বিমানে ওঠার আগেই কেন কেড়ে নেওয়া হয় হাতের ব্যাগ? আসল কারণ ফাঁস করল বিমান সংস্থাগুলো!
বিমানে যাতায়াতের সময় অনেকেই বাড়তি ঝামেলা এড়াতে শুধু একটি হাতের ব্যাগ নিয়ে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। এতে লাগেজ বুকিংয়ের খরচ বাঁচে এবং নামার পর ব্যাগের জন্য অপেক্ষাও করতে হয় না। কিন্তু প্রায় সময়ই দেখা যায়, বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে গেটের সামনে যাত্রীদের হাতের ব্যাগটি জমা নিয়ে তা বিমানের মূল মালপত্র রাখার জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো বিমানের আকার এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত চালাকি। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা জানান, ছোট দূরত্বের ফ্লাইট বা আঞ্চলিক বিমানগুলোর আকার ছোট হয়। বর্তমান সময়ে বিমান সংস্থাগুলো সাধারণ ব্যাগের বুকিং ফি অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় যাত্রীরা টাকা বাঁচাতে সবকিছু একটিমাত্র হ্যান্ডব্যাগে গাদাগাদি করে নিয়ে আসেন। কিন্তু প্রতিটি বিমানের ভেতরের লকার বা মাথার ওপরের বাক্সগুলো সবার বড় সাইজের ব্যাগ রাখার জন্য তৈরি নয়।
অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, তাদের ব্যাগ জমা নেওয়ার পরও বিমানের ভেতরের লকার খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাহলে কেন জোর করে ব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়? এর উত্তর হলো—সময় বাঁচানো।
আমেরিকার ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র জানান, বিমান সময়মতো ছাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো যাত্রীদের বিমানে ওঠার প্রক্রিয়া। যাত্রীরা যখন ভেতরে ঢুকে ব্যাগ রাখার জায়গা খুঁজতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করেন, তখন ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়ে যায়। তাই বিমান সংস্থাগুলো বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে আগেই হিসাব করে নেয় কোন ফ্লাইটে লকার উপচে পড়তে পারে এবং শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে তারা গেটেই ব্যাগ জমা নেওয়া শুরু করে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে বিমানের জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডেল্টা ও সাউথওয়েস্টের মতো বড় বড় মার্কিন বিমান সংস্থাগুলো ব্যাগের চার্জ ১০ ডলার বাড়িয়ে ৪৫ ডলার করেছে। এর ফলে হ্যান্ডব্যাগের চাপ আরও বেড়েছে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, লকারের জায়গা শেষ হয়ে এলে তারা মূলত একদম শেষের দিকে বিমানে ওঠা যাত্রীদের ব্যাগই গেটে জমা রেখে দেয়।
এই ঝামেলা এড়ানোর উপায় কী?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, টিকিট কাটার সময় সামান্য কিছু টাকা বেশি খরচ করে এমন টিকিট নেওয়া উচিত যা আপনাকে অন্যদের চেয়ে কিছুটা আগে বিমানে ওঠার সুযোগ দেবে। আগে উঠলে বিমানের ভেতরের লকারে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ থাকে।
এছাড়া ফ্লাইট অতিরিক্ত পূর্ণ থাকলে অনেক বিমান সংস্থা বিনামূল্যে কাউন্টার থেকেই ব্যাগ বুকিং করার সুযোগ দেয়, যাত্রীরা চাইলে সেই সুবিধাও নিতে পারেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগত ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে পেশ করা নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যারা সর্বাধিক ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে। এর পরপরই ৩ হাজার ৮০৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়াও ওমান থেকে ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন থেকে ৫২১ জন, কাতার থেকে ৪২৯ জন এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধানত ভিক্ষাবৃত্তি, নিরাপত্তা শঙ্কা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপসাগরীয় দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বেআইনি প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থান, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি এবং ১ হাজার ২৯৪ জন কারাদণ্ড ভোগের পর দেশে ফিরেছেন। পাশাপাশি, ৯৬৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের সময় ইরানি হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর দায়েও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানিকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, সংসদে উপস্থাপিত এই পরিসংখ্যানটি উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা মোট পাকিস্তানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল সে দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক হওয়ার পর যাদের দেশে ফেরাতে পাকিস্তান দূতাবাস জরুরি ভ্রমণ নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট জারি করতে বাধ্য হয়েছে, শুধু তাদের তথ্যই এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট ও কাগজপত্র ছিল, তাদের হিসাব এই তালিকার বাইরে রয়েছে।
ইরানের সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’, মার্কিন সেনা হ ত্যা-বন্দিতে পুরস্কার
যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ
জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ
ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছোট্ট অথচ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ লিচেনস্টাইন। সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝে মাত্র ১৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি যেন এক রূপকথার রাজ্য। মাত্র ৪১ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটিতে মাথাপিছু আয় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ১১২ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সমান। তবে বিপুল সম্পদের চেয়েও দেশটি বিশ্বজুড়ে বেশি সমাদৃত এর অভাবনীয় নিরাপত্তা ও শান্তিময় পরিবেশের জন্য। অবাক করা বিষয় হলো, লিচেনস্টাইনের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পুরো দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে তাদের পুলিশ বাহিনী। দেশটিতে অপরাধের হার এতটাই কম যে, পুরো রাষ্ট্রের জন্য কারাগার রয়েছে মাত্র একটি। রাজধানী ফাডুৎসে অবস্থিত এই একমাত্র কারাগারটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা মাত্র ২০ জন। ওয়ার্ল্ড প্রিজন ব্রিফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ওই কারাগারে বন্দির সংখ্যা ছিল মাত্র ১১ জন এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। তবে এর পেছনে একটি আইনি কারণও রয়েছে। লিচেনস্টাইনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অপরাধীর যদি দুই বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হয়, তবে তাকে দেশের কারাগারে রাখা হয় না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত সেসব বন্দিদের অস্ট্রিয়া অথবা সুইজারল্যান্ডের উন্নত পাহারাবেষ্টিত কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে লিচেনস্টাইনে নিজস্ব কোনো বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য দেশটির নাগরিকদের মূলত সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরের ওপরই নির্ভর করতে হয়। অপরাধমুক্ত শান্তিময় সমাজব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মান দেশটিকে বিশ্বের বুকে এক অনন্য ও আদর্শ রাষ্ট্রের মর্যাদা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার প্রতারণা করে কাতার পালানোর সময় কানাডায় গ্রেপ্তার ভারতীয় তরুণ
সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিবাদ, সৈকতকর্মীর হা মলায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর
ভারতে বিয়ের আসর ছেড়ে অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক কনে
কাতারে আটক থাকা ইরানি পাইলটদের শারীরিক অবস্থা চরম সংকটাপন্ন বলে দাবি করেছে তেহরান। অবিলম্বে তাদের সমুদ্র থেকে সরিয়ে স্থলভাগের কোনো উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়েছে ইরান। শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তি অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাইলটদের বর্তমান অবস্থানটি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয় উল্লেখ করে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, অসুস্থ ও আহত এই বন্দিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাতারে একটি 'এয়ার অ্যাম্বুলেন্স' পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাঘেরজাদেহ। তবে এই পাইলটদের আটকের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ও মতবিরোধ রয়েছে। গত সপ্তাহেই দোহা তাদের হেফাজতে কোনো জীবিত ইরানি পাইলট থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছিল। কাতারের দাবি ছিল, বছরের শুরুতে আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাইলটদের দিক থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি নিহত এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তর এবং উদ্ধার অভিযানের তথ্য পর্যালোচনার জন্য তেহরানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সে সময় ইরানের দিক থেকে কোনো দৃশ্যমান সাড়া পায়নি দোহা। এদিকে, সম্প্রতি পাইলট ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধি দলকে কাতার সফরের প্রস্তাব উন্মুক্ত রেখেছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দোহার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ইরানি কর্মকর্তা বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ ও তথ্যানুসন্ধানকারী দল কয়েক মাস ধরে কাতারে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কাতারি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তদন্ত কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে আটকে পড়া এই পাইলটদের ভাগ্য ও পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ভবিষ্যৎ।
সমুদ্রসৈকতের টয়লেটে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, সিরীয় শরণার্থীর ৬ বছরের জেল
২০২৬ সালে ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেবে কানাডা, বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুযোগ