফনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত কয়েক ধাপে এই জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান চলবে। ৮ জুলাই ইরাকে শোকযাত্রা শেষে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ৯ জুলাই মাশহাদে তার চূড়ান্ত দাফন কাজ সম্পন্ন হবে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, কয়েকটি ধাপে আয়োজিত এই বিশাল শোকযাত্রায় আঞ্চলিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বেশ কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০