আমেরিকা

যে ভোটারদের সমর্থনে হোয়াইট হাউসে ফেরেন ট্রাম্প, সেই গোষ্ঠীতেই রেকর্ড পতন

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ৯:৫২
DONALD TRUMP
DONALD TRUMP

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম শক্তিশালী ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, হাইস্কুল বা তার চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ভোটারদের বেশির ভাগই এখন ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট।

 

ইশেলন ইনসাইটসের জুলাইয়ের জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারগোষ্ঠীর ৪১ শতাংশ ট্রাম্পের কাজকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ তাঁর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, সমর্থনের তুলনায় অসন্তুষ্ট ভোটারের সংখ্যা ১৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার সময় এই গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল অনেক শক্তিশালী। তখন সমর্থন ও অসন্তোষের ব্যবধানে তিনি ১৮ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। এখন তিনি ১৬ পয়েন্ট পিছিয়ে। দেড় বছরে তাঁর অবস্থান মোট ৩৪ পয়েন্ট দুর্বল হয়েছে।

 

এই পরিবর্তন ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কলেজ ডিগ্রি নেই এমন ভোটাররা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের বড় সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে আবার হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনতেও এই ভোটারদের বড় ভূমিকা ছিল।

 

তবে কম শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন এখনো জাতীয় গড়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। সব ভোটারকে নিয়ে করা জরিপে মাত্র ৩৮ শতাংশ তাঁর কাজকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে ৬১ শতাংশ ভোটার অসন্তোষ জানিয়েছেন। সার্বিকভাবে সমর্থনের তুলনায় তাঁর অসন্তুষ্ট ভোটার ২৩ পয়েন্ট বেশি।

 

অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল দেখা গেছে। জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোটার তাঁর অর্থনৈতিক নীতিকে সমর্থন করেছেন, আর ৬১ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অভিবাসন নীতিতে ৪২ শতাংশ সমর্থন এবং ৫৫ শতাংশ অসন্তোষ জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় তাঁর প্রতি সমর্থন ছিল ৩৭ শতাংশ, আর অসন্তোষ ৫৯ শতাংশ।

 

জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে। দেশ সঠিক পথে রয়েছে বলে মনে করেন ৩১ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয়কে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি বলেছেন ৪৫ শতাংশ ভোটার। চাকরি ও অর্থনীতিকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ২২ শতাংশ।

 

জরিপটি ২০২৬ সালের ৯ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে এক হাজার চারজন সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন। জরিপের ত্রুটির সীমা প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট।

 

জরিপের ফলের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, প্রেসিডেন্টের নীতিগুলোর পূর্ণ প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। প্রশাসনের দাবি, কর কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আবাসন ব্যয় কমানোর উদ্যোগের ফল আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে।

 

একটি জরিপ দিয়ে পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। তবে দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যেও ট্রাম্পের সমর্থন কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের উদ্বেগ বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
গত ১৩ জুলাই কলোরাডোর রাই শহর থেকে দূর দিগন্তে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ 'অ্যাসপেন একরস ফায়ার' দাবানল। ছবি: রাই ফায়ার প্রোটেকশন ডিস্ট্রিক্ট
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ল এক লাখ একরেরও বেশি এলাকা

শুক্রবার দক্ষিণ কলোরাডোতে দমকলকর্মীরা অ্যাসপেন একরস ফায়ারের নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে সক্ষম হয়েছেন, যদিও দাবানলটি প্রায় ১ লাখ ২২৩ একর এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কলোরাডো ডিভিশন অব ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অনুযায়ী, অ্যাসপেন একরস ফায়ার কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে জ্বলতে থাকা সবচেয়ে বড় দাবানল এবং রাজ্যের ইতিহাসে একর হিসেবে সপ্তম বৃহত্তম দাবানল। এই হিসাব অনুযায়ী অ্যাসপেন একরস ফায়ার ২০১৮ সালের স্প্রিং ক্রিক ফায়ারের চেয়ে সামান্য ছোট, যা ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫ একর পুড়িয়েছিল।   দাবানলটি শুরু হওয়ার সময়ে বিদ্যমান চরম পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে, তবে এলাকাটি এখনও মাঝারি অগ্নিঝুঁকির মুখোমুখি। স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস চিফ ম্যানি মেন্ডোজা বলেন, আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং শান্ত বাতাস দমকলকর্মীদের বেশি ঝুঁকিতে না ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আরও আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছেন। মেন্ডোজা জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আগুন তীব্র হওয়ার আগ পর্যন্ত অ্যাসপেন একরস ফায়ারকে দেশের বৃহত্তম অগ্নি বিপর্যয় বিবেচনা করা হচ্ছিল, যার ফলে অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে সম্পদ পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কর্মীরা আগুনের বিস্তার সীমিত করতে ফায়ার লাইন শক্তিশালী করছেন এবং নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছেন।   কিছু এলাকার ইভ্যাকুয়েশন বা খালি করার নির্দেশনার মাত্রা কমানো হয়েছে, তবে মেন্ডোজা জোর দিয়ে বলেছেন যে মানুষ যেন অকালে বাড়ি ফিরে না যায়। রাই ফায়ার প্রোটেকশন ডিস্ট্রিক্টের ফায়ার চিফ রস গ্যালেগোস সোমবার কমিউনিটির কাছে লেখা একটি চিঠিতে বাসিন্দাদের ফিরে আসার উদ্বেগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, তবে সতর্ক করেছেন যে আগুন শহর থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে রয়েছে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন এবং যাদের ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া চেকপয়েন্টের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।   হুয়েরফানো কাউন্টির কমিশনার মিচেল ওয়ার্ডেল জানিয়েছেন যে হুয়েরফানো কাউন্টি একটি পানি সাশ্রয় নোটিশে প্রবেশ করছে এবং বাসিন্দাদের পানি বাঁচাতে সাহায্য করতে বলেছেন। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস কাছাকাছি বাসিন্দাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, দাবানলটির নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেলেও এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসতে সম্ভবত কিছুটা সময় লাগবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১০:৫৭
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট , ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যেকোনো সময় হামলা’ আশঙ্কায় নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ কড়াকড়ি, জার্মানিতে বড় সতর্কতা

কাগজে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব আবেদন ফরমের ফি ৭৬০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার স্বপ্ন কি এখন শুধু ধনীদের? নাগরিকত্বের খরচ বাড়িয়ে নতুন চাপে নিম্ন আয়ের অভিবাসীরা

ছবি: স্বপ্নের আমেরিকা এখন শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়

নিউইয়র্ক আর একমাত্র গন্তব্য নয়, বাংলাদেশিদের নতুন পছন্দের ১০ অঙ্গরাজ্য

সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আটলান্টায় পানি ফোটানোর জরুরি নির্দেশনা। ছবি: গেটি ইমেজেস
জর্জিয়ার দুই শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর পানি ফোটানোর জরুরি নির্দেশনা জারি

আটলান্টা শহরের একটি পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সাউথ ফুলটন এবং ফেয়ারবার্ন শহরের দশ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের জন্য পানি ফোটানোর জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সিটি অব আটলান্টা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাডামসভিল পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট এই নির্দেশনা জারি করেছে। পাম্প স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ইতিমধ্যে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা অপারেশন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি পরীক্ষার জন্য পানির নমুনা পরীক্ষা করবেন।   কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই জরুরি নির্দেশনার কারণে প্রায় ৪৭ হাজার ৮০০ গ্রাহক প্রভাবিত হচ্ছেন। সিটি অব আটলান্টা ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট এই এলাকার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম মেনে চলা উচিত।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পানি পান করা, রান্না করা, শিশুদের খাবার তৈরি এবং দাঁত মাজার কাজে ব্যবহারের আগে পানিকে এক মিনিট ধরে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। লাইনের পানির বিকল্প হিসেবে বাসিন্দাদের বোতলজাত পানি ব্যবহারের জন্যও নির্দেশনায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   একই সঙ্গে ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, এই নির্দেশনা পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওই অঞ্চলের কোনো পাবলিক ওয়াটার ফাউন্টেন বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পানির কল থেকে কোনোভাবেই পানি পান করা যাবে না। পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   সূত্র: সিবিএস আটলান্টা

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১০:১১
homeless encampment , ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ম্যানহাটনে গৃহহীনদের তাঁবুতে প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ, যৌনকর্ম! প্রশ্নের মুখে মেয়র মামদানি

DONALD TRUMP

যে ভোটারদের সমর্থনে হোয়াইট হাউসে ফেরেন ট্রাম্প, সেই গোষ্ঠীতেই রেকর্ড পতন

লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর থেকে ফু নুয়েনকে গ্রেপ্তারের মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অস্ট্রেলীয় নাগরিকে বিমানবন্দরেই মাটিতে ফেলে হাতকড়া, জরুরি ব্যাখ্যা চাইল অস্ট্রেলিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দুর্বল নাকি এখনো বড় হুমকি,ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য

ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।   ট্রাম্পের একটি বক্তব্যে ইরানকে ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আবার অন্য এক মন্তব্যে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানের এখনো উন্নত সক্ষমতা রয়েছে এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানার মতো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা ধরে রেখেছে।   একই বিষয়ে দুই ধরনের বার্তা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রকৃত সক্ষমতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে এবং প্রশাসনের বার্তায় কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের সময় কোনো দেশের সামরিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের সাইবার সক্ষমতা, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বা অসম যুদ্ধের কৌশল কার্যকর থাকতে পারে। তাই একটি দেশ একই সঙ্গে সামরিকভাবে দুর্বল এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিপক্ষ হতে পারে।   নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য শুধু জনমত নয়, কূটনীতি, বাজার ও মিত্র দেশগুলোর সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে হুমকি মূল্যায়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।   ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে সমালোচকদের দাবি, প্রতিপক্ষকে একদিকে পরাজিত এবং অন্যদিকে বড় হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে সমর্থকদের মতে, কোনো দেশের সামরিক সক্ষমতা কমে গেলেও তার অন্যান্য কৌশলগত সক্ষমতা বজায় থাকতে পারে।   ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্যগুলো আবারও সামনে এনেছে—যুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক বার্তা ও বাস্তব নিরাপত্তা মূল্যায়নের পার্থক্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ৮:২
"গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার ভয়াবহতা: ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকার লড়াই এবং নিহতদের জানাজা"। ছবি:সংগৃহীত

গাজায় জানাজার শোভাযাত্রায় ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ১৪

পুলিশের অভিযান। ছবি:সংগৃহীত

চুরি ঠেকাতে গিয়ে সল্টলেকে ছুরিকাহত নিরাপত্তারক্ষী, পলাতক তিন কিশোরের খোঁজে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরা শহরে অবস্থিত একটি বেসরকারী অভিবাসী আটক কেন্দ্র। ছবি:সংগৃহীত

অরোরায় বিক্ষোভকারীকে গুলি, আইস কেন্দ্রের কর্মী গ্রেপ্তার, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

0 Comments