ম্যানহাটনে গৃহহীনদের তাঁবুতে প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ, যৌনকর্ম! প্রশ্নের মুখে মেয়র মামদানি
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের পশ্চিম পাশে প্রায় ১২ ব্লকজুড়ে গড়ে ওঠা গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী শিবির নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ইন্ট্রেপিড মিউজিয়াম, জাভিটস সেন্টার ও হাডসন ইয়ার্ডসের কাছাকাছি ব্যস্ত এলাকায় সারি সারি তাঁবু, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও আবর্জনা পড়ে থাকায় মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবিরটি ১১তম অ্যাভিনিউ ধরে ৩৪তম স্ট্রিট থেকে ৪৬তম স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত। ফুটপাতের বড় অংশ তাঁবু ও মালামালে দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কয়েকজন বাসিন্দা ও পর্যটক জানিয়েছেন, এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি চলাচলে অসুবিধা তৈরি করছে এবং নিউইয়র্কের পর্যটন ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ, যৌনকর্ম এবং সন্দেহজনক মালামাল থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি শিবিরের একাংশে সড়কের বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, শিবিরটি সরিয়ে দেওয়ার অনুমতি এখনো পুলিশকে দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
মেয়র মামদানির প্রশাসনের নতুন নীতিতে গৃহহীনদের শিবির সরানোর দায়িত্ব পুলিশের পরিবর্তে শহরের ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসকে দেওয়া হয়েছে। কোনো শিবির সরানোর নোটিশ দেওয়ার পর সাত দিন ধরে প্রতিদিন সেখানে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সমাজসেবা কর্মীরা। এ সময় তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা ও স্থায়ী আবাসন সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সপ্তম দিনের পর শিবির সরিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
মেয়র মামদানি বলেছেন, তাঁর প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু গৃহহীন মানুষদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়া নয়। তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করাই মূল উদ্দেশ্য। পশ্চিম পাশের ওই শিবিরের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরে শিবিরটি সরিয়ে দেওয়া হবে জানালেও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
শহরের সমাজসেবা কর্মীরা ইতিমধ্যে ওই এলাকায় গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার এবং গৃহহীন মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক তাঁবু ও ব্যক্তিগত মালামাল তখনো সেখানে রয়ে গেছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালসহ বড় আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতির সময় শিবিরটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এলাকাটির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও অনুষ্ঠানস্থল থাকায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফ্লোরিডার টাম্পার বাসিন্দা রবার্ট ডুবোইসের জীবনের প্রায় চার দশক কেটে গেছে কারাগারের পেছনে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এমন এক হত্যা ও যৌন নিপীড়নের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যে অপরাধ তিনি করেননি। প্রায় ৩৭ বছর কারাগারে থাকার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয়, তিনি ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়ার চার বছর পর ২০২৪ সালে টাম্পা শহর থেকে তিনি ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমঝোতা অর্থ পান। ঘটনার শুরু ১৯৮৩ সালে। ফ্লোরিডার টাম্পায় ১৯ বছর বয়সী বারবারা গ্রামসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে তার ওপর যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সময় তদন্তকারীরা ডুবোইসকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি তখন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। মামলায় ডুবোইসের বিরুদ্ধে প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ভুক্তভোগীর শরীরে থাকা একটি দাঁতের কামড়ের মতো দাগ। একজন ফরেনসিক দন্তবিশেষজ্ঞ দাবি করেন, ওই দাগের সঙ্গে ডুবোইসের দাঁতের গঠনের মিল রয়েছে। তার দাঁতের ছাঁচও নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কামড়ের দাগ বিশ্লেষণকে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে এ ধরনের বিশ্লেষণের বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল কারাগারের এক তথ্যদাতার সাক্ষ্য। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নিজেরও একাধিক ফৌজদারি মামলা চলছিল এবং ডুবোইসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তিনি সুবিধা পেয়েছিলেন বলে তথ্য উঠে আসে। এসব প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই ডুবোইসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১৯৮৫ সালে তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে সেই সাজা বাতিল হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নেয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি কারাগারে কাটাতে বাধ্য হন। এমনকি প্রায় তিন বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবেও তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল। এরপর কেটে যায় কয়েক দশক। ২০১৮ সালে নির্দোষ প্রমাণিত ব্যক্তিদের ভুল সাজা পুনর্বিবেচনায় কাজ করা সংগঠন ইনোসেন্স প্রজেক্ট ডুবোইসের মামলাটি নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তদন্তকারীরা এমন কিছু অপরাধস্থলের আলামত পুনরায় পরীক্ষা করার সুযোগ পান, যেগুলো আগে নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। নতুন ডিএনএ পরীক্ষার ফলই বদলে দেয় পুরো মামলার চিত্র। পরীক্ষায় পাওয়া জেনেটিক তথ্য ডুবোইসকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করেনি। বরং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে আমোস রবিনসন ও অ্যাব্রন স্কট নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালের হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ আনা হয়। ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট প্রায় ৩৭ বছর কারাগারে থাকার পর ডুবোইস মুক্তি পান। ওই সময় তার বয়স ছিল ৫৫ বছর। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ওই মামলা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করে। কারাগার থেকে বেরিয়ে ডুবোইসকে এমন একটি জীবন নতুন করে শুরু করতে হয়, যার প্রায় চার দশক ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। পরিবার, সমাজ ও স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে আবার মানিয়ে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। ইনোসেন্স প্রজেক্টের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও তার হারানো সময় বা সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। মুক্তির পর আরেকটি সমস্যা সামনে আসে। ফ্লোরিডার তৎকালীন ক্ষতিপূরণ আইনের কঠোর শর্তের কারণে ডুবোইস সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। কিশোর বয়সে তার বিরুদ্ধে থাকা কিছু ছোটখাটো, অহিংস অপরাধের পুরোনো রেকর্ড এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ৩৭ বছর অন্যায়ভাবে কারাগারে কাটানোর পরও স্বাভাবিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ তার জন্য বন্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত ডুবোইস টাম্পা শহর, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাম্পা সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমঝোতা অনুমোদন করে। এই অর্থ ভুলভাবে কারাবন্দি থাকার ক্ষতির আর্থিক স্বীকৃতি হলেও তার হারানো ৩৭ বছর ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো উপায় নেই। ডুবোইসের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় ভুল ফরেনসিক প্রমাণ ও অনির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। তার মামলায় ব্যবহৃত কামড়ের দাগ বিশ্লেষণ পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়। ইনোসেন্স প্রজেক্ট জানিয়েছে, তার মামলা পুনর্বিবেচনার পর একই ধরনের প্রমাণের ওপর নির্ভর করে হওয়া আরও কিছু পুরোনো মামলা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অর্থ ও আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পরও ডুবোইসের জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় আর ফেরার নয়। ১৮ বছর বয়সে যে তরুণ কারাগারে ঢুকেছিলেন, তিনি ৫৫ বছর বয়সে মুক্ত মানুষ হিসেবে বাইরে বের হন। মাঝের প্রায় চার দশক তার জীবনের এমন একটি অধ্যায়, যা কোনো ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়েই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইনোসেন্স প্রজেক্ট, ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার।
নিউইয়র্কে যোগ্য শিশুদের জন্য ১২০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, আবেদন শেষ ৮ সেপ্টেম্বর
মহাবিশ্বের অপরূপ সৌন্দর্য 'কসমিক জেমস' এর দুর্লভ ছবি প্রকাশ করেছে নাসা
মিশরে নির্মাণশ্রমিক বাবার ৩৫ বছরের ত্যাগ, আট মেয়েকেই বানালেন চিকিৎসক
নিউ ইয়র্কে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ ব্যাচের ৫৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। প্রশিক্ষণটি নিউ ইয়র্কের রকভিল সেন্টারে সরাসরি উপস্থিত হয়ে করতে হবে। এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি মূলত এভিয়েশন খাতের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুত করতে তৈরি করা হয়েছে। যেসব চাকরির জন্য চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না, সেসব পেশায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার ওপর প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আবেদনকারীদের উচ্চবিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা অথবা জিইডি থাকতে হবে। পাশাপাশি এভিয়েশন খাতে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে। চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা এবং চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটির অর্থায়নে রয়েছে এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক। রকভিল সেন্টারের হিস্পানিক ব্রাদারহুডের সহযোগিতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাচটি হবে কর্মসূচিটির চতুর্থ ব্যাচ। এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, কর্মসূচিটি শুধু নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নয়। যারা পেশা পরিবর্তন করতে চান কিংবা ইতিমধ্যে এভিয়েশন খাতে কাজ করছেন এবং ক্যারিয়ারে আরও এগিয়ে যেতে চান, তারাও এই প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হতে পারেন। অ্যাকাডেমির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এভিয়েশন খাতে এমন বেশ কিছু পেশা রয়েছে যেখানে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই ভালো বেতন ও বিভিন্ন সুবিধাসহ ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ রয়েছে। সেই সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা দেওয়াও প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া নতুন ব্যাচে আসন সীমিত। তাই এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের আবেদন ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য জেনে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু মাথা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই ‘মগজখেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণে কিশোরের মৃত্যু
আগামী ১০ বছরেই বিশ্বে থাকবে ১০০ কোটি মানবসদৃশ রোবট, মানুষের চেয়ে ৫ গুণ বেশি কাজ করবে: ইলন মাস্ক
তিন বছরের কম সময়ে গেল ৮ প্রাণ! কতটা নিরাপদ নিউইয়র্কের এই আলো ঝলমলে টাইমস স্কয়ার?
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত নতুন ১ ডলারের মুদ্রা বিক্রি শুরু করেছে দেশটির টাকশাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল বা ইউএস মিন্টের মাধ্যমে সংগ্রাহকদের জন্য মুদ্রাটির রোল ও ব্যাগ বিক্রি শুরু হয়। নতুন এই মুদ্রার এক পাশে রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রতীক, প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিশেষ মাইলফলক উদযাপনের অংশ হিসেবে মুদ্রাটি তৈরি করা হলেও জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় ব্যবহারের বিষয়টি এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম ৬১ ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি মুদ্রার অভিহিত মূল্য ১ ডলার হলেও সংগ্রাহকদের জন্য বিক্রি করা রোলে প্রতি মুদ্রার দাম পড়ছে ২ ডলার ৪৪ সেন্ট। এ ছাড়া ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। মুদ্রাটির সামনের অংশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সঙ্গে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ লেখা রয়েছে। নকশাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টাকশালের প্রধান খোদাইশিল্পী জোসেফ মেনা। এর জন্য ট্রাম্পের একটি সরকারি ছবি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। মুদ্রার অপর পাশে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। সেখানে ডানা মেলা ঈগলের এক পায়ে জলপাইয়ের শাখা এবং অন্য পায়ে তীরের গুচ্ছ রয়েছে। ঈগলের ঠোঁটে থাকা ফিতায় লেখা রয়েছে ‘ই প্লুরিবাস উনুম’, যার অর্থ ‘অনেকের মধ্য থেকে এক’। ঢালের অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বোঝাতে ‘২৫০’ সংখ্যাটিও রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে সংগ্রাহকদের নজর কাড়তে পারে এমন আরও একটি বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে মুদ্রাগুলোতে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া টাকশালে ২ লাখ ৫০ হাজার মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলোতে বিশেষ ‘জুলাই ৪’ চিহ্ন রয়েছে। এসব মুদ্রা আলাদাভাবে বিক্রি না করে ২৫টি মুদ্রার রোল ও ১০০টি মুদ্রার ব্যাগের মধ্যে এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো রোল বা ব্যাগে এমন বিশেষ মুদ্রা পাওয়া যেতে পারে। নতুন মুদ্রাগুলো ফিলাডেলফিয়া টাকশালে তৈরি হয়েছে। এগুলো দেখতে স্বাভাবিক প্রচলিত মুদ্রার মতো হলেও এখনো সাধারণ বাজারে প্রচলনের জন্য ছাড়া হয়নি। তবে ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মুদ্রাটির ধাতব গঠনে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা, ৬ শতাংশ দস্তা, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ এবং ২ শতাংশ নিকেল রয়েছে। ওজন ৮ দশমিক ১০ গ্রাম এবং ব্যাস ২৬ দশমিক ৪৯ মিলিমিটার। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় একজন ক্রেতা বা একটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, এই সীমা বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পূর্বাঞ্চলীয় সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর সীমাটি তুলে নেওয়া হবে। মুদ্রাটিকে ঘিরে বিতর্কের মূল কারণ এর নকশায় একজন জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি সাধারণ মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিশেষ ধরনের স্মারক বা বিশেষ মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদন দিতে পারেন। নতুন মুদ্রাটি সেই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় তৈরি হয়েছে। মুদ্রাটির নকশা চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের চারুকলা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। কমিশনের সদস্যদের ট্রাম্প নিয়োগ করেছিলেন। এর আগে ট্রাম্প নিজেই মুদ্রায় নিজের ছবি ব্যবহারের ধারণাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করলেও একই সঙ্গে এ নিয়ে সম্মানিত বোধ করার কথা জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় তাঁর নাম বা পরিচিতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ১ ডলারের মুদ্রাটিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে ইউএস মিন্ট মুদ্রাটিকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল উদযাপনের অংশ হিসেবেই তুলে ধরছে। ইউএস মিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই বিশেষ মুদ্রা আমেরিকার আড়াই শতকের ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি একই সঙ্গে সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ সংস্করণ এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন আদেশেও আদালতের স্থগিতাদেশ
মসজিদে গিয়ে হিজাব পরায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে ‘হিজাব হোকুল’ বলে কটাক্ষ ব্লেকম্যানের